সেই সময় একটি বাংলা ঐতিহাসিক উপন্যাস যার উপজীব্য ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশ শাসনামলের বিকাশমান কলকাতা নগরীর সমাজ এবং মানুষ। বিখ্যাত ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এ উপন্যাসের রচয়িতা।  ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাঙালির নবজাগরণ উপন্যাসটির অন্যতম মূল বিষয়বস্তু। ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, কেশব চন্দ্র সেন, ডেভিড হেয়ার এবং জন বেথুন এর মতো প্রখ্যাত চরিত্র নিয়ে গড়ে উঠেছে এ উপন্যাসের আখ্যানভাগ।

প্রথমে দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় উপন্যাসটি। পরবর্তীতে কলকাতার আনন্দ পাবলিশার্স ১৯৮১ সালে দুই খণ্ডে পুস্তক আকারে উপন্যাসটি প্রকাশ করে। একই প্রকাশনী থেকে উপন্যাসের অখণ্ড সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৯৯১ সালে।

১৯৮৩ সালে উপন্যাসটি বঙ্কিম পুরস্কার এবং ১৯৮৫ সালে আকাদেমি পুরস্কারে সম্মানিত হয়।

‘সেই সময়’ এবং সুনীলের অন্য দুটি উপন্যাস ‘পূর্ব-পশ্চিম’ ও ‘প্রথম আলো’ মিলিয়ে একটি ত্রিপর্বীয় ঐতিহাসিক কালপঞ্জী।

বিবরণ 

“সেই সময়” একটি জনপ্রিয় গবেষণাধর্মী উপন্যাস। এর কালপর্ব ১৮৪০ থেকে ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দ অবধি বিস্তৃত। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জমিদারপুত্র নবীনকুমার। তার জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি এই উপন্যাসের পরিধি। নবীনকুমার চরিত্রটি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচনা করেছিলেন ঐতিহাসিক চরিত্র কালীপ্রসন্ন সিংহের অবলম্বনে। নবীনকুমার চরিত্রটি সম্পর্কে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, “আমার কাহিনীর পটভূমিকা ১৮৪০ থেকে ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দ। এবং এই কাহিনীর মূল নায়কের নাম সময়। … সময়কে রক্ত-মাংসে জীবিত করতে হলে অন্তত একটি প্রতীক চরিত্র গ্রহণ করতে হয়। নবীনকুমার সেই সময়ের প্রতীক। তার জন্মকাহিনী থেকে তার জীবনের নানা ঘটনার বৈপরীত্য, শেষ দিকে এক অচেনা যুবতীর মধ্যে মাতৃরূপ দর্শন এবং অদ্ভুত ধরনের মৃত্যু, সবই যে সেই প্রতীকের ধারাবাহিকতা, আশা করি তা আর বিশদভাবে এখানে বলবার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনীয় কথা শুধু এই যে, নবীনকুমারের চরিত্রে এক অকাল-মৃত অসাধারণ ঐতিহাসিক যুবকের কিছুটা আদল আছে। অন্য কোনো প্রসিদ্ধ পুরুষের নাম বা জীবনকাহিনী আমি বদল করিনি…।”

মধ্য ঊনবিংশ শতাব্দীর কলকাতা এই উপন্যাসের পটভূমিকা। সেই সময়ের সামাজিক সমস্যা, বাবু সংস্কৃতি, বাল্যবিবাহ ও বিধবাদের করুণ অবস্থাসহ আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা বিস্তারের ফলে কতিপয় ব্যক্তির সমাজ সংস্কারমূলক প্রবণতা— সবই উঠে এসেছে এই উপন্যাসে। চরিত্র পরিকল্পনা ও ঘটনা বিন্যাসে সাহিত্যিক তথ্য ও কালানুক্রমিক ভারসাম্য রেখেছেন। উপন্যাসের একটি চরিত্র প্রবীণ বিধুশেখরের চোখ দিয়ে লেখক সমকালীন সমাজের ভ্রষ্ট্রতার চিত্রায়ন করেছেন এই বলে, “সারা দেশেই যুবক দলের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অনাচার দেখা দিয়েছে। অতি অল্প বয়সেই তারা সুরাপান ধরেছে এবং ধরা মানে কী, সে যেন চূড়ান্তভাবেই আকড়ে ধরা। আগে যেমন গুরুজনের সামনে যেটুকু চক্ষুলজ্জা ছিল এখন তারও বালাই নেই। শহর ছেয়ে গেছে বারঙ্গনায়।” তৎকালীন বাংলার সমাজ ও  সংস্কৃতি, রাজনীতি ও অর্থনীতি,  ধর্ম ও ব্যভিচার ইত্যাদি সকল আঙ্গিক এ উপন্যাসের অবয়বে স্থান লাভ করেছে। ঈশ্বরচন্দ্রের বিদ্যাসাগরের বিধবা বিবাহ আন্দোলন, জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের ব্রাহ্মধর্ম চর্চা, মঙ্গল পান্ডের ইংরেজ বিরোধী বিপ্লবী আন্দোলন, মধুসূদন ও দীনবন্ধু মিত্রের উত্তেজিত সাহিত্য চর্চা, হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় কর্তৃক হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকা সম্পাদনা, দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাসের নীল বিদ্রোহ, রাণী রাসমণি কর্তৃক দক্ষিণেশ্বর মন্দির স্থাপন, ম্যাক্সমুলারের ভারত চর্চা, কালীপ্রসন্ন সিংহের নাট্য চর্চা ও হুতোম প্যাঁচার নকশা প্রকাশ ইত্যাদি নানা উপাদান একটি পরিব্যাপ্ত রচনাপটে যথাযথ ধারাবাহিকতায় সমন্বিত হয়েছে। উদীয়মান আলোকিত সমাজের বিপরীতে বাবু বিলাস, অবৈধ সন্তান প্রসব, বেশ্যাগমন, মদ্য পান ইত্যকার বিষয়াদি। তাই একই সঙ্গে ‘সেই সময়’ উত্তরণ ও পতনের গল্প। এর ঐতিহাসকিতা লেখকের মুন্সীয়ানায় সাহিত্য হয়ে উঠেছে।

ভারতে তখন ব্রিটিশদের রাজত্ব। বেনিয়া ব্রিটিশদের কাহিনীও উঠে এসেছে অবধারিতভাবে। লেখকের ভাষ্যে পাঠক পড়বেন, ‘‘লুন্ঠণপর্বের গোড়ার দিকে ইংরেজ কোম্পানি কাতারে কাতারে জাহাজে এ দেশ থেকে মালপত্র বয়ে নিয়ে যেত নিজের দেশে। ফেরার সময় তার অধিকাংশ জাহাজ খালি আসতো। ও-রকম খালি জাহাজ নিয়ে গভীর সমুদ্রে পাড়ি দেওয়া বিপজ্জনক, ঝড়ের সময় সেগুলো খেলনার মতন পলকা হয়ে যায়, উল্টে যায় হঠাৎ। তাই সাহেবেরা সেই জাহাজগুলি সবচেয়ে সস্তা জিনিস, নূন দিয়ে ভর্তি করে আনতে শুরু করে। প্রথমে সেই নূন এমনি ফেলে দেওয়া হতো। কিন্তু অচিরেই বণিক জাতির চৈতন্যোদয় হলো। ফেলে দেবার দরকার কী, এই নূনও বিক্রি করা যায়। সাত সমুদ্র তের নদীর পাড় থেকে নূন আমদানী করার কোনো প্রশ্ন ওঠে না যদিও বিলিতি নূন ও ভারতীয় নূন একই রকম নোনতা, তবু এ-দেশের ডামাডোলের মধ্যে ইংরেজ নানা কৌশলে সেই নূন বিক্রি করা শুরু করলো। দিশী বাজারে নূন চালাবার জন্য সাহায্য নিল কিছু কিছু দিশী লোকের।’’

টেলিভিশন রূপায়ন 
উপন্যাসটি অবলম্বনে বাংলাতে সোনেক্সের সফল ধারাবাহিক 'সেই সময়' নির্মিত হয়। হিন্দিতেও এই উপন্যাসটি প্রচারিত হয় যুগান্তর নামে।

তথ্যসূত্র 

বাংলা ভাষার উপন্যাস
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস
বাংলা ভাষার ভারতীয় উপন্যাস
পশ্চিমবঙ্গের উপন্যাস
ঐতিহাসিক উপন্যাস
পশ্চিমবঙ্গের পটভূমিতে উপন্যাস
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন বা বি.আর.টি.সি. (Bangladesh Road Transport Corporation : BRTC) বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা। এটি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা। ১৯৬১ সালে এক সরকারি অধ্যাদেশ জারীর মাধ্যমে ৪ ফেব্রুয়ারি বিআরটিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মিরপুর ইপিআরটিসি বাস ডিপোতে প্রথম দোতালা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়। এই সেবার উদ্বোধন করেন পূর্ব পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রী ড. এম এন হুদা।

ভিশন ও মিশন

ভিশন 
একটি নিরাপদ ও আরামদায়ক রাষ্ট্রীয় সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা।

মিশন 
বিআরটিসি-এর বহরে আধুনিক গাড়ি সংযোজন, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ, যাত্রী সেবা নিশ্চিতকরণ ও মানব সম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশিত অর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধন করা।
সাশ্রয়ী ভাড়ায়, দ্রুত, আরামপ্রদ, আধুনিক ও নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা
সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার মধ্যে গাড়ী পরিচালনা
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সড়ক পরিবহনের ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি
সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত রাখার লক্ষ্যে স্ট্রাটিজিক ইন্টারভেনশনাল ভূমিকা পালন করা
দেশের দুর্যোগপূর্ণ সময়ে বিআরটিসি’র ট্রাকের মাধ্যমে মালামাল বহন করা
দেশে আধুনিক সড়ক পরিবহন সেবা প্রদান
ইন্টারনেট সুবিধাসহ বিআরটিসি বাসে Wi-Fi সিস্টেম চালু করা

বহিঃসংযোগ
 বিআরটিসি ওয়েবসাইট

বাংলাদেশের পরিবহন কোম্পানি
বাংলাদেশের সরকারি সংস্থা
বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন
রামায়ণ একটি প্রাচীন সংস্কৃত মহাকাব্য। আদিকবি ঋষি বাল্মীকি রামায়ণের রচয়িতা। এই গ্রন্থটি বৈদিক শাস্ত্রের স্মৃতি বর্গের অন্তর্গত। রামায়ণ ও মহাভারত ভারতের দুটি প্রধান মহাকাব্য। এই কাব্যে বিভিন্ন সম্পর্কের পারস্পরিক কর্তব্য বর্ণনার পাশাপাশি আদর্শ স্বামী, আদর্শ ভ্রাতা, আদর্শ স্ত্রী ও আদর্শ রাজার চরিত্র চিত্রণের মাধ্যমে মানবসমাজের আদর্শ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

রামায়ণ নামটি রাম ও অয়ন শব্দদুটি নিয়ে গঠিত একটি তৎপুরুষ সমাসবদ্ধ পদ; যার আক্ষরিক অর্থ শ্রী রামের যাত্রা। রামায়ণ ৬টি কাণ্ড (পর্ব) ও ৫০০টি সর্গে বিভক্ত ২৪,০০০ শ্লোকের সমষ্টি। এই কাব্যের মূল উপজীব্য হল বিষ্ণুর অবতার রামের জীবনকাহিনী। বিষয়গতভাবে, রামায়ণ-উপাখ্যানে বর্ণিত হয়েছে মানব অস্তিত্বের নানান দিক এবং প্রাচীন ভারতের ধর্মচেতনা।

রামায়ণের শ্লোকগুলি ৩২-অক্ষরযুক্ত অনুষ্টুপ ছন্দে রচিত। পরবর্তীকালের সংস্কৃত কাব্য এবং ভারতীয় জীবন ও সংস্কৃতিতে এই কাব্যের প্রভাব অপরিসীম। মহাভারত মহাকাব্যের মতোই রামায়ণও একটি কাহিনীমাত্র নয়: ভারতীয় ঋষিদের দার্শনিক শিক্ষা ও ভক্তি উপাদানসহ আখ্যানমূলক উপমার মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়েছে এই মহাকাব্যে। ভারতের সংস্কৃতি চেতনার মৌলিক উপাদানগুলিই প্রতিফলিত হয়েছে রাম, সীতা, লক্ষ্মণ, ভরত, হনুমান ও রাবণ চরিত্রগুলির মধ্যে।হিন্দুধর্মের বাইরে ও বহির্ভারতেও রামায়ণের কয়েকটি সংস্করণ প্রচলিত রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখনীয় বৌদ্ধ রামায়ণ দশরথ জাতক (জাতক সংখ্যা ৬৪১) ও জৈন রামায়ণ এবং রামায়ণের থাই, লাও, ব্রহ্মদেশীয় ও মালয় সংস্করণ।

পাঠ 

লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ভারতের আদিকবি বাল্মীকি রামায়ণ রচনা করেছিলেন। ভারতীয় সংস্কৃতিতে এই ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই যে রামের সমসাময়িক তথা এই মহাকাব্যের অন্যতম চরিত্র ঋষি বাল্মীকি স্বয়ং এই মহাকাব্য রচনা করেছিলেন। সংস্কৃত ভাষায় রচিত রামায়ণের মূল পাঠটি বাল্মীকি রামায়ণ নামে পরিচিত। এই গ্রন্থের রচনাকাল আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দী। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রামায়ণ-উপাখ্যানের পটভূমি ত্রেতাযুগ নামে পরিচিত পৌরাণিক সময়কাল।

বর্তমানে সুলভ বাল্মীকি রামায়ণের সংস্করণটি মোটামুটি ৫০,০০০ পঙ্‌ক্তি সংবলিত। কয়েক হাজার আংশিক ও সম্পূর্ণ পুথিতে এই পাঠটি বর্তমানে সংরক্ষিত। এই পুথিগুলি মধ্যে সর্বপ্রাচীন পুথিটি খ্রিষ্টীয় একাদশ শতাব্দীতে লিখিত হয়। মূল রামায়ণের একাধিক আঞ্চলিক পাঠান্তর, সংস্করণ ও উপসংস্করণ বিদ্যমান। পুথিবিশারদ রবার্ট পি. গোল্ডম্যান এই সংস্করণগুলিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন। যথা: (ক) উত্তর ভারতীয় ও (খ) দক্ষিণ ভারতীয়। এই সংস্করণগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তামিল ভাষায় কম্বন কর্তৃক রচিত রামাবতারম্ (খ্রিষ্টীয় একাদশ-দ্বাদশ শতাব্দী), অসমীয়া ভাষায় মাধব (ৱ) কন্দলি কৰ্তৃক ৰচিত সপ্তকাণ্ড রামায়ণ (খ্রিষ্টীয় চতুৰ্দশ শতাব্দী), বাংলা ভাষায় কৃত্তিবাস ওঝা কর্তৃক রচিত শ্রীরামপাঁচালী বা কৃত্তিবাসী রামায়ণ (খ্রিষ্টীয় পঞ্চদশ শতাব্দী) এবং হিন্দি ভাষার অবধি উপভাষায় তুলসীদাস গোস্বামী কর্তৃক রচিত রামচরিতমানস (খ্রিষ্টীয় ষোড়শ শতাব্দী)। রামায়ণ বিশেষজ্ঞ তথা ইংরেজিতে রামায়ণের পদ্যানুবাদক রমেশচন্দ্র দত্ত লিখেছেন, "মহাভারতের ন্যায় রামায়ণও বহু শতাব্দীর ফসল। কিন্তু নিঃসন্দেহে বলা যায়, এই কাব্যের মূল আখ্যানভাগটি একক ব্যক্তির মস্তিস্কপ্রসূত।"

অবশ্য বাল্মীকি রামায়ণের প্রথম ও শেষ কাণ্ডদুটি মূল রচয়িতা কর্তৃক রচিত কিনা সেই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। রঘুনাথন মনে করেন, এই দুই কাণ্ডের কয়েকটি প্রক্ষিপ্তাংশ বর্তমানে মূল রামায়ণের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করা হলেও, গ্রন্থের অন্যান্য অংশের সঙ্গে এই অংশগুলির শৈলীগত পার্থক্য এবং আখ্যানগত স্ববিরোধ পরিলক্ষিত হয়ে থাকে।

রচনাকাল 
বাল্মীকি রামায়ণের রচনাকাল আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দী। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রমাণ (যেমন মহাভারতে সতীদাহ প্রথার উল্লেখ থাকলেও রামায়ণের মূল পাঠে তা নেই) থেকে অনুমিত হয় এই গ্রন্থ মহাভারতের পূর্বে রচিত হয়েছিল। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, হিন্দু কালপঞ্জিতে উল্লিখিত যুগপর্যায়ের দ্বিতীয় যুগ ত্রেতায় এই মহাকাব্য রচিত হয়। কথিত আছে, ত্রেতা যুগেই ইক্ষ্বাকু বংশীয় রাজা দশরথের পুত্র রামের জন্ম হয়।

তবে ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকেও রামায়ণকে প্রাচীনতর গ্রন্থ মনে করা হয়। রামায়ণে উল্লিখিত কয়েকটি চরিত্রনাম (যথা: রাম, সীতা, দশরথ, জনক, বশিষ্ঠ, বিশ্বামিত্র) বৈদিক সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্রাহ্মণ-এও পাওয়া যায়। এই গ্রন্থটি বাল্মীকি রামায়ণ অপেক্ষাও প্রাচীন। তবে প্রাপ্ত বৈদিক কাব্যসাহিত্যে কোথাও বাল্মীকির রামায়ণের অনুরূপ কোনো উপাখ্যানের সন্ধান পাওয়া যায় না। আধুনিক গবেষকগণের মতে, রামায়ণের অন্যতম প্রধান চরিত্র ব্রহ্মা ও বিষ্ণু (আদিকাণ্ড অনুসারে রাম যাঁর অবতার) বৈদিক দেবতা ছিলেন না। খ্রিষ্টীয় প্রথম সহস্রাব্দের শেষভাগে 'পৌরাণিক' যুগে তারা ভারতীয় জনসমাজে বিশেষ গুরুত্ব অর্জন করেন। মহাভারত গ্রন্থে রামোপাখ্যান নামে রামায়ণের একটি সারাংশ সংযোজিত হয়েছে; যুধিষ্ঠিরের নিকট কথিত এই উপাখ্যানে রামের চরিত্রে কোনো দেবত্ব আরোপ করা হয়নি।

গবেষকেরা মনে করেন, রামায়ণের প্রথম পর্ব আদিকাণ্ড ও শেষ পর্ব উত্তরকাণ্ড পরবর্তীকালের সংযোজন। দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ কাণ্ড পর্যন্ত মহাকাব্যটিই প্রাচীন অংশ। আদিকাণ্ড ও উত্তরকাণ্ড-এর লেখক বা লেখকবৃন্দ উত্তর ভারতের পূর্ব গাঙ্গেয় সমভূমি এবং ষোড়শ মহাজনপদের যুগের কোশল ও মগধ রাজ্যের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। কারণ উক্ত অংশে এই সকল অঞ্চল সম্পর্কে প্রদত্ত ভৌগোলিক ও ভূরাজনৈতিক তথ্য এই অঞ্চলের ইতিহাসের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। যদিও অরণ্যকাণ্ড থেকে রাক্ষসবধকারী নায়ক ও নানাপ্রকার পৌরাণিক জীবজন্তুর উপস্থিতিতে সহসাই এই উপাখ্যান কল্পকাহিনীমূলক হয়ে পড়েছে। মধ্য ও দক্ষিণ ভারতের ভৌগোলিক তথ্য এখানে অত্যন্ত অস্পষ্ট। লঙ্কা দ্বীপে ভৌগোলিক অবস্থানটিও স্পষ্ট করে বলা হয়নি। এই সকল তথ্যের উপর ভিত্তি করেই ঐতিহাসিক এইচ. ডি. সঙ্কলিয়া খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীকে এই মহাকাব্যের রচনাকাল বলে উল্লেখ করেন। এ. এল. ব্যাসাম অবশ্য এই মত প্রকাশ করেছেন যে রাম সম্ভবত ছিলেন খ্রিষ্টপূর্ব অষ্টম অথবা সপ্তম শতাব্দীর এক ক্ষুদ্র গোষ্ঠীপতি।

চরিত্র 

 রাম – এই উপাখ্যানের নায়ক। বিষ্ণুর সপ্তম অবতার রাম ছিলেন রাজা দশরথ ও তার জ্যেষ্ঠা মহিষী কৌশল্যার জ্যৈষ্ঠ ও প্রিয়তম পুত্র। রামায়ণে রামকে মর্যাদা পুরুষোত্তম অর্থাৎ সর্বগুণের আধার বলে অভিহিত করা হয়েছে। দ্বিতীয়া স্ত্রী কৈকেয়ীর চক্রান্তে দশরথ রামকে চৌদ্দ বছরের জন্য বনবাসে যাওয়ার নির্দেশ দিতে বাধ্য হন। রামও পিতার আজ্ঞা শিরোধার্য করে বনবাসে গমন করেন। 
 সীতা – রামের প্রিয়তমা পত্নী এবং রাজা জনকের পালিতা কন্যা। সীতার অপর নাম জানকী। তিনি বিষ্ণুপত্নী দেবী লক্ষ্মীর অবতার। রামায়ণে তাকে নারীজাতির আদর্শস্থানীয়া বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি স্বামীর সঙ্গে বনবাসে গমন করেন। রাবণ তাকে অপহরণ করে লঙ্কায় বন্দী করে রাখেন। রাম রাবণকে পরাজিত করে তাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীকালে তিনি রামের দুই যমজ পুত্র লব ও কুশের জন্ম দেন। 
 হনুমান – কিষ্কিন্ধ্যা রাজ্যের এক বানর। তিনি শিবের (একাদশ রুদ্র) অবতার এবং রামের আদর্শ ভক্ত। তার পিতা বানররাজ কেশরী ও মাতা অঞ্জনা। সীতার অবস্থান নির্ণয় ও উদ্ধার তথা লঙ্কার যুদ্ধে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেন। 
 লক্ষ্মণ – রামের ভ্রাতা। সুমিত্রার পুত্র। তিনি স্বেচ্ছায় রাম ও সীতার সঙ্গে বনবাসে গমন করেন ও সেখানে তাদের রক্ষা করে চলেন। লক্ষ্মণ ছিলেন বিষ্ণুর সহচর শেষনাগের অবতার। মারীচের ছলনায় রামের বিপদাশঙ্কায় তিনি সীতাকে একাকী ফেলে যেতে বাধ্য হন। সেই সুযোগে রাবণ সীতাকে অপহরণ করেন।
 রাবণ – লঙ্কার রাক্ষসরাজা। দশ হাজার বছর কঠোর তপস্যা করে তিনি সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার কাছ থেকে এই বর লাভ করেন যে কোনো দেব, দানব বা ভৌতিক জীব তাকে বধ করতে পারবেন না। তিনি ছিলেন এক শক্তিশালী রাক্ষসরাজা। ঋষিদের উপর অত্যাচার চালিয়ে করে তিনি বিশেষ আমোদ অনুভব করতেন। ব্রহ্মার বরদানকে এড়িয়ে তাকে হত্যা করার জন্য বিষ্ণুকে মানব রূপে জন্মগ্রহণ করতে হয়। 
 দশরথ – অযোধ্যার রাজা ও রামের পিতা। তার তিন পত্নী: কৌশল্যা, কৈকেয়ী ও সুমিত্রা এবং রাম ব্যতীত অপর তিন পুত্র: ভরত, লক্ষ্মণ ও শত্রুঘ্ন। দশরথের প্রিয়তমা পত্নী কৈকেয়ী তাকে বাধ্য করেন রামকে চৌদ্দ বছরের জন্য বনবাসে পাঠিয়ে ভরতকে যুবরাজ ঘোষণা করতে। রাম বনে গেলে পুত্রশোকে দশরথের মৃত্যু হয়।
 ভরত – দশরথের পুত্র। যখন তিনি জানতে পারেন যে রামকে বনে পাঠানোর প্রধান চক্রী তার মা এবং তারই জন্য পুত্রশোকে পিতার মৃত্যু হয়েছে, তখন তিনি ঘৃণাভরে রাজপদ প্রত্যাখ্যান করে রামের অনুসন্ধানে বাহির হন। কিন্তু রাম প্রত্যাবর্তনে অসম্মত হলে, তিনি রামের পাদুকা(খড়ম) দুখানি চেয়ে নেন। সেই খড়ম দুটি সিংহাসনে স্থাপন করে পরবর্তী চৌদ্দ বছর রামের নামে অযোধ্যা শাসন করেছিলেন ভরত।
 শত্রুঘ্ন – দশরথ ও সুমিত্রার পুত্র। তিনি রামের কনিষ্ঠ ও লক্ষ্মণের যমজ ভ্রাতা এবং শ্রুতকীর্তির পতি ।

সংক্ষিপ্ত কাহিনী 
রামায়ণ সাতটি কাণ্ড বা খণ্ডে বিভক্ত। যথা: আদিকাণ্ড বা বালকাণ্ড, অযোধ্যাকাণ্ড, অরণ্যকাণ্ড, কিষ্কিন্ধ্যাকাণ্ড, সুন্দরকাণ্ড, লঙ্কাকাণ্ড বা যুদ্ধকাণ্ড ও উত্তরকাণ্ড। এই সপ্তকাণ্ডে রামের জীবনকথা কালানুক্রমিকভাবে বর্ণিত হয়েছে। আদিকাণ্ড-এ বর্ণিত হয়েছে রামের জন্ম, শৈশব ও সীতার সহিত বিবাহের কথা; অযোধ্যাকাণ্ড-এ বর্ণিত হয়েছে রামের রাজ্যাভিষেক প্রস্তুতি ও তার বনগমনের কথা; তৃতীয় খণ্ড অরণ্যকাণ্ড-এ বর্ণিত হয়েছে রামের বনবাসের কথা ও রাবণ কর্তৃক সীতাহরণের বৃত্তান্ত; চতুর্থ খণ্ড কিষ্কিন্ধ্যাকাণ্ড-এ বর্ণিত হয়েছে হনুমান ও রামের মিলন, রামের সহায়তায় বানররাজ বালী হত্যা এবং বালীর কনিষ্ঠ ভ্রাতা সুগ্রীবের কিষ্কিন্ধ্যার রাজ্যাভিষেক; পঞ্চম খণ্ড সুন্দরকাণ্ড-এ বর্ণিত হয়েছে হনুমানের বীরত্বগাথা, তার লঙ্কাগমন ও সীতার সহিত সাক্ষাতের কথা; রাম ও রাবণের যুদ্ধ বর্ণিত হয়েছে ষষ্ঠ খণ্ড লঙ্কাকাণ্ড-এ; সর্বশেষ খণ্ড উত্তরকাণ্ড-এর মূল উপজীব্য রাম ও সীতার পুত্র লব ও কুশের জন্মবৃত্তান্ত, তাদের রাজ্যাভিষেক ও রামের ধরিত্রী ত্যাগ।

বালকাণ্ড বা আদিকাণ্ড 

দশরথ ছিলেন কোশল রাজ্যের রাজা, তার রাজধানী ছিল অযোধ্যা নগরীতে। তার তিন মহিষী: কৌশল্যা, কৈকেয়ী ও সুমিত্রা। দীর্ঘদিন অপুত্রক অবস্থায় থাকার কারণে পুত্রকামনায় রাজা দশরথ পুত্র-কামেষ্টী বা পুত্রেষ্টী যজ্ঞের আয়োজন করেন। এরপরই কৌশল্যার গর্ভে রাম, কৈকেয়ীর গর্ভে ভরত এবং সুমিত্রার গর্ভে লক্ষ্মণ ও শত্রুঘ্ন নামে দুই যমজ পুত্রের জন্ম হয়। এই চারজনই ছিলেন বিষ্ণুর অংশসম্ভূত। রাবণ নামে এক অত্যাচারী রাক্ষসরাজাকে বধ করবার উদ্দেশ্যে বিষ্ণু মানবের রূপ ধারণ করে অবতার গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, ব্রহ্মার বরে এই রাবণ একমাত্র কোনো পরাক্রমী নশ্বর মানবের হাতেই বধ্য ছিলেন। চার রাজকুমার শস্ত্রবিদ্যা ও শাস্ত্রে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। একদা ঋষি বিশ্বামিত্র দশরথের সভায় উপস্থিত হয়ে তার আশ্রমে উপদ্রব সৃষ্টিকারী রাক্ষসদের ধ্বংস করতে রাজার সহায়তা প্রার্থনা করেন। তিনি এই কাজের জন্য ষোড়শ-বর্ষীয় রামকে নির্বাচন করেন। রামের সঙ্গে যান তার ছায়াসঙ্গী লক্ষ্মণ। রাম ও লক্ষ্মণকে বিশ্বামিত্র বিশেষ শস্ত্রশিক্ষা ও নানান অলৌকিক অস্ত্রশস্ত্র প্রদান করেন। নবলব্ধ শিক্ষা ও অস্ত্রে বলীয়ান হয়ে রাম ও লক্ষ্মণ ঋষির আশ্রমে উপদ্রব সৃষ্টিকারী সকল রাক্ষসকে হত্যা করেন।

এই সময়ে মিথিলার রাজা ছিলেন জনক। একদিন ভূমিকর্ষণ করতে গিয়ে রাজা লাঙলের রেখায় একটি শিশুকন্যাকে কুড়িয়ে পান। আনন্দে অভিভূত রাজা এই কন্যাটিকে ঈশ্বরের দান মনে করে লালন পালন করতে থাকেন। তিনি এই কন্যার নামকরণ করেন সীতা। কারণ, সংস্কৃতে লাঙলের কর্ষণরেখাকে সীতা বলা হয়। সীতা বিবাহযোগ্যা হলে রাজা তার বিবাহের জন্য স্বয়ম্বরের আয়োজন করেন। শিব রাজা জনককে একটি ধনুক উপহার দিয়েছিলেন। রাজা পণ রাখেন যিনি এই ধনুকে গুণ সংযোজন করতে পারবেন, তাকেই অপরূপা সীতা পতিত্বে বরণ করবে। ঋষি বিশ্বামিত্র রাম ও লক্ষ্মণকে নিয়ে সেই স্বয়ম্বর সভায় উপস্থিত হলেন। কেবলমাত্র রামই সেই ধনুকে গুণ পরিয়ে তা ভঙ্গ করতে সমর্থ হলেন। রামের সঙ্গে সীতার বিবাহ হল। শুধু তাই নয়, দশরথের অন্যান্য পুত্রদের সঙ্গে জনকের অন্যান্য কন্যা ও ভাগিনেয়ীদের বিবাহ সম্পন্ন হল। মিথিলায় মহাসমারোহে বিবাহ উৎসব উদযাপিত হল। অতঃপর নববিবাহিত দম্পতি চতুষ্টয় অযোধ্যা নগরে প্রত্যাবর্তন করলেন।

অযোধ্যাকাণ্ড 

রাম ও সীতার বিবাহের বারো বছর পর বৃদ্ধ রাজা দশরথ রামকে যৌবরাজ্যে অভিষিক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। কোশল রাজসভায় তার ইচ্ছাকে সকলেই সমর্থন করল। কিন্তু উক্ত অনুষ্ঠানের পূর্বসন্ধ্যায় দাসী মন্থরার কুমন্ত্রণায় কৈকেয়ীর ঈর্ষা জাগরিত হয়ে উঠল। বহুকাল পূর্বে রাজা দশরথ কৈকেয়ীকে দুটি বর দিতে প্রতিশ্রুত হয়েছিলেন। তার সুযোগ কৈকেয়ী রাজার কাছে দাবি করেন যে রামকে চোদ্দো বছরের জন্য বনবাসে পাঠাতে হবে এবং তার স্থলে ভরতকে যৌবরাজ্যে অভিষিক্ত করতে হবে। বৃদ্ধ ও হতাশ রাজা নিজ প্রতিজ্ঞা রক্ষার দায়েই কৈকেয়ীকে প্রার্থিত বরদুটি প্রদান করতে সম্মত হলেন। রাম পিতার আজ্ঞা স্বেচ্ছায় ও শান্তচিত্তে মেনে নিলেন। পত্নী সীতা ও ভ্রাতা লক্ষ্মণ তার সঙ্গী হলেন। রাম সীতাকে নিরস্ত করতে গেলে সীতা উত্তর দিলেন, "যে বনে তুমি বাস করবে, সে বনই আমার নিকট অযোধ্যা; কিন্তু যে অযোধ্যায় তুমি নেই, সে অযোধ্যা আমার নিকট দুঃসহ নরক।" রামের প্রস্থানের পর পুত্রশোকে কাতর হয়ে রাজা দশরথ দেহত্যাগ করলেন। এই ঘটনার সময় ভরত ছিলেন তার মাতুলালয় নন্দীগ্রামে। সব শুনে ভরত সত্বর অযোধ্যায় ফিরে এলেন। তিনি মায়ের কুটিল চক্রান্তে পাওয়া রাজপদ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলেন। রামকে খুঁজতে খুঁজতে তিনি উপস্থিত হলেন বনে। তিনি রামকে অযোধ্যায় ফিরে রাজপদ গ্রহণের অনুরোধ জানালেন। কিন্তু পিতার আজ্ঞার বিরুদ্ধাচারণ করে চৌদ্দ বছর কাল উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বে অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তনে অসম্মত হলেন। ভরত তখন রামের খড়মদুটি চেয়ে নিলেন। রাজ্যে ফিরে সেই খড়মদুটিই সিংহাসনে স্থাপন করে রামের নামে রাজ্যশাসন করতে লাগলেন তিনি।

অরণ্যকাণ্ড 

রাম, সীতা ও লক্ষ্মণ দক্ষিণ দিকে যাত্রা করেন। গোদাবরী নদীর তীরে পঞ্চবটী বনে কুটির নির্মাণ করে সেখানেই বসবাস করতে থাকেন তারা। একদিন রাবণের ভগিনী শূর্পনখা সেই বনে ভ্রমণ করতে করতে রাম ও লক্ষ্মণের সাক্ষাৎ পেলেন। শূর্পনখা সুন্দরী রমণীর ছদ্মবেশে রাম ও লক্ষ্মণকে প্রলুব্ধ করতে গিয়ে ব্যর্থ হলেন। তখন ক্রোধে অন্ধ হয়ে সীতাকে ভক্ষণ করতে গেলে লক্ষ্মণ খড়্গাঘাতে শূর্পণখার নাসিকা ও কর্ণ ছেদন করলেন। শূর্পনখার অপর রাক্ষস ভ্রাতা খর ও দুষন এই সংবাদ পেয়ে সসৈন্যে রাম ও লক্ষ্মণকে আক্রমণ করলেন। কিন্তু রাম সসৈন্যেই বধ করলেন খর- দুষনকে।

রাবণ এই সংবাদ পেয়ে ভগিনীর অপমানের প্রতিশোধ কল্পে সীতাকে অপহরণ করার পরিকল্পনা করলেন। এই কাজে তাকে সাহায্য করলেন মারীচ নামে এক মায়াবী রাক্ষস। মারীচ স্বর্ণমৃগের ছদ্মবেশ ধরে সীতার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। হরিণটির রূপে মোহিত হয়ে তিনি রামের নিকট হরিণটি প্রার্থনা করে বসলেন। হরিণটিকে ধরতে গেলেন রাম। খানিকবাদে তিনি শুনতে পেলেন, রাম আর্তচিৎকার করছেন। আসলে মায়াবী মারীচ রামের কণ্ঠ নকল করে আর্তনাদ করেছিল। ভীত হয়ে সীতা লক্ষ্মণকে রামের সন্ধানে যেতে অনুরোধ করলেন। রাম যে অপরাজেয় সে কথা লক্ষ্মণ সীতাকে বারংবার বোঝাতে চাইলেন। কিন্তু সীতা সে কথায় কর্ণপাত করলেন না। অবশেষে কুটিরের চারিদিকে একটি গণ্ডী কেটে সীতাকে সেই গণ্ডীর বাইরে যেতে নিষেধ করে লক্ষ্মণ গেলেন রামের সন্ধানে। রাবণ এই সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিলেন। তিনি ঋষির ছদ্মবেশে এসে সীতার নিকট ভিক্ষা প্রার্থনা করলেন। রাবণের ছলনা বুঝতে না পেরে সীতা গণ্ডীর বাইরে এসে তাকে ভিক্ষা দিতে গেলে দুষ্ট রাবণ বলপূর্বক সীতাকে অপহরণ করে নিজ রথে তুলে নিলেন।

জটায়ু নামে একটি শকুন জাতীয় রামভক্ত পক্ষী সীতার অপহরণ দেখতে পেয়ে সীতাকে উদ্ধার করতে গিয়ে রাবণের হাতে গুরুতর আহত এবং ভূপতিত হল। রাবণ সীতাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে লঙ্কায় অশোক কানন নামক বনে নজরবন্দী করে একদল চেড়ীর (রাক্ষসী) তত্ত্বাবধানে রাখলেন। তিনি সীতাকে বিবাহ করতে চাইলেন। কিন্তু রামের প্রতি নিবেদিতপ্রাণা সীতা সেই কুপ্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলেন। এদিকে রাম ও লক্ষ্মণ মৃত্যুপথযাত্রী জটায়ুর কাছে সীতাহরণের সংবাদ পেলেন এবং অবিলম্বে সীতাকে উদ্ধার করার জন্য যাত্রা করলেন। যাত্রাপথে শবরী নামে এক বৃদ্ধা তপস্বিনী তাদের সুগ্রীব ও হনুমানের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দিলেন।

কিষ্কিন্ধ্যাকাণ্ড 

কিষ্কিন্ধ্যাকাণ্ড-এর পটভূমি বানর রাজ্য কিষ্কিন্ধ্যা। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বানরবীর তথা সুগ্রীবের অনুগামী হনুমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হল রাম ও লক্ষ্মণের। সুগ্রীব ছিলেন কিষ্কিন্ধ্যার নির্বাসিত এক রাজপদপ্রার্থী। রাম সুগ্রীবের সঙ্গে মিত্রতা করলেন। রাম এবং সুগ্রীব, বালীকে হত্যার জন্য পরিকল্পনা করলেন। তারা ঠিক করলেন যে যখন সুগ্রীব বালীকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে আহ্বান করবে তখন রাম বালীকে হত্যা করবে। সেই পরিকল্পনা মতো সুগ্রীব বালীকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে আহ্বান করলো এবং রাম তাকে পিছন থেকে তীর ছুঁড়ে হত্যা করলেন, কারণ ইন্দ্রের বরে বালীকে সামনে থেকে মারা অসম্ভব ছিল। তখন মরণাপন্ন বালী, রামকে প্রশ্ন করলো যে সে কেন তাকে হত্যা করলো? রাম তার প্রশ্নের উত্তরে বললেন যে সে অন্যায়ভাবে সুগ্রীবকে রাজ্যচ্যুত  করে তার স্ত্রী তারাকে বলপূর্বক নিজের রানী করেছে। তাই এই অধর্মের ফলে তার মৃত্যু হলো। তখন বালী তার অন্যায় বুঝতে পারলো এবং মহানুভব রামের হাতে মৃত্যুর জন্য তাকে ধন্যবাদ দিয়ে মৃত্যুবরণ করলো। রামের সহায়তায় সুগ্রীব নিজভ্রাতা বালীকে হত্যা করে কিষ্কিন্ধ্যার সিংহাসনে আরোহণ করলেন। রামের সহায়তার বিনিময়ে সুগ্রীব চতুর্দিকে সীতার অনুসন্ধানে বানর দল পাঠালেন। উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিমগামী দলগুলি ব্যর্থ হয়ে ফিরে এল। অঙ্গদ ও হনুমানের নেতৃত্বাধীন দক্ষিণগামী দলটি শেষে সম্পাতি নামে এক শকুন জাতীয় পক্ষীর নিকট সংবাদ পেলেন যে রাবণ  সীতাকে লঙ্কায় নিয়ে গিয়ে বন্দী করে রেখেছেন।

সুন্দরকাণ্ড 

সুন্দরকাণ্ড বাল্মীকি রামায়ণের কেন্দ্রীয় অংশ। এই অংশে হনুমানের অভিযানের একটি বিস্তারিত ও সুস্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায়। সম্পাতির নিকট সীতার সংবাদ পেয়ে হনুমান এক বিশাল শরীর ধারণ করে এক লাফে সাগর পার হয়ে লঙ্কায় উপস্থিত হলেন। লঙ্কায় এসে তিনি রাবণের প্রাসাদে গুপ্তচরবৃত্তি করলেন। অবশেষে অশোকবনে সীতার সন্ধান পেলেন তিনি। সীতাকে রাবণ ও চেড়ীরা বিবাহে রাজি করানোর জন্য ভয় দেখিয়ে উত্যক্ত করছিল। হনুমান, সীতাকে রামের আংটি ও বার্তা দিলেন। তিনি সীতাকে রামের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাইলেন। কিন্তু সীতা রাজি হলেন না। তিনি বললেন, রাম যেন শীঘ্র এসে রাবণকে উপযুক্ত শাস্তি দিয়ে তার অপমানের প্রতিশোধ নেন এবং তাকে উদ্ধার করেন।

অতঃপর হনুমান লঙ্কায় ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালালেন এবং রাবণের কয়েকজন যোদ্ধাকে বধ করলেন। তারপর ধরা দিয়ে রাবণের সম্মুখে উপস্থিত হলেন। রাবণের রাজসভায় দাঁড়িয়ে তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে রাবণকে উপদেশ দিলেন সীতাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু রাবণ তার কথায় কর্ণপাত না করে তার লেজে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার আদেশ দিলেন। এরপর হনুমান নিজের লেজের আগুনে সমগ্র লঙ্কাপুরী ভস্মীভূত করে ফিরে এলেন তার অপেক্ষমাণ দলের কাছে। উল্লসিত হয়ে তাদের দল কিষ্কিন্ধ্যায় ফিরে রামকে সীতার খবর দিলেন।

লঙ্কাকাণ্ড 

এই খণ্ডে রাম ও রাবণের যুদ্ধের বিবরণ রয়েছে। হনুমানের নিকট সীতার সংবাদ পেয়ে রাম ও লক্ষ্মণ বানর সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে দক্ষিণ সমুদ্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। সমুদ্রতীরে রাবণের অনুতপ্ত ভ্রাতা বিভীষণ তাদের পক্ষে যোগ দিলেন। অঙ্গদ, জাম্বুবান, নল, নীল প্রমুখ বানরেরা সমুদ্রের উপর একটি সেতু বন্ধন করলেন। সেই সেতুপথে রাম সসৈন্যে লঙ্কায় প্রবেশ করলেন। এই সেতুটিই রামসেতু নামে পরিচিত। লঙ্কায় রাম ও রাবণের মধ্যে এক দীর্ঘ যুদ্ধ সংঘটিত হল। যুদ্ধান্তে রাবণ নিহত হলেন। রাম বিভীষণকে লঙ্কার সিংহাসনে স্থাপন করলেন।

সীতার সঙ্গে রামের মিলন হল। কিন্তু দীর্ঘদিন রাক্ষসগৃহে বসবাসকারী সীতাকে অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে সতীত্ব প্রমাণ করতে বললেন রাম। সীতা অগ্নিতে প্রবেশ করলেন। স্বয়ং অগ্নিদেব আবির্ভূত হয়ে রামের নিকট সীতার পবিত্রতার কথা ঘোষণা করলেন। অগ্নিপরীক্ষার উপাখ্যানটি বাল্মীকি ও তুলসীদাসের রামায়ণে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। যাই হোক, এরপর বনবাসের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়। রাম, সীতা ও লক্ষ্মণ অযোধ্যায় ফিরে আসেন। সেখানে রামের রাজ্যাভিষেক হয়।

উত্তরকাণ্ড 

উত্তরাকাণ্ড-এ বর্ণিত হয়েছে রাম, সীতা ও রামের ভ্রাতৃগণের শেষ জীবন। রাজা হওয়ার পর রাম অনেক কাল সীতাকে নিয়ে সুখে সংসার করেন। এদিকে অগ্নিপরীক্ষিতা হওয়া সত্ত্বেও সীতাকে নিয়ে অযোধ্যায় নানান গুজব ছড়াতে শুরু করে। এই সব রটনায় বিচলিত হয়ে রাম সীতাকে নির্বাসনে পাঠান। সন্তানসম্ভবা সীতা আশ্রয় নেন ঋষি বাল্মীকির আশ্রমে। সেখানেই তার যমজ পুত্রসন্তান লব ও কুশের জন্ম হয়। লব-কুশকে তাদের পিতৃপরিচয় জানানো হয় না। তারা গ্রহণ করে বাল্মীকির শিষ্যত্ব।

বাল্মীকি লব ও কুশকে রামায়ণ গান শিক্ষা দেন। ইতোমধ্যে রাম অশ্বমেধ যজ্ঞের আয়োজন করলে বাল্মীকি লব ও কুশকে নিয়ে যজ্ঞস্থলে উপস্থিত হন। লব ও কুশ সভায় রামায়ণ গান গেয়ে শোনান। সীতার বনবাসের গান শুনে রাম দুঃখিত হন। তখন বাল্মীকি সীতাকে নিয়ে আসেন রামের সম্মুখে। কিন্তু রাম সকলের সম্মুখে সীতাকে পুনরায় অগ্নিপরীক্ষা দিতে বললে অপমানিতা সীতা মাতা ধরিত্রীকে আহ্বান জানান। মাটি বিদীর্ণ হয়। দেবী ধরিত্রী উঠে এসে সীতাকে নিয়ে পাতালে চলে যান। এরপর রাম জানতে পারেন যে লব ও কুশ আসলে তারই সন্তান। পরে মর্ত্যে অবতাররূপে তার কাজ শেষ হলে রাম পুত্রদ্বয়ের হাতে শাসনভার ছেড়ে দিয়ে সরযূ নদীতে আত্মবিসর্জন করে বৈকুণ্ঠে ফিরে আসেন। মনে করা হয়, এই উত্তরকাণ্ড অংশটি পরবর্তীকালে বাল্মীকি রামায়ণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

ধর্মতাত্ত্বিক গুরুত্ব 

রামায়ণের নায়ক রাম হিন্দুধর্মে একজন অন্যতম প্রধান দেবতা বিবেচিত হন। রামায়ণ মহাকাব্যটিও কেবলমাত্র একটি মহৎ সাহিত্যিক নিদর্শনই নয়, বরং হিন্দুধর্মের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে বিবেচিত হয়। হিন্দু সংস্কার অনুযায়ী, রামায়ণ পাঠ অথবা শ্রবণে পাঠক বা শ্রোতা পাপমুক্ত হন।

হিন্দুরা বিশ্বাস করেন, বিষ্ণু জগতের সকল জীবকে ধর্মের পথসন্ধান দিতে রাম রূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

আরিশা সাত্তারের মতে, রামায়ণ ও মহাভারতের কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু হল রাম ও কৃষ্ণের গোপন দেবত্ব ও তার ক্রমপ্রকাশ।

রামায়ণের ভাষ্য
রামায়ণের প্রায় তেত্রিশটি ভাষ্য রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। রামায়ণের কতিপয় টীকা হলো মহেশ্বর তীর্থের  তত্ত্বদ্বীপ বা তত্ত্বদীপিকা , গোবিন্দরাজের ভূষণ বা গোবিন্দরাজীয়ম্, শিবসহায়ের শিরোমণি, মহাদেব যোগীর অমৃতকটিয়ক, রামানুজের "রামানুজীয়ম্, অহোবলের " তানিশ্লোকি", নাগোজি ভট্ট ও রামবর্মার "তিলক" । রামায়ণের তিলক, ভূষণ ও শিরোমণি  নাম্নী তিনটি ভাষ্য ("টীকাত্রয় অথবা ভাষ্যত্রয়ী" নামেও পরিচিত) অধিক জনপ্রিয়।

 আরও দেখুন 
 কৃত্তিবাসি রামায়ণ রামচরিতমানস রামাবতারম্ রামায়ণের সংস্করণসমূহ
 জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী
বাল্মীকি রামায়ণ ডাউনলোড করুন

 তথ্যসূত্র 

 তথ্যসূত্র 

 Arya, Ravi Prakash (ed.). Ramayana of Valmiki: Sanskrit Text and English Translation. (English translation according to M. N. Dutt, introduction by Dr. Ramashraya Sharma, 4-volume set) Parimal Publications: Delhi, 1998 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 Mahulikar, Dr. Gauri. Effect Of Ramayana On Various Cultures And Civilisations, Ramayan Institute
 Rabb, Kate Milner, National Epics, 1896 - See eText Project Gutenburg
 
 
 Raghunathan, N. (transl.), Srimad Valmiki Ramayanam, Vighneswara Publishing House, Madras (1981)
 
 
 A different Song - Article from "The Hindu" August 12, 2005 - 

টীকা

 অতিরিক্ত পঠন 
মূলগ্রন্থ 
 GRETIL etext (input by Muneo Tokunaga)
 रामायण (Devanagari version on Wikisource)

অনুবাদ

 Indian Odyssey by Martin Buckley'' (2008). The UK travel writer's journey in the footsteps of Ram contains an abridged modern version of the Ramayan.

বহিঃসংযোগ 

 Illustrated manuscript by Maharana Jagat Singh at British Library

অনুবাদ  
 Ramacharita manas (Tulsidas' Ramayana) /
 The Ramayan Podcast - (Tulsidas' Ramayana in English)

গবেষণা নিবন্ধ 
 
 The storyboard of the Ramayana - discusses adaptations in other nations

রামায়ণ
ভারতীয় ঐতিহাসিক গ্রন্থ
সংস্কৃত গ্রন্থ
সংস্কৃত শব্দ ও শব্দবন্ধ
ভারতীয় মহাকাব্য
রামের জীবনকাহিনী
হিন্দু মহাকাব্য
খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতাব্দীর কাব্য
সংস্কৃত মহাকাব্য
হিন্দু ধর্মগ্রন্থ
হিন্দু পদ্য
রাম
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড বাংলাদেশের বৃহত্তর ঢাকা, বৃহত্তর ময়মনসিংহ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় এবং পেট্রোবাংলার অধীনে তিতাস গ্যাস তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তিতাস ১৯৬৪ সালের ২০ নভেম্বর কোম্পানী আইনের আওতায় যৌথ তহবিল কোম্পানী হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৬৮ সালের ২৮ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবারহের মাধ্যমে তিতাস গ্যাসের কার্যক্রম শুরু হয়।

ইতিহাস  
১৯৬২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীর তীরে বিরাট গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। শিল্প উন্নয়ন সংস্থা ৫৮ মাইল দীর্ঘ তিতাস-ডেমরা সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ করে দেয়। ১৯৬৮ সালের ২৮ এপ্রিল কোম্পানী বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৬৮ সালের অক্টোবর মাসে বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক শওকত ওসমান এর বাসায় প্রথম আবাসিক গ্যাস সংযোগ প্রদান করা হয়।
কোম্পানী গঠনের শুরু থেকে ৯০% শেয়ারের মালিক ছিল তৎকালীন সরকার। ১৯৭২ সালের জাতীয়করণ আদেশের অধীনে বাকি মালিকানা স্বত্ত্ব সরকারের কাছে স্থানান্তর করা হয় । অবশিষ্ট ১০% শেয়ার ৯ আগস্ট, ১৯৭৫ তারিখে শেল অয়েল কোম্পানীর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি অনুযায়ী ১.০০ (এক লক্ষ) পাউন্ড-স্টার্লিং পরিশোধের বিনিময়ে পেট্রোবাংলার মাধ্যমে সরকারি মালিকানায় স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে কোম্পানীর অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন যথাক্রমে ২,০০০ (দুই হাজার) কোটি ও ৯৮৯.২২ কোটি টাকা।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

লক্ষ্য 
প্রাকৃতিক গ্যাসের দক্ষ ও নিরাপদ বিতরণ।

উদ্দেশ্য  

 গ্রাহকদের উন্নত সেবা প্রদান ।
 প্রাকৃতিক গ্যাসের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ।
 গ্যাস বিপণনে সুশাসন নিশ্চিতকরণ।

কার্যক্রম  
তিতাসের অন্তর্ভূক্ত এলাকাগুলো হলো বৃহত্তর ঢাকা ও বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগ।

আরও দেখুন 
 পেট্রোবাংলা;
 বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়

তথ্যসূত্র

বহিঃসংযোগ 
তিতাস গ্যাস কোম্পানীর ওয়েবসাইট

বাংলাদেশের গ্যাস কোম্পানী
১৯৬৪-এ প্রতিষ্ঠিত
বাংলাদেশের তেল ও গ্যাস কোম্পানি
১৯৬৪-এ পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত
আমরা কি এই বাঙলাদেশ চেয়েছিলাম হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি সমালোচনামূলক গ্রন্থ। ফেব্রুয়ারি ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে (ফাল্গুন, ১৮০৯ বঙ্গাব্দ) আগামী প্রকাশনী, ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।

১৯৭১-এ স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হয়। হুমায়ুন আজাদ স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন যে বাস্তবায়িত হয়নি তা নিজস্ব মতামতে তুলে ধরেছেন, তিনি ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিলেন সেটা বাস্তবায়িত হচ্ছেনা এবং সমাজের মানুষগুলো দূরে সরে এসেছে নৈতিকতা থেকে, সমাজে মৌলবাদ এসেছে, পূর্ব পাকিস্তানের আমলে ষাটের দশকে যখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন তখন বাঙালি সমাজ অনেক প্রগতিবাদী ছিলো - এসব বিভিন্ন কথা তিনি বুঝিয়েছেন।

আরও দেখুন 
 হুমায়ুন আজাদের গ্রন্থতালিকা

তথ্যসূত্র

বহিঃসংযোগ 

২০০৩-এর বই
২১শ-শতাব্দীর বই
হুমায়ুন আজাদের সমালোচনা
সমর মজুমদারের প্রচ্ছদ শিল্প সহ বই
আগামী প্রকাশনীর বই
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশের জাতীয় সংস্কৃতি কেন্দ্র। এই একাডেমি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

ইতিহাস 
জাতীয় সংস্কৃতির গৌরবময় বিকাশকে অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাংলাদেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিল্পকলার চর্চা ও বিকাশের উদ্দেশে ১৯৭৪ সালে ১৯ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ আইন দ্বারা এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তিতে জাতীয় সংস্কৃতির গৌরবময় বিকাশকে জাতীয় আন্দোলন হিসেবে গড়ে তুলতে ১৯৭৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে গৃহীত “বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী আইন ১৯৭৪” (১৯৭৪ সালের আইন নং ৩১) অনুসারে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হয়। একাডেমীর প্রথম মহাপরিচালক ছিলেন ড. মুস্তাফা নূরউল ইসলাম।

অবস্থান 
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, ঢাকার রমনায় সেগুনবাগিচা এলাকার দুর্নীতি দমন কমিশন ভবনের বিপরীতে অবস্থিত। সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বিস্তৃত করার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর ব্যতীত দেশের ৬৩টি জেলায় জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। 

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর তত্ত্বাবধানে জেলা শিল্পকলা একাডেমীসমূহ একটি "কার্য নির্বাহী" কমিটি কর্তৃক পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসন পদাধিকার বলে উক্ত কমিটির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রত্যেক জেলায় একজন কালচারাল অফিসার রয়েছেন, যিনি জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন।  

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের লালন ও বিকাশে এই একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

বিবরণ 
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি নিম্নলিখিত বিভাগ নিয়ে গঠিত:
 চারুকলা বিভাগ
 নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগ
 সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগ
 গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগ
 প্রশিক্ষণ বিভাগ
 প্রযোজনা বিভাগ

কার্যক্রম 
সাংস্কৃতিক বিষয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণা করা এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে দুস্থ ও গুণী শিল্পীদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যাবলীর অংশ। অন্যদিকে বিভিন্ন পুরস্কার এবং সম্মাননা প্রদানসহ সাংস্কৃতিক সংস্থাসমূহকে অনুদান প্রদান করে থাকে এই প্রতিষ্ঠান। 

এছাড়াও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, চারুকলা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, নাটক, সংগীত ও নৃত্যনুষ্ঠান, আন্তর্জাতিক উৎসবের এবং প্রতিযোগীতার আয়োজন করে থাকে। পাশাপাশি চারুকলা, সংগীত, নৃত্য, নাটক ও চলচ্চিত্র বিষয়ক গ্রস্থাদি প্রকাশ, গবেষণা এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণ এবং প্রকাশনা বিক্রয়ের ব্যবস্থাসহ সিম্পোজিয়াম আয়োজনও করে থাকে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিশাল চত্বরে রয়েছে একটি অত্যাধুনিক জাতীয় নাট্যশালা, জাতীয় চিত্রশালা, সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তি ভবন এবং প্রশিক্ষণ ভবন। এখানকার মঞ্চে নিয়মিত নাট্যপ্রদর্শন, গ্যালারীতে চিত্রকর্ম প্রদর্শনসহ নানা ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জেলা শাখা
ঢাকা মহানগর ব্যতীত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বিস্তৃত করার লক্ষ্যে দেশের ৬৩টি জেলায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বর্তমানে এর কার্যক্রম উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। বর্তমানে একাডেমিতে সঙ্গীত, নৃত্যকলা, তালযন্ত্র, আবৃত্তি এবং  চারুকলা বিষয়ে পাথদান করা হয়।

কক্সবাজার
জেলা শিল্পকলা একাডেমি, কক্সবাজার বা কক্সবাজার শিল্পকলা একাডেমি কক্সবাজার শহরের প্রাণকেন্দ্র সমুদ্র সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্টে অবস্থিত।

চট্টগ্রাম

জেলা শিল্পকলা একাডেমি, চট্টগ্রাম বা চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি চট্টগ্রামের মোহাম্মদ আলী সড়কে ম্যানোলা পাহাড়ের পার্শ্ববর্তী বাগমনিরাম এলাকায় অবস্থিত। ১৯৭৩ সালে "চট্টগ্রাম কলাভবন" প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চিত্রশিল্পী রশিদ চৌধুরীর হাতে এর গোড়াপত্তন ঘটে। ১৯৭৭ সালে "চট্টগ্রাম উৎসব ১৯৭৭" উদ্যাপনের উদ্যেশ্যে "চট্টগ্রাম কলাভবন" নামে একটি অস্থায়ী মঞ্চ নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এখানে কণ্ঠসঙ্গীত, নৃত্যকলা, তালযন্ত্র, চারুকলা বিভাগে চার বছর মেয়াদী কোর্স এবং আবৃত্তি ও নাট্যকলা বিভাগে দুই বছর মেয়াদী ফাউন্ডেশন কোর্স চালু রয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে প্রতি বছর শিল্প সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য পাঁচ জন শিল্পীকে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা প্রদান করা হয়ে থাকে।

রাজশাহী
জেলা শিল্পকলা একাডেমি, রাজশাহী বা রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমি রাজশাহী জেলার রাজপাড়া থানার রাজশাহী কোর্ট অঞ্চলে শ্রীরামপুর এলাকায় আবস্থিত। একাডেমির পশ্চিম প্রান্তে শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা, উত্তরে রাজশাহী পর্যটন মোটেল ও কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড এবং দক্ষিণে ডিআইজির বাসভবন, জাফর ইমাম টেনিস কমপ্লেক্স ও পদ্মা নদী প্রবহমান। অনেক গুণীকর্মকর্তা এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। বর্তমান কর্মকর্তার হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন জনাব মো: ফারুকুর রহমান ফয়সল।

তথ্যসূত্র

আরও দেখুন 
 বাংলাদেশের শিল্পকলা একাডেমির তালিকা

বহিঃসংযোগ 
 

১৯৭৪-এ প্রতিষ্ঠিত
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান
বাংলাদেশের শিল্পকলা একাডেমি
বাংলাদেশ ভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি

বাংলাদেশের বিদ্বৎসমাজ
বাংলাদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান
১৯৭৪-এ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত
কাজী আনোয়ার হোসেন (১৯ জুলাই ১৯৩৬ – ১৯ জানুয়ারি ২০২২) ছিলেন একজন বাংলাদেশি লেখক, অনুবাদক, প্রকাশক, এবং জনপ্রিয় মাসুদ রানা ধারাবাহিকের স্রষ্টা। সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে তিনি ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র ও শামসুদ্দীন নওয়াব নাম ব্যবহার করতেন।

জন্ম ও শৈশব 
কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তার পৈত্রিক নিবাস রাজবাড়ি জেলার পাংশা উপজেলায়। তার পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭-১৯৮১) , মাতা সাজেদা খাতুন ( ১৯০৫ - ১৯৭৫)। তারা ছিলেন ৪ ভাই, ৭ বোন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের পূর্ব সীমানায় উত্তর ও দক্ষিণ কোণে যে দুটি দোতালা গেস্ট হাউজ আজও দেখা যায়, সেখানেই উত্তরের দালানটিতে আনোয়ার হোসেনের ছেলেবেলা কেটেছে। ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময় বাড়ি বদল করে তারা দক্ষিণ দিকের গেস্ট হাউসে চলে আসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের কিছু অংশ দক্ষিণ দিকে ছিল। ড. কাজী মোতাহার হোসেন তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। পরে অবশ্য তারা বাসা বদল করে সেগুনবাগিচায় নিজেদের বাসায় চলে আসেন।

শিক্ষাজীবন 
তিনি ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে সেন্ট গ্রেগরি স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর জগন্নাথ কলেজ থেকে আইএ ও বিএ পাস করেন। ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ পাস করেন।

কর্মজীবন 
পড়াশুনা শেষ হওয়ার পর রেডিওতে তিনি নিয়মিত গান গাইতে শুরু করেন। নিয়মমাফিক কোনো প্রশিক্ষণ না নিলেও বাড়িতে গানের চর্চা সবসময় ছিলো। তার তিন বোন সানজীদা খাতুন, ফাহমিদা খাতুন ও মাহমুদা খাতুন এখনও রবীন্দ্র সঙ্গীতের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ঢাকা বেতারের সঙ্গীত শিল্পী ছিলেন। কিন্তু রেডিও কিংবা টিভিতে গান গাওয়া এবং সিনেমার প্লে-ব্যাক কাজী আনোয়ার হোসেন ছেড়ে দেন ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে।

১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে বাবার দেয়া দশ হাজার টাকা নিয়ে সেগুনবাগিচায় প্রেসের যাত্রা শুরু করেন। আট হাজার টাকা দিয়ে কেনেন একটি ট্রেডল মেশিন আর বাকিটাকা দিয়ে টাইপপত্র। দুজন কর্মচারী নিয়ে সেগুনবাগান প্রেসের শুরু, যা পরবর্তীকালে নাম পাল্টে হয় সেবা প্রকাশনী। পরবর্তীতে তার প্রকাশনা সংস্থা বাংলাদেশে পেপারব্যাক গ্রন্থ প্রকাশ, বিশ্ব সাহিত্যের প্রখ্যাত উপন্যাসের অনুবাদ এবং কিশোর সাহিত্যের ধারাকে অগ্রসর করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে প্রকাশিত হল কুয়াশা-১, যার মাধ্যমে সেগুনবাগান প্রকাশনীর আত্মপ্রকাশ ঘটে।

ব্যক্তিগত জীবন 
১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে কণ্ঠশিল্পী ফরিদা ইয়াসমিনকে (১৯৪০- ২০১৫ ) বিয়ে করেন। কাজী আনোয়ার হোসেনের এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। তার মেয়ে শাহরীন সোনিয়া (১৯৬৪-২০১৪) একজন কন্ঠশিল্পী। বড় ছেলে কাজী শাহনূর হোসেন এবং ছোট ছেলে মায়মুর হোসেন লেখালেখির এবং সেবা প্রকাশনীর সাথে জড়িত।

লেখালেখি 
তার অধিকাংশ উপন্যাস ও গল্প বিদেশী কাহিনীর ছায়া অবলম্বনে রচিত। কুয়াশা সিরিজের কুয়াশা-১-এর মাধ্যমে লেখালেখির জগতে বিচরণ ঘটে তার। তার ভাষাশৈলী অসাধারণ রকমে স্বাদু। মৌলিক রচনাগুলোও চমকপ্রদ। বয়স হয়ে যাওয়ায় এখন তিনি প্রধানত সম্পাদকের কাজ করেন, যদিও প্রকাশের ক্ষেত্রে বইগুলো তার নামেই প্রকাশিত হয়।

মাসুদ রানা 

মাসুদ রানা তার সৃষ্টি করা একটি কাল্পনিক চরিত্র। ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে ধ্বংস পাহাড় প্রচ্ছদনামের প্রথম গ্রন্থটি থেকে শুরু করে সেবা প্রকাশনীহতে মাসুদ রানা সিরিজে এই চরিত্রকে নিয়ে চার শতাধিক গুপ্তচর কাহিনীর বই প্রকাশিত হয়েছে। সিরিজের প্রথম দুইটি বই "ধ্বংস পাহাড়", "ভারতনাট্যম" এবং "হ্যাকার" ছাড়া বাকিগুলো ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষার বইয়ের ভাবানুবাদ বা ছায়া অবলম্বনে রচিত। মাসুদ রানার চরিত্রটিকে মূলত ইয়ান ফ্লেমিংয়ের সৃষ্ট জেমস বন্ড চরিত্রটির বাঙালি সংস্করণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

রহস্যপত্রিকা 

মাঝে ১৯৬৯-৭০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে সাংবাদিক রাহাত খানের অনুপ্রেরণায় রহস্যপত্রিকা প্রকাশের পরিকল্পনা নেয়া হয়। এবং পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিলো ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বরে। চারটি সংখ্যা বের হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধের সময় পত্রিকাটির প্রকাশনা স্থগিত রাখা হয়েছিলো। স্বাধীনতার পর সবাই বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে পত্রিকাটি প্রকাশ সম্ভব হচ্ছিলো না। এরপর ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে রহস্যপত্রিকা আবার প্রকাশিত হয়। আজ পর্যন্ত তা অব্যাহত রয়েছে।

চলচ্চিত্রায়ন 
১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে মাসুদ রানা'র কাহিনী নিয়ে বাংলাদেশে চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয় (মূল ভুমিকায় ছিলেন সোহেল রানা)। বাংলাদেশের টিভি নাটকের ইতিহাসে প্রথম প্যাকেজ নাটক প্রাচীর পেরিয়ে 'র কাহিনী রচনা করা হয় কাজী আনোয়ার হোসেন রচিত মাসুদ রানা সিরিজের পিশাচ দ্বীপ নামক বই থেকে। ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রচারিত নাটক প্রাচীর পেরিয়ের নির্দেশক আতিকুল হক চৌধুরী। ঐ নাটকের প্রধান দুটি চরিত্রে ছিলেন বিপাশা হায়াত ও নোবেল।

সমালোচনা 
কাজী আনোয়ার হোসেনের প্রথম সমালোচনা ছিলো তিনি মাসুদ রানা সিরিজে যৌনতার বেসাতি পেতেছেন। এই হাওয়ায় পাল এতোটাই উঠেছিলো যে, 'প্রজাপতি' মার্কাওয়ালা বই পড়াই নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিলো বাঙালি ঘরে। যারা এসব বই পড়তো তাদেরকে দেখা হতো অন্য নজরে। এছাড়া তিনি সমালোচিত হয়েছেন, প্রায় ঢালাওভাবে বিদেশী কাহিনী ধার করে মাসুদ রানাকে সচল রাখার জন্য।

পুরস্কার ও সম্মাননা 
১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার ও সংলাপ রচয়িতা হিসেবে বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া পেয়েছেন সিনেমা পত্রিকা ও জহির রায়হান চলচ্চিত্র পুরস্কার।

মৃত্যু 
২০২১ সালের অক্টোবর মাসের ৩১ তারিখ তাঁর প্রোস্টেট ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর একবার ব্রেইন স্ট্রোক ও হার্টএটাক হয়। এরপর ২০২২ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি ২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র 

১৯৩৬-এ জন্ম
২০২২-এ মৃত্যু
বাংলাদেশী সাহিত্যিক
বাংলাদেশী প্রকাশক (ব্যক্তি)
পুরস্কার বিজয়ী বাঙালি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
সেবা প্রকাশনী
বাংলাদেশী পুরুষ লেখক
ঢাকার লেখক
বাংলাদেশী পুরুষ ঔপন্যাসিক
বাংলা ভাষার লেখক
২০শ শতাব্দীর বাংলাদেশী লেখক
২০শ শতাব্দীর ঔপন্যাসিক
২০শ শতাব্দীর পুরুষ লেখক
২১শ শতাব্দীর ঔপন্যাসিক
২১শ শতাব্দীর পুরুষ লেখক
সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
রাজবাড়ী জেলার ব্যক্তি
বাংলা একাডেমি ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দের ৩রা ডিসেম্বর (১৭ অগ্রহায়ণ, ১৩৬২ বঙ্গাব্দ) প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা, গবেষণা ও প্রচারের লক্ষ্যে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশে) এই একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন-পরবর্তী কালের প্রেক্ষাপটে বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবি ওঠে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন বর্ধমান হাউজে এই একাডেমির সদর দপ্তর স্থাপিত হয়। একাডেমির বর্ধমান হাউজে একটি "ভাষা আন্দোলন জাদুঘর" আছে।

ইতিহাস 

বশীর আল-হেলালের মতে, বাংলা একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও সংগঠনের চিন্তা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্রথম করেন। ড. শহীদুল্লাহ ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৪৮ এ পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনে ভাষা সংক্রান্ত একটি একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবি করেন। এছাড়া দৈনিক আজাদ পত্রিকা বাংলা একাডেমি গঠনে জনমত সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। ১৯৫২ সালের ২৯ এপ্রিল পত্রিকাটি "বাংলা একাডেমী" প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে এ প্রসঙ্গে সম্পাদকীয় প্রকাশ করে। এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সে সময় কিছু প্রচেষ্টা নেয়। ১৯৫৪ সালে এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়। কিন্তু অর্থাভাবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হয়নি। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হলে শিক্ষামন্ত্রী সৈয়দ আজিজুল হক নির্দেশ দেন,

অবশেষে ১৯৫৫ সালে ৩ ডিসেম্বর পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার উদ্‌বোধন করেন "বাংলা একাডেমি"। বাংলা একাডেমির প্রথম সচিব মুহম্মদ বরকতুল্লাহ। তার পদবি ছিল "স্পেশাল অফিসার"। ১৯৫৬ সালে একাডেমির প্রথম পরিচালক নিযুক্ত হন অধ্যাপক ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক। বাংলা একাডেমির প্রথম প্রকাশিত বই আহমদ শরীফ সম্পাদিত দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত লায়লী-মজনু। স্বাধীনতার পর থেকে একাডেমি চত্বরে স্বল্প পরিসরে বইমেলা শুরু হয় এবং ১৯৭৪ সাল থেকে বড়ো আকার ধারণ করে। ২০০৯-২০১১ খ্রিষ্টাব্দে একাডেমির বর্ধমান হাউজ ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় ভাষা আন্দোলন জাদুঘর স্থাপিত হয়েছে।

লক্ষ্য ও আদর্শ 
দেশজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সমকালীন শিল্প ও সাহিত্য সংরক্ষণ এবং গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে জাতির মানসিক বিকাশ ও উৎকর্ষ সাধন।

সাংগঠনিক কাঠামো 
বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলা একাডেমি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। একাডেমির কার্যনির্বাহী প্রধান হিসেবে রয়েছেন একজন মহাপরিচালক। এর প্রথম মহাপরিচালক ছিলেন মযহারুল ইসলাম, যিনি ২ জুন ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বর্তমান মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন মুহম্মদ নূরুল হুদা। তিনি ১২ই জুলাই ২০২১-এ দায়িত্বগ্রহণ করেন।

বাংলা একাডেমির বর্তমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন সেলিনা হোসেন। ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২ তাকে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

আভ্যন্তরিক কাঠামো 
বাংলা একাডেমির বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য ৪টি বিভাগ রয়েছে। এই বিভাগগুলো হচ্ছে:
 গবেষণা, সংকলন ও ফোকলোর বিভাগ
 ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও পত্রিকা বিভাগ
 পাঠ্যপুস্তক বিভাগ
 প্রাতিষ্ঠানিক পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

মহাপরিচালক

সভাপতির তালিকা 
সভাপতিদের নাম নিম্নে দেওয়া হল:

কার্যক্রম

গ্রন্থমেলা 
গ্রন্থমেলায় আগ্রহী কথাসাহিত্যিক ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সাবেক পরিচালক সরদার জয়েনউদ্দীন আন্তর্জাতিক গ্রন্থবর্ষ উপলক্ষে ১৯৭২ সালে ডিসেম্বর মাসে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে একটি আন্তর্জাতিক গ্রন্থমেলার আয়োজন করেন। সেই থেকেই বাংলা একাডেমিতে বইমেলার সূচনা।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলা একাডেমির একুশের অনুষ্ঠানে কোনো বইমেলা হয় নি। তবে বাংলা একাডেমির দেয়ালের বাইরে স্ট্যান্ডার্ড পাবলিশার্সের রুহুল আমিন নিজামী সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রগতি প্রকাশনের কিছু বইয়ের পসরা সাজিয়ে বসেন। তাঁর দেখাদেখি মুক্তধারা প্রকাশনীর চিত্তরঞ্জন সাহা এবং বর্ণমিছিলের তাজুল ইসলামও ওভাবেই তাদের বই নিয়ে বসে যান। ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমির উদ্যোগে একটি বিশাল জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই মেলার উদ্বোধন করেন। সে উপলক্ষে নিজামী, চিত্তরঞ্জন এবং বর্ণমিছিলসহ সাত-আটজন প্রকাশক একাডেমির ভেতরে পূর্ব দিকের দেয়ালঘেঁষে বই সাজিয়ে বসে যান। সে বছরই প্রথম বাংলা একাডেমির বইয়েরও বিক্রয়কেন্দ্রের বাইরে একটি স্টলে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।

অমর একুশে গ্রন্থমেলা 
প্রতি বছর পুরো ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে বাংলা একাডেমি একটি জাতীয় বই মেলার আয়োজন করে যা অমর একুশে গ্রন্থমেলা নামে আখ্যায়িত হয়। ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের ২১ তারিখ বাংলা ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গের যে করুণ ঘটনা ঘটে, সেই স্মৃতিকে অম্লান রাখতেই এই মাসে আয়োজিত এই বইমেলার নামকরণ করা হয় "অমর একুশে গ্রন্থমেলা"। ১৯৮৪ সাল থেকে বাংলা একাডেমি আয়োজিত বইমেলাকে অমর একুশে গ্রন্থমেলা নামকরণ করা হয়।

গবেষণা

গ্রন্থাগার

পুস্তক প্রকাশনা 
বাংলা একাডেমি থেকে ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ সাল পর্যন্ত মোট ৫৪৮১ টি পুস্তক ও পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে। এতে রয়েছে কথাসাহিত্য, কবিতা, সাধারণ অভিধান, পরিভাষা অভিধান, বিভিন্ন লেখক-কবির রচনাবলি, সাহিত্য গবেষণা, সাহিত্য সমালোচনা, দর্শন, ইতিহাস, ভূগোল, গণিত, বিজ্ঞান, সাংবাদিকতা, ভাষা-আন্দোলন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, শিশু-কিশোর সাহিত্য, অনুবাদ, ধর্ম, সংস্কৃতি, জীবনী ইত্যাদি বিষয়ের গ্রন্থাবলি।

পত্র-পত্রিকা প্রকাশনা 
বাংলা একাডেমির প্রথম প্রকাশনা “বাংলা একাডেমি পত্রিকা” প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৯৫৭-র জানুয়ারি মাসে।
 উত্তরাধিকার - সৃজনশীল মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। এটি ১৯৭৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। দশ বছর পত্রিকাটি মাসিক পত্রিকা হিসেবে চালু থাকলেও ১৯৮৩ সাল থেকে ত্রৈমাসিকে রূপান্তরিত হয় এবং ধীরে ধীরে অনিয়মিত হয়ে পড়ে। তবে, ২০০৯ সালের জুলাই থেকে মাসিক হিসেবে এটি প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে নব আঙ্গিকে।
 বাংলা একাডেমি পত্রিকা - সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক গবেষণামূলক ত্রৈমাসিক পত্রিকা।
 বাংলা একাডেমি বার্তা - বাংলা একাডেমির ত্রৈমাসিক মুখপত্র 'লেখা' ২০০৯ সালের আগস্ট থেকে ‘বাংলা একাডেমি বার্তা’ নামে প্রকাশ করা হচ্ছে।
 বাংলা একডেমি বিজ্ঞান পত্রিকা - বিজ্ঞান বিষয়ক ষাণ্মাসিক পত্রিকা।
 ধানশালিকের দেশ - কিশোরদের জন্য প্রকাশিত ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা।
 বাংলা একাডেমি ফোকলোর পত্রিকা - ফোকলোর বিষয়ক ষাণ্মাসিক পত্রিকা।
 বাংলা একাডেমি জার্নাল - ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ষাণ্মাসিক পত্রিকা।

বিভিন্ন বিশেষ প্রকল্প 
ভাষা শহিদ গ্রন্থমালা
অঞ্চলভিত্তিক ফোকলোর গবেষণা গ্রন্থমালা

মুদ্রণ
বাংলা একাডেমির একটি নিজস্ব মুদ্রণ ব্যবস্থা রয়েছে।

পুরস্কার প্রদান 
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার বাংলা ভাষার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার। এটি ছাড়াও বাংলা একাডেমি কয়েকটি পুরস্কার প্রদান করে থাকে। এগুলো হল:

 সা’দত আলি আখন্দ সাহিত্য পুরস্কার
 মযহারুল ইসলাম কবিতা পুরস্কার
 কবীর চৌধুরী শিশু সাহিত্য পুরস্কার
 মেহের কবীর বিজ্ঞানসাহিত্য পুরস্কার
 হালীমা শরফুদ্দীন বিজ্ঞান পুরস্কার
 সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরস্কার (২০১৪-এ প্রবর্তন)
 রবীন্দ্র পুরস্কার (২০১০-এ প্রবর্তন)
 সাহিত্যিক মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ প্রবন্ধ পুরস্কার (২০১৭-এ প্রবর্তন)
 কবি জসীম উদদীন সাহিত্য পুরস্কার (২০১৮)
 চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার )২০১০-এ প্রবর্তন)
 সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার: অমর একুশে গ্রন্থমেলায় স্টল ও অঙ্গসজ্জার জন্য দেয়া হয় 'সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার'। 
 পলান সরকার স্মৃতি পুরস্কার - অমর একুশে গ্রন্থমেলায় সর্বাধিক গ্রন্থ ক্রয়ের জন্য সেরা ক্রেতাকে দেয়া হয় 'পলান সরকার পুরস্কার'।
 মোহাম্মদ নুরুল হক গ্রন্থ–সুহৃদ পুরস্কার

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার 
১৯৬০ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। বাংলা সাহিত্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বিভিন্ন শাখায় বছরে ৯ জনকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বছরে ২ জনকে এই পুরস্কার প্রদানের নিয়ম করা হলেও, পরবর্তীতে, ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে চারটি শাখায় পুরস্কার দেয়া শুরু হয়।

স্বীকৃতি 
শিল্পচর্চায় অনন্য অবদানের জন্য ২০১০ সালে বাংলাদেশের “সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার” হিসাবে পরিচিত “স্বাধীনতা পুরস্কার” প্রদান করা হয় এই প্রতিষ্ঠানটিকে।তাছাড়াও বাংলা একাডেমিকে আনন্দ পুরস্কার দেওয়া হয়। 
কিন্তু বাংলা একাডেমি তা প্রত‍্যাখ‍্যান করে।

বাংলা একাডেমি ফেলোশিপ 

বাংলা একাডেমি নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের গুণী, পণ্ডিত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি বছর সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করে। এছাড়া বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্তগণও ফেলো হিসেবে গণ্য হন। বাংলা একাডেমির সাধারণ পরিষদের বার্ষিক সভায় সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করা হয়। সম্মানসূচক ফেলোশিপপ্রাপ্তদের সম্মাননাপত্র ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অমর্ত্য সেনকেও এই সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করা হয়।

চিত্রশালা

তথ্যসূত্র

বহিঃসংযোগ 

 বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট

বাংলাদেশি সংস্কৃতি
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান
বাংলা ভাষা
বাংলা ভাষার শিক্ষায়ন
সংস্কৃতিতে স্বাধীনতা পুরস্কার বিজয়ী
 
বাংলা সাহিত্যের প্রতিষ্ঠান
১৯৫৫-এ প্রতিষ্ঠিত
বাংলাদেশ ভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন
আনন্দ পুরস্কার বিজয়ী
১৯৫৫-এ পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত
বাংলাদেশের বিদ্বৎসমাজ
বাংলাদেশে শিক্ষা
সাংস্কৃতিক প্রবর্ধন সংস্থা
স্বাধীনতা পুরস্কার বিজয়ী
অল ইন্ডিয়া রেডিও ১৯২৭ সালে বেসরকারী রেডিও ক্লাবের উদ্যোগে সর্বপ্রথম বেতার সম্প্রচার শুরু করে। সাধারণ জনগণকে তথ্য, শিক্ষা ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান প্রচারের জন্য ১৯৩৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকার কর্তৃক অল ইন্ডিয়া রেডিওর সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়। 

ভারতে রেডিও সম্প্রচার শুরু হয় ১৯২৭ সালে মুম্বাই(বোম্বে) এবং কলকাতায়(ক্যালকাটা) দুটি ব্যক্তিগত ট্রান্সমিটার দিয়ে। এটি ১৯৩০ সালে জাতীয়করণ করা হয় এবং তারপরে এটি ভারতীয় সম্প্রচার পরিষেবা (ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন) নামে পরিচিত হয়।  পরবর্তীতে ১৯৫৭ সালে এর নাম পরিবর্তন করে আকাশবাণী করা হয়।

১৯৪৭ যখন ভারত স্বাধীনতা লাভ করলো তখন অল ইন্ডিয়া রেডিও’র ১৮টি ট্রান্সমিটার সহ ৬টি সম্প্রচার কেন্দ্র ছিল। বেতার সম্প্রচারের ব্যাপ্তি ছিল ভৌগোলিক পরিসীমার ২.৫% এবং জনসংখ্যার ১১%। ভারতের স্বাধীনতার পর অল ইন্ডিয়া রেডিও’র দ্রুত বিকাশ ঘটে।

বর্তমানে অল ইন্ডিয়া রেডিও’র ১৪৪টা মিডিয়াম ট্রান্সমিশন (মিডিয়াম ওয়েভ), ৫৪টি হাই ফ্রিকোয়েন্সী (শর্ট ওয়েভ) এবং ১৩৯টি এফ এম ট্রান্সমিশন সহ ২১৫টি সম্প্রচার কেন্দ্র সমন্বয়ে সম্প্রচার নেটওর্য়াক চালু আছে। অল ইন্ডিয়া রেডিও ভৌগোলিক পরিব্যাপ্তির ১৯.৪২% এবং ৯৯.১৩% জনসংখ্যাকে এই সম্প্রচার সেবা দিয়ে যাচ্ছে । অভ্যন্তরীণ জনসংখ্যার জন্য অল ইন্ডিয়া রেডিও ২৪টি ভাষা এবং ১৪৬টি উপভাষায় এবং আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের জন্য ১৭টি ভারতীয় ও ১০টি বিদেশী ভাষা সমন্বয়ে সর্বমোট ২৭টি ভাষায় বেতার সম্প্রচার করছে।

তথ্যসূত্র

বহিঃসংযোগ 
 অল ইন্ডিয়া রেডিও 
 India Radio 

ভারতের গণমাধ্যম
১৯৩৬-এ ভারতে প্রতিষ্ঠিত
আন্তর্জাতিক সম্প্রচারক
বহুভাষিক সম্প্রচারক
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম
ঋত্বিক কুমার ঘটক, যিনি ঋত্বিক ঘটক হিসেবেই সচরাচর অভিহিত, (জন্ম: ৪ নভেম্বর ১৯২৫ - মৃত্যু: ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬) বিংশ শতাব্দীর একজন খ্যাতিমান বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক। তার জন্ম অবিভক্ত ভারতের পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশের) রাজশাহী শহরের মিয়াঁপাড়ায় । ছেলেবেলায় কিছুদিন দাদা মণীশ ঘটকের সঙ্গে কলকাতায় ছিলেন তিনি। তখন পড়াশোনা করতেন দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ রাষ্ট্রীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে। পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রাজশাহী শহরে ফিরে যান তিনি। রাজশাহী শহরের পৈতৃক বাড়িতে শৈশব, কৈশোর ও তারুণ্যের একটি অংশ কাটিয়েছেন। এই বাড়িতে কিছু সময় বসবাস করেছেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীও। ঋত্বিক ঘটক রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল ও রাজশাহী কলেজে পড়েছেন। তিনি রাজশাহী কলেজ এবং মিয়াঁপাড়ার সাধারণ গ্রন্থাগার মাঠে কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে নাট্যচর্চা করেছেন।‌‌‌‌‌। ১৯৪৭ এর ভারত বিভাগের পরে তার পরিবার কলকাতায় চলে যায়। বাংলা চলচ্চিত্র পরিচালকদের মধ্যে তিনি সত্যজিৎ রায় এবং মৃণাল সেনের সাথে তুলনীয়। ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্র নির্মাণের কারণে তিনি যেমন প্রশংসিত ছিলেন; ঠিক তেমনি বিতর্কিত ভূমিকাও রাখেন। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তার নাম বহুল উচ্চারিত।

ব্যক্তিগত জীবন 

তার জন্ম অবিভক্ত ভারতের পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশের) রাজশাহী শহরের মিয়াঁপাড়ায় । তার মায়ের নাম ইন্দুবালা দেবী এবং বাবা সুরেশ চন্দ্র ঘটক। তিনি বাবা-মায়ের ১১তম এবং কনিষ্ঠতম সন্তান। ১৯৪৩ এর দুর্ভিক্ষ এবং ১৯৪৭ এর ভারত বিভাগের পরে পূর্ববঙ্গের প্রচুর লোক কলকাতায় আশ্রয় নেয় এবং এরই ধারাবাহিকতায় তার পরিবার কলকাতায় চলে যায়। শরণার্থীদের অস্তিত্বের সংকট তাকে গভীরভাবে আলোড়িত করে এবং পরবর্তী জীবনে তার চলচ্চিত্রে এর স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।
কলকাতায় বালিগঞ্জ রাষ্ট্রীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তাঁর সম্পর্কে অনেক তথায জানতে পারা যায়। তাঁর স্কুল পালানো, ম্যাডক্স স্কোয়ারে নাটকের রিহার্সাল, সবকিছুই অত্যন্ত চমকপ্রদ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ফিরে যান বাংলাদেশের রাজশাহীতে।
১৯৪৬ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে আই.এ এবং ১৯৪৮ সালে বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে বি.এ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে এম.এ কোর্স শেষ করেও পরীক্ষা না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন তিনি।

তার বাবা সুরেশ চন্দ্র ঘটক একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন এবং তিনি কবিতা ও নাটক লিখতেন। তার বড় ভাই ঐ সময়ের খ্যাতিমান এবং ব্যতিক্রমী লেখক মনীশ ঘটক ছিলেন ইংরেজির অধ্যাপক এবং সমাজকর্মী। আইপিটিএ থিয়েটার মুভমেন্ট এবং তেভাগা আন্দোলনে মনীশ ঘটক জড়িত ছিলেন। মনীশ ঘটকের মেয়ে বিখ্যাত লেখিকা ও সমাজকর্মী মহাশ্বেতা দেবী। তাঁর মেজ ভাই সুধীশ ঘটক টেলিভিশন এক্সপার্ট ছিলেন। সুধীশ গ্রেটব্রিটেনে ডকুমেন্টারি ক্যামেরাম্যান হিসেবে ছয় বছর কাজ করেন। বলা হয় মেজ ভাই সুধীশ ঘটকের মাধ্যমেই তাঁর চলচ্চিত্র জগতের সান্নিধ্যে আসা হয়।

ঋত্বিক ঘটকের স্ত্রী সুরমা ঘটক ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা।

রাজনৈতিক আদর্শ
তিনি ছিলেন বামপন্থী রাজনৈতিক আদর্শের অনুরাগী।

কর্মজীবন 
ঋত্বিক ঘটক তার প্রথম নাটক কালো সায়র লেখেন ১৯৪৮ সালে। একই বছর তিনি নবান্ন নামক পুণর্জাগরণমূলক নাটকে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫১ সালে তিনি ভারতীয় গণনাট্য সংঘে (আইপিটিএ) যোগদান করেন। এসময় তিনি নাটক লেখেন, পরিচালনা করেন ও অভিনয় করেন এবং বের্টোল্ট ব্রেশ্‌ট ও নিকোলাই গোগোল-এর রচনাবলি বাংলায় অনুবাদ করেন। বিমল রায় জ্বালা নাটকটি তিনি লেখেন এবং পরিচালনা করেন ১৯৫৭ সালে; এটিই তার পরিচালনায় শেষ নাটক।
ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন নিমাই ঘোষের ছিন্নমূল (১৯৫১) সিনেমার মধ্য দিয়ে; তিনি একই সাথে অভিনয় করেন এবং সহকারী পরিচালক হিসাবে কাজ করেন। এর দু'বছর পর তার একক পরিচালনায় মুক্তি পায় নাগরিক। দু'টি চলচ্চিত্রই ভারতীয় চলচ্চিত্রের গতানুগতিক ধারাকে জোর ঝাঁকুনি দিতে সমর্থ হয়েছিল।

তার সবচেয়ে বিখ্যাত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে মেঘে ঢাকা তারা (১৯৬০), কোমল গান্ধার (১৯৬১) এবং সুবর্ণরেখা (১৯৬২) অন্যতম; এই তিনটি চলচ্চিত্রকে ট্রিলজি বা ত্রয়ী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়, যার মাধ্যমে কলকাতার তৎকালীন অবস্থা এবং উদ্বাস্তু জীবনের রুঢ় বাস্তবতা চিত্রিত হয়েছে। বাঙালি শরণার্থীর দুর্দশার কথা বলা হয়েছে। সমালোচনা এবং বিশেষ করে কোমল গান্ধার এবং সুবর্ণরেখা'র ব্যবসায়িক ব্যর্থতার কারণে এই দশকে আর কোন চলচ্চিত্র নির্মাণ তার পক্ষে সম্ভব হয়নি।

ঋত্বিক ঘটক ১৯৬৫ সালে স্বল্প সময়ের জন্য পুনেতে বসবাস করেন। এসময় তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে যোগদান করেন ও পরবর্তীকালে ভাইস-প্রিন্সিপাল হন। এফটিআইআই-এ অবস্থানকালে তিনি শিক্ষার্থীদের নির্মিত দুটি চলচ্চিত্রের (Fear and Rendezvous) সাথে জড়িত ছিলেন।
ঋত্বিক ঘটকের চলচ্চিত্রের জগতে পুণরাবির্ভাব ঘটে সত্তরের দশকে যখন এক বাংলাদেশী প্রযোজক তিতাস একটি নদীর নাম (চলচ্চিত্র) নির্মাণে এগিয়ে আসেন। অদ্বৈত মল্লবর্মন রচিত একই নামের বাংলা সাহিত্যের একটি বিখ্যাত উপন্যাস ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনায় চলচ্চিত্রে রূপদান সম্পন্ন হয়। তিতাস একটি নদীর নাম চলচ্চিত্র আকারে মুক্তি পায় ১৯৭৩ সালে। খারাপ স্বাস্থ্য এবং অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে নিয়মিত কাজ চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তার শেষ চলচ্চিত্র যুক্তি তক্কো আর গপ্পো (১৯৭৪) অনেকটা আত্মজীবনীমূলক এবং এটি তার অন্যান্য চলচ্চিত্র থেকে ভিন্ন ধাঁচের।

দেশভাগের যন্ত্রণা নিয়ে তৈরি ঋত্বিকের একাধিক ছবিতে মর্মস্পর্শী সংলাপ ব্যবহার হয়েছে।

তিতাস একটি নদীর নাম (চলচ্চিত্র) 

সুবর্ণরেখা চলচ্চিত্র নির্মাণের পর প্রায় এক যুগ বিরতি নিয়ে অদ্বৈত মল্লবর্মণের তিতাস একটি নদীর নাম শীর্ষক উপন্যাসের কাহিনীকে উপজীব্য করে ঋত্বিক ঘটক ১৯৭৩ সালে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে আগমন করে তিতাস একটি নদীর নাম শিরোনামে চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন। মাঝখানে কোন পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র তৈরী করেননি তিনি। এ চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহের কারণ হিসেবে তিনি বলেন,

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের করা দর্শক, চলচ্চিত্র সমালোচকদের ভোটে এ চলচ্চিত্রটি সেরা বাংলাদেশী ছবির মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করে।

চলচ্চিত্রসমূহের তালিকা

পরিচালনা 

 নাগরিক (১৯৫২, মুক্তি ১৯৭৭)
 অযান্ত্রিক (১৯৫৮)
 বাড়ী থেকে পালিয়ে (১৯৫৮)
 মেঘে ঢাকা তারা (১৯৬০)
 কোমল গান্ধার (১৯৬১)
 সুবর্ণরেখা (১৯৬২, মুক্তি ১৯৬৫)
 তিতাস একটি নদীর নাম (১৯৭৩)
 যুক্তি তক্কো আর গপ্পো (১৯৭৭)
</div>

কাহিনী ও চিত্রনাট্য 

 মুসাফির (১৯৫৭)
 মধুমতী (১৯৫৮)
 স্বরলিপি (১৯৬০)
 কুমারী মন (১৯৬২)
 দ্বীপের নাম টিয়ারং (১৯৬৩)
 রাজকন্যা (১৯৬৫)
 হীরের প্রজাপতি (১৯৬৮)
</div>

অভিনয় 

 তথাপি (১৯৫০)
 ছিন্নমূল (১৯৫১)
 কুমারী মন (১৯৫২)
 সুবর্ণরেখা (১৯৬২, মুক্তি ১৯৬৫)
 তিতাস একটি নদীর নাম (১৯৭৩)
 যুক্তি তক্কো আর গপ্পো (১৯৭৭)
</div>

শর্টফিল্ম ও তথ্যচিত্রের তালিকা 

 দ্য লাইফ অফ দ্য আদিবাসিজ (১৯৫৫)
 প্লেসেস অফ হিস্টোরিক ইন্টারেস্ট ইন বিহার (১৯৫৫)
 সিজার্স (১৯৬২)
 ওস্তাদ আলাউদ্দিন খান (১৯৬৩)
 ফিয়ার (১৯৬৫)
 রঁদেভু (১৯৬৫)
 সিভিল ডিফেন্স (১৯৬৫)
 সায়েন্টিস্টস অফ টুমরো (১৯৬৭)
 ইয়ে কওন (হোয়াই / দ্য কোয়েশ্চন) (১৯৭০)
 আমার লেলিন (১৯৭০)
 পুরুলিয়ার ছৌ (দ্য ছৌ ড্যান্স অফ পুরুলিয়া) (১৯৭০)
 দুর্বার গতি পদ্মা (দ্য টার্বুলেন্ট পদ্মা) (১৯৭১)
</div>

অসমাপ্ত ছবি ও তথ্যচিত্রের তালিকা 

 বেদেনি (১৯৫১)
 কত অজানারে (১৯৫৯)
 বগলার বঙ্গদর্শন (১৯৬৪-৬৫)
 রঙের গোলাপ (১৯৬৮)
 রামকিঙ্কর (১৯৭৫)
 আদিবাসীও কা জীবন (১৯৫৫) 
</div>

 পুরস্কার ও সম্মাননা 
 ১৯৭০: ভারত সরকার তাকে শিল্পকলায় পদ্মশ্রী উপাধিতে ভূষিত করেন।
 ১৯৫৭: মুসাফির চলচ্চিত্রের জন্য ভারতের ৫ম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তৃতীয় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের জন্য মেধার ছাড়পত্র লাভ করেন।
 ১৯৫৯: মধুমতী চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার বিভাগে ৬ষ্ঠ ফিল্মফেয়ার পুরস্কার-এ মনোনয়ন লাভ করেন।
 ১৯৭০: হীরের প্রজাপতি চলচ্চিত্রের জন্য ১৬তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ শিশুতোষ চলচ্চিত্র পুরস্কার (প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক) লাভ করেন।
 ১৯৭৪: যুক্তি তক্কো আর গপ্পো চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার বিভাগে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
 ১৯৭৪: তিতাস একটি নদীর নাম'' চলচ্চিত্রের জন্য সেরা পরিচালক বিভাগে বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন।

তথ্যসূত্র

বহিঃসংযোগ 

 

 
১৯২৫-এ জন্ম
১৯৭৬-এ মৃত্যু
২০শ শতাব্দীর ভারতীয় অভিনেতা
২০শ শতাব্দীর ভারতীয় সুরকার
২০শ শতাব্দীর ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক
কলকাতার চলচ্চিত্র পরিচালক
কলকাতার চলচ্চিত্র প্রযোজক
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
ঢাকার ব্যক্তি
বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক
বাঙালি হিন্দু
ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা
ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক
ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রযোজক
ভারতীয় লেখক
ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীত সুরকার
রাজশাহী কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
যক্ষ্মা রোগে মৃত্যু
শিল্পকলায় পদ্মশ্রী প্রাপক
কৃষ্ণনাথ কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
বাংলা চলচ্চিত্র প্রযোজক
বাংলা ভাষার লেখক
বাঙালি লেখক
চলচ্চিত্র তাত্ত্বিক
ভারতীয় পুরুষ চিত্রনাট্যকার
ভারতে যক্ষ্মায় মৃত্যু
প্রথম আলো বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগের বিখ্যাত বাঙালি কবি ও কথাসাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা একটি জনপ্রিয় ঐতিহাসিক উপন্যাস। দীর্ঘ এই উপন্যাসটি রচিত হয়েছে ঊনবিংশ শতকের শেষার্ধের পটভূমিকায়। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের আর এক বিখ্যাত উপন্যাস সেই সময়-এ যে কাল-পর্বের কথা আছে ঠিক তার পরের কাল-পরিধি এই উপন্যাসের উপজীব্য। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে জাতি হিসাবে বাঙালির আত্মসচেতনতা গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া এ ঐতিহাসিক উপন্যাসের কেন্দ্রীয় সুর।

বিবরণ 
সুদীর্ঘ এই উপন্যাসটির শুরু হয় ত্রিপুরার রাজপরিবারের কাহিনি দিয়ে। তারপরে তা ক্রমশ জমাট বাঁধে কলকাতায় ঠাকুর পরিবারে এবং তৎকালীন অন্যান্য বিশিষ্ট সব মানুষদের নিয়ে। এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলি সবই প্রায় বাস্তব ঐতিহাসিক চরিত্র। যেমন:রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাদম্বরী দেবী,নরেন্দ্রনাথ দত্ত(স্বামী বিবেকানন্দ), ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, নটী বিনোদিনী, গিরিশচন্দ্র ঘোষ প্রভৃতি। সুনীলই প্রথম রবীন্দ্রনাথকে উপন্যাসের চরিত্র হিসাবে ব্যবহার করেছেন। 
তবে উপন্যাসের মূল চরিত্র হিসেবে রয়েছে দুটি কাল্পনিক চরিত্র "ভরত ও ভূমিসুতা"। উপন্যাসটির ঘটনা প্রবাহ আবর্তিত হয়েছে এই দু'টি চরিত্রকে কেন্দ্র করেই।
উপন্যাসটি থেকে স্পষ্ট একটি ধারণা পাওয়া যায় রামকৃষ্ণ পরমহংস ও তার শিষ্যদের সম্বন্ধে।
প্রথম আলো উপন্যাসটি দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়। পরবর্তী কালে আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এই বইটির ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশিত হয় অক্সফোর্ড থেকে।

তথ্যসূত্র

বাংলা ভাষার উপন্যাস
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস
বাংলা ভাষার ভারতীয় উপন্যাস
আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেডের বই
পশ্চিমবঙ্গের উপন্যাস
ঐতিহাসিক উপন্যাস
পশ্চিমবঙ্গের পটভূমিতে উপন্যাস
প্রথম আলো (উপন্যাস), সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি উপন্যাস
 দৈনিক প্রথম আলো, বাংলাদেশের একটি দৈনিক পত্রিকা
কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর একটি ধরন হচ্ছে অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং। প্রোগ্রামিং এর জন্য এটি একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। কম্পিউটার এর উন্নতির সাথে সাথে প্রোগ্রামিং-ও জটিলতর হতে থাকে। অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং সুবিন্যস্ত প্রোগ্রামিং এর ভাল দিকগুলো গ্রহণ করে এবং নতুন কিছু সুবিধা যোগ করে। খুব সাধারণ অর্থে বলতে গেলে, অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং কাজ করে কোড এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট ডাটা নিয়ে।

মূল ধারণা 

 বস্তু,
 ক্লাস,
 ডেটা লুকানো এবং এনক্যাপসুলেশন,
 গতিশীল বাঁধাই,
 বার্তা পাসিং,
 উত্তরাধিকার,
 পলিমরফিজম,
 ব্যতিক্রম হ্যান্ডলিং,

উদাহরণ 
 সি++
 জাভা
 সিমুলা
 স্মলটক
 সি শার্প 
 পাইথন
 রুবি
 পিএইচপি
 পার্ল

তথ্যসূত্র 

প্রোগ্রামিং ঘরানা
অপারেটিং সিস্টেম (ইংরেজি: Operating System, সংক্ষেপে OS) হলো একটি সিস্টেম সফটওয়্যার যা কম্পিউটার ও সফটওয়্যার এবং কম্পিউটার প্রোগ্রামের জন্যে সাধারণ সেবা সরবরাহ করে। 
অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটার ও ব্যহারকারীদের ইনপুট নেয় এবং বিভিন্ন টাস্ক ও কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ সিস্টেম সম্পদগুলি বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা করে ব্যবহারকারী ও অন্যান্য প্রোগ্রামকে সেবা প্রদান করে। মেমরি বণ্টন ও নিয়ন্ত্রণ, সিস্টেম অণুরোধগুলির অগ্রাধিকার নির্ণয়, ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ, কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং ও ফাইল সিস্টেম ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি অপারেটিং সিস্টেমের কাজ। উইন্ডোজ, উবুন্টু, আইওএস, ক্রোম ওএস, ম্যাক ওএস ও অ্যান্ড্রয়েড প্রচলিত কয়েকটি অপারেটিং সিস্টেম। অপারেটিং সিস্টেম অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামগুলি চালাবার জন্য পরিবেশ তৈরি করে। ব্যবহারকারীর কাছে অপারেটিং সিস্টেমের সবচেয়ে দৃশ্যমান রূপ হল কম্পিউটারের ব্যবহারকারী ইন্টারফেস।

সাধারণ উদ্দেশ্যের জন্য নির্মিত  ডেস্কটপ অপারেটিং সিস্টেমগুলির মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকারীটির নাম হল মাইক্রোসফট উইন্ডোজ, যা বিশ্ব বাজারের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ দখল করে আছে। অ্যাপল কোম্পানির ম্যাকওএস প্রায় ১৮% এবং লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের বিভিন্ন প্রকার প্রায় ২% ডেস্কটপ কম্পিউটারে ব্যবহৃত হয়। মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমগুলির মধ্যে (যার মধ্যে বুদ্ধিমান মুঠোফোন বা স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট কম্পিউটার অন্তর্ভুক্ত) গুগল কোম্পানির অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের বাজারাংশ ২০২০ সালের জুলাই মাসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী ৮৭% ছিল। এর বিপরীতে অ্যাপল কোম্পানির আইওএস অপারেটিং সিস্টেমটির বাজারাংশ ছিল ১৩%। লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের বিভিন্ন বিতরণগুলি সার্ভার ও সুপারকম্পিউটার খাতে আধিপত্য বিস্তার করেছে। এছাড়া বিশেষায়িত শ্রেণীর তথা বিশেষ উদ্দেশ্যের অপারেটিং সিস্টেমেরও (যেমন গ্রথিত ও বাস্তব-সময় ব্যবস্থাসমূহ) অনেক প্রয়োগ আছে।  
 
কিছু অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটারে সংস্থাপন বা ইনস্টল করতে হয়। আবার কিছু কিছু অপারেটিং সিস্টেম ক্রয়কৃত কম্পিউটারে পূর্ব-সংস্থাপিত হয়ে থাকতে পারে। আবার কিছু কিছু অপারেটিং সিস্টেম অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ মাধ্যম যেমন লাইভ সিডি বা ফ্ল্যাশ মেমরি থেকে সরাসরি চালানো সম্ভব।

বহুপ্রোগ্রামিং 
সিপিইউ সর্বাধিক দক্ষভাবে ব্যবহার করার জন্য আধুনিক অপারেটিং সিস্টেমগুলোতে বহুপ্রোগ্রামিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এতে মেমরিতে একসাথে একাধিক জব থাকতে পারে, ফলে সবসময়ই কোন না কোন জব প্রস্তুত থাকে যা সিপিইউ-কে দিয়ে করিয়ে নেয়া যায়। বহুপ্রোগ্রামিং ব্যবস্থার একটি সম্প্রসারিত রূপ হল সময়-শেয়ারকারী ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় সিপিইউ-এর শিডিউলিং অ্যালগোরিদমগুলি খুব দ্রুত এক জব থেকে আরেক জবে সুইচ করে, ফলে মনে হয় সবগুলো জব একসাথে চলছে।

মোড 
ব্যবহারকারীর প্রোগ্রামগুলো যাতে কম্পিউটারের কাজে ব্যাঘাত করতে না পারে, সেজন্য হার্ডওয়্যার দুই মোডে চলে: কার্নেল মোড ও ব্যবহারকারী মোড। I/O নির্দেশ ও হল্টিং নির্দেশগুলোসহ অন্যান্য প্রিভিলেজপ্রাপ্ত নির্দেশগুলো শুধু কার্নেল মোডে চলতে পারে। মেমরির যেখানে অপারেটিং সিস্টেম রাখা থাকে, সে এলাকাটাকেও ব্যবহারকারীর হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে হয়, যাতে ব্যবহারকারী এর কোন পরিবর্তন করতে না পারেন। অসীমসংখ্যক লুপ যাতে সৃষ্টি না হয়, সেজন্য টাইমার ব্যবহার করা হয়। এই ব্যবস্থাগুলিই (দ্বৈত মোড, প্রিভিলেজপ্রাপ্ত নির্দেশ, মেমরি সুরক্ষা, টাইমার দিয়ে ইন্টেরাপ্ট) অপারেটিং সিস্টেমের সঠিকভাবে চলার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

প্রসেস 
প্রসেস বা জব হল অপারেটিং সিস্টেমের কাজের মৌলিক একক। প্রসেস ব্যবস্থাপনা বলতে প্রসেস সৃষ্টি করা, প্রসেস মুছে দেয়া, প্রসেসগুলো কীভাবে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে পারে ও সময় মিলিয়ে চলতে পারে, তার মেকানিজমগুলো প্রদান করা, ইত্যাদিকে বোঝায়। মেমরি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে অপারেটিং সিস্টেম মেমরির কোন অংশ কে ব্যবহার করছে, তার হিসাব রাখে। অপারেটিং সিস্টেম ডাইনামিকভাবে মেমরি এলাকা খালি করতে পারে ও বণ্টন করতে পারে। অপারেটিং সিস্টেম স্টোরেজ ব্যবস্থাগুলোরও দেখাশোনা করে। এ-সংক্রান্ত কাজের মধ্যে আছে ফাইল ও ডিরেক্টরি উপস্থাপনের জন্য ফাইল সিস্টেম প্রদান করা, গণ-স্টোরেজ ব্যবস্থাগুলোর জায়গা ব্যবস্থাপনা করা।

সুরক্ষা ও নিরাপত্তা 
অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারী ও নিজেকে রক্ষার জন্যও কাজ করে। দুইটি ধারণা এক্ষেত্রে উল্লেখ্য: সুরক্ষা/প্রোটেকশন ও নিরাপত্তা/সিকিউরিটি। কম্পিউটারের সম্পদ কীভাবে বিভিন্ন প্রসেস বা ব্যবহারকারী অ্যাক্সেস করবেন, অপারেটিং সিস্টেমের প্রোটেকশন মেকানিজমগুলো তা নিয়ন্ত্রণ করে। আর সিকিউরিটি পদক্ষেপগুলো কম্পিউটারকে বাইরের বা ভেতরের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

বিতরণকৃত ব্যবস্থা 
বিতরণকৃত ব্যবস্থাগুলিতে ব্যবহারকারীরা ভৌগলিকভাবে ছড়ানো কিন্তু কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত একাধিক হোস্টের সম্পদ শেয়ার করতে পারেন। এই সেবা ক্লায়েন্ট-সার্ভার কিংবা পিয়ার-টু-পিয়ার যেকোনভাবে দেয়া যেতে পারে। গুচ্ছ বা ক্লাস্টার ব্যবস্থায় একাধিক যন্ত্র শেয়ারকৃত স্টোরেজে রাখা উপাত্তের উপর গণনামূলক কাজ চালাতে পারে। এবং ক্লাস্টারের এক বা একাধিক যন্ত্র ফেল করলেও গণনা অব্যাহত থাকতে পারে।

বিশেষ পরিবেশের অপারেটিং সিস্টেম 
এছাড়াও আরও কয়েক ধরনের কম্পিউটার ব্যবস্থা আছে যেগুলো বিশেষ ধরনের কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়। এমবেডেড পরিবেশ, যেমন ক্রেতাদের ব্যবহৃত যন্ত্রসমূহ, যানবাহন, রোবট, ইত্যাদিতে রিয়েল-টাইম অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। রিয়েল-টাইম অপারেটিং সিস্টেমে সুসংজ্ঞায়িত ও নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে। ঐ সময়সীমার ভেতরে প্রসেসিং সমাপ্ত করতেই হয়, নয়তো সিস্টেম অকার্যকর গণ্য করা হয়। মাল্টিমিডিয়া ব্যবস্থায় মাল্টিমিডিয়া উপাত্ত সরবরাহ-সংক্রান্ত কাজের পরিমাণ বেশি। কীভাবে অডিও, ভিডিও ও সিংক্রোনাইজড অডিও-ভিডিও ধারা দেখানো ও চালানো হবে, তার জন্য এতে ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেমে কিছু বিশেষ চাহিদা পূর্ণ করা হয়। ইদানীং ইন্টারনেট ও ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের প্রভাবে আধুনিক অপারেটিং সিস্টেমগুলোতে ওয়েব ব্রাউজার, নেটওয়ার্কিং ও যোগাযোগ সফটওয়্যার অপরিহার্য ফিচার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

আরও দেখুন
লিনাক্স
কালি লিনাক্স
উবুন্টু
আর্চ লিনাক্স
মানজারো লিনাক্স
এলিমেন্টারি ওএস
লিনাক্স মিন্ট
ডেবিয়ান
ফ্রী বিএসডি
সোলারিস

তথ্যসূত্র

অপারেটিং সিস্টেম
অ্যাপলেট হচ্ছে জাভা (প্রোগ্রামিং ভাষা) দ্বারা লেখা প্রোগ্রাম যা কোন ওয়েবপেজ এ সংযুক্ত করার জন্য লেখা হয়। যদিও অ্যাপলেট কম্পিউটার প্রোগ্রাম, তবুও নিরাপত্তার কারণে অ্যাপলেটের কিছু সীমাবদ্ধতা রাখা হয়েছে।

সুবিধা 
জাভা অ্যাপলেট-এর নিচের এক বা একাধিক সুবিধা আছে।
 সহজে অন্যান্য ভিত্তির পরিচালন ব্যবস্থাতে চলে, যা একে ভিত্তি নির্ভরমুক্ত করেছে।
 একি অ্যাপলেট বিভিন্ন সংস্করণের জাভায় চলতে সক্ষম।
 বেশিরভাগ ব্রাউজার এই ধরনের অ্যাপলেট চালাতে সক্ষম।

অসুবিধা 
জাভা অ্যাপলেট-এর নিচের এক বা একাধিক অসুবিধা আছে।

বিকল্প 

জাভা প্রোগ্রামিং
জাভা প্ল্যাটফর্ম
টরন্টো উত্তর আমেরিকা মহাদেশের রাষ্ট্র কানাডার দক্ষিণ-পূর্ব অংশে অবস্থিত অন্টারিও প্রদেশের রাজধানী শহর। এটি কানাডার বৃহত্তম মহানগর এলাকা (মোঁরেয়াল ২য় বৃহত্তম) ও গোটা উত্তর আমেরিকার ৪র্থ বৃহত্তম নগরী (মেক্সিকো সিটি, নিউ ইয়র্ক সিটি এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের পরেই)।  অর্থনৈতিকভাবে কানাডার সবচেয়ে  সমৃদ্ধ প্রদেশ অন্টারিও-র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর বলে এটি দেশটির আর্থিক ও ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র। টরন্টো শহরটি অন্টারিও হ্রদের উত্তর-পশ্চিম তীরে অবস্থিত। শহরটি দক্ষিণ-মধ্য অন্টারিও প্রদেশে ও অন্টারিও হ্রদের পশ্চিম তীর ধরে বিস্তৃত গোল্ডেন হর্সশু (অর্থাৎ “সোনালী নাল”) নামক অত্যন্ত নগরায়িত ও শিল্পায়িত একটি অঞ্চলের অংশ। অন্টারিও হ্রদটি কানাডা-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমানার একটি অংশ গঠন করেছে। ফলে টরন্টো উত্তর আমেরিকার গ্রেট লেকস তথা বৃহৎ হ্রদগুলির মাধ্যমে প্রধান প্রধান মার্কিন শিল্পকেন্দ্রগুলির সাথে সংযুক্ত। অন্যদিকে সেন্ট লরেন্স নদীর মাধ্যমে এটি আটলান্টিক মহাসাগরগামী জাহাজগুলিকেও স্বাগত জানাতে পারে। এই দুই কারণে টরন্টো একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে শহরটির ব্যাপক প্রবৃদ্ধি সংঘটিত হয়েছে। তার আগে এটি একটি শান্ত প্রাদেশিক শহর ছিল। ২০শ শতকের শেষে এসে টরন্টো একটি প্রাণবন্ত আন্তর্জাতিক মহানগরীতে পরিণত হয়েছে। ১৯৯৮ সালে পার্শ্ববর্তী ইস্ট ইয়র্ক, এটোবিকোক, নর্থ ইয়র্ক এবং স্কারবোরো “বারো” বা উপশহরগুলিকে টরন্টোর সাথে একীভূত করে সিটি অফ টরন্টো গঠন করা হয়। আদি টরন্টোর আয়তন মাত্র ৯৭ বর্গকিলোমিটার হলেও বর্তমানে টরন্টো শহরের আয়তন ৬৩২ বর্গকিলোমিটার। মহানগর টরন্টো এলাকার আয়তন ৫,৮৬৮ বর্গকিলোমিটার (তুলনামূলকভাবে মোঁরেয়াল মহানগর এলাকার আয়তন প্রায় ৪০০০ বর্গকিলোমিটার)। মূল টরন্টো শহরে প্রায় ২৭ লক্ষ এবং মহানগর এলাকাতে ৬২  লক্ষ লোকের বাস।

ইউনিভার্সিটি অ্যাভিনিউ টরন্টোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, যার মাথায় সবুজ শ্যামল ও ডিম্বাকৃতির কুইন্স পার্ক অবস্থিত, যার ভেতরে অন্টারিও প্রদেশের আইনসভা বা সংসদ ভবনগুলি দাঁড়িয়ে আছে। শহরকেন্দ্রের উল্লেখযোগ্য ভবনের মধ্যে আছে মেট্রো হল এবং নেথান ফিলিপস স্কোয়ারে অবস্থিত সুদৃশ্য দুইটি বক্রাকৃতির অট্টালিকা নিয়ে গঠিত সিটি হল বা নগর ভবন। আরেকটি আংশিকভাবে সৌরবিদ্যুৎ-চালিত ও চোখে পড়ার মত অট্টালিকাতে অন্টারিও পাওয়ার জেনারেশন নামক শক্তি সরবরাহ সংস্থার সদর দফতর অবস্থিত। নগরকেন্দ্রেই সেন্ট জেমস অ্যাংলিকান ক্যাথিড্রাল এবং সেন্ট মাইকেল রোমান ক্যাথলিক ক্যাথিড্রাল দুইটি ধর্মীয় স্থাপনা উল্লেখ করার মত। শনিবার সকালে সেন্ট লরেন্স বাজারটিতে অনেক জনসমাগম ঘটে। টরন্টোর নগরকেন্দ্রটি বেশ কয়েকটি অট্টালিকার সমাহার নিয়ে গঠিত, তবে এদের সবাইকে ছাড়িয়ে সবার উপরে দাঁড়িয়ে আছে সি এন টাওয়ার নামের সুউচ্চ স্থাপনাটি। ৫৫৩ মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট সি এন টাওয়ার বর্তমানে টরন্টো শহরের একটি প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

টরন্টো অন্টারিও ছাড়াও কানাডার গোটা ইংরেজিভাষী সম্প্রদায়ের জন্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্রবিন্দু। এখানে তিনটি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আছে। সমগ্র দেশের শিল্পোৎপাদন, আর্থিক ও ব্যাংকিং কেন্দ্র হিসেবে টরন্টো কানাডার অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। বহু গুরুত্বপূর্ণ কর্পোরেশনের প্রধান কার্যালয় এই শহরে অবস্থিত।

এছাড়াও টরন্টো শহর কানাডার টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। শহরটি চলচ্চিত্র নির্মাণ, টেলিভিশনের জন্য অনুষ্ঠান প্রযোজনা এবং সংবাদ সম্প্রচারের জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যম টরন্টো শহরেই কেন্দ্রীভূত হয়েছে। টরন্টোতে উপস্থিত বহু জাদুঘর, নাট্যশালা ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক সেবাগুলি পর্যটকদের কাছে শহরটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। শহরকেন্দ্রের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলির মধ্যে আর্ট গ্যালারি অফ অন্টারিও (অর্থাৎ অন্টারিও শিল্পকলা চিত্রশালা), রয়াল অন্টারিও মিউজিয়াম (রাজকীয় অন্টারিও জাদুঘর), হকি হল অফ ফেম (হকির সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের জন্য সম্মানসূচক স্থাপনা) এবং দ্য বেল লাইটবক্স, যেখানে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রধান কার্যালয়টি অবস্থিত।

টরন্টো শহরে সবুজ উদ্যানেরও অভাব নেই; কুইন্স পার্ক ছাড়াও এখানে আছে ৪০০ একর আয়তনবিশিষ্ট হাই পার্ক, যার ভেতরে হাঁটার পথ, খেলাধুলার জায়গা এবং একটি চিড়িয়াখানাও আছে।

সি এফ টরন্টো ইটন সেন্টার শহরটির বৃহত্তম বিপণী বিতান বা শপিং মল। ইয়োঙ্গে স্ট্রিট রাস্তাটি মূল কেনাকাটার রাস্তা। কাছেই রয়েছে চায়নাটাউন এবং ঐতিহাসিক কেন্সিংটন মার্কেটের দোকান ও কগিঘরগুলি। এগুলির পশ্চিমে কুইন স্ট্রিট ওয়েস্ট রাস্তাতে হালের রেস্তোরাঁ, কুটিরশিল্পের দোকান ও চিত্রশালার দেখা মিলবে। হ্রদের তীর থেকে ফেরি করে গ্রামীণ প্রকৃতির টরন্টো আইল্যান্ডস নামের দ্বীপগুলিতে ঘুরে আসা যায়, যেখানে প্রমোদভ্রমণ ও সাইকেলচালনা করা সম্ভব। পূর্ব দিকে ডিস্টিলারি ডিসট্রিক্ট নামক ১৯শ শতকীয় শিল্পকারখানা এলাকাটি বর্তমানে শিল্পকলা চিত্রশালা ও কুটিরশিল্পের ছোট ছোট দোকানে পূর্ণ।

টরন্টোর জলবায়ুতে ঋতুগুলি পরিষ্কারভাবে আলাদা, তবে হ্রদের উপস্থিতির কারণে জলবায়ুর চরমভাব খানিকটা প্রশমিত হয়। গ্রীষ্মকালগুলি উষ্ণ ও আর্দ্র; কিন্তু শীতকালে তাপমাত্রা প্রায়ই শূন্যের নিচে নেমে যায়। জুলাই মাসের গড় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ২৭ ডিগ্রী এবং জানুয়ারি মাসের গড় তাপমাত্রা সর্বনিম্ন -১ ডিগ্রী সেলসিয়াস হতে পারে।

টরন্টো শহরটি বিশ্বের সবচেয়ে বহুসাংস্কৃতিক ও বহুজাতিক শহরগুলির একটি হিসেবে খ্যাত। কানাডাতে আগত বহু অভিবাসীর গন্তব্যস্থল এই টরন্টো শহর। শহরের প্রায় অর্ধেক লোকই কানাডায় জন্মগ্রহণ করেনি; তাই এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ অভিবাসী অনুপাতবিশিষ্ট শহর। শহরে ২০০-রও বেশি ভিন্ন জাতিগত লোক বাস করে যাদের সিংহভাগ ইংরেজি ভাষায় কথা বললেও মোট ১৬০টিরও বেশি ভাষা টরন্টোতে শুনতে পাওয়া সম্ভব।

টরন্টোর শেয়ার বাজার কানাডার সর্ববৃহৎ এবং বিশ্বের ৭ম বৃহত্তম শেয়ার বাজার। অপরাধের স্বল্প হার, জীবনযাত্রার উচ্চ মান, এবং প্রাকৃতিত পরিবেশের সঠিক দেখাশোনার সুবাদে টরন্টো বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরগুলির একটি। শহরটির প্রতিবেশী শহর মিসিসগাতে টরন্টো-পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি অবস্থিত।

টরন্টো শহর যে এলাকাটিতে অবস্থিত, সেটি ইংরেজরা স্থানীয় আমেরিকান আদিবাসী গোত্র মিসিসগার কাছে থেকে কিনে নেয় এবং এখানে ১৭৯৩ সালে ইয়র্ক নামের একটি শহর প্রতিষ্ঠা করে। ১৮৩৪ সালে এর নাম বদলে টরন্টো রাখা হয়।  ১৮৬৭ সালে কানাডা ফেডারেশন বা যুক্তরাষ্ট্র গঠনের সময় টরন্টোকে অন্টারিও প্রদেশের রাজধানীর মর্যাদা দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র

বহিঃসংযোগ 
 টরন্টো শহরের মূল ওয়েব সাইট

কানাডার শহর
টরন্টো
অন্টারিও প্রদেশের শহর
জলরঙের এক পরিবর্তিত রূপ, যাতে রঙের মধ্যে, চকের গুঁড়ো জাতীয় অস্বচ্ছ জিনিস মেশাবার ফলে জলরঙের সূক্ষ্ম রঙ্গককণিকা-জনিত স্বচ্ছতার পরিবর্তে অনচ্ছ পুরু রং হয়। ফলে জলরঙ দিয়েও তেলরঙের মত "ফিনিশিং" কাজ সহজে হয়।
অতীতে চকের গুঁড়োর বদলে ডিমের কুসুম মেশানো হত এবং পদ্ধতিটির নাম ছিল টেম্পেরা(:en:tempera), এখন বাজারের তৈরি গুয়াশ যেমন "পোস্টার কালার" তার স্থান নিয়েছে।

জলরঙের সঙ্গে পদ্ধতিগত পার্থক্য 
 জলরঙের স্বচ্ছতার জন্য গাঢ় রঙকে হাল্কা রঙ দিয়ে ঢাকা সম্ভব নয়- এজন্য সবথেকে হাল্কা রঙ দিয়ে শুরুকরে ক্রমান্বয়ে গাঢ়তর রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়।গুয়াশ বা টেম্পেরার অস্বচ্ছতার সুবিধে হল বিভিন্ন রঙ যে কোন ক্রমপর্যায়ে লাগানো যায়। 
 জলরঙে কাগজের সাদা রঙ একবার ঢেকে ফেললে তা ধুয়ে কিছু হাল্কা করা গেলেও একবার করা ভুল পুরো নিষ্কলুষ করা অসম্ভব। গুয়াশ বা টেম্পেরায় তা সহজেই করা যায়।
 জলরঙ শুকালেও ঔজ্জ্বল্য অনেকটাই বজায় থাকে, কিন্তু গুয়াশ শুকালেও ঔজ্জ্বল্য অনেকটাই কমে যায়।

তেলরঙের সঙ্গে তুলনা 
তেলরঙের অধিকাংশ পদ্ধতিগত সুবিধা গুয়াশ পদ্ধতিতে আছে। তদুপরি জলরঙের দুই গুণ- তেলরঙের মত শুকাতে দেরি লাগে না এবং সরঞ্জাম (যেমন ক্যানভাসের বদলে কাগজ) দামে সস্তা-গুয়াশ পদ্ধতিতেও আছে। অর্থাৎ জল ও তেল রঙের দ্বয়ী সুবিধা এই পদ্ধতিতে বিদ্যমান।

অঙ্কনপদ্ধতি
জলরঙ
রং করার উপাদান
ভ্যানকুভার (ইংরেজি ভাষায়:Vancouver; আ-ধ্ব-ব: [vænˈkuːvɚ]) উত্তর আমেরিকার রাষ্ট্র কানাডার পশ্চিম উপকূল তথা প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমভাগের নিম্ন মূল ভূখণ্ড বা লোয়ার মেইনল্যান্ড অঞ্চলে অবস্থিত একটি নগরী। এটি জর্জিয়া প্রণালীর তীরে, কোস্ট পর্বতমালার পাদদেশে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কানাডার সীমান্ত থেকে ৪৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। মূল ভ্যানকুভার নগরীতে প্রায় ৬ লক্ষ অধিবাসী বাস করে। নগরীটি "মেট্রো ভ্যানকুভার" নামক আঞ্চলিক জেলার অন্তর্ভুক্ত, যাতে প্রায় ২৪ লক্ষ লোকের বাস; এটি ব্রিটিশ কলাম্বিয়া তথা পশ্চিম কানাডার বৃহত্তম এবং কানাডার তৃতীয় বৃহত্তম মহানগর এলাকা। জনঘনত্বের বিচারে ভ্যানকুভার কানাডার সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ নগরী; এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৫৪০০ জনেরও বেশি ব্যক্তি বাস করে। ফলে এটি উত্তর আমেরিকা মহাদেশের ৫ম সর্বোচ্চ ঘনবসতিপূর্ণ নগরী (নিউ ইয়র্ক, গুয়াদালাহারা, সান ফ্রান্সিসকো ও মেক্সিকো নগরী-র পরে)। 

ভ্যানকুভার নৃতাত্ত্বিক ও ভাষাগত দিক থেকে কানাডার সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় নগরীগুলির একটি। এখানকার ৫২% অধিবাসীর মাতৃভাষা ইংরেজি নয়। ৪৮.৯% অধিবাসীর মাতৃভাষা ইংরেজি বা ফরাসি কোনওটিই নয়, এবং ৫০.৬% অধিবাসী দৃশ্যতই বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সদস্য।

ফ্রেজার গিরিখাত স্বর্ণানুসন্ধানের যুগে, ১৮৬০-এর দশকে এই এলাকায় বহু অভিবাসী লোকের আগমন ঘটলে ভ্যানকুভার শহরের পত্তন হয়। তখন এটি একটি করাতকল এলাকা ছিল, যার নাম ছিল হেস্টিংস মিল। ভ্যানকুভারেরর আদি নাম ছিল গ্যাসটাউন। গ্যাসি জ্যাক নামের একজন ব্যক্তি করাতকলের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত একটি পানশালার মালিক ছিলেন। এই পানশালাকে ঘিরে একটি লোকালয় গড়ে ওঠে। আজও গ্যাসটাউন বাষ্পীয় ঘড়ি এলাকাতে গেলে এই আদি পত্তনস্থলটি পরিদর্শন করা সম্ভব। পরবর্তীতে গ্যাসটাউন লোকালয়টি গ্র্যানভিল নামে একটি শহর হিসেবে নথিভুক্ত হয়। ১৮৮৬ সালে কানাডীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় রেল কোম্পানির সাথে এক চুক্তি অনুযায়ী শহরটির নাম বদলে ভ্যানকুভার রাখা হয়। ব্রিটিশ নাবিক ও ক্যাপ্টেন জর্জ ভ্যানকুভারের নামে এই নামকরণ করা হয়; তিনি ১৮শ শতকে এই অঞ্চলটিতে জরিপ চালান। ভ্যানকুভার নামটি মূলত ওলন্দাজ শব্দগুচ্ছ "van Coevorden" থেকে এসেছে, যার অর্থ "কুফর্ডেন (Coevorden) শহরের (অধিবাসী)"।

১৮৮৭ সালে ভ্যানকুভার কানাডীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় মহাদেশীয় রেলপথের সাথে যুক্ত হয়। এসময় প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে ভ্যানকুভারের বৃহৎ প্রাকৃতিক সামুদ্রিক পোতাশ্রয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এর ফলে নগরীটি একদিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এশিয়া ও পূর্ব এশিয়া  এবং অন্যদিকে পূর্ব কানাডা ও ইউরোপ, এই দুই অঞ্চলের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যিক সংযোগস্থলে পরিণত হয়। কয়েক দশকের মধ্যেই এটি দ্রুত একটি বড় শহরে পরিণত হয়। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদের উপর ভিত্তি করে শহরের ব্যবসা বাণিজ্য গড়ে ওঠে; এদের মধ্যে বনজ সম্পদ আহরণ, খনিশিল্প, মৎস্য আহরণ এবং কৃষিখামার ছিল প্রাথমিক কিছু ব্যবসাক্ষেত্র। পানামা খালের উদ্বোধনের পর ভ্যানকুভার বন্দরের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বেড়ে যায়। ২০১৬ সালের তথ্য অনুযায়ী এবং খালাসকৃত মালামালের ওজনের নিরিখে ভ্যানকুভার সমুদ্রবন্দরটি ("পোর্ট মেট্রো ভ্যানকুভার") দুই আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে চতুর্থ বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর। এটি কানাডার বৃহত্তম ও ব্যস্ততম সমুদ্রবন্দর এবং উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে বৈচিত্রায়িত সমুদ্রবন্দর।

অরণ্য থেকে কাঠ আহরণ ভ্যানকুভারের বৃহত্তম শিল্পখাত। প্রাকৃতিক পরিবেশ বেষ্টিত পৌরকেন্দ্র ভ্যানকুভারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিল্পখাত হলো পর্যটন। সময়ের সাথে সাথে ভ্যানকুভার একটি সেবাভিত্তিক বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ১৯৮৬ সালের বিশ্বমেলার পর এটি পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যস্থল হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। ভ্যানকুভার ও পার্শ্ববর্তী বার্নাবাই শহরটি মিলে বৃহত্তর ভ্যানকুভার নগরীটি উত্তর আমেরিকার বৃহত্তম চলচ্চিত্র নির্মাণ কেন্দ্রগুলির একটিতে পরিণত হয়েছে। নিউ ইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসের পরেই ভ্যানকুভার উত্তর আমেরিকার তৃতীয় বৃহত্তম চলচ্চিত্র শিল্পশহর। ভ্যানকুভারকে "উত্তরের হলিউড" নামেও ডাকা হয়। 

ভ্যানকুভার নিয়মিতভাবে বসবাসযোগ্যতা ও উচ্চ জীবনযাত্রার মানের নিরিখে  বিশ্বের সেরা পাঁচটি নগরীর মধ্যে একটি হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। ২০১১ সালে ভ্যানকুভার নগরীটি ২০২০ সাল নাগাদ বিশ্বের সবচেয়ে সবুজ নগরীতে পরিণত হওয়ার পরিকল্পনা করে। নগরীটির নগর পরিকল্পনা ও নকশা প্রণয়ন-সংক্রান্ত দর্শনটি "ভ্যানকুভারবাদ" নামে পরিচিত। 

ভ্যানকুভার বহু আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ১৯৫৪ সালে এটি কমনওয়েলথ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজক ছিল। ১৯৬৯ সালে পরিবেশবাদী আন্তর্জাতিক সংগঠন গ্রিনপিস ভ্যানকুভার নগরীতে প্রতিষ্ঠিত হয়।  ২০১০ সালে ভ্যানকুভারে ২১শ শীতকালীন অলিম্পিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আসর বসে। ভ্যানকুভার এই সম্মানপ্রাপ্ত তৃতীয় শহর; এর আগে ১৯৭৬ সালে কানাডার মোঁরেয়াল (মন্ট্রিয়াল) এবং ১৯৮৮ সালে ক্যালগারি নগরীতে শীতকালীন অলিম্পিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১৫ সালের প্রমীলা ফুটবল বিশ্বকাপের সমাপনী শিরোপা নির্ধারণী খেলাটিসহ আরও বেশ কিছু খেলা ভ্যানকুভার নগরীতে অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র

কানাডার শহর
বুদাপেস্ট (হাঙ্গেরীয় ভাষায়: Budapest বুদাপেস্ট আ-ধ্ব-ব: ['budɒpɛʃt]) বা বুদাপেস্ট হাঙ্গেরির রাজধানী এবং হাঙ্গেরির সবচেয়ে জনবহুল শহর এবং জনসংখ্যার দিক থেকে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের নবম বৃহত্তম শহর। শহরটির জনসংখ্যা ১৭,৫২,২৮৬ জন এবং এর আয়তন ৫২৫ বর্গ কিলোমিটার (২৭৩ বর্গ মাইল)। 

দানিউব নদীর দুই তীরের শহর - পশ্চিম তীরের বুদা ও পুরানো বুদা, এবং পূর্ব তীরের পেস্ট - এই শহরগুলি একত্রিত হয়ে ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর ১৭ তারিখে বুদাপেস্ট নগরীর পত্তন হয়। বর্তমানে এটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর ৮ম বৃহত্তম শহর।

বুদাপেস্ট ইউরোপের অন্যতম সুন্দর শহর। এই শহরের বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে দানিউব নদীর তীর, বুদা প্রাসাদ, আন্দ্রেসি এভিনিউ, হিরো’স স্কয়ার এবং মিলেনিয়াম পাতাল রেলপথ। মিলেনিয়াম পাতাল রেলপথ বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীন পাতাল রেলপথ। বুদাপেস্টে অবস্থিত হাঙ্গেরীয় সংসদ ভবন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সংসদ ভবন। প্রতিবছর বুদাপেস্টে ৪.৩ মিলিয়ন পর্যটন আসে। ইউরোমনিটর-এর এক জরিপ অনুসারে পর্যটকদের কাছে বুদাপেস্ট বিশ্বের ২৫তম জনপ্রিয় শহর।

বুদাপেস্ট ইউরোপীয় ইনস্টিটিউট অফ ইনোভেশন অ্যান্ড টেকনোলজির সদর দফতর,  ইউরোপীয় পুলিশ কলেজ  এবং চীন বিনিয়োগ প্রচার সংস্থার প্রথম বিদেশী অফিস।  বুদাপেস্টে এটভিস লোরান্ড বিশ্ববিদ্যালয়, সেমেলওয়েস বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুদাপেস্ট প্রযুক্তি ও অর্থনীতি বিশ্ববিদ্যালয় সহ ৪০ টিরও বেশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত ।

বুদাপেস্ট মধ্য ইউরোপের একটি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। মাস্টারকার্ডের উদীয়মান অঞ্চল সূচকে শহরটির স্থান ছিল তৃতীয়। এছাড়া জীবনযাত্রার মানের দিক থেকে এটি মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহর হিসেবে বিবেচিত হয়। ফোর্বস ম্যাগাজিন বুদাপেস্টকে বসবাসের জন্য ইউরোপের ৭তম উপযুক্ত শহর হিসেবে মর্যাদা দিয়েছে। ইউসিটিগাইড এর জরিপ অনুসারে এটি বিশ্বের ৯ম সুন্দর শহর। ইনোভেশন সিটিস-এর শীর্ষ একশটি শহরের তালিকায় বুদাপেস্টের অবস্থান প্রথম।

ইতিহাস

বুদাপেস্টে প্রথম মানব বসতি  খ্রিস্টের জন্মের আগে সেল্টসরা স্থাপিত করেছিল। এটি পরে রোমানদের দখলে ছিল। রোমান বন্দোবস্তে প্রথমদিকে এটি একটি সামরিক শিবির ছিল। পরবর্তীতে, ধীরে ধীরে শহরটি এর চারপাশে প্রসারিত হতে থাকে। এক সময় বাণিজ্যিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় শহরটি। রোমানরা এই দুর্গযুক্ত সামরিক শিবিরকে কেন্দ্র করে রাস্তা, নাট্যমঞ্চ, উষ্ণ স্নানাগার এবং ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছিল। অ্যাকুইঙ্কাম, হাঙ্গেরিতে রোমান প্রত্নতাত্তিক শহরগুলোর মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ।

মধ্যযুগে তাতারের ধারাবাহিক  আক্রমণের ফলে হাঙ্গেরির রাজা বালা চতুর্থ শহরটির আশেপাশে শক্তিশালী পাথরের দেয়াল নির্মাণ করেছিলেন। বুদার সুরক্ষিত পাহাড়ের চূড়ায় তাঁর নিজের রাজপ্রাসাদ স্থাপন করেন। ১৩৬১ সালে এটি হাঙ্গেরির রাজধানী হয়ে ওঠে।

অটোমানরা ১৫২৬ সালে বুদা জয় করে এবং ১৫২৯ সাল থেকে পুরোপুরিভাবে শহরটি শাসন  করে। তুর্কি শাসন দেড়শ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী ছিল। অটোমান তুর্কিরা শহরের মধ্যে স্নানের জন্য অনেকগুলি হাম্মামখানা তৈরি করেছিল।  তুর্কিরা তাদের শাসনকালে যে স্নানাগার তৈরি করেছিল তার কয়েকটি ৫০০ বছর পরেও ব্যবহার করা হয়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রুদাস বাথস এবং কিরলি বাথস।

বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে ১৯৮০-১৯৯০-এর রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় (আয়রন কার্টেনের পতন) নাগরিক সমাজ এবং বুদাপেস্টের জন-জীবনের উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হয়। একনায়কতন্ত্রের স্মৃতিস্তম্ভগুলি সরকারী স্থান থেকে মেমেন্টো পার্কে সরানো হয়। নতুন গণতন্ত্রের প্রথম ২০ বছরে, শহরটি উন্নয়নে মেয়র গ্যাবার ডেমস্কি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।

ব্যুৎপত্তি ও উচ্চারণ 
বুদা, ওবুদা এবং পেস্টের পূর্বে পৃথক শহরগুলি ১৮৭৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে একীভূত হয়েছিল  এবং নতুন নাম দেওয়া হয়েছিল বুদাপেস্ট ।এর আগে, একত্রে শহরগুলিকে কখনও কখনও "পেস্ট-বুডা" বলা হত।  সমসাময়িক হাঙ্গেরিয়ান কথোপকথনে সমগ্র শহরের জন্য পার্স প্রো টোটো ব্যবহার করা হয়। 

সকল প্রকার ইংরেজি শব্দ pest- এর মতো -s- উচ্চারণ করে।বুডা -তে -উ -কে হয় /u/ খাবারের মতো উচ্চারণ করা হয় (যেমন   ) অথবা /ju/ লাইক কিউ (  )।হাঙ্গেরিয়ান ভাষায়, -s- উচ্চারণ করা হয় /ʃ/ ধোয়ার মতো; IPA-তে:   ।

"বুদা" এবং "পেস্ট" নামের উৎপত্তি অস্পষ্ট। বুদা ছিল

 সম্ভবত ১১ শতকে ক্যাসেল হিলে নির্মিত দুর্গের প্রথম কনস্টেবলের নাম 
 বা বড বা বুডের একটি ডেরিভেটিভ, তুর্কি বংশোদ্ভূত একটি ব্যক্তিগত নাম, যার অর্থ 'টুইগ'। 
 অথবা একটি স্লাভিক ব্যক্তিগত নাম, বুদা, বুডিমিরের সংক্ষিপ্ত রূপ, বুডিভোজ । 

ভাষাগতভাবে, যাইহোক, স্লাভিক ডেরিভেটিভ вода ( voda, water) এর মাধ্যমে একটি জার্মান উৎপত্তি সম্ভব নয়, এবং একটি তুর্কি শব্দ সত্যিই বুটা ~ বুদা 'শাখা, টুইগ' শব্দ থেকে এসেছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না। 

মধ্যযুগের ইতিহাসে লিপিবদ্ধ একটি কিংবদন্তি অনুসারে, "বুদা" এর প্রতিষ্ঠাতা, ব্লেদার নাম থেকে এসেছে, হুনিক শাসক আতিলার ভাই।

পেস্ট সম্পর্কে বিভিন্ন তত্ত্ব আছে। একটি তত্ত্ব বলে যে নামটি রোমান সময় থেকে এসেছে, যেহেতু টলেমি "পেশন" ("Πέσσιον", iii.7.§.2) নামে একটি স্থানীয় দুর্গ ( কন্ট্রা-অ্যাকুইনকাম ) ছিল।    আরেকটিতে বলা হয়েছে যে পেস্ট শব্দের উৎপত্তি স্লাভিক শব্দ গুহা, пещера বা peštera থেকে।তৃতীয়টি пещ, বা pešt, নামে একটি গুহাকে উল্লেখ করে যেখানে আগুন জ্বলে বা একটি লাইমেকিলন।

ভূগোল

টপোগ্রাফি 

বুদাপেস্ট, কৌশলগতভাবে কার্পেথিয়ান বেসিনের কেন্দ্রে অবস্থিত, একটি প্রাচীন পথের উপর অবস্থিত যা ট্রান্সডানুবিয়ার পাহাড়কে গ্রেট প্লেনের সাথে সংযুক্ত করেছে। সড়কপথে এটি  ভিয়েনার দক্ষিণ-পূর্বে,  ওয়ারশ-এর দক্ষিণে,  মস্কোর দক্ষিণ-পশ্চিমে,  এথেন্সের উত্তরে,  মিলানের উত্তর-পূর্বে, এবং  প্রাগের দক্ষিণ-পূর্বে। 

 বুদাপেস্টের এলাকাটি সেন্ট্রাল হাঙ্গেরিতে অবস্থিত, যা পেস্ট কাউন্টিতে সমষ্টির বসতি দ্বারা বেষ্টিত। রাজধানীর পরিধি   উত্তর থেকে দক্ষিণে এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমে যথাক্রমে। দানিউব উত্তর দিক থেকে শহরে প্রবেশ করেছে; পরে এটি দুটি দ্বীপকে ঘিরে ফেলে, উবুদা দ্বীপ এবং মার্গারেট দ্বীপ।  তৃতীয় দ্বীপ সেপেল দ্বীপটি বুদাপেস্ট দানিউব দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে বৃহত্তম, তবে শুধুমাত্র এর উত্তরের প্রান্তটি শহরের সীমার মধ্যে। যে নদীটি শহরের দুটি অংশকে পৃথক করেছে তা বুদাপেস্টের সংকীর্ণ বিন্দুতে   প্রশস্ত। পেস্ট গ্রেট প্লেনের সমতল ভূখণ্ডে অবস্থিত আর বুদা বরং পাহাড়ি। 

নদীর মাঝখানে অল্প সংখ্যক দ্বীপের কারণে এই প্রশস্ত বিন্দুতে দানিউব সর্বদাই সহজলভ্য ছিল।শহরটি ভূ-সংস্থানগত বৈপরীত্য চিহ্নিত করেছে: বুদা পশ্চিম দিকের উঁচু নদীর সোপান এবং পাহাড়ে নির্মিত, যখন যথেষ্ট বড় পেস্ট নদীর বিপরীত তীরে একটি সমতল এবং বৈশিষ্ট্যহীন বালির সমভূমিতে ছড়িয়ে পড়ে। পেস্টের ভূখণ্ড একটি সামান্য পূর্বমুখী গ্রেডিয়েন্টের সাথে বৃদ্ধি পায়, তাই শহরের পূর্বদিকের অংশগুলি বুদার ক্ষুদ্রতম পাহাড়ের সমান উচ্চতায় অবস্থিত, বিশেষ করে গেলার্ট হিল এবং ক্যাসেল হিল। 

বুদা পাহাড় প্রধানত চুনাপাথর এবং ডলোমাইটৈ  গঠিত, পানি নির্মিত স্পেলিওথেম, সবচেয়ে বেশী বিখ্যাত  পালভোলগি গুহা (মোট দৈর্ঘ্য   ) এবং জেমলোহেগিয়াই গুহা (Szemlőhegyi Cave) (মোট দৈর্ঘ্য  )। ট্রায়াসিক যুগে পাহাড় গঠিত হয়েছিল। পাহাড় এবং বুদাপেস্টের সর্বোচ্চ বিন্দু হল জ্যানোস হিল, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উপরে।সর্বনিম্ন বিন্দু হল দানিউবের রেখা যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে । বুদাপেস্ট সবুজ অঞ্চলে সমৃদ্ধ। শহরের দখলে থাকা , মধ্যে  হল সবুজ এলাকা, পার্ক এবং বন।  বুদা পাহাড়ের বনগুলো পরিবেশগতভাবে সুরক্ষিত। 

ট্রাফিকের ক্ষেত্রে শহরের গুরুত্ব খুবই কেন্দ্রীয়, কারণ অনেক বড় ইউরোপীয় রাস্তা এবং ইউরোপীয় রেললাইন বুদাপেস্টের দিকে যায়।  দানিউব একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ছিল এবং এখনও রয়েছে এবং কার্পাথিয়ান অববাহিকার কেন্দ্রে অবস্থিত এই অঞ্চলটি বাণিজ্য রুটের ক্রস-রোডে অবস্থিত।  বুদাপেস্ট  মাত্র তিনটি রাজধানী শহরের একটি, যেখানে তাপ স্প্রিংস বিদ্যমান। (অন্যগুলি হচ্ছে রেইকিয়াভিক আইসলণ্ড এ এবং সোফিয়া  বুলগেরিয়াতে )। প্রায় ১২৫টি স্প্রিং থেকে প্রাত্যহিক তাপীয় জল নির্গত হয়, যার তাপমাত্রা ৫৮ সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে। এই জলের কিছু ঔষধি প্রভাব রয়েছে তাদের চিকিৎসাগতভাবে মূল্যবান খনিজ উপাদানের কারণে।

জলবায়ু 
বুদাপেস্টের একটি আর্দ্র উপক্রান্তীয় জলবায়ু রয়েছে ( কোপেন জলবায়ু শ্রেণীবিভাগে Cfa ), এইভাবে এমন জলবায়ু সহ বিশ্বের সবচেয়ে উত্তরের প্রধান শহর, তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা শীতকাল (একটি আর্দ্র মহাদেশীয় জলবায়ুর কাছাকাছি যখন ১৯৭১-২০০০ জলবায়ু সংক্রান্ত নিয়ম অনুসারে ০°C আইসোথার্ম ব্যবহার করা হয়) এবং উষ্ণ গ্রীষ্ম (একটি মহাসাগরীয় জলবায়ুর কাছাকাছি)।  শীতকাল (নভেম্বর থেকে মার্চের শুরু পর্যন্ত) ঠান্ডা হতে পারে এবং শহরটি সামান্য রোদ পায়। বেশিরভাগ বছরে  মোটামুটি ঘন ঘন তুষারপাত হয়, এবং রাতের তাপমাত্রা   ডিসেম্বর এবং মধ্য ফেব্রুয়ারির মধ্যে অস্বাভাবিক নয়।বসন্ত মাসে (মার্চ এবং এপ্রিল) গড় তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি সহ পরিবর্তনশীল অবস্থা দেখা যায়। মার্চের শেষের দিকে এবং এপ্রিলের আবহাওয়া প্রায়শই দিনের বেলায় এবং রাতে তাজা থাকে। বুদাপেস্টের দীর্ঘ গ্রীষ্ম - মে থেকে মধ্য সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী - উষ্ণ বা খুব উষ্ণ। আকস্মিক ভারী বৃষ্টিও হয়, বিশেষ করে মে এবং জুন মাসে। বুদাপেস্টের শরৎকাল (সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত) সামান্য বৃষ্টি এবং মাঝারি তাপমাত্রা সহ দীর্ঘ রৌদ্রোজ্জ্বল দিন দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।অক্টোবরের শেষের দিকে বা নভেম্বরের শুরুতে প্রায়ই তাপমাত্রা হঠাৎ করে ঠান্ডা হয়ে যায়।

বুদাপেস্টে গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায়  । প্রতি বছর বৃষ্টিপাতের সাথে, গড়ে ৮৪ দিন এবং ১৯৮৮ ঘন্টা সূর্যালোক থাকে ( সম্ভাব্য ৪৩৮৩ এর মধ্যে)।    মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত, গড় সূর্যালোকের মোট পরিমাণ উত্তর ইতালির ( ভেনিস ) এর প্রায় সমান।

শহরটি কঠোরতা অঞ্চলের দিক থেকে জোন ৬ এবং জোন ৭ এর মধ্যে সীমানায় অবস্থিত।

জেলা 

আজকের বুদাপেস্ট বেশিরভাগই ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে সংস্কারের ফল, প্রশস্ত বুলেভার্ডগুলি তখনই সীমানাযুক্ত এবং দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল বুদাপেস্টের শহরের বিবর্তনের  দ্বারা। বুদাপেস্টের বিস্তীর্ণ শহুরে এলাকা প্রায়ই জেলার নামের একটি সেট ব্যবহার করে বর্ণনা করা হয়।এগুলি অনানুষ্ঠানিক উপাধি, গ্রামগুলির নামগুলিকে প্রতিফলিত করে যেগুলি বিস্তৃতির দ্বারা শোষিত হয়েছে, বা প্রাক্তন বরোগুলির প্রশাসনিক ইউনিট ছাড়িয়ে গেছে।  এই ধরনের নামগুলি ঐতিহ্যের মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়েছে, প্রত্যেকটি নিজস্ব স্বতন্ত্র চরিত্রের সাথে একটি স্থানীয় এলাকাকে নির্দেশ করে, কিন্তু সরকারী সীমানা ছাড়াই।  ১৮৭৩ সালে তিনটি শহরের একীভূত হওয়ার পর বুদাপেস্টে ১০টি জেলা ছিল। ১৯৫০ সাল থেকে, বৃহত্তর বুদাপেস্ট ২২টি বরোতে বিভক্ত হয়েছে (এবং ১৯৯৪ সাল থেকে ২৩টি)। সে সময় জেলার ক্রম এবং আকার উভয় ক্ষেত্রেই পরিবর্তন ছিল।শহরটি এখন ২৩টি জেলা নিয়ে গঠিত, ৬টি বুডায়, ১৬টি পেস্ট এবং ১টি সেপেল দ্বীপের মধ্যে। বৃহত্তর অর্থে শহরের কেন্দ্রে রয়েছে জেলা V, VI, VII, VIII, IX  এবং XIII এবং শহরের বুদা-র দিকে I, II, XI এবং XII।

জেলা I হল ঐতিহাসিক বুদা দুর্গ সহ কেন্দ্রীয় বুদার একটি ছোট এলাকা। জেলা II আবার বুদায়, উত্তর-পশ্চিমে, এবং জেলা IIIটি বুদার উত্তরের অংশে প্রসারিত। জেলা IV-এ পৌঁছানোর জন্য, একজনকে অবশ্যই দানিউব পার হতে হবে যাতে এটিকে পেস্টে (পূর্ব দিকে), উত্তরেও খুঁজে পাওয়া যায়। জেলা V এর সাথে, আরেকটি বৃত্ত শুরু হয়, এটি কীটপতঙ্গের পরম কেন্দ্রে অবস্থিত।জেলা VI, VII, VIII এবং IX হল পূর্ব দিকের প্রতিবেশী এলাকা, একের পর এক দক্ষিণ দিকে যাচ্ছে। জেলা X হল আরেকটি, আরও বাহ্যিক বৃত্ত এছাড়াও কীটপতঙ্গের মধ্যে, যখন একজনকে আবার বুডা দিকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে জেলা XI এবং XII খুঁজে পেতে, উত্তর দিকে যাচ্ছে। এই বৃত্তে বুদাতে আর কোন জেলা অবশিষ্ট নেই, আমাদের অবশ্যই আমাদের পদক্ষেপগুলিকে আবার কীটপতঙ্গের দিকে ঘুরিয়ে দিতে হবে জেলা XIII, XIV, XV, XVI, XVII, XVIII, XIX এবং XX (বেশিরভাগ বাইরের শহরের অংশ), প্রায় নিয়মিত একটি অর্ধবৃত্তে, যাচ্ছে আবার দক্ষিণ দিকে।ডিস্ট্রিক্ট XXI হল বুদাপেস্ট থেকে দক্ষিণে একটি দীর্ঘ দ্বীপের উত্তরের প্রান্ত, দানিউবের একটি শাখার উপর উপরের রুটের সম্প্রসারণ। জেলা XXII এখনও দক্ষিণ-পশ্চিম বুদায় একই রুটে রয়েছে, এবং অবশেষে XXIII জেলা আবার দক্ষিণতম পেস্টে অবস্থিত, শুধুমাত্র অনিয়মিত কারণে এটি ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত জেলা XX-এর অংশ ছিল।

সংস্কৃতি এবং সমসাময়িক জীবন 

বুদাপেস্টের সংস্কৃতি বুদাপেস্টের আকার এবং বৈচিত্র্য দ্বারা প্রতিফলিত হয়। বেশিরভাগ হাঙ্গেরিয়ান সাংস্কৃতিক আন্দোলন প্রথম শহরে আবির্ভূত হয়। বুদাপেস্ট সঙ্গীত, চলচ্চিত্র, থিয়েটার, নৃত্য এবং ভিজ্যুয়াল আর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।শহর সরকার পর্যাপ্ত আর্থিক সংস্থান দিয়ে শিল্পকলাকে অর্থায়ন করে বলে শিল্পীরা সুযোগের মাধ্যমে শহরে আকৃষ্ট হয়েছে।বুদাপেস্ট হাঙ্গেরিয়ান এলজিবিটি সম্প্রদায়ের সদর দপ্তর।

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বুদাপেস্টকে "সিটি অফ ডিজাইন" নাম দেওয়া হয়েছিল এবং তখন থেকেই ইউনেস্কো ক্রিয়েটিভ সিটিস নেটওয়ার্কের সদস্য।

জাদুঘর এবং গ্যালারী 
বুদাপেস্ট যাদুঘর এবং গ্যালারিতে পরিপূর্ণ। ২২৩টি জাদুঘর এবং গ্যালারিতে শহরটির গৌরব রয়েছে, যা হাঙ্গেরিয়ানদের পাশাপাশি সার্বজনীন এবং ইউরোপীয় সংস্কৃতি এবং বিজ্ঞানের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি স্মৃতি উপস্থাপন করে। এখানে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় উদাহরণ রয়েছে: হাঙ্গেরিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম, হাঙ্গেরিয়ান ন্যাশনাল গ্যালারি, মিউজিয়াম অফ ফাইন আর্টস (যেখানে ভিক্টর ভাসারেলি, মিহালি মুঙ্কাসি এবং ইতালীয় শিল্প, ডাচ শিল্প সম্পর্কে একটি দুর্দান্ত সংগ্রহের মতো হাঙ্গেরিয়ান চিত্রশিল্পীদের ছবি দেখতে পারেন, ১৯ শতকের আগে থেকে স্প্যানিশ শিল্প এবং ব্রিটিশ শিল্প এবং ফরাসি শিল্প, ব্রিটিশ শিল্প, জার্মান শিল্প, ১৯ শতকের পরে অস্ট্রিয়ান শিল্প ), হাউস অফ টেরর, বুদাপেস্ট ঐতিহাসিক যাদুঘর, অ্যাকুইনকাম মিউজিয়াম, মেমেন্টো পার্ক, ফলিত শিল্প জাদুঘর এবং সমসাময়িক শিল্প প্রদর্শনী প্যালেস অফ আর্টস বুদাপেস্ট। বুদাপেস্টে ৮৩৭টি স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে, যা বেশিরভাগ ইউরোপীয় শৈল্পিক শৈলীর প্রতিনিধিত্ব করে।শাস্ত্রীয় এবং অনন্য হাঙ্গেরিয়ান আর্ট নুওয়াউ ভবনগুলি বিশিষ্ট।

লাইব্রেরি 

বুদাপেস্টে অনেক লাইব্রেরির অনন্য সংগ্রহ রয়েছে, যেমন ন্যাশনাল সেচেনি লাইব্রেরি, যেটি বই ছাপার আগের  ঐতিহাসিক নিদর্শন রাখে। মেট্রোপলিটান সাজাবো এরভিন লাইব্রেরি রাজধানীর জনসংখ্যার সাধারণ শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।অন্যান্য লাইব্রেরি: হাঙ্গেরিয়ান একাডেমি অফ সায়েন্সেসের লাইব্রেরি, ইওটভোস ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরি, সংসদীয় লাইব্রেরি, হাঙ্গেরিয়ান কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান অফিসের লাইব্রেরি এবং বিদেশী সাহিত্যের জাতীয় গ্রন্থাগার।

অপেরা এবং থিয়েটার 

বুদাপেস্টে চল্লিশটি থিয়েটার, সাতটি কনসার্ট হল এবং একটি অপেরা হাউস রয়েছে।  আউটডোর উত্সব, কনসার্ট এবং বক্তৃতাগুলি গ্রীষ্মের সাংস্কৃতিক অফারকে সমৃদ্ধ করে, যা প্রায়শই ঐতিহাসিক ভবনগুলিতে অনুষ্ঠিত হয়।বৃহত্তম থিয়েটার সুবিধা হল বুদাপেস্ট অপেরেটা এবং মিউজিক্যাল থিয়েটার, জোসেফ আত্তিলা থিয়েটার, কাটোনা জোসেফ থিয়েটার, মাদাচ থিয়েটার, হাঙ্গেরিয়ান স্টেট অপেরা হাউস, ন্যাশনাল থিয়েটার, ভিগাডো কনসার্ট হল, রাদনোতি মিক্লোস থিয়েটার, কমেডিয়েটার প্যালেস অফ আর্টস, যা MUPA নামে পরিচিত।বুদাপেস্ট অপেরা বল হল একটি বার্ষিক হাঙ্গেরিয়ান সোসাইটি ইভেন্ট যা বুদাপেস্ট অপেরা ( Operaház ) বিল্ডিংয়ে কার্নিভালের মরসুমের শেষ শনিবার, সাধারণত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে হয়।

ক্যাসিনো 

হাঙ্গেরিতে ১১টি ক্যাসিনো রয়েছে (আইন দ্বারা অনুমোদিত সর্বোচ্চ ১১টি ক্যাসিনো), এবং তাদের মধ্যে ৫টি রাজধানীতে অবস্থিত। এই ৫টিই ক্যাসিনো  LVC Diamond Játékkaszinó Üzemeltető Kft-এর মালিকানাধীন, প্রয়াত ভাজনা আন্দ্রাসের জুয়া কোম্পানি (অ্যান্ডি ভাজনা নামে বেশি পরিচিত)৷ বুদাপেস্ট এবং সমস্ত হাঙ্গেরির সবচেয়ে বড় ক্যাসিনো হল লাস ভেগাস ক্যাসিনো করভিন সেটানি।

পারফর্মিং আর্টস এবং উৎসব 

বুদাপেস্টে বেশ কিছু বার্ষিক উৎসব হয়। সিগেট ফেস্টিভ্যাল ইউরোপের বৃহত্তম বহিরঙ্গন সঙ্গীত উৎসবের একটি।বুদাপেস্ট বসন্ত উত্সব শহরের বিভিন্ন স্থানে কনসার্ট অন্তর্ভুক্ত হয়। Café Budapest Contemporary Arts Festival (পূর্বে বুদাপেস্ট অটাম ফেস্টিভ্যাল) শহরের রাস্তায় বিনামূল্যে সঙ্গীত, নৃত্য, শিল্প এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিয়ে আসে।বুদাপেস্ট ওয়াইন ফেস্টিভ্যাল এবং বুদাপেস্ট পালিঙ্কা ফেস্টিভ্যাল, প্রতি মে মাসে, রন্ধনসম্পর্কীয় আনন্দের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে গ্যাস্ট্রোনমি উৎসব।বুদাপেস্ট প্রাইড (বা বুদাপেস্ট প্রাইড ফিল্ম অ্যান্ড কালচারাল ফেস্টিভ্যাল) প্রতি বছর শহর জুড়ে হয় এবং সাধারণত আন্দ্রেসি অ্যাভিনিউতে একটি প্যারেড হয়।অন্যান্য উত্সবগুলির মধ্যে রয়েছে বুদাপেস্ট ফ্রিঞ্জ ফেস্টিভ্যাল, যা মূলধারার বাইরে বিকল্প থিয়েটার, নৃত্য, সঙ্গীত এবং কমেডিতে বিস্তৃত কাজ তৈরি করতে প্রায় ৫০টি শোতে ৫০০ টিরও বেশি শিল্পীকে নিয়ে আসে।লো ফেস্টিভ্যাল হল হাঙ্গেরিতে বুদাপেস্ট এবং পেকস শহরে ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত একটি বহুবিষয়ক সমসাময়িক সাংস্কৃতিক উৎসব; উত্সবের নাম নিম্ন দেশগুলির প্রতি ইঙ্গিত করে, এই অঞ্চলটি নেদারল্যান্ডস এবং ফ্ল্যান্ডার্সকে ঘিরে৷বুদাপেস্ট ইহুদি গ্রীষ্ম উত্সব, আগস্টের শেষের দিকে, ইউরোপের বৃহত্তমগুলির মধ্যে একটি৷

বুদাপেস্টে অনেক সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা রয়েছে, যার মধ্যে বুদাপেস্ট ফিলহারমনিক অর্কেস্ট্রা প্রধান। এটি ১৮৫৩ সালে ফেরেঙ্ক এরকেল দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এখনও হাঙ্গেরিয়ান স্টেট অপেরা হাউস এবং ন্যাশনাল থিয়েটারে নিয়মিত কনসার্ট উপস্থাপন করে। বুদাপেস্টে মধ্য ইউরোপের অন্যতম সক্রিয় জ্যাজ দৃশ্য রয়েছে। 

কার্পাথিয়ান বেসিনের নৃত্য ঐতিহ্য ইউরোপীয় নৃত্য সংস্কৃতির একটি অনন্য ক্ষেত্র, যা বলকান এবং পশ্চিম ইউরোপ অঞ্চলের মধ্যে একটি বিশেষ রূপান্তর।শহরটিতে বেশ কিছু খাঁটি হাঙ্গেরিয়ান লোকনৃত্যের সঙ্গী রয়েছে যা ছোট দল থেকে শুরু করে পেশাদার দল পর্যন্ত বিস্তৃত।বুদাপেস্ট বিশ্বের কয়েকটি শহরের মধ্যে একটি যেখানে লোকনৃত্য শেখার জন্য একটি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে।

ফ্যাশন 

বুদাপেস্ট বছরে দুবার একটি ফ্যাশন সপ্তাহের আবাসস্থল, যেখানে শহরের ফ্যাশন ডিজাইনার এবং হাউসগুলি তাদের সংগ্রহ উপস্থাপন করে এবং ফ্যাশন শিল্পের প্রতিনিধিদের জন্য একটি মিলিত স্থান প্রদান করে।বুদাপেস্ট ফ্যাশন উইক ছাড়াও অন্যান্য দেশের ডিজাইনারদের জন্য একটি জায়গা বুদাপেস্টে তাদের সংগ্রহ উপস্থাপন করতে পারে।হাঙ্গেরিয়ান মডেল, যেমন বারবারা পালভিন, এনিকো মিহালিক, ডায়ানা মেসজারোস, ভিক্টোরিয়া ভামোসি সাধারণত আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীদের সাথে এই ইভেন্টগুলিতে উপস্থিত হন।জারা, হেন্নেস ও মাউরিৎস, ম্যাঙ্গো, ESPRIT, Douglas AG, Lacoste, নাইকি এবং অন্যান্য খুচরা ফ্যাশন ব্র্যান্ডের মতো ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলি শহরের শপিং মল এবং রাস্তায় সাধারণ। 

প্রধান বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ড যেমন রবার্তো ক্যাভালি, ডলস অ্যান্ড গাব্বানা, গুচি, ভার্সেস, ফেরগামো, মোসচিনো, প্রাদা এবং হুগো বস, শহরের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ শপিং স্ট্রিট, ফ্যাশন স্ট্রিট, ভ্যাসি স্ট্রিট এবং বুদাপেস্কের প্রধান আন্দ্রেসি অ্যাভিনিউয়ের মধ্যে পাওয়া যাবে। ফ্যাশন জেলা, লিওপোল্ডটাউন।

মিডিয়া 

বুদাপেস্ট হাঙ্গেরিয়ান বিনোদন শিল্পের জন্য একটি বিশিষ্ট স্থান, যেখানে অনেক চলচ্চিত্র, টেলিভিশন সিরিজ, বই এবং অন্যান্য মিডিয়া সেট রয়েছে।বুদাপেস্ট হাঙ্গেরির ফিল্ম এবং টেলিভিশন নির্মাণের বৃহত্তম কেন্দ্র।২০১১ সালে, এটি ৫০,০০০ এরও বেশি লোককে নিযুক্ত করেছে এবং দেশের মিডিয়া শিল্পের ৬৩.৯% রাজস্ব তৈরি করেছে। বুদাপেস্ট হল হাঙ্গেরির মিডিয়া সেন্টার, এবং হাঙ্গেরিয়ান টেলিভিশনের প্রধান সদর দফতর এবং অন্যান্য স্থানীয় এবং জাতীয় টিভি এবং রেডিও স্টেশনগুলির অবস্থান, যেমন M1, M2, Duna TV, Duna World, RTL Klub, TV2 (হাঙ্গেরি), ইউরোনিউজ, কমেডি সেন্ট্রাল, MTV হাঙ্গেরি, VIVA হাঙ্গেরি, Viasat 3, Cool TV, এবং Pro4, এবং রাজনীতি ও সংবাদ চ্যানেল যেমন Hír TV, ATV, এবং Echo TV ৷ডকুমেন্টারি চ্যানেলের মধ্যে রয়েছে ডিসকভারি চ্যানেল, ডিসকভারি সায়েন্স, ডিসকভারি ওয়ার্ল্ড, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেল, ন্যাট জিও ওয়াইল্ড, স্পেকট্রাম এবং বিবিসি এন্টারটেইনমেন্ট ।এটি বুদাপেস্ট থেকে সম্প্রচারিত চ্যানেলের এক চতুর্থাংশেরও কম; পুরো ছবির জন্য হাঙ্গেরির টেলিভিশন দেখুন।

২০১২ সালে, হাঙ্গেরিতে ৭.২  মিলিয়ন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী (জনসংখ্যার ৭২%) ছিল   এবং ২.৩ মিলিয়ন মোবাইল ব্রডব্যান্ডের জন্য সাবস্ক্রিপশন।

রন্ধনপ্রণালী 
আধুনিক যুগে, বুদাপেস্ট আশেপাশের অঞ্চলের পণ্য যেমন ভেড়ার মাংস, শুয়োরের মাংস এবং এই অঞ্চলের জন্য বিশেষ শাকসবজির উপর ভিত্তি করে নিজস্ব অদ্ভুত রান্না তৈরি করেছে।আধুনিক হাঙ্গেরিয়ান রন্ধনপ্রণালী হল ফরাসি, জার্মানিক, ইতালীয় এবং স্লাভিক উপাদানগুলির সাথে মিশ্রিত প্রাচীন এশিয়াটিক উপাদানগুলির একটি সংশ্লেষণ।হাঙ্গেরির খাবারকে মহাদেশের গলে যাওয়া পাত্র হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে, যার নিজস্ব, আসল ম্যাগয়ার রন্ধনপ্রণালী থেকে একটি রন্ধনসম্পর্কিত ভিত্তি তৈরি হয়।উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্যাক্সন, আর্মেনিয়ান, ইতালীয়, ইহুদি এবং সার্বরা হাঙ্গেরীয় বেসিনে এবং ট্রান্সিলভেনিয়ায় বসতি স্থাপন করেছিল, এছাড়াও বিভিন্ন নতুন খাবারের সাথে অবদান রাখে।প্রাচীন তুর্কি রন্ধনপ্রণালীর উপাদানগুলি উসমানীয় যুগে মিষ্টির আকারে গ্রহণ করা হয়েছিল (উদাহরণস্বরূপ বিভিন্ন নুগাট, যেমন সাদা নুগাট যাকে টোরোকমেজ বলা হয়), কুইন্স ( বিরসালমা ), তুর্কি আনন্দ, তুর্কি কফি বা ভাতের খাবার যেমন পিলাফ, মাংস এবং উদ্ভিজ্জ খাবার। বেগুনের মতো, বেগুনের সালাদ এবং ক্ষুধায় ব্যবহৃত হয়, স্টাফড মরিচ এবং স্টাফ বাঁধাকপি যাকে বলা হয় töltött káposzta ।অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের অধীনে হাঙ্গেরিয়ান রন্ধনপ্রণালী অস্ট্রিয়ান রন্ধনপ্রণালী দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল, খাবার এবং খাবার তৈরির পদ্ধতিগুলি প্রায়শই অস্ট্রিয়ান রন্ধনশৈলী থেকে ধার করা হয়েছে এবং এর বিপরীতে। 

বুদাপেস্ট রেস্তোরাঁগুলি বৈচিত্র্যকে প্রতিফলিত করে, মেনুতে ঐতিহ্যবাহী আঞ্চলিক রন্ধনশৈলী, বিভিন্ন রন্ধনসম্পর্কিত প্রভাবের সংমিশ্রণ, বা নতুন কৌশলগুলির অগ্রণী প্রান্তে উদ্ভাবন করা হয়।বুদাপেস্টের খাবারের দোকানগুলির মানসম্পন্ন বিশেষ রন্ধনসম্পর্কীয় পণ্য এবং সরবরাহের জন্যও একটি দৃঢ় খ্যাতি রয়েছে, খ্যাতি যা প্রায়শই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তৈরি হয়।এর মধ্যে অনেক দোকান রয়েছে, যেমন Café Gerbeaud, ইউরোপের অন্যতম সেরা এবং সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী কফিহাউস, অথবা সিটি পার্কের Gundel রেস্টুরেন্ট এবং গ্যাস্ট্রো শপ।ভোজনরসিকরাও অনেক মিশেলিন-অভিনয় রেস্তোরাঁয় পরিবেশিত সর্বোচ্চ মানের খাবার খুঁজে পেতে পারেন, যেমন Onyx, Costes, Borkonyha বা Tanti।

কল্পকাহিনী 

১৯০৬ সালের উপন্যাস দ্য পল স্ট্রিট বয়েজ, ১৯৩৭ সালের মুনলাইটের উপন্যাস জার্নি, ১৯৫৭ সালের বই দ্য ব্রিজ অ্যাট আন্দাউ, ১৯৭৫ সালের উপন্যাস ফেটেলেস, ১৯৭৭ সালের উপন্যাস দ্য এন্ড অফ আ ফ্যামিলি স্টোরি, ১৯৮৬ সালের বই বিটুইন দ্য উডস অ্যান্ড দ্য ওয়াটার ২৯ উপন্যাস আন্ডার দ্য ফ্রগ, ১৯৮৭ সালের উপন্যাস দ্য ডোর, ২০০২ সালের উপন্যাস প্রাগ, ২০০৩ সালের বই বুদাপেস্ট, ২০০৪ সালের উপন্যাস ব্যালাড অফ দ্য হুইস্কি রবার, ২০০৫ সালের উপন্যাস প্যারালাল স্টোরিজ এবং দ্য হিস্টোরিয়ান, ২০১২ সালের উপন্যাস, বাডের   - আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বুদাপেস্টের ওপর রচিত।বুদাপেস্টে সেট করা কিছু পরিচিত ফিচার ফিল্ম হল কন্ট্রোল, দ্য ডিস্ট্রিক্ট!, Ein Lied von Liebe und Tod, Sunshine, An American Rhapsody, As You Desire Me, The Good Fairy, Hanna's War, The Journey, Ladies in Love, Music Box, The Shop Arround the Corner, Zoo in Budapest, Underworld, Mission: অসম্ভব - ভূত প্রোটোকল এবং গুপ্তচর।দ্য গ্র্যান্ড বুদাপেস্ট হোটেল (২০১৪) একটি ওয়েস অ্যান্ডারসনের চলচ্চিত্র।এটি জার্মানিতে চিত্রায়িত হয়েছিল এবং হাঙ্গেরির আলপাইন পর্বতমালায় অবস্থিত জুব্রোকার কাল্পনিক প্রজাতন্ত্রে সেট করা হয়েছিল।

অর্থনীতি 

বুদাপেস্ট একটি উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক কেন্দ্র, যা বিশ্বায়ন এবং বিশ্ব শহর গবেষণা নেটওয়ার্কের সমীক্ষায় একটি বিটা + বিশ্ব শহর হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে এবং এটি ইউরোপের দ্বিতীয় দ্রুততম-উন্নয়নশীল শহুরে অর্থনীতি কারণ শহরের মাথাপিছু জিডিপি ২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২০১৪ সালে আগের বছরের তুলনায় ৪.৭ শতাংশ কর্মসংস্থান।  জাতীয় পর্যায়ে, বুদাপেস্ট ব্যবসা এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে হাঙ্গেরির আদিম শহর, যা জাতীয় আয়ের ৩৯% জন্য দায়ী, শহরটির মোট মেট্রোপলিটন পণ্য $১০০-বিলিয়ন এর বেশি  ২০১৫ সালে , এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৃহত্তম আঞ্চলিক অর্থনীতির মধ্যে একটি হয়ে উঠেছে । ইউরোস্ট্যাট অনুযায়ী ক্রয় ক্ষমতার সমতা মাথাপিছু জিডিপি বুদাপেস্টে EU গড় এর ১৪৭%, যার অর্থ মাথাপিছু €37,632 ($42,770)। PricewaterhouseCoopers দ্বারা পরিমাপ করা বিশ্বের শীর্ষ ১০০ জিডিপি পারফর্মিং শহরের মধ্যে বুদাপেস্টও রয়েছে৷ বেইজিং, সাও পাওলো বা শেনজেনের থেকে এগিয়ে এবং মাস্টারকার্ড ইমার্জিং মার্কেটস ইনডেক্সে তৃতীয় স্থানে (৬৫টি শহরের মধ্যে) শহরটিকে বিশ্বের ৫২তম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে।  প্রাগ, সাংহাই, কুয়ালালামপুর বা বুয়েনস আইরেসের মতো শহরের আগে দাঁড়িয়ে থাকা শহরটি ইউবিএস -এ বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এবং ধনী শহরগুলির ৪৮তম স্থানে রয়েছে। EIU দ্বারা বৈশ্বিক শহরের প্রতিযোগিতামূলক র‌্যাঙ্কিংয়ে বুদাপেস্ট তেল আবিব, লিসবন, মস্কো এবং জোহানেসবার্গের আগে দাঁড়িয়েছে। 

শহরটি হাঙ্গেরি এবং আঞ্চলিকভাবে ব্যাংকিং এবং ফিনান্স, রিয়েল এস্টেট, খুচরা বিক্রেতা, বাণিজ্য, পরিবহন, পর্যটন, নতুন মিডিয়ার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী মিডিয়া, বিজ্ঞাপন, আইনি পরিষেবা, অ্যাকাউন্টেন্সি, বীমা, ফ্যাশন এবং শিল্পকলার একটি প্রধান কেন্দ্র।বুদাপেস্ট শুধুমাত্র প্রায় সব জাতীয় প্রতিষ্ঠান এবং সরকারী সংস্থার বাড়ি নয়, অনেক দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক কোম্পানিরও বাড়ি, ২০১৪ সালে শহরে নিবন্ধিত ৩৯৫,৮০৪. কোম্পানি রয়েছে। এই সত্ত্বাগুলির বেশিরভাগেরই সদর দফতর বুদাপেস্টের কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক জেলায়, জেলা V এবং জেলা XIII- এ।শহরের (এবং দেশের) খুচরা বাজারটিও কেন্দ্রীভূত হয় শহরের কেন্দ্রস্থলে, অন্যদের মধ্যে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দুটি বৃহত্তম শপিং সেন্টার, ১৮৬,০০০ বর্গমিটার ওয়েস্টএন্ড সিটি সেন্টার এবং ১৮০,০০০ বর্গমিটার অ্যারেনা প্লাজা ।  

বুদাপেস্টের একটি প্রযুক্তি এবং স্টার্ট-আপ হাব হিসাবে উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবনের ক্ষমতা রয়েছে।অনেক স্টার্ট-আপের সদর দফতর রয়েছে এবং শহরে তাদের ব্যবসা শুরু করে, কিছু পরিচিত উদাহরণ হল Prezi, LogMeIn বা NNG ।বুদাপেস্ট হল ইনোভেশন সিটির শীর্ষ ১০০ সূচকে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপীয় শহরগুলির মধ্যে সর্বোচ্চ স্থান। উদ্ভাবন এবং গবেষণার জন্য শহরের সম্ভাবনার একটি ভাল সূচকও হল যে ইউরোপীয় ইন্সটিটিউট অফ ইনোভেশন অ্যান্ড টেকনোলজি তার সদর দপ্তরের জন্য বুদাপেস্টকে বেছে নিয়েছে, জাতিসংঘের সাথে, যেটি সেন্ট্রাল ইউরোপের আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব এই শহরে রয়েছে, যা জাতিসংঘের কার্যক্রমের জন্য দায়ী। সাতটি দেশ। তাছাড়া শহরে ইউরোপিয়ান চাইনিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহরের গবেষণা কার্যক্রমের বৈশ্বিক দিকটি দেখানো হয়েছে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলির মধ্যে রয়েছে, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান গবেষণা, তথ্য প্রযুক্তি এবং চিকিৎসা গবেষণা, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়।বুদাপেস্টের নেতৃস্থানীয় বিজনেস স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয়, বুদাপেস্ট বিজনেস স্কুল, CEU বিজনেস স্কুল এবং বুদাপেস্টের করভিনাস ইউনিভার্সিটি ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, জার্মান এবং হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় অর্থনীতি, ফিনান্স এবং ম্যানেজমেন্টের সম্পূর্ণ পরিসরের কোর্স অফার করে। হাঙ্গেরির মধ্যে বুদাপেস্টে বেকারত্বের হার সবচেয়ে কম, এটি ছিল ২.৭%, হাজার হাজার কর্মরত বিদেশী নাগরিকের পাশাপাশি। 

বুদাপেস্ট বিশ্বের ২৫টি সবচেয়ে বেশি পরিদর্শন করা শহরের মধ্যে রয়েছে, শহরটি 4.4-এরও বেশি স্বাগত জানায় প্রতি বছর মিলিয়ন আন্তর্জাতিক দর্শনার্থী,  তাই ঐতিহ্যবাহী এবং কংগ্রেস পর্যটন শিল্পও উল্লেখের দাবি রাখে, এটি শহরের অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখে।রাজধানীতে অনেক কনভেনশন সেন্টার এবং হাজার হাজার রেস্তোরাঁ, বার, কফি হাউস এবং পার্টি প্লেস, হোটেলের সম্পূর্ণ ভাণ্ডার ছাড়াও রয়েছে।রেস্তোরাঁয় অফারগুলি সর্বোচ্চ মানের মিশেলিন-তারকাযুক্ত রেস্তোরাঁগুলি পাওয়া যায়, যেমন অনিক্স, কস্টেস, তাঁতি বা বোরকোনিহা৷ ২০১০ সালে EIU-এর জীবনমানের সূচকে শহরটি মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহর হিসেবে স্থান পেয়েছে।

অর্থ এবং কর্পোরেট অবস্থান 

বুদাপেস্ট স্টক এক্সচেঞ্জ, হাঙ্গেরি এবং মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে সর্বজনীনভাবে দেওয়া সিকিউরিটিজের মূল প্রতিষ্ঠানটি লিবার্টি স্কোয়ারে বুদাপেস্টের CBD-এ অবস্থিত।বিএসই অন্যান্য সিকিউরিটি যেমন সরকারী বন্ড এবং ডেরিভেটিভ যেমন স্টক বিকল্পগুলিও ব্যবসা করে।বুদাপেস্টে অবস্থিত বৃহৎ হাঙ্গেরিয়ান বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলি BSE-তে তালিকাভুক্ত, উদাহরণস্বরূপ Fortune Global 500 ফার্ম MOL Group, OTP Bank, FHB Bank, Gedeon Richter Plc।, Magyar Telekom, CIG Pannonia, Zwack Unicum এবং আরও অনেক কিছু। আজকাল বুদাপেস্টে শিল্পের প্রায় সব শাখা পাওয়া যায়, শহরের অর্থনীতিতে বিশেষ কোনো বিশেষ শিল্প নেই, তবে শহরের আর্থিক কেন্দ্রের ভূমিকা শক্তিশালী, প্রায় 40টি প্রধান ব্যাঙ্ক শহরে উপস্থাপিত হয়েছে,  এছাড়াও ব্যাংক অফ চায়না, কেডিবি ব্যাংক এবং হানওয়া ব্যাংক, যা এই অঞ্চলে অনন্য।

এছাড়াও বুদাপেস্টের আর্থিক শিল্প, আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কগুলির সংস্থাগুলি এবং আর্থিক পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে সমর্থন করে, যেমন সিটিগ্রুপ, মরগান স্ট্যানলি, জিই ক্যাপিটাল, ডয়েচে ব্যাংক, সবারব্যাঙ্ক, ING গ্রুপ, অ্যালিয়ানজ, কেবিসি গ্রুপ, ইউনিক্রেডিট এবং MSCI ।রাজধানী শহরের আরেকটি বিশেষভাবে শক্তিশালী শিল্প হল বায়োটেকনোলজি এবং ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প, এগুলি বুদাপেস্টে ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী, দেশীয় কোম্পানিগুলির মাধ্যমে, যেমন Egis, Gedeon Richter, Chinoin এবং আন্তর্জাতিক বায়োটেকনোলজি কর্পোরেশনগুলির মাধ্যমে, যেমন Pfizer, Teva, Novartis, Sanofi, যারা এছাড়াও এখানে R&amp;D এবং উৎপাদন বিভাগ রয়েছে।আরও উচ্চ-প্রযুক্তি শিল্প, যেমন সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং উল্লেখযোগ্য, নকিয়া, এরিকসন, বোশ, মাইক্রোসফ্ট, আইবিএম শহরে গবেষণা ও উন্নয়নে হাজার হাজার প্রকৌশলী নিয়োগ করে।এছাড়াও গার্হস্থ্য ডিজিটাল রিয়েলিটির সদর দফতর, ব্ল্যাক হোল এবং ক্রিটেক বা গেমলফ্টের স্টুডিওর মাধ্যমে গেম ডিজাইনকে উচ্চভাবে উপস্থাপন করা হয়।উপরোক্ত বিষয়গুলির বাইরে, অ্যালকো, জেনারেল মোটরস, জিই, এক্সন মবিল, ব্রিটিশ পেট্রোল, ব্রিটিশ টেলিকম, ফ্লেক্সট্রনিক্স, প্যানাসনিক কর্প, হুয়াওয়ে, নর-ব্রেমসে , লিবার্টি গ্লোবাল, টাটা কনসালটেন্সি, উইজএ -এর মতো বৈশ্বিক সংস্থাগুলির আঞ্চলিক সদর দফতর রয়েছে।, TriGránit, MVM Group, Graphisoft, Nissan CEE, Volvo, Saab, Ford এর জন্য একটি বেস রয়েছে, যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

স্থাপত্য 
বুদাপেস্টে স্থাপত্যের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য বিল্ডিং রয়েছে বিস্তৃত শৈলীতে এবং স্বতন্ত্র সময়কাল থেকে, প্রাচীন কাল থেকে Óbuda (ডিস্ট্রিক্ট III) এর রোমান সিটি অফ অ্যাকুইনকাম হিসাবে, যার তারিখ প্রায় ৮৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে, সবচেয়ে আধুনিক প্যালেস অফ আর্টস, সমসাময়িক আর্ট মিউজিয়াম এবং কনসার্ট হল।   

বুদাপেস্টের বেশিরভাগ বিল্ডিং তুলনামূলকভাবে নিচূ: ২০১০ এর দশকের শুরুতে প্রায় ১০০টি বিল্ডিং ছিল  এর চেয়ে বেশি ।ঐতিহাসিক সিটিস্কেপ সংরক্ষণ এবং ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের প্রয়োজনীয়তা পূরণের লক্ষ্যে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সুউচ্চ ভবনের সংখ্যা কম রাখা হয়।সুউচ্চ ভবনের পরিকল্পনা, অনুমোদন এবং নির্মাণের ক্ষেত্রে দৃঢ় নিয়ম প্রযোজ্য এবং এর ফলে শহরের অভ্যন্তরীণ অংশে কোনো ব্যবস্থা নেই।কিছু পরিকল্পনাকারী আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণের নিয়মগুলো সহজ করতে চান এবং শহরের ঐতিহাসিক কেন্দ্রের বাইরে আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণের সম্ভাবনা উত্থাপিত হয়েছে।  

স্থাপত্য শৈলীর কালানুক্রমিক ক্রমানুসারে বুদাপেস্ট সমগ্র টাইমলাইনে উপস্থাপন করা হয়, প্রাচীন স্থাপত্যের প্রতিনিধিত্বকারী অ্যাকুইনকামের রোমান শহর থেকে শুরু করে।

পরবর্তী নির্ধারক শৈলী হল বুদাপেস্টের গথিক স্থাপত্য ।কয়েকটি অবশিষ্ট গথিক ভবন ক্যাসেল জেলায় পাওয়া যাবে।নোটের বিল্ডিং নেই. Országház স্ট্রিটে ১৮, ২০ এবং ২৩, যেটি ১৪শ  শতাব্দীর এবং ৩১ নং উরি স্ট্রিট, যার একটি গথিক সম্মুখভাগ রয়েছে যা ১৫ শতকের।গথিক বৈশিষ্ট্য সহ অন্যান্য ভবনগুলি হল ১২ শতকে নির্মিত ইনার সিটি প্যারিশ চার্চ,  এবং মেরি ম্যাগডালিন চার্চ, ১৫ শতকে সম্পূর্ণ। সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গথিক-শৈলী ভবনগুলি আসলে নিও-গথিক, যেমন সবচেয়ে সুপরিচিত বুদাপেস্ট ল্যান্ডমার্ক, হাঙ্গেরিয়ান পার্লামেন্ট বিল্ডিং  এবং ম্যাথিয়াস চার্চ, যেখানে বেশিরভাগ মূল উপাদান ব্যবহার করা হয়েছিল (মূলত ১০১৫ সালে রোমানেস্ক শৈলীতে নির্মিত)। 

মানব স্থাপত্যের ইতিহাসের পরবর্তী অধ্যায় হল রেনেসাঁ স্থাপত্য ।স্থাপত্যের রেনেসাঁ শৈলী দ্বারা প্রভাবিত হওয়া প্রাচীনতম স্থানগুলির মধ্যে একটি ছিল হাঙ্গেরি এবং বিশেষ করে বুদাপেস্ট।১৪৭৬ সালে নেপলসের রাজা ম্যাথিয়াস করভিনাস এবং বিট্রিসের বিবাহের পরে শৈলীটি আবির্ভূত হয়েছিল।অনেক ইতালীয় শিল্পী, কারিগর এবং রাজমিস্ত্রি নতুন রাণীর সাথে বুদায় এসেছিলেন।আজ, বুদার বৈচিত্রময় ইতিহাসের সময় অনেকগুলি মূল রেনেসাঁ ভবন অদৃশ্য হয়ে গেছে, তবে বুদাপেস্ট এখনও রেনেসাঁ এবং নব্য-রেনেসাঁ ভবনে সমৃদ্ধ, যেমন বিখ্যাত হাঙ্গেরিয়ান স্টেট অপেরা হাউস, সেন্ট স্টিফেনস ব্যাসিলিকা এবং হাঙ্গেরিয়ান একাডেমি অফ সায়েন্সেস । 

তুর্কি দখলের সময় (১৫৪১-১৬৮৬), বুদাপেস্টে ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে; শহরে একাধিক মসজিদ ও গোসলখানা নির্মিত হয়েছে।এগুলি ছিল অটোমান স্থাপত্যের দুর্দান্ত উদাহরণ, যা তুর্কি, ইরানী, আরব এবং বৃহত্তর পরিমাণে, বাইজেন্টাইন স্থাপত্যের পাশাপাশি ইসলামী ঐতিহ্য সহ বিশ্বের মুসলিমদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল।হোলি লিগ বুদাপেস্ট জয় করার পরে, তারা বেশিরভাগ মসজিদকে গির্জা দিয়ে প্রতিস্থাপন করে এবং মিনারগুলি বেল টাওয়ার এবং ক্যাথেড্রাল স্পায়ারে পরিণত হয়েছিল।এক পর্যায়ে বুদাপেস্টের স্বতন্ত্র ঢালু কেন্দ্রীয় স্কোয়ারটি একটি জমজমাট ওরিয়েন্টাল বাজারে পরিণত হয়েছিল, যা "ইয়েমেন ও ভারতে যাওয়ার পথে উটের কাফেলার আড্ডায়" ভরা ছিল। বুদাপেস্ট প্রকৃতপক্ষে বিশ্বের কয়েকটি স্থানের মধ্যে একটি যেখানে রুডাস বাথ বা কিরালি বাথের মতো ১৬ শতকের আসল তুর্কি বাথহাউসগুলি কাজ করে।বুদাপেস্ট হল সবচেয়ে উত্তরের জায়গা যেখানে প্রভাবশালী ইসলামিক তুর্কি সুফি দরবেশ, গুল বাবার সমাধি পাওয়া যায়।হাঙ্গেরিতে একত্রিত বিভিন্ন সংস্কৃতি একে অপরের সাথে ভালভাবে একত্রিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে, যেন এই সমস্ত ভিন্ন সংস্কৃতি এবং স্থাপত্য শৈলী হাঙ্গেরির নিজস্ব সাংস্কৃতিক সংমিশ্রণে হজম হয়েছে।শহরের স্ব-সচেতন দেখানোর একটি নজির হল শহরের প্রধান চত্বরের শীর্ষ অংশ, যার নাম Szechenyi ।তুর্কিরা যখন শহরে আসে, তারা এখানে মসজিদ তৈরি করে যা আক্রমনাত্মকভাবে সেন্ট বার্টালানের গথিক গির্জার সাথে প্রতিস্থাপিত হয়েছিল।প্রাক্তন ইসলামিক ভবন মসজিদের ভিত্তি পুনঃব্যবহার এবং গথিক চার্চে পুনর্গঠনের যৌক্তিকতা কিন্তু এর উপর ইসলামী শৈলীর স্থাপত্য সাধারণত ইসলামিকভাবে এখনও দৃশ্যমান।যুক্তির জন্য একটি সরকারী শব্দ হল স্পোলিয়া ।মসজিদটিকে পাশা গাজী কাসিমের জামি বলা হত এবং আরবি ভাষায় জামি মানে মসজিদ।বুদাপেস্ট থেকে তুর্কি এবং মুসলমানদের বিতাড়িত ও গণহত্যা করার পর, স্থানটি খ্রিস্টানদের দ্বারা পুনরায় দখল করা হয় এবং একটি গির্জায় সংস্কার করা হয়, ইনার সিটি প্যারিশ চার্চ (বুদাপেস্ট) ।মিনার এবং তুর্কি প্রবেশ পথ সরানো হয়েছে।স্থাপত্যের আকৃতি হল এর বহিরাগত অতীতের একমাত্র ইঙ্গিত-"মক্কার দিকে দুটি বেঁচে থাকা প্রার্থনা কুলুঙ্গি এবং এর কুপোলার উপরে একটি বিশ্বব্যাপী প্রতীক: তুর্কি অর্ধচন্দ্রের উপরে একটি ক্রস উঠছে"। 

১৬৮৬ সালের পর, বারোক স্থাপত্য ১৭ শতক থেকে ১৮ শতক পর্যন্ত ক্যাথলিক দেশগুলিতে শিল্পের প্রভাবশালী শৈলীকে মনোনীত করে। বুদাপেস্টে অনেক বারোক-শৈলীর বিল্ডিং রয়েছে এবং সংরক্ষিত বারোক-শৈলীর স্থাপত্যের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হল Batthyhany স্কোয়ারে অবস্থিত সেন্ট আন্না চার্চ ।বুদাপেস্টের একটি আকর্ষণীয় অংশ হল কম পর্যটন Óbuda, যার প্রধান চত্বরে বারোক ফ্যাসাডেস সহ কিছু সুন্দর সংরক্ষিত ঐতিহাসিক ভবন রয়েছে।ক্যাসল ডিস্ট্রিক্ট হল দেখার জন্য আরেকটি জায়গা যেখানে সবচেয়ে পরিচিত ল্যান্ডমার্ক বুদা রয়্যাল প্যালেস এবং অন্যান্য অনেক ভবন বারোক শৈলীতে নির্মিত হয়েছিল। 

ধ্রুপদী স্থাপত্য এবং নিওক্লাসিক্যাল স্থাপত্য এর পরে টাইমলাইনে স্থান পেয়েছে।বুদাপেস্টে একজন নয় বরং দুইজন স্থপতি ছিলেন যারা ক্লাসিস্ট শৈলীর মাস্টার ছিলেন।মিহালি পোলাক (১৭৭৩-১৮৫৫) এবং জোসেফ হিল্ড (১৭৮৯-১৮৬৭), শহরে অনেক সুন্দর ক্লাসিস্ট-স্টাইলের ভবন নির্মাণ করেছিলেন।কিছু সেরা উদাহরণ হল হাঙ্গেরিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম, বুদাভারের লুথেরান চার্চ (উভয় পোলাক  ডিজাইন করেছেন ) এবং হাঙ্গেরিয়ান রাষ্ট্রপতির আসন, সান্দর প্রাসাদ ।বুদাপেস্টের সবচেয়ে আইকনিক এবং বহুল পরিচিত ক্লাসিস্ট-শৈলীর আকর্ষণ হল সেচেনি চেইন ব্রিজ । বুদাপেস্টের দুটি সবচেয়ে সুন্দর রোমান্টিক স্থাপত্য ভবন হল দোহানি স্ট্রিটের গ্রেট সিনাগগ এবং দানিউব প্রমনেডের ভিগাডো কনসার্ট হল, উভয়ই স্থপতি ফ্রিগিস ফেজল (১৮২১-১৮৮৪)  ডিজাইন করেছেন।আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাঠামো হল বুদাপেস্ট ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে স্টেশন, যা অগাস্ট ডি সেরেস দ্বারা ডিজাইন করা হয়েছিল এবং ১৮৭৭ সালে প্যারিসের আইফেল কোম্পানি দ্বারা নির্মিত  ।

১৮৯৬ সালে এবং আশেপাশে হাঙ্গেরীয় সহস্রাব্দ উদযাপনের সাথে সংগঠিত প্রদর্শনীগুলির দ্বারা আর্ট নুওয়াউ বুদাপেস্টে ফ্যাশনে এসেছিল। হাঙ্গেরির আর্ট নুওয়াউ (হাঙ্গেরীয় ভাষায় Szecesszió ) হাঙ্গেরির বিশেষত্বের উপর ফোকাস সহ বিভিন্ন স্থাপত্য শৈলীর মিশ্রণ।নেতৃস্থানীয় আর্ট নুওয়াউ স্থপতিদের মধ্যে একজন, ওডন লেচনার (১৮৪৫-১৯১৪), ভারতীয় এবং সিরিয়ান স্থাপত্যের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী হাঙ্গেরীয় আলংকারিক নকশা দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিলেন।বুদাপেস্টে তার সবচেয়ে সুন্দর ভবনগুলির মধ্যে একটি হল ফলিত শিল্প জাদুঘর ।বুদাপেস্টে আর্ট নুভের আরেকটি উদাহরণ হল চেইন ব্রিজের সামনে গ্রেশাম প্যালেস, হোটেল গেলার্ট, ফ্রাঞ্জ লিজট একাডেমি অফ মিউজিক বা বুদাপেস্ট চিড়িয়াখানা এবং বোটানিক্যাল গার্ডেন । 

২০ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে, কমিউনিস্ট শাসনের অধীনে, অন্যান্য পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলির মতো ফ্ল্যাটের ব্লক ( প্যানেলহাজ ) নির্মাণও দেখা যায়। ২১ শতকে, বুদাপেস্ট তার স্থাপত্যে নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।আজকের বিশ্বের শহরগুলির মধ্যে উচ্চ-বৃদ্ধি ভবনগুলির প্রতি চাপ দ্ব্যর্থহীন, তবে বুদাপেস্টের অনন্য শহরচিত্র এবং সবুজ অঞ্চল সহ এর অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় স্থাপত্য সংরক্ষণ করা বুদাপেস্টকে তাদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে বাধ্য করছে।শহরে সমসাময়িক স্থাপত্যের ব্যাপক বিস্তৃতি রয়েছে।পাবলিক স্পেসগুলি ব্যবসা এবং সরকারের দ্বারাও প্রচুর বিনিয়োগ আকর্ষণ করে, যাতে শহরটি সম্পূর্ণ নতুন (বা সংস্কার করা এবং পুনরায় ডিজাইন করা) স্কোয়ার, পার্ক এবং স্মৃতিস্তম্ভ অর্জন করেছে, উদাহরণস্বরূপ শহরের কেন্দ্রীয় কোসুথ লাজোস স্কোয়ার, ডেক ফেরেঙ্ক স্কোয়ার এবং লিবার্টি স্কোয়ার ।গত দশকে বুদাপেস্টে অসংখ্য ল্যান্ডমার্ক তৈরি হয়েছে, যেমন ন্যাশনাল থিয়েটার, প্যালেস অফ আর্টস, রাকোসি ব্রিজ, মেগয়েরি ব্রিজ, বুদাপেস্ট এয়ারপোর্ট স্কাই কোর্ট এবং লক্ষ লক্ষ বর্গমিটার নতুন অফিস ভবন এবং অ্যাপার্টমেন্ট ।তবে শহরে রিয়েল এস্টেট উন্নয়নে এখনও বড় সুযোগ রয়েছে।

প্রধান দর্শনীয় স্থান এবং পর্যটন 
বুদাপেস্ট তার যুদ্ধ-পূর্ব শহরের দৃশ্যের জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত, যেখানে শাস্ত্রীয় স্থাপত্যে বিভিন্ন রাস্তা এবং ল্যান্ডমার্ক রয়েছে।

রাজধানীর সবচেয়ে সুপরিচিত দৃশ্য হল নিও-গথিক পার্লামেন্ট, হাঙ্গেরির বৃহত্তম ভবন যার  দৈর্ঘ্য, এছাড়াও (২০০১, সাল থেকে) হাঙ্গেরিয়ান ক্রাউন জুয়েলস ধারণ করে।

সেন্ট স্টিফেনের ব্যাসিলিকা হল শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ভবন, যেখানে হাঙ্গেরির প্রথম রাজা সেন্ট স্টিফেনের পবিত্র ডান হাতটিও প্রদর্শন করা হয়েছে।

হাঙ্গেরিয়ান রন্ধনপ্রণালী এবং ক্যাফে সংস্কৃতি অনেক জায়গায় দেখা এবং স্বাদ নেওয়া যায়, যেমন Gerbeaud Café, Százéves, Biarritz, Fortuna, Alabárdos, Arany Szarvas, Kárpátia এবং বিশ্ব বিখ্যাত  বার।

বুদাপেস্টের ২২৩টি জাদুঘরের মধ্যে  ২টি -  অ্যাকুইনকাম মিউজিয়ামে রোমানদের ধ্বংসাবশেষ এবং নাগিটেনি ক্যাসেল মিউজিয়ামে ঐতিহাসিক আসবাবপত্র রয়েছে।আরেকটি ঐতিহাসিক জাদুঘর হল হাউস অফ টেরর, যে ভবনটি ছিল নাৎসি সদর দপ্তরের স্থান।ক্যাসেল হিল, দানিউব নদীর বাঁধ এবং পুরো আন্দ্রেসি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হয়েছে।

ক্যাসেল হিল এবং ক্যাসেল জেলা ; এখানে তিনটি গীর্জা, ছয়টি জাদুঘর এবং আকর্ষণীয় ভবন, রাস্তা এবং স্কোয়ার রয়েছে।প্রাক্তন রাজকীয় প্রাসাদটি হাঙ্গেরির প্রতীকগুলির মধ্যে একটি - এবং এটি ১৩ শতক থেকে যুদ্ধ এবং যুদ্ধের দৃশ্য।বর্তমানে এটিতে দুটি জাদুঘর এবং জাতীয় সেচেনি লাইব্রেরি রয়েছে ।নিকটবর্তী সান্দর প্রাসাদে হাঙ্গেরির রাষ্ট্রপতির অফিস এবং সরকারী বাসভবন রয়েছে।সাত-শত বছর বয়সী ম্যাথিয়াস চার্চ বুদাপেস্টের অন্যতম রত্ন, এটি নিও-গথিক শৈলীতে, রঙিন শিঙ্গল এবং মার্জিত চূড়া দিয়ে সজ্জিত।এর পাশে রয়েছে হাঙ্গেরির প্রথম রাজা, রাজা সেন্ট স্টিফেনের একটি অশ্বারোহী মূর্তি এবং এর পিছনে রয়েছে ফিশারম্যানস বেস্টন, যা ১৯০৫ সালে স্থপতি ফ্রিগিয়েস শুলেক দ্বারা নির্মিত হয়েছিল, মৎস্যজীবীদের ঘাঁটিগুলি মধ্যযুগের নামকরণ কর্পোরেশনের নামকরণ করে। প্রাচীরের এই অংশটির প্রতিরক্ষার জন্য দায়ী ছিল, যেখান থেকে পুরো শহরের একটি প্যানোরামিক ভিউ পাওয়া যায়।তুরুলের মূর্তি, হাঙ্গেরির পৌরাণিক অভিভাবক পাখি, ক্যাসেল জেলা এবং দ্বাদশ জেলা উভয়েই পাওয়া যাবে।

কীটপতঙ্গে, তর্কযোগ্যভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হল আন্দ্রেসি উত।এই অ্যাভিনিউটি হল একটি মার্জিত  দীর্ঘ গাছের রেখাযুক্ত রাস্তা যা Deák Ferenc tér থেকে Heroes Square পর্যন্ত দূরত্ব জুড়ে।এই এভিনিউ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাইট উপেক্ষা.এটি একটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ।যতদূর কোডালি কোরোন্ড এবং অক্টোগন উভয় পাশেই বড় দোকান এবং ফ্ল্যাটগুলি একসাথে তৈরি।সেখানে এবং হিরোস স্কোয়ারের মধ্যে বাড়িগুলি বিচ্ছিন্ন এবং সম্পূর্ণভাবে আরও বড়।সমগ্র মহাদেশীয় ইউরোপের প্রাচীনতম আন্ডারগ্রাউন্ড রেলওয়ের অধীনে চলে, যার বেশিরভাগ স্টেশন তাদের আসল চেহারা ধরে রেখেছে।হিরোস স্কোয়ার সহস্রাব্দের স্মৃতিস্তম্ভ দ্বারা প্রভাবিত, সামনে অজানা সৈনিকের সমাধি রয়েছে ।পাশে রয়েছে চারুকলার যাদুঘর এবং কুন্সথালে বুদাপেস্ট, এবং সিটি পার্কের পিছনে বাজদাহুনিয়াদ ক্যাসেল রয়েছে ।হাঙ্গেরিয়ান স্টেট অপেরা হাউস আন্দ্রেসির রত্নগুলির মধ্যে একটি।স্ট্যাচু পার্ক, কমিউনিস্ট যুগের আকর্ষণীয় মূর্তি সহ একটি থিম পার্ক, মূল শহরের ঠিক বাইরে অবস্থিত এবং পাবলিক ট্রান্সপোর্টে অ্যাক্সেসযোগ্য।

দোহানি স্ট্রিট সিনাগগ হল ইউরোপের বৃহত্তম সিনাগগ এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সক্রিয় সিনাগগ। সিনাগগটি ইহুদি জেলায় অবস্থিত যা কেন্দ্রীয় বুদাপেস্টের কিরালি উটকা, ওয়েসেলেনি উটকা, গ্র্যান্ড বুলেভার্ড এবং বাজসি জেসিলিনস্কি রোডের সীমানা ঘেঁষে কয়েকটি ব্লক নিয়ে গেছে।এটি 1859 সালে মুরিশ পুনরুজ্জীবন শৈলীতে নির্মিত হয়েছিল এবং এটির বসার ক্ষমতা 3,000।এর সংলগ্ন একটি ভাস্কর্যটি স্টিলের মধ্যে একটি কান্নাকাটি উইলো গাছের পুনরুত্পাদন করে যা হলোকাস্টের হাঙ্গেরিয়ান শিকারদের স্মরণে।

এছাড়াও এই শহরটি ইউরোপের বৃহত্তম ঔষধি স্নানের আবাসস্থল ( Széchenyi Medicinal Bath ) এবং বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সংসদ ভবন, যা একসময় বিশ্বের বৃহত্তম।অন্যান্য আকর্ষণ রাজধানীর সেতুগুলো ।সাতটি সেতু দানিউবের উপর দিয়ে ক্রসিং প্রদান করে এবং উত্তর থেকে দক্ষিণে হল: অ্যার্পাড ব্রিজ (মার্গারেট দ্বীপের উত্তরে ১৯৫০ সালে নির্মিত); মার্গারেট ব্রিজ (১৯০১ সালে নির্মিত, যুদ্ধের সময় একটি বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে যায় এবং তারপর ১৯৪৮ সালে পুনর্নির্মিত হয়); চেইন ব্রিজ (১৮৪৯ সালে নির্মিত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং ১৯৪৯ সালে পুনর্নির্মিত); এলিজাবেথ সেতু (১৯০৩ সালে সম্পন্ন হয়েছিল এবং হত্যা করা রানী এলিজাবেথকে উৎসর্গ করা হয়েছিল, এটি যুদ্ধের সময় জার্মানরা ধ্বংস করেছিল এবং ১৯৬৪ সালে একটি নতুন সেতু দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়েছিল); লিবার্টি ব্রিজ (১৮৯৬ সালে খোলা এবং 1989 সালে আর্ট নুওয়াউ শৈলীতে পুনর্নির্মিত); Petőfi সেতু (১৯৩৭ সালে সমাপ্ত, যুদ্ধের সময় ধ্বংস এবং ১৯৫২ সালে পুনর্নির্মিত); Rákóczi সেতু (১৯৯৫ সালে সম্পূর্ণ)।তাদের সৌন্দর্যের জন্য সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল মার্গারেট ব্রিজ, চেইন ব্রিজ এবং লিবার্টি ব্রিজ।বিশ্বের বৃহত্তম প্যানোরামা ফটোগ্রাফটি 2010 সালে বুদাপেস্টে (এবং) তৈরি করা হয়েছিল। 

বুদাপেস্টে আসা পর্যটকরা অলাভজনক বুদাপেস্ট ফেস্টিভ্যাল অ্যান্ড ট্যুরিজম সেন্টারের তথ্য-বিন্দুতে বিনামূল্যে মানচিত্র এবং তথ্য পেতে পারেন। তথ্য কেন্দ্রগুলি বুদাপেস্ট কার্ডও অফার করে যা বিনামূল্যে পাবলিক ট্রানজিট এবং বিভিন্ন জাদুঘর, রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য আগ্রহের জায়গাগুলির জন্য ছাড়ের অনুমতি দেয়।কার্ডগুলি ২৪-, ৪৮- বা ৭২-ঘন্টা সময়ের জন্য উপলব্ধ। শহরটি দিন ও রাতে ধ্বংসাবশেষের জন্যও সুপরিচিত।

অবকাঠামো এবং পরিবহন

বিমানবন্দর 

​বুদাপেস্ট বুদাপেস্ট ফেরেঙ্ক লিজ্ট ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BUD) ( ফ্রাঞ্জ লিজ্ট, উল্লেখযোগ্য হাঙ্গেরিয়ান কম্পোজারের নামে নামকরণ করা হয়েছে) দ্বারা পরিবেশিত হয়, মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর, ১৬ কিলোমিটার (৯.৯ মা)  বুদাপেস্টের কেন্দ্রের পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে, XVIII জেলায় অবস্থিত। বিমানবন্দরটি সমস্ত প্রধান ইউরোপীয় শহরগুলির মধ্যে এবং উত্তর আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়া এবং মধ্য প্রাচ্যের মধ্যে আন্তর্জাতিক সংযোগ প্রদান করে।হাঙ্গেরির ব্যস্ততম বিমানবন্দর হিসাবে, এটি দেশের প্রায় সমস্ত বিমান যাত্রী পরিবহন পরিচালনা করে। বুদাপেস্ট Liszt Ferenc ২০১৩ সালে প্রতিদিন প্রায় ২৫০টি নির্ধারিত ফ্লাইট এবং ক্রমবর্ধমান সংখ্যা চার্টার পরিচালনা করেছে। লন্ডন, ব্রাসেলস, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ, প্যারিস এবং আমস্টারডাম হল যথাক্রমে ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক সংযোগ, যেখানে টরন্টো, মন্ট্রিল, দুবাই, দোহা এবং অ্যালিক্যান্ট এই অঞ্চলের সবচেয়ে অস্বাভাবিক। বিমানবন্দরটি রায়ানএয়ার, উইজ এয়ার, বুদাপেস্ট এয়ারক্রাফ্ট সার্ভিস, সিটিলাইন হাঙ্গেরি, ফার্নায়ার হাঙ্গেরি এবং ট্রাভেল সার্ভিস হাঙ্গেরির বেস হিসেবে কাজ করে।শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে মেট্রো লাইন ৩ এবং তারপর বিমানবন্দর বাস নং ২০০ই দ্বারা বিমানবন্দরটি পাবলিক ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে সহজলভ্য।

একটি কৌশলগত উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসাবে, ডিসেম্বর ২০১২ পর্যন্ত বিমানবন্দরের অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের জন্য €৫৬১ মিলিয়ন ব্যয় করা হয়েছে। এই উন্নতিগুলির বেশিরভাগই ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, স্থগিত করা হয়েছে নতুন কার্গো এলাকা এবং টার্মিনাল ২ক এবং ২খ-এর জন্য নতুন পিয়ার, কিন্তু এই উন্নয়নগুলিও অবিলম্বে শুরু হবে, যখন বিমানবন্দরের ট্র্যাফিক উপযুক্ত স্তরে পৌঁছাবে। স্কাইকোর্ট, ৫টি স্তর সহ ২ক এবং ২খ টার্মিনালগুলির মধ্যে সবচেয়ে নতুন, অত্যাধুনিক বিল্ডিং৷ নতুন ব্যাগেজ ক্লাসিফায়ার এবং নতুন Malév এবং SkyTeam বিজনেস লাউঞ্জের পাশাপাশি ইউরোপের প্রথম মাস্টারকার্ড লাউঞ্জের সাথে যাত্রীদের নিরাপত্তা পরীক্ষাও এখানে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

গণপরিবহন 

বুদাপেস্টে পাবলিক ট্রানজিট সেন্টার ফর বুদাপেস্ট ট্রান্সপোর্ট (BKK, Budapesti Közlekedési Központ ) দ্বারা সরবরাহ করা হয়, যা ইউরোপের অন্যতম বৃহত্তম পরিবহন কর্তৃপক্ষ । BKK ৪টি মেট্রো লাইন (ঐতিহাসিক লাইন ১, মহাদেশীয় ইউরোপের প্রাচীনতম ভূগর্ভস্থ রেলপথ সহ), ৫টি শহরতলির রেল লাইন, ৩৩টি ট্রাম লাইন, ১৫টি ট্রলিবাস লাইন, ২৬৪টি বাস লাইন (৪০টি রাতের রুট সহ), ৪টি বোট পরিষেবা এবং বুবি (একটি স্মার্ট সাইকেল শেয়ারিং নেটওয়ার্ক) পরিচালনা করে ।  গড়ে সপ্তাহের দিনে, BKK লাইনগুলি ৩.৯ মিলিয়ন রাইডার পরিবহন করে; ২০১১ সালে, এটি মোট ১.৪ বিলিয়ন যাত্রী পরিচালনা করেছে। ২০১৪ সালে, বুদাপেস্টে যাত্রী পরিবহনের ৬৫% ছিল পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এবং ৩৫% গাড়ি। 

শহরে জটিল বুদ্ধিমান পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন অগ্রসর হচ্ছে; স্মার্ট ট্র্যাফিক লাইটের প্রয়োগ ব্যাপক, এগুলি জিপিএস এবং কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে জিপিএস সংযুক্ত পাবলিক ট্রান্সপোর্ট যানকে অগ্রাধিকার দেয়, সেইসাথে রাস্তায় ট্রাফিক পরিমাপ ও বিশ্লেষণ করা হয় এবং গাড়ি চালকদের প্রত্যাশিত ভ্রমণের সময় এবং ট্রাফিক সম্পর্কে অবহিত করা হয় বুদ্ধিমান প্রদর্শন দ্বারা (ইজিওয়ে প্রকল্প)। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারকারীদের অবিলম্বে অনলাইনে, স্মার্টফোনে এবং পিআইডিএস ডিসপ্লেতে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যেকোনো পরিবর্তন সম্পর্কে অবহিত করা হয়, পাশাপাশি গাড়ির চালকরা বিকেকে ইনফো -এর মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে অনলাইনে এবং স্মার্টফোনে ট্র্যাফিক এবং রাস্তা ব্যবস্থাপনার পরিবর্তনগুলি ট্র্যাক করতে পারেন।  পাশাপাশি Futár PIDS সিস্টেমের সাহায্যে সমস্ত যানবাহন অনলাইনে এবং স্মার্টফোনে রিয়েল-টাইমে শহর জুড়ে অনুসরণ করা যেতে পারে,  যখন সমন্বিত ই-টিকিট সিস্টেমের ক্রমাগত প্রবর্তন প্রতিটি লাইনে যাত্রী সংখ্যা পরিমাপ করতে সাহায্য করবে এবং বুদ্ধিমান পরিষেবা ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ন্ত্রণ।

Futár এর উন্নয়ন, শহরব্যাপী রিয়েল-টাইম যাত্রী তথ্য ব্যবস্থা এবং রিয়েল-টাইম রুট প্ল্যানার ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং এখন সমস্ত পাবলিক ট্রান্সপোর্ট যান স্যাটেলাইট সিস্টেমের মাধ্যমে সংযুক্ত।ট্রাম, বাস এবং ট্রলিবাসের রিয়েল-টাইম তথ্য কন্ট্রোল রুমে উভয় অপারেটরের জন্য এবং স্মার্টফোনে এবং শহরের রাস্তার ডিসপ্লেতে সমস্ত স্টপেজে সমস্ত যাত্রীদের জন্য উপলব্ধ। বুদাপেস্টে অনলাইন এবং অফলাইন সিস্টেমে ইলেকট্রনিক পেমেন্ট করার জন্য NFC সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং পুনঃব্যবহারযোগ্য যোগাযোগহীন স্মার্ট কার্ড সহ সর্বশেষ প্রজন্মের স্বয়ংক্রিয় ভাড়া সংগ্রহ এবং ই-টিকিট সিস্টেমের বাস্তবায়ন ২০১৪ সালে শুরু হয়, প্রকল্পটি হংকং অক্টোপাসের অপারেটর দ্বারা বাস্তবায়িত এবং পরিচালিত হয়। ই-টিকিট এবং স্বয়ংক্রিয় ভাড়া সংগ্রহের একটি নেতৃস্থানীয় ইউরোপীয় কোম্পানির সাথে যৌথভাবে কার্ড, Scheidt  Bachmann । ই-টিকিট সিস্টেমের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ২০১৪ সালের শেষ নাগাদ ৩০০টি নতুন ডিজিটাল কন্টাক্টলেস টিকিট ভেন্ডিং মেশিনের স্থাপনা শেষ হবে। 

ট্রাম লাইন নং. ৪ এবং ৬ হল বিশ্বের ব্যস্ততম শহরের ট্রাম লাইন,  বিশ্বের দীর্ঘতম ট্রামগুলির মধ্যে একটি (৫৪-মিটার দীর্ঘ সিমেন্স কম্বিনো ) পিক টাইমে ২-৩ মিনিটের ব্যবধানে এবং ৪-৫ মিনিট অফ-পিকের মধ্যে চলছে। দিনের পরিষেবাগুলি সাধারণত 4 am থেকে 11 pm  এবং 0:30 am পর্যন্ত।হাঙ্গেরিয়ান স্টেট রেলওয়ে কমিউটার রেল পরিষেবাগুলির একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে, শহরতলির যাত্রী পরিবহনে তাদের গুরুত্ব উল্লেখযোগ্য, তবে শহরের মধ্যে ভ্রমণ সীমিত।বুদাপেস্টে পাবলিক ট্রান্সপোর্টের সংগঠক হল মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন সেন্টার ফর বুদাপেস্ট ট্রান্সপোর্ট (Budapesti Közlekedési Központ – BKK), যেটি নেটওয়ার্ক এবং পরিষেবাগুলির পরিকল্পনা এবং সংগঠিত করার জন্য, শুল্ক ধারণার পরিকল্পনা ও বিকাশ, পাবলিক সার্ভিস প্রকিউর দায়িত্ব পালন, জনসেবা পরিচালনার জন্য দায়ী। চুক্তি, অপারেটিং কন্ট্রোলিং এবং মনিটরিং সিস্টেম, পাবলিক ট্রান্সপোর্টের সাথে সম্পর্কিত পরিষেবা স্তরের চুক্তি সেটিং এবং পর্যবেক্ষণ, গ্রাহক পরিষেবা শুল্কগুলিতে অংশ নেওয়া, টিকিট এবং পাস বিক্রি এবং পর্যবেক্ষণ, সমন্বিত যাত্রী তথ্য শুল্কগুলিতে অংশ নেওয়া, পাবলিক ট্রান্সপোর্টের মধ্যে ইউনিফাইড বুদাপেস্ট-কেন্দ্রিক ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ, অংশগ্রহণ নদী নৌচলাচল সম্পর্কিত দায়িত্ব, এছাড়াও বুদাপেস্টের রাস্তা পরিচালনা, ট্যাক্সি স্টেশন পরিচালনা, রাজধানীতে সাইকেল ট্রাফিক উন্নয়নের একীভূত নিয়ন্ত্রণ, পার্কিং কৌশল প্রস্তুত করা এবং একটি অপারেশনাল ধারণা তৈরি করা, রাস্তা ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি, একটি সর্বোত্তম ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার বিকাশ, পরিচালনা এবং রাস্তা পুনর্গঠন এবং আরও অনেক কিছুর সমন্বয় সাধন, সংক্ষেপে, শহরের যাতায়াতের সাথে সম্পর্কিত সবকিছু।

সড়ক ও রেলপথ 

বুদাপেস্ট হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাঙ্গেরিয়ান রোড টার্মিনাস, সমস্ত প্রধান হাইওয়ে এবং রেলপথ শহরের সীমার মধ্যেই শেষ। শহরের রাস্তার ব্যবস্থা প্যারিসের মতোই ডিজাইন করা হয়েছে, বেশ কয়েকটি রিং রোড এবং রাস্তাগুলি কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসছে। বুদাপেস্টের চারপাশে রিং রোড M0 প্রায় সম্পূর্ণ, স্থানীয় বিরোধের কারণে পশ্চিম দিকে শুধুমাত্র একটি অংশ অনুপস্থিত। রিং রোডটির দৈর্ঘ্য , এবং  শেষ হলে এটি  ) হবে দৈর্ঘ্যের হাইওয়ে।

শহরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্র্যাফিক হাব কারণ সমস্ত প্রধান ইউরোপীয় রাস্তা এবং ইউরোপীয় রেললাইন বুদাপেস্টের দিকে যায়।  দানিউব একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ছিল এবং আজও রয়েছে এবং কার্পেথিয়ান অববাহিকার কেন্দ্রে অবস্থিত এই অঞ্চলটি বাণিজ্য রুটের ক্রস-রোডে অবস্থিত। হাঙ্গেরিয়ান প্রধান লাইন রেলপথগুলি হাঙ্গেরিয়ান স্টেট রেলওয়ে দ্বারা পরিচালিত হয়। বুদাপেস্টে তিনটি প্রধান রেলওয়ে স্টেশন রয়েছে, কেলেটি ( পূর্ব ), ন্যুগাতি ( পশ্চিম ) এবং ডেলি ( দক্ষিণ ) যা অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক উভয় রেল পরিষেবা পরিচালনা করে।বুদাপেস্ট তার মধ্য ও পূর্ব ইউরোপীয় রুটের অন্যতম প্রধান স্টপ।  বুদাপেস্ট এবং এর আশেপাশে একটি শহরতলির রেল পরিষেবা রয়েছে, যার তিনটি লাইন HÉV নামে পরিচালিত হয়।

বন্দর, শিপিং এবং অন্যান্য 
দানিউব নদী (জার্মানি) থেকে কৃষ্ণ সাগরে যাওয়ার পথে বুদাপেস্টের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীটি সহজে চলাচলযোগ্য এবং তাই বুদাপেস্টের ঐতিহাসিকভাবে সিপেল জেলা এবং নিউ পেস্ট ডিস্ট্রিক্টে একটি বড় বাণিজ্যিক বন্দর রয়েছে। পেস্ট-এর দিকে একটি বিখ্যাত বন্দর স্থান যেখানে কার্গো  এবং যাত্রীবাহী জাহাজের জন্য আন্তর্জাতিক শিপিং পোর্ট রয়েছে। গ্রীষ্মের মাসগুলিতে, একটি নির্ধারিত হাইড্রোফয়েল পরিষেবা শহরটিকে ভিয়েনার সাথে সংযোগকারী দানিউবে পরিচালনা করে।

BKK (অপারেটর BKV এর মাধ্যমে) এছাড়াও শহরের সীমানার মধ্যে নৌকা পরিষেবা সহ গণপরিবহন সরবরাহ করে। দুটি রুট, চিহ্নিত D11 এবং D12, মার্গারেট দ্বীপ এবং  অবুদা দ্বীপের সাথে দুটি তীরকে সংযুক্ত করে, Rómaifürdő (বুদা দিক, উত্তর থেকে অবুদা দ্বীপ) অথবা Árpád Bridge (Pest side) থেকে Rákóczi Bridge পর্যন্ত, মোট 18 টি স্টপ সহ D2 শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রচারিত হয়। লাইন D14 হল একটি ফেরি পরিষেবা, যা Csepel দ্বীপের Királyerdő কে কীটপতঙ্গের পাশে মোলনার দ্বীপের সাথে, দক্ষিণে শহরের কেন্দ্রে সংযুক্ত করে।  এছাড়াও, বেশ কয়েকটি কোম্পানি দর্শনীয় স্থানের নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থা করে এবং একটি উভচর যান (বাস এবং নৌকা) ক্রমাগত কাজ করে।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বুদাপেস্ট বন্দরগুলিতে জলের গুণমান নাটকীয়ভাবে উন্নত হয়েছে, চিকিত্সা সুবিধাগুলি ২০১০ সালে উৎপন্ন পয়ঃনিষ্কাশনের ১০০% প্রক্রিয়া করেছে৷বুদাপেস্টাররা নিয়মিত কায়াক, ক্যানো, জেট-স্কি এবং ডানিউবে পাড়ি দেয়, যা ক্রমাগত শহরের জন্য একটি প্রধান বিনোদনের স্থান হয়ে উঠেছে।

বুদাপেস্টে বিশেষ যানবাহন, মেট্রো ছাড়াও, শহরতলির রেল, ট্রাম এবং নৌকা অন্তর্ভুক্ত।বুদাপেস্টে কয়েকটি কম সাধারণ যানবাহন রয়েছে, যেমন পেস্টের বেশ কয়েকটি লাইনে ট্রলিবাস, চেইন ব্রিজ এবং বুদা ক্যাসেলের মধ্যে ক্যাসেল হিল ফিনিকুলার, মার্গারেট দ্বীপে ভাড়ার জন্য সাইকেলকার, চেয়ারলিফ্ট, বুদাপেস্ট কগ-হুইল রেলওয়ে এবং শিশুদের রেলপথ ।পরের তিনটি গাড়ি বুদা পাহাড়ের মধ্যে চলে।

স্কোয়ার 

বুদাপেস্টে অনেকগুলি ছোট এবং বড় স্কোয়ার রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল হিরোস স্কোয়ার, কোসুথ স্কোয়ার, লিবার্টি স্কয়ার, সেন্ট স্টিফেন স্কয়ার, ফেরেঙ্ক ডেক স্কোয়ার, ভোরোসমার্টি স্কোয়ার, এরজসেবেট স্কোয়ার, সেন্ট ইসকোয়া এবং সেন্ট জর্জ। আন্দ্রেসি অ্যাভিনিউয়ের শেষে হিরোস স্কোয়ার হল রাজধানীর বৃহত্তম এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী স্কোয়ার, যার কেন্দ্রে মিলেনিয়াম মনুমেন্ট এবং মিউজিয়াম অফ ফাইন আর্টস এবং হল অফ আর্ট রয়েছে ।কোসুথ স্কোয়ার হল হাঙ্গেরিয়ান রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, হাঙ্গেরিয়ান সংসদ ভবন, বিচার প্রাসাদ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতীকী স্থান।লিবার্টি স্কোয়ারটি বুদাপেস্টের অন্যতম সুন্দর স্কোয়ার হিসেবে বেলভারস-লিপোটভারোস জেলায় (ইনার সিটি ডিস্ট্রিক্ট) অবস্থিত।এখানে হাঙ্গেরিয়ান ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস, স্টক এক্সচেঞ্জ প্রাসাদ, সেইসাথে সোভিয়েত ওয়ার মেমোরিয়াল, রোনাল্ড রিগানের মূর্তি বা বিতর্কিত স্মৃতিস্তম্ভের মতো অসংখ্য মূর্তি ও স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। জার্মান পেশা ।সেন্ট স্টিফেনস স্কোয়ারে সেন্ট স্টিফেনস ব্যাসিলিকা রয়েছে, স্কোয়ারটি একটি হাঁটা রাস্তার দ্বারা সংযুক্ত রয়েছে, জ্রিনি স্ট্রিট, দ্য চেইন ব্রিজের পাদদেশে সেচেনি ইস্তভান স্কোয়ারের সাথে।হাঙ্গেরিয়ান একাডেমি অফ সায়েন্সেস এবং গ্রেশাম প্যালেস এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এখানে অবস্থিত।ডেক ফেরেঙ্ক স্কোয়ার হল রাজধানীর একটি কেন্দ্রীয় স্কোয়ার, একটি প্রধান পরিবহন কেন্দ্র, যেখানে তিনটি বুদাপেস্ট সাবওয়ে মিলিত হয়।এখানে বুদাপেস্টের প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে পরিচিত ইভাঞ্জেলিক্যাল চার্চ, ডেক ফেরেঙ্ক স্কয়ার লুথেরান চার্চ। Vörösmarty স্কোয়ার বেলভারস-লিপোটভারোস জেলায় (ইনার সিটি ডিস্ট্রিক্ট) ভিগাডো অফ পেস্টের পিছনে Váci স্ট্রিটের একটি শেষ পয়েন্ট হিসাবে অবস্থিত।মিষ্টান্ন Gerbeaud এখানে আছে, এবং বার্ষিক ক্রিসমাস মেলা স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হয়, সেইসাথে হলিডে বুক সপ্তাহের কেন্দ্র।

পার্ক এবং বাগান 

বুদাপেস্টে অনেক মিউনিসিপ্যাল পার্ক রয়েছে এবং বেশিরভাগই শিশুদের জন্য খেলার মাঠ এবং শীতকালে স্কেটিং এবং গ্রীষ্মে বোটিং করার মতো মৌসুমী ক্রিয়াকলাপ রয়েছে। মিলেনিয়াম আন্ডারগ্রাউন্ডের সাথে শহরের কেন্দ্র থেকে অ্যাক্সেস দ্রুত এবং সহজ। বুদাপেস্টে একটি জটিল পার্ক ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে বুদাপেস্ট সিটি  লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন জমি রয়েছে। বুদাপেস্টের উদ্যানগুলির দ্বারা সরবরাহ করা সবুজ স্থানের সম্পদকে বন, স্রোত এবং হ্রদ সমন্বিত উন্মুক্ত স্থানগুলির নেটওয়ার্ক দ্বারা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে যেগুলি প্রাকৃতিক এলাকা হিসাবে আলাদা করা হয়েছে যা বুদাপেস্ট চিড়িয়াখানা এবং বোটানিক্যাল গার্ডেন সহ অভ্যন্তরীণ শহর থেকে দূরে নয় (প্রতিষ্ঠিত ১৮৬৬) সিটি পার্কে।  বুদাপেস্টের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং জনপ্রিয় পার্কগুলি হল সিটি পার্ক যা ১৭৫১ সালে (৩০২ একর) আন্দ্রেসি অ্যাভিনিউ,  দানিউবের মার্গারেট দ্বীপ (  ),  পিপলস পার্কের সাথে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। রোমাই অংশ এবং কোপাসি বাঁধ। 

বুদা পাহাড় এছাড়াও বিভিন্ন বহিরঙ্গন কার্যকলাপ এবং দৃশ্য অফার করে।স্থানীয়দের দ্বারা ঘন ঘন একটি জায়গা নরমাফা, সব ঋতুর জন্য কার্যকলাপ প্রস্তাব.একটি পরিমিত স্কি চালানোর সাথে, এটি স্কিয়ার এবং স্নো বোর্ডারদের দ্বারাও ব্যবহৃত হয় - যদি শীতকালে যথেষ্ট তুষারপাত হয়।

দ্বীপপুঞ্জ 

বুদাপেস্টের দানিউবে বেশ কয়েকটি দ্বীপ পাওয়া যায়:

 মার্গারেট দ্বীপ (     ) একটি  দীর্ঘ দ্বীপ এবং  আয়তন। দ্বীপটি বেশিরভাগই একটি পার্ক নিয়ে গঠিত এবং পর্যটক এবং স্থানীয়দের জন্য একইভাবে একটি জনপ্রিয় বিনোদনমূলক এলাকা।দ্বীপটি মার্গারেট ব্রিজ (দক্ষিণ) এবং আরপাদ ব্রিজ (উত্তর) এর মধ্যে অবস্থিত।দ্বীপের চারপাশে ডান্স ক্লাব, সুইমিং পুল, একটি অ্যাকোয়া পার্ক, অ্যাথলেটিক এবং ফিটনেস সেন্টার, সাইকেল এবং রানিং ট্র্যাক পাওয়া যায়।দিনের বেলায় দ্বীপটি খেলাধুলা করে বা শুধু বিশ্রাম নিয়ে লোকেদের দখলে থাকে।গ্রীষ্মে (সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটির দিনে) বেশিরভাগ তরুণরা রাতে দ্বীপে যায় তার টেরেসে পার্টি করতে, বা একটি বেঞ্চে বা ঘাসে অ্যালকোহলের বোতল নিয়ে পুনরায় তৈরি করতে (এই ধরনের বিনোদনকে কখনও কখনও বেঞ্চ হিসাবে উল্লেখ করা হয় - পার্টি করা)।
 সেপেল দ্বীপ (   Csepel-sziget(  ) হাঙ্গেরির দানিউব নদীর বৃহত্তম দ্বীপ।এটা  দীর্ঘ; এর প্রস্থ  এবং এর এলাকা  নিয়ে গঠিত। যাইহোক, শুধুমাত্র দ্বীপের উত্তরের প্রান্তটি শহরের সীমানার মধ্যে রয়েছে।
 Hajógyári দ্বীপ (   Hajógyári-sziget (   ), Óbuda দ্বীপ নামেও পরিচিত (   Óbudai-sziget  ), তৃতীয় জেলায় অবস্থিত একটি মানবসৃষ্ট দ্বীপ।এই দ্বীপে অনেক ক্রিয়াকলাপ রয়েছে যেমন: জেগে ওঠা, দিনের বেলা জেট-স্কিইং এবং রাতে নৃত্য ক্লাব। এটি সেই দ্বীপ যেখানে বিখ্যাত সিগেট ফেস্টিভ্যাল হয়, প্রতি বছর শত শত পারফরম্যান্সের আয়োজন করে। প্রায় ৪০০,০০০ দর্শক গত উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন। এই দ্বীপটিকে ইউরোপের অন্যতম বড় বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করার জন্য অনেক নির্মাণ প্রকল্প চলছে।পরিকল্পনা হল অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং, হোটেল, ক্যাসিনো এবং একটি মেরিনা তৈরি করা।
  () - এই দ্বীপ দানাউবের যে চ্যানেলে আছে সেটি  সেপেল দ্বীপকে নদীর পূর্ব পাড়কে আলাদা করে। 

 দ্বীপপুঞ্জ, , এবং  এছাড়াও পূর্বে শহরের মধ্যে বিদ্যমান ছিল, কিন্তু মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত হয়েছে।

 (   Ínség-szikla) হল গ্যালার্ট পাহাড়ের নীচে উপকূলের কাছাকাছি দানিউবের একটি প্রবালপ্রাচীর। এটি শুধুমাত্র খরার সময় উন্মুক্ত হয় যখন নদীর স্তর খুব কম থাকে।

শহরের সীমানার ঠিক বাইরে উত্তরে বিশাল  দ্বীপ) এবং  ছোট লুপা দ্বীপ (   Lupa-sziget) রয়েছে।

স্পা 

রোমানরা দানিউব নদীর পশ্চিমে অবিলম্বে এলাকাটিকে প্রথমে উপনিবেশ স্থাপন করেছিল এবং অ্যাকুইঙ্কাম (এখন উত্তর বুদাপেস্টে ওবুদার অংশ) এ তাদের আঞ্চলিক রাজধানী স্থাপন করেছিল যাতে তারা তাপীয় ঝর্ণাগুলি ব্যবহার করতে এবং উপভোগ করতে পারে।সেই সময়ে নির্মিত বিশাল স্নানের ধ্বংসাবশেষ আজও রয়েছে।তুর্কি আমলে (১৫৪১-১৬৮৬) নতুন স্নানগুলি তৈরি করা হয়েছিল যেগুলি স্নান এবং ঔষধি উভয় উদ্দেশ্যেই পরিবেশন করেছিল এবং এর মধ্যে কিছু এখনও ব্যবহার করা হচ্ছে।  

১৯২০ এর দশকে বুদাপেস্ট একটি স্পা শহর হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছিল, দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে তাপীয় জলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রথম উপলব্ধি করার পরে।প্রকৃতপক্ষে, ১৯৩৪ সালে বুদাপেস্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে "স্পাসের শহর" হিসাবে স্থান দেওয়া হয়েছিল।আজ, স্নানগুলি বেশিরভাগ পুরানো প্রজন্মের দ্বারা ঘন ঘন হয়, কারণ, "ম্যাজিক বাথ" এবং "সিনেট্রিপ" জলের ডিস্কো বাদে, তরুণরা গ্রীষ্মে খোলা লিডো পছন্দ করে।

কিরালি বাথের নির্মাণ শুরু হয়েছিল ১৫৬৫ সালে, এবং বর্তমান সময়ের বেশিরভাগ বিল্ডিং তুর্কি আমলের, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে সূক্ষ্ম কুপোলা-টপড পুল রয়েছে।

রুডাস স্নানগুলি কেন্দ্রীয়ভাবে স্থাপন করা হয়েছে - গেলার্ট হিল এবং দানিউব নদীর মধ্যবর্তী জমির সংকীর্ণ স্ট্রিপে - এবং এছাড়াও তুর্কি আমলের স্থাপত্যের একটি অসামান্য উদাহরণ।কেন্দ্রীয় বৈশিষ্ট্য হল একটি অষ্টভুজাকৃতির পুল যার উপরে  থেকে আলো জ্বলে ব্যাসের কুপোলা, আটটি স্তম্ভ দ্বারা সমর্থিত।

গেলার্ট বাথ এবং হোটেলটি ১৯১৮ সালে নির্মিত হয়েছিল, যদিও এই সাইটে একবার তুর্কি স্নান করা হয়েছিল এবং মধ্যযুগে একটি হাসপাতাল ছিল।১৯২৭ সালে, স্নানগুলিকে তরঙ্গ পুল অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রসারিত করা হয়েছিল, এবং ১৯৩৪ সালে উজ্জ্বল স্নান যুক্ত করা হয়েছিল।ভালভাবে সংরক্ষিত আর্ট নুভেউ অভ্যন্তরে রঙিন মোজাইক, মার্বেল কলাম, দাগযুক্ত কাচের জানালা এবং মূর্তি রয়েছে।

লুকাকস বাথগুলি বুডাতেও রয়েছে এবং এটি তুর্কি বংশোদ্ভূত, যদিও সেগুলি কেবল ১৯ শতকের শেষের দিকে পুনরুজ্জীবিত হয়েছিল।এটি যখন স্পা এবং চিকিত্সা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।জায়গাটি সম্পর্কে এখনও ফিন-ডি-সিয়েলের পরিবেশের কিছু রয়েছে এবং ভিতরের উঠোনের চারপাশে মার্বেল ট্যাবলেট রয়েছে যারা সেখানে নিরাময় করা পৃষ্ঠপোষকদের ধন্যবাদ স্মরণ করে।১৯৫০ এর দশক থেকে এটি বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পীদের জন্য একটি কেন্দ্র হিসাবে বিবেচিত হয়েছে।

Széchenyi বাথগুলি সমগ্র ইউরোপের বৃহত্তম স্নান কমপ্লেক্সগুলির মধ্যে একটি, এবং শুধুমাত্র "পুরানো" ঔষধি স্নানগুলি শহরের কীটপতঙ্গের পাশে পাওয়া যায়।অভ্যন্তরীণ ঔষধি স্নান শুরু ১৯১৩ এবং আউটডোর পুল ১৯২৭ সাল থেকে।রোমান স্নানের সাথে যুক্ত উজ্জ্বল, বৃহত্তম পুলগুলির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ দিকগুলি, গ্রীকদের স্নানের সংস্কৃতির একটিকে স্মরণ করিয়ে দেয় ছোট স্নানের টব এবং উত্তর ইউরোপে উদ্ভূত ঐতিহ্য থেকে ধার করা সৌনা এবং ডাইভিং পুলগুলির সাথে পুরো জায়গাটিতে একটি জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে। .তিনটি আউটডোর পুল (যার মধ্যে একটি মজার পুল) শীত সহ সারা বছর খোলা থাকে।অভ্যন্তরে দশটিরও বেশি আলাদা পুল রয়েছে এবং চিকিৎসার সম্পূর্ণ হোস্টও পাওয়া যায়।সেজেনি বাথগুলি আধুনিক রেনেসাঁ শৈলীতে নির্মিত।

খেলাধুলা 

বুদাপেস্ট অতীতে অনেক বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্টের আয়োজন করেছে, অন্যদের মধ্যে ১৯৯৪ আইএএএফ ওয়ার্ল্ড ক্রস কান্ট্রি চ্যাম্পিয়নশিপ, ১৯৯৭ ওয়ার্ল্ড অ্যামেচার বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০০০ ওয়ার্ল্ড ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০০১ ওয়ার্ল্ড অলরাউন্ড স্পিড স্কেটিং চ্যাম্পিয়নশিপ, ওয়ার্ল্ড ২০০৮ ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ, ওয়ার্ল্ড ২০০৮ ব্যান্ডিটি  গেমস । আধুনিক পেন্টথলন চ্যাম্পিয়নশিপ , ২০১০ আইটিইউ ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজ, ২০১৩ বিশ্বব্যাপী চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০১৩ ওয়ার্ল্ড ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০১৩ বিশ্ব কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০১৩ বিশ্বব্যাপী মাস্টার অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০১৭ বিশ্ব অ্যাকোয়াটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০১৭ বিশ্ব জুডো চ্যাম্পিয়নশিপ, শুধুমাত্র গত দুই দশকে। এগুলি ছাড়াও, বুদাপেস্ট ইউরোপীয়-স্তরের অনেক টুর্নামেন্টের আবাসস্থল ছিল, যেমন ২০০৬ ইউরোপীয় অ্যাকোয়াটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০১০ ইউরোপীয় অ্যাকোয়াটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০১০ ইউইএফএ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০১৩ ইউরোপীয় জুডো চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০১৩ ইউরোপিয়ান কারাটে চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ইউরোপিয়ান কারাটে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১৩ বিশ্বকাপের হোস্ট এবং উয়েফা ইউরো ২০২০ -তে ৪টি ম্যাচ, যা ৬৭,২১৫ আসনের নতুন বহুমুখী পুস্কাস ফেরেঙ্ক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়, কয়েকটি উল্লেখ করার জন্য।

২০১৫ সালে, হাঙ্গেরিয়ান অলিম্পিক কমিটি এবং বুদাপেস্টের সমাবেশ ২০২৪ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের জন্য বিড করার সিদ্ধান্ত নেয়। বুদাপেস্ট ১৯১৬, ১৯২০, ১৯৩৬, ১৯৪৪ এবং ১৯৬০ সালে যথাক্রমে বার্লিন, এন্টওয়ার্প, লন্ডন এবং রোমের কাছে গেমগুলি হোস্ট করার জন্য বেশ কয়েকটি বিড হারিয়েছে।   হাঙ্গেরির পার্লামেন্টও ২৮ জানুয়ারী ২০১৬-এ বিডকে সমর্থন করার জন্য ভোট দেয়, পরে বুদাপেস্ট সিটি কাউন্সিল ভেন্যুগুলির তালিকা অনুমোদন করে এবং বুদাপেস্ট ২০২৪ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমসের জন্য একটি অফিসিয়াল প্রার্থী হয়ে ওঠে ।যাইহোক, তারা সম্প্রতি প্রত্যাহার করেছে এবং শুধুমাত্র প্যারিস এবং লস অ্যাঞ্জেলেস ২০২৪ অলিম্পিকের জন্য প্রার্থী হিসাবে রয়ে গেছে।

অসংখ্য অলিম্পিক, বিশ্ব এবং ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ বিজয়ী এবং পদকপ্রাপ্তরা এই শহরে বাস করেন, যা সর্বকালের অলিম্পিক গেমসের পদক টেবিলে বিশ্বের সমস্ত দেশের মধ্যে হাঙ্গেরির ৮ম স্থান থেকে অনুসরণ করে।

হাঙ্গেরিয়ানরা সবসময়ই ক্রীড়াপ্রিয় মানুষ : গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমসের ইতিহাসে হাঙ্গেরিয়ানরা ৪৭৬টি পদক এনেছে, যার মধ্যে ১৬৭টি স্বর্ণ। হাঙ্গেরিয়ানরা যে শীর্ষ ইভেন্টগুলিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে তা হল ফেন্সিং, সাঁতার, ওয়াটার পোলো, ক্যানোয়িং, কুস্তি এবং ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড স্পোর্টস।ক্লাসিক খেলার পাশাপাশি, বিনোদনমূলক আধুনিক খেলা যেমন বোলিং, পুল বিলিয়ার্ড, ডার্টস, গো-কার্টিং, ওয়েকবোর্ডিং এবং স্কোয়াশ বুদাপেস্টে খুব জনপ্রিয় এবং চরম খেলাধুলাও স্থল অর্জন করছে।তদুপরি, বুদাপেস্ট ম্যারাথন এবং বুদাপেস্ট হাফ ম্যারাথন প্রতি বছর অনেক লোককে আকর্ষণ করে।শহরের বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়ামটির নামকরণ করা হয়েছে ফেরেঙ্ক পুস্কাসের নামে, যিনি বিংশ শতাব্দীর সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে স্বীকৃত এবং যার জন্য ফিফার পুস্কাস পুরস্কার ( ব্যালন ডি'অর ) নামকরণ করা হয়েছে। 

বুদাপেস্টের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাগুলির মধ্যে একটি হল ফুটবল এবং এতে অনেক হাঙ্গেরিয়ান লিগ ফুটবল ক্লাব রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে শীর্ষ স্তরের নেমজেটি বাজনোক্সাগ আই লিগ, যেমন ফেরেনকাভারোসি টিসি (২৯ হাঙ্গেরিয়ান লীগ শিরোপা), এমটিকে বুদাপেস্ট এফসি (২৩ শিরোপা), উজেপেস্ট এফসি (২০ শিরোপা ) , বুদাপেস্ট হনভেদ এফসি (১৩ টাইটেল), ভাসাস এসসি (৬ শিরোপা), সেপেল এসসি (৪ শিরোপা), বুদাপেস্টি টিসি (২ শিরোপা) ।

ফর্মুলা ওয়ানে হাঙ্গেরিয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্স শহরের বাইরে হাঙ্গাররিং -এ অনুষ্ঠিত হয়েছে, একটি সার্কিট যার FIA গ্রেড ১ লাইসেন্স রয়েছে। ১৯৮৬ সাল থেকে, রেসটি FIA ফর্মুলা ওয়ান ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপের একটি রাউন্ড বলে গণ্য হয়।2013 হাঙ্গেরিয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্সে, এটি নিশ্চিত করা হয়েছিল যে হাঙ্গেরি ২০২১ সাল পর্যন্ত  ফর্মুলা ১ রেস হোস্ট করতে থাকবে। ট্র্যাকটি ২০১৬ সালের শুরুর দিকে প্রথমবারের জন্য সম্পূর্ণরূপে পুনরুত্থিত হয়েছিল, এবং ঘোষণা করা হয়েছিল যে গ্র্যান্ড প্রিক্সের চুক্তিটি ২০২৬ সাল পর্যন্ত আরও ৫ বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছিল। 

বুদাপেস্টে দুটি চার তারকা উয়েফা স্টেডিয়াম রয়েছে: পুস্কাস অ্যারেনা, গ্রুপমা আরেনা এবং দুটি তিন-তারকা উয়েফা স্টেডিয়াম: হিদেগকুটি নান্দর স্টেডিয়ান এবং বোজসিক অ্যারেনা ।

শিক্ষা 

বুদাপেস্ট ৩৫টিরও বেশি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবাসস্থল, যার মধ্যে অনেকগুলি বিশ্ববিদ্যালয়।বোলোগনা প্রক্রিয়ার অধীনে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অনেক প্রস্তাবিত যোগ্যতা স্বীকৃত।মেডিসিন, ডেন্টিস্ট্রি, ফার্মাসিউটিক্যালস, ভেটেরিনারি প্রোগ্রাম এবং ইঞ্জিনিয়ারিং হল বুদাপেস্টে বিদেশীদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্ষেত্রগুলির মধ্যে একটি।বুদাপেস্টের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজিতে কোর্স অফার করে, পাশাপাশি জার্মান, ফ্রেঞ্চ এবং ডাচের মতো অন্যান্য ভাষায়, বিশেষ করে বিদেশীদের লক্ষ্য করে।অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের অনেক শিক্ষার্থী ইরাসমাস প্রোগ্রামের মাধ্যমে বুদাপেস্টে এক বা দুই সেমিস্টার কাটায়।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক 
বুদাপেস্টের বেশ কয়েকটি বোন শহর এবং বিশ্বজুড়ে অনেক অংশীদার শহর রয়েছে। বুদাপেস্টের মতো, তাদের মধ্যে অনেকেই তাদের দেশ এবং অঞ্চলের সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং বৃহত্তম শহর, তাদের বেশিরভাগই তাদের দেশের প্রাইমেট শহর এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক রাজধানী।বুদাপেস্টের মেয়র বলেছেন যে বোন সিটি সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্য হল শহর ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন, মিডিয়া এবং যোগাযোগ, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পারস্পরিক তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি সহযোগিতার অনুমতি দেওয়া এবং উত্সাহিত করা। এবং ব্যবসা উন্নয়ন।

ঐতিহাসিক বোন শহর

বিশ্বজুড়ে অংশীদারিত্ব 

শহরের কিছু জেলা ছোট শহর বা অন্যান্য বড় শহরের জেলাগুলির সাথেও জোড়া হয়েছে; বিস্তারিত জানার জন্য নিবন্ধটি  বুদাপেস্টের জেলা এবং শহরের তালিকা দেখুন।

তথ্যসূত্র

বহিঃসংযোগ

বুদাপেস্টের সরকারি ওয়েবসাইট
বুদাপেস্ট পর্যটন দপ্তর
বুদাপেস্টের গণপরিবহণ 

 
হাঙ্গেরির শহর
ইউরোপের রাজধানী
হাঙ্গেরির পর্যটন
স্ট্যানলি কুবরিক (; জুলাই ২৬, ১৯২৮ – মার্চ ৭, ১৯৯৯) ছিলেন মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার, চিত্রগ্রাহক, সম্পাদক, এবং আলোকচিত্রী। তাকে চলচ্চিত্রের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নির্মাতাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সৃজনশীল ও প্রভাবশালী একজন হিসাবে গণ্য করা হয়। তার চলচ্চিত্র, যার প্রায় সবকটিই উপন্যাস বা ছোটগল্পের চিত্ররূপ। তার চলচ্চিত্রে নিখুঁত কারিগরি কৌশল প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত অনেক কারিগরি কৌশল উদ্ভাবন করেছেন। উদ্ভাবনী চলচ্চিত্রগ্রহণশিল্প, গাঢ় হাস্যরস, বিশদ প্রতি বাস্তবসম্মত মনোযোগ এবং বিস্তৃত সেট নকশার জন্য তার চলচ্চিত্র বিখ্যাত।

কুবরিক নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রংক্‌সে বেড়ে ওঠেন এবং ১৯৪১ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত উইলিয়াম হাওয়ার্ড টাফ্ট হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন। কিন্তু অল্প বয়স থেকেই সাহিত্য, আলোকচিত্রশিল্প এবং চলচ্চিত্রের প্রতি গভীর আগ্রহ প্রদর্শন করেছিলেন এবং স্নাতক হওয়ার পর নিজেকে চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং পরিচালনা বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৪০-এর দশকের শেষের দিকে এবং ১৯৫০-এর দশকের গোড়ার দিকে লুক ম্যাগাজিনের আলোকচিত্রী হিসাবে কাজ করার পর, তিনি জুতার ফিতার বাজেটের উপর স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন এবং ১৯৫৬ সালে ইউনাইটেড আর্টিস্ট্‌সের জন্য তার প্রথম প্রধান হলিউড চলচ্চিত্র, দ্য কিলিং নির্মাণ করেন। এরপর কার্ক ডগলাসের সাথে নির্মাণ করেন: যুদ্ধের চলচ্চিত্র প্যাথস অব গ্লোরি (১৯৫৭) এবং ঐতিহাসিক মহাকাব্য স্পার্টাকাস (১৯৬০)।

ডগলাস এবং চলচ্চিত্র স্টুডিওগুলির সাথে তার কাজের সৃজনশীল পার্থক্য উদ্ভূত হবার কারণে, পাশাপাশি হলিউড শিল্পের প্রতি অপছন্দ এবং আমেরিকায় অপরাধ সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ কুব্রিককে ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যে চলে যেতে অনুপ্রাণিত করেছিল, যেখানে তিনি তার বাকি জীবন এবং কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছিলেন। হার্টফোর্ডশায়ারের চাইল্ডউইকবেরি ম্যানরে তার বাড়ি, যা তিনি তার স্ত্রী ক্রিশ্চিয়ানের সাথে ভাগ করেছিলেন। এটি তার কর্মক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল, যেখানে তিনি তার রচনা, গবেষণা, সম্পাদনা এবং প্রযোজনার বিবরণ পরিচালনা করেছিলেন। এটি তাকে তার চলচ্চিত্রগুলির উপর প্রায় সম্পূর্ণ শৈল্পিক নিয়ন্ত্রণের সুযোগ করে দেয়, তবে হলিউডের বড় স্টুডিওগুলির বিরল আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুবিধার কারণে। ব্রিটেনে তার প্রথম প্রযোজনা ছিল পিটার সেলার্সের সাথে দুটি চলচ্চিত্র: ললিতা (১৯৬২), ভ্লাদিমির নাবোকভের উপন্যাসের রূপান্তর এবং স্নায়ুযুদ্ধ ব্ল্যাক কমেডি ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ (১৯৬৪)।

একজন চাহিদাপূর্ণ পরিপূর্ণতাবাদী, কুবরিক চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রক্রিয়ার বেশিরভাগ দিক, নির্দেশনা এবং লেখা থেকে শুরু করে সম্পাদনা পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছিলেন এবং তার চলচ্চিত্র ও মঞ্চায়নের দৃশ্যগুলি নিয়ে গবেষণা করার জন্য শ্রমসাধ্য যত্ন নিয়েছিলেন, পাশাপাশি অভিনেতা, কলাকুশলী এবং অন্যান্য সহযোগীদের সাথে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করেছিলেন। তিনি প্রায়ই একটি চলচ্চিত্রে একই শটের কয়েক ডজন রিটেকের জন্য অনুরোধ করতেন, যার ফলে কলাকুশলীদের সাথে তার অনেক বিরোধ দেখা দিত। অভিনেতাদের মধ্যে তার কুখ্যাতি থাকা সত্ত্বেও, কুবরিকের অনেকগুলি চলচ্চিত্র চলচ্চিত্রগ্রহণশিল্পে নতুন ভিত্তি তৈরি করেছে। কল্পবিজ্ঞান মহাকাব্য ২০০১: আ স্পেস অডিসি (১৯৬৮) চলচ্চিত্রের বৈজ্ঞানিক বাস্তববাদ এবং উদ্ভাবনী বিশেষ প্রভাব চলচ্চিত্র ইতিহাসে নজিরবিহীন ছিল এবং চলচ্চিত্রটি তাকে শ্রেষ্ঠ চাক্ষুষ প্রভাব বিভাগে তার একমাত্র ব্যক্তিগত অস্কার এনে দিয়েছিল। স্টিভেন স্পিলবার্গ চলচ্চিত্রটিকে তার প্রজন্মের "বিগ ব্যাং" বলে উল্লেখ করেছেন; এটি সর্বকালের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হয়।

যদিও কুবরিকের অনেক চলচ্চিত্রই ছিল বিতর্কিত এবং মুক্তির পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া লাভ করেছিল। বিশেষ করে নৃশংস আ ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ (১৯৭১), যেটিকে গণমাধ্যমের উন্মাদনার কারণে কুবরিক যুক্তরাজ্যে প্রচার বন্ধ করেছিলেন। তার বেশিরভাগই চলচ্চিত্র অস্কার, গোল্ডেন গ্লোব বা বাফটা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল এবং সমালোচনামূলক পুনর্মূল্যায়নের মধ্যে ছিল। ১৮ শতকের সময়কালের ব্যারি লিন্ডন (১৯৭৫) চলচ্চিত্রের জন্য কুব্রিক প্রাকৃতিক মোমবাতির আলোতে চলচ্চিত্রের দৃশ্য ধারণের জন্য জিস কর্তিক উন্নয়নকৃত লেন্স এনেছিলেন, যেটি ছিল নাসার জন্য তৈরি করা। দ্য শাইনিং (১৯৮০) হরর চলচ্চিত্রের মাধ্যমে, তিনি স্থির এবং তরল ট্র্যাকিং শটগুলির জন্য তিনি প্রথম স্টেডিক্যাম ব্যবহারের প্রচলন করেন, যেটি তার ভিয়েতনাম যুদ্ধের ফুল মেটাল জ্যাকেট (১৯৮৭) চলচ্চিত্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ছিল। তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র, আইজ ওয়াইড শাট, ১৯৯৯ সালে ৭০ বছর বয়সে তার মৃত্যুর কিছুকাল আগে সম্পন্ন হয়েছিল।

প্রাথমিক জীবন 

কুবরিকের জন্ম ২৬ জুলাই ১৯২৮ সালে, নিউ ইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনের লাইং-ইন হাসপাতালে, একটি ইহুদি পরিবারে। তিনি জ্যাকব লিওনার্ড কুবরিকের (২১ মে ১৯০২ - ১৯ অক্টোবর ১৯৮৫), যিনি জ্যাক বা জ্যাকস নামে পরিচিত এবং তার স্ত্রী স্যাডি গার্ট্রুড কুবরিকের ( পারভেলার; অক্টোবর ২৮, ১৯০৩ – এপ্রিল ২৩, ১৯৮৫), যিনি গার্ট নামে পরিচিত, দুই সন্তানের মধ্যে প্রথম ছিলেন। বড় ছেলে কুবরিকের জন্মের ৬ বছর পর অর্থাৎ মে ১৯৩৪ সালে তার বোন বারবারা মেরি কুবরিকের জন্ম হয়। জ্যাক কুবরিক, যার পিতা-মাতা এবং দাদা-দাদি ছিলেন পোলিয়-ইহুদি এবং রোমানিয়-ইহুদি বংশোদ্ভূত, ছিলেন একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার। ১৯২৭ সালে নিউইয়র্ক হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ থেকে স্নাতক হন, একই বছর তিনি অস্ট্রিয়-ইহুদি অভিবাসী পরিবারের সন্তান কুবরিকের মাকে বিয়ে করেছিলেন। কুবরিকের প্রপিতামহ, হার্শ কুবরিক ১৮৯৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর ৪৭ বছর বয়সে জাহাজে করে লিভারপুল হয়ে এলিস দ্বীপে আসেন। তিনি একজন কম বয়সী মহিলার সাথে নতুন জীবন শুরু করার জন্য তার স্ত্রী এবং দুটি বড় সন্তানকে রেখে যান, যাদের মধ্যে একজন ছিলেন স্ট্যানলির দাদা ইলিয়াস। ইলিয়াস কুব্রিক ১৯০২ সালে একই পথ অনুসরণ করেন। স্ট্যানলির জন্মের সময় কুবরিক ব্রংক্‌সে বাস করতেন। তার বাবা-মা একটি ইহুদি অনুষ্ঠানে বিয়ে করেছিলেন, কিন্তু কুবরিকের ধর্মীয় লালন-পালন হয়নি এবং পরে তিনি মহাবিশ্বের একটি নাস্তিক্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি দাবি করেছিলেন। তার বাবা একজন চিকিত্সক ছিলেন এবং পশ্চিম ব্রঙ্কসের মান অনুসারে, পরিবারটি মোটামুটি ধনী ছিল।

তার বোনের জন্মের পরপরই, কুবরিক ব্রঙ্কসের পাবলিক স্কুল ৩-এ পড়া শুরু করেন এবং ১৯৩৮ সালের জুন মাসে পাবলিক স্কুল ৯০-এ চলে যান। তার আইকিউ গড়ের উপরে ছিল কিন্তু বিদ্যালয়ে তার উপস্থিতি কম ছিল। তিনি অল্প বয়স থেকেই সাহিত্যের প্রতি আগ্রহী ছিলেন এবং গ্রীক-রোমান পৌরাণিক কাহিনী এবং গ্রিম ভ্রাতৃদ্বয়ের কল্পকাহিনী পড়তে শুরু করেন, যা "ইউরোপের সাথে তার মধ্যে আজীবন সম্পর্ক স্থাপন করে"। তিনি গ্রীষ্মের বেশিরভাগ শনিবার নিউ ইয়র্ক ইয়াঙ্কিজ দেখে কাটিয়েছেন এবং পরে বেসবলের সাথে তার নিজের শৈশবের উত্তেজনা অনুকরণ করার জন্য লুক ম্যাগাজিনের জন্য একটি অ্যাসাইনমেন্টে খেলা দেখার জন্য দুটি ছেলের ছবি তুলেছেন। কুবরিকের বয়স যখন ১২, তার বাবা জ্যাক তাকে দাবা শিখিয়েছিলেন। খেলাটি কুবরিকের আজীবন আগ্রহের বিষয় ছিল, যেটি তার অনেক চলচ্চিত্রে প্রদর্শিত হয়েছিল। কুবরিক, যিনি পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দাবা ফেডারেশনের সদস্য হয়েছিলেন, ব্যাখ্যা করেছিলেন যে দাবা তাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে "ধৈর্য ও শৃঙ্খলা" বিকাশে সহায়তা করেছিল। কুবরিকের বয়স যখন ১৩, তখন তার বাবা তাকে একটি গ্রাফলেক্স ক্যামেরা কিনে দেন, যা স্থির আলোকচিত্রশিল্পের প্রতি তার মুগ্ধতা সৃষ্টি করে। তিনি একজন প্রতিবেশী মারভিন ট্রাবের সাথে বন্ধুত্ব করেছিলেন, যিনি আলোকচিত্রশিল্পের প্রতি তার আবেগ ভাগ করেছিলেন। ট্রবের একটি নিজস্ব অন্ধকার কক্ষ ছিল যেখানে তিনি এবং তরুণ কুবরিক ছবি তোলার জন্য এবং রাসায়নিক পদার্থগুলিকে "যেগুলি ফটোগ্রাফিক কাগজে জাদুকরী ছবি তৈরি" দেখার জন্য অনেক ঘন্টা ব্যয় করতেন। দুজনে অসংখ্য ফটোগ্রাফিক প্রকল্পে লিপ্ত ছিল যার জন্য আকর্ষণীয় বিষয়গুলি ধারণ করার জন্য তারা রাস্তায় ঘুরে বেড়াত এবং স্থানীয় চলচ্চিত্র অধ্যয়ন করার জন্য সময় কাটিয়েছে। একজন আলোকচিত্রী হিসেবে কুবরিকের সৃজনশীলতা বিকাশে ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী ওয়েইজির (আর্থার ফেলিগ) যথেষ্ট প্রভাব রেখেছিলেন; কুব্রিক পরে ফেলিগকে ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ (১৯৬৪) এর জন্য বিশেষ স্থিরচিত্র আলোকচিত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন। কিশোর বয়সে, কুবরিক জ্যাজের প্রতিও আগ্রহী ছিলেন এবং কিছুসময়ের জন্য একজন ড্রামবাদক হিসেবে কর্মজীবন শুরুর চেষ্টা করেছিলেন।

১৯৪১ থেকে ১৯৪৫ পর্যন্ত কুবরিক উইলিয়াম হাওয়ার্প ট্যাফ্ট বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। যদিও তিনি বিদ্যালয়ের ফটোগ্রাফি ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন, যা তাকে তাদের ম্যাগাজিনে স্কুলের ইভেন্টের ছবি তোলার অনুমতি দিয়েছিল। তিনি একজন মাঝারি ধরনের ছাত্র ছিলেন, তার গড় গ্রেড ১০০-র মধ্যে কখনই ৬৭/ডি+ উপরে উঠেনি। অন্তর্মুখী এবং লাজুক, কুবরিকের উপস্থিতির রেকর্ড ছিল কম এবং তিনি প্রায়ই ডবল পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দেখার জন্য স্কুল এড়িয়ে যেতেন। তিনি ১৯৪৫ সালে দুর্বল গ্রেড নিয়ে তিনি বিদ্যালয় শেষ করেন। কিন্তু একে তো তার রেজাল্ট খারাপ, তার উপর তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে ফিরে আসা অসংখ্য হাই স্কুল পাশ ছাত্রের চাপ। সব মিলিয়ে তাই আর উচ্চ শিক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তী জীবনে কুবরিক শিক্ষা এবং সামগ্রিকভাবে আমেরিকান স্কুলিং সম্পর্কে তার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। স্কুলের কোনকিছুই তাকে আকৃষ্ট করতে পারেনি সেটাও বলেছেন। সব মিলিয়ে স্কুল শিক্ষারও সমালোচনা করেছেন। উচ্চ শিক্ষা সম্ভব না হওয়ায় তার বাবা তাকে এক বছরের জন্য লস এঞ্জেলেসে পাঠিয়েছিলেন, এক আত্মীয়ের বাসায় থাকতে। ভেবেছিলেন দূরে গেলে পুত্রের মধ্যে কিছুটা দায়িত্বজ্ঞান তৈরি হবে। জ্যাক স্ট্যানলিকে বাড়িতে পারিবারিক লাইব্রেরি থেকে পড়তে উৎসাহিত করেছিলেন, তাকে গুরুতর শখ হিসাবে ফটোগ্রাফি করার অনুমতি দিয়েছিলেন।

আলোকচিত্রী কর্মজীবন

হাই স্কুলে থাকতেই অবশ্য তার ছবি তোলার শখটা প্রশংসা পেয়েছিল। ১৯৪০-এর দশকের মাঝামাঝি, যেহেতু তিনি কলেজে দিনের সেশনের ক্লাসে ভর্তি হতে পারেননি, তাই তিনি সংক্ষিপ্তভাবে নিউইয়র্কের সিটি কলেজে সান্ধ্যকালীন ক্লাসে যোগ দেন। অবশেষে, তিনি লুক ম্যাগাজিনের কাছে একটি ফটোগ্রাফিক সিরিজ বিক্রি করেছিলেন, যা ১৯৪৫ সালের ২৬ জুন মুদ্রিত হয়েছিল। কুব্রিক ওয়াশিংটন স্কয়ার পার্ক এবং ম্যানহাটনের বিভিন্ন দাবা ক্লাবে "কোয়ার্টার জন্য" দাবা খেলে অর্থ উপার্জন করতেন।

১৯৪৬ সালে, তিনি লুক-এর জন্য একজন শিক্ষানবিশ আলোকচিত্রী এবং পরে একজন পূর্ণ-সময়ের স্টাফ আলোকচিত্রী হয়েছিলেন। সেই সময়ে ম্যাগাজিনের আরেকজন নতুন ফটোগ্রাফার ওয়ারেন শ্লোট, জুনিয়র স্মরণ করেন যে তিনি ভেবেছিলেন হলিউডে পরিচালক হিসেবে কাজ করার জন্য কুবরিকের ব্যক্তিত্বের অভাব ছিল, আরো মন্তব্য করে বলেন, "স্ট্যানলি একজন শান্ত মানুষ ছিলেন। তিনি বেশি কিছু বলেননি। তিনি পাতলা, রোগা এবং দরিদ্র ধরনের ছিলেন—আমরা সবাই ছিলাম।" কুবরিক দ্রুত তার ফটোগ্রাফে গল্প বলার জন্য পরিচিত হয়ে ওঠেন। ১৯৪৬ সালের ১৬ এপ্রিল "এ শর্ট স্টোরি ফ্রম এ মুভি ব্যালকনি" শিরোনাম তার প্রথম ফটোগ্রাফ ধারাবাহিক প্রকাশিত হয়েছিল। এটি একজন পুরুষ এবং একজন মহিলার মধ্যে ঝগড়ার মঞ্চায়ন করেছিল। অন্য একটি অ্যাসাইনমেন্টে, একটি ডেন্টাল অফিসে অপেক্ষারত বিভিন্ন লোকের ১৮টি ছবি তোলা হয়েছিল। এটি পূর্ববর্তীভাবে বলা হয়েছে যে এই প্রকল্পটি জাগতিক পরিবেশে ব্যক্তিদের এবং তাদের অনুভূতিগুলিকে ক্যাপচারে কুব্রিকের প্রাথমিক আগ্রহ প্রদর্শন করেছিল। ১৯৪৮ সালে, একটি ভ্রমণ বিষয়ক নথিপত্রের জন্য তাকে পর্তুগালে পাঠানো হয়েছিল, এবং ফ্লোরিডার সারাসোটাতে রিংলিং ব্রোস এবং বার্নাম অ্যান্ড বেইলি সার্কাস কভার করেন।

বক্সিংয়ের প্রতি উত্সাহের কারণে কুব্রিক অবশেষে ম্যাগাজিনের জন্য বক্সিং ম্যাচের ছবি তোলা শুরু করেন। তার প্রাথমিক, "প্রাইজফাইটার", ১৯৪৯ সালের ১৮ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়েছিল, এবং একটি বক্সিং ম্যাচ এবং এর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলি ক্যাপচার করেছিল, সেখানে ওয়াল্টার কারটিয়ারকে বৈশিষ্টায়ীত করেন। ১৯৪৯ সালের ২ এপ্রিল, তিনি লুক-এ "শিকাগো-সিটি অব এক্সট্রিমস" চিত্র -প্রবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন, যা চিত্রকল্পের সাথে পরিবেশ তৈরি করার জন্য তার প্রতিভা প্রদর্শন করেছিল। পরবর্তি বছর, ১৯৫০ সালের জুলাই মাসে, ম্যাগাজিনটি "ওয়ার্কিং ডেবুটান্ট – বেটসি ভন ফুরস্টেনবার্গ" নামে তার ছবির প্রবন্ধ প্রকাশ করে, যার পটভূমিতে পাবলো পিকাসোর আঁকা অ্যাঞ্জেল এফ. ডি সোটোর একটি প্রতিকৃতি ছিল। কুবরিককে ফ্রাঙ্ক সিনাত্রা এবং এরোল গার্নার থেকে শুরু করে জর্জ লুইস, এডি কনডন, ফিল নেপোলিয়ন, পাপা সেলস্টিন, আলফোনস পিকো, মাগসি স্প্যানিয়ার, শার্কি বোনানো এবং অন্যান্যদের অসংখ্য জ্যাজ সঙ্গীতশিল্পীর ছবি তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

কুবরিক ১৯৪৮ সালের ২৮ মে তার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রিয়তমা টোবা মেটজকে বিয়ে করেছিলেন। তারা গ্রিনউইচ গ্রামের ঠিক উত্তরে সিক্সথ অ্যাভিনিউ থেকে ৩৬ পশ্চিম ১৬তম স্ট্রিটে একটি ছোট অ্যাপার্টমেন্টে একসাথে থাকতেন। এই সময়ে, কুবরিক মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট এবং নিউ ইয়র্ক শহরের সিনেমায় ঘন ঘন ফিল্ম স্ক্রিনিং শুরু করেন। তিনি পরিচালক ম্যাক্স ওফুলসের জটিল, তরল ক্যামেরাওয়ার্ক দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, যার চলচ্চিত্রগুলি কুবরিকের ভিজ্যুয়াল শৈলীকে প্রভাবিত করেছিল। এবং পরিচালক এলিয়া কাজানের দ্বারাও প্রভাবিত হয়েছিলেন, যাকে তিনি সেই সময়ে আমেরিকার "শ্রেষ্ঠ পরিচালক" হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন, অভিনেতাদের সাথে তার "অলৌকিক কাজ করার" দক্ষতার কারণে। বন্ধুরা লক্ষ্য করতে শুরু করে যে কুবরিক চলচ্চিত্র নির্মাণের শিল্পে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন—একজন বন্ধু, ডেভিড ভন, পর্যবেক্ষণ করেছিলেন যে কুবরিক সিনেমা হলে চলচ্চিত্রটি নিঃশব্দে যাচাই করতেন, এবং লোকেরা যখন কথা বলতে শুরু করে তখন তার কাগজ পড়তে ফিরে যেতেন। তিনি চলচ্চিত্র তত্ত্বের বই পড়তে এবং নোট লিখতে অনেক ঘন্টা ব্যয় করতেন। তিনি লুক ম্যাগাজিনের ফটোগ্রাফিক টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সের্গেই আইজেনস্টাইন এবং আর্থার রথস্টেইনের দ্বারা বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।

চলচ্চিত্র কর্মজীবন

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র (১৯৫১–১৯৫৩)
কুবরিক তার স্কুল বন্ধু আলেকজান্ডার সিঙ্গারের সাথে চলচ্চিত্রের প্রতি ভালবাসা শেয়ার করেছিলেন, যিনি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পরে হোমারের ইলিয়াড মহাকাব্যের একটি চলচ্চিত্র সংস্করণ পরিচালনা করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। সিঙ্গার দ্য মার্চ অব টাইম নামের নিউজরিল প্রযোজনা সংস্থার অফিসে কাজ করেছিলেন, কুবরিক শিখেছিলেন যে একটি সঠিক শর্ট ফিল্ম তৈরি করতে $৪০,০০০ খরচ হতে পারে, যে অর্থ তার সামর্থ্য ছিল না। তার সঞ্চয় ছিল $১৫০০ এবং সিঙ্গার থেকে উৎসাহিত হয়ে কয়েকটি ছোট ডকুমেন্টারি তৈরি করেন। ফিল্ম সাপ্লায়ার, ল্যাবরেটরি, এবং সরঞ্জাম ভাড়ার ঘরে কল করে তিনি নিজে থেকে চলচ্চিত্রনির্মাণ সম্বন্ধে যা করতে পারেন তা শিখতে শুরু করেন।

চলচ্চিত্র তালিকা

পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র

প্রামাণ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র

মৃত্যু
১৯৯৯ সালের ৭ মার্চ, তার পরিবার এবং অভিনয়শিল্পীদের জন্য আইজ ওয়াইড শাট চলচ্চিত্রের চূড়ান্ত প্রদর্শনীর ছয় দিন পরে, কুবরিক ৭০ বছর বয়সে ঘুমের মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পাঁচ দিন পরে চাইল্ডউইকবেরি ম্যানরে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শুধুমাত্র ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব এবং পরিবার পরিজন মিলে প্রায় ১০০জন উপস্থিত ছিলেন। প্রবেশ ফটকের বাইরে গণমাধ্যমকে এক মাইল দূরে রাখা হয়। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগদানকারী আলেকজান্ডার ওয়াকার এটিকে "পারিবারিক বিদায়, ... প্রায় একটি ইংলিশ পিকনিকের মতো" হিসাবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে সেলিস্ট, ক্লারিনিটিস্ট এবং গায়ক তার অনেক প্রিয় শাস্ত্রীয় রচনা থেকে গান এবং সঙ্গীত পরিবেশন করেছিলেন। কাদ্দিশ নামে একধরনের ইহুদি প্রার্থনা পাঠ করা হয়েছিল। তার কিছু স্মৃতিচারণে তার ইহুদি পটভূমির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যারা প্রশংসা করেছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন টেরি সেমেল, জ্যান হারলান, স্টিভেন স্পিলবার্গ, নিকোল কিডম্যান এবং টম ক্রুজ। তাকে এস্টেটের তার প্রিয় গাছের পাশে সমাহিত করা হয়েছিল। কুবরিকের প্রতি উৎসর্গীকৃত তার বইতে, তার স্ত্রী ক্রিশ্চিয়ান তার প্রিয় অস্কার ওয়াইল্ডের উদ্ধৃতিগুলির মধ্যে একটি অন্তর্ভুক্ত করেছেন: "বৃদ্ধ বয়সের ট্র্যাজেডি এই নয় যে একজন বৃদ্ধ কিন্তু একজন তরুণ।"

প্রশংসা

আরও দেখুন
 ফিল্মওয়ার্কার, কুব্রিকের সাথে তার কাজ সম্পর্কে লিওন ভিটালির সাথে একটি তথ্যচিত্র
 হক ফিল্মস
 কুবরিক বাই কুবরিক, গ্রেগরি মনরো পরিচালিত এবং মিশেল সিমেন্টের সাক্ষাৎকারের উপর ভিত্তি করে তথ্যচিত্র
 স্ট্যানলি কুবরিক সংরক্ষণাগার
 স্ট্যানলি কুবরিকের গ্রন্থতালিকা
 স্ট্যানলি কুবরিক'স বক্সেস
 স্ট্যানলি কুবরিক: অ্যা লাইফ ইন পিকচার্স

টীকা

তথ্যসূত্র

উৎস

বহিঃসংযোগ

 

  ("পুরানো তালিকা থেকে" ১টি অর্ন্তভূক্ত)
 স্ট্যানলি কুবরিক সংগ্রহ – ওয়ার্নার ব্রস.
 স্ট্যানলি কুবরিক – সায়েন্স ফিকশন অ্যান্ড ফ্যান্টাসি হল অব ফেইম

স্ট্যানলি কুবরিক
১৯২৮-এ জন্ম
১৯৯৯-এ মৃত্যু
২০শ শতাব্দীর মার্কিন চিত্রনাট্যকার
২০শ শতাব্দীর মার্কিন পুরুষ লেখক
ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্র পরিচালক
বিজ্ঞান কল্পকাহিনী চলচ্চিত্র পরিচালক
মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক
মার্কিন চলচ্চিত্র প্রযোজক
মার্কিন চলচ্চিত্র সম্পাদক
মার্কিন চিত্রগ্রাহক
মার্কিন পুরুষ চিত্রনাট্যকার
নিউ ইয়র্কের (অঙ্গরাজ্য) চলচ্চিত্র নির্মাতা
নিউ ইয়র্ক শহরের চলচ্চিত্র পরিচালক
নিউ ইয়র্ক শহরের আলোকচিত্রশিল্পী
নিউ ইয়র্ক শহরের লেখক
অস্ট্রীয় ইহুদি বংশোদ্ভূত মার্কিন ব্যক্তি
পোলীয় ইহুদি বংশোদ্ভূত মার্কিন ব্যক্তি
রোমানীয় ইহুদি বংশোদ্ভূত মার্কিন ব্যক্তি
ইংল্যান্ডে মার্কিন প্রবাসী
ইংল্যান্ডে মার্কিন অভিবাসী
মার্কিন নাস্তিক
ইহুদি মার্কিন লেখক
ইহুদি মার্কিন নাস্তিক
ব্রঙ্কসের ব্যক্তি
সিটি কলেজ অব নিউ নিউইয়র্কের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
হার্টফোর্ডশায়ারে সমাহিত
বাফটা ফেলো
শ্রেষ্ঠ পরিচালনা বিভাগে বাফটা পুরস্কার বিজয়ী
দাভিদ দি দোনাতেল্লো বিজয়ী
রাইটার্স গিল্ড অব আমেরিকা পুরস্কার বিজয়ী
নিউ ইয়র্ক (অঙ্গরাজ্য)-এর চিত্রনাট্যকার
শ্রেষ্ঠ চাক্ষুষ প্রভাব বিভাগে একাডেমি পুরস্কার  বিজয়ী
বিশেষ আবহ ব্যক্তিত্ব
ম্যানহাটনের লেখক
ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ হলো জৈব খাদ্য উপাদান যা সাধারণত খাদ্যে অতি অল্প পরিমাণে থেকে দেহের স্বাভাবিক পুষ্টি ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে। দেহে ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণের অভাবে বিভিন্ন রোগ বা সমস্যার প্রাদুর্ভাব হয়। যেমন ভিটামিন A'র অভাবে চোখের দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। ভিটামিন সি এর অভাবে ত্বকে সমস্যা দেখা দেয়।

ভিটামিন আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী ক্যাশিমির ফ্রাঙ্ক ১৯১২ সালে।

মানবদেহের ভিটামিনসমূহ ও সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি

জলদ্রাব্য ভিটামিন

ভিটামিন বি 
ভিটামিন বি ,ভিটামিন বি কমপ্লেক্স নামেও পরিচিত। এই ভিটামিন জলে দ্রবণীয় এবং ভঙ্গুর। বি ভিটামিনের অনেকগুলো কার্বোহাইড্রেট বিপাকে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এখানে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন বি সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছে।

ভিটামিন বি ওয়ান বা থায়ামিন 
ভিটামিন বি১-এর রাসায়নিক নাম থায়ামিন যা একটি বর্ণহীন, কেলাসাকৃতির পদার্থ। থায়ামিন শরীরের ভিতর থায়ামিন পাইরোফস্ফেটে পরিণত হয় যা কার্বোহাইড্রেট বিপাকে একটি সহ-উৎসেচক (যা উৎসেচকের সাথে মিলিত হতে হয়ে কিছু আংশিক বিক্রিয়া অণুঘটিত করে) হিসেবে কাজ করে। থায়ামিনের অভাবে বেরিবেরি রোগ হয় যা পেশী দূর্বল করে দেয়। এছাড়াও হৃৎপিণ্ডের আকার বেড়ে যাওয়া, পায়ে খিল ধরা এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কারণ হিসেবে এই ভিটামিনের অভাব কাজ করে। স্নায়ু উদ্দীপক পদার্থ সংশ্লেষণে এটি ভূমিকা রাখে। সবচেয়ে বেশি থায়ামিন সমৃদ্ধ খাদ্যের মধ্যে রয়েছে: শূকরের মাংস, যকৃত, হৃৎপিণ্ড এবং বৃক্কের মাংস, ভাঁটিখানার ঈস্ট, চর্বিহীন মাংস, ডিম, ঢেকিছাটা চাল, শস্যদানা, গমের বীজ, বৈঁচী (এ ধরনের বীচিশূন্য ফল),চিনাবাদাম এবং শুঁটি। শস্যপেষাই কলের মাধ্যমে শস্যদানা ঝালঅই করার সময় এর থায়ামিনসমৃদ্ধ অংশগুলো নষ্ট হয়ে যায়। তাই চাল বা পেষাইকৃত গমে থায়ামিনের পরিমাণ কম থাকে। বর্তমানকালের গবেষণায় চাল ও গমে থায়ামিনের পরিমাণ বেশ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে, তথাপি অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই সমস্যা রয়েই গেছে।

ভিটামিন বি টু বা রাইবোফ্ল্যাভিন 
ভিটামিন বি২-এর রাসায়নিক নাম রাইবোফ্ল্যাভিন (C17H20N4O6)। রাইবোফ্ল্যাভিন থেকে ফ্ল্যাভিন মনোনিউক্লিওটাইড ও ফ্ল্যাভিন অ্যাডেনিন ডাইনিউক্লিওটাইড নামে দুটি সহ-উৎসেচক তৈরি হয়। এই সহ-উৎসেচক কার্বোহাইড্রেট, চর্বি এবং শ্বসনীয় আমিষ বিপাকে সাহায্য করে থাকে। শ্লেষ্মা ঝিল্লীর রক্ষণাবেক্ষণেও এর ভূমিকা রয়েছে। বি২-এর অভাবে যে লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় সেগুলো অতটা স্পষ্ট নয়। কিছু লক্ষণের মধ্যে রয়েছে: ত্বকের বিকৃতি (বিশেষত নাক ও ঠোটের চারপাশে) এবং আলোক সংবেদনশীলতা। রাইবোফ্ল্যাভিনের ভালো উৎসগুলোর মধ্যে আছে: কলিজা, দুধ, মাংস, গাঢ় সবুজ রঙের সব্জি, শস্যদানা, পেস্তা, পাউরুটি এবং মাশরুম।

ভিটামিন বি থ্রি বা নিকোটিনিক অ্যাসিড 
এর রাসায়নিক নাম নায়াসিন (C6H5NO2) বা নিকোটিনিক এসিড। এটিও সহকারী উৎসেচক যা পুষ্টিকর খাদ্য থেকে শক্তির বিমুক্তকরণে সাহায্য করে। নায়াসিনের অভাব হলে অপুষ্টি রোগ দেখা দেয়। এর প্রাথমিক লক্ষণ হল ত্বকের যে অংশ সরাসরি সূর্যের আলো পায় সে অংশে বিভিন্ন স্ফোটক উদগত হয় যাতে মনে হয় সূর্যের আলোয় সে অংশ পুড়ে গেছে। পরবর্তী লক্ষনগুলো হল: লাল ও

ভিটামিন বি ফাইভ বা প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড

ভিটামিন বি সিক্স বা পাইরিডক্সিন 
এর রাসায়নিক নাম পাইরিডক্সিন। ভিটামিন বি৬ শক্তি  উৎপাদনে সহায়তা করে।

ভিটামিন এইচ বা বায়োটিন বা ভিটামিন বি সেভেন 
ভিটামিন এইচের রাসায়নিক নাম হচ্ছে বায়োটিন (biotin - C10H16N2O3S) যা চর্বি বিপাকে সহায়তা করে। ডিমের কুসুম এবং কলিজায় এটি পাওয়া যায়। বায়োটিনের অভাবে ক্ষুধামন্দা, অন্তঃত্বকের কিছু রোগ, চুল পড়ে যাওয়া এবং অ্যানিমিয়া দেখা দেয়।

ভিটামিন এম বা ফোলিক অ্যাসিড বা ভিটামিন বি নাইন

ভিটামিন সি বা অ্যাস্করবিক অ্যাসিড 
সবচেয়ে বেশি ভিটামিন সি রয়েছে আমাজন জঙ্গলের কামু কামু বেরিতে। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরিমাণ ভিটামিন সি রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিলিগোট পামে, আর তৃতীয় সর্বোচ্চ পরিমাণ রয়েছে হিমালয় পর্বতাঞ্চলের গোজি বেরিতে।

স্নেহদ্রাব্য ভিটামিন

ভিটামিন এ বা রেটিনল 
ভিটামিন এ একটি হালকা হলুদ বর্ণের প্রাথমিক অ্যালকোহল। এটি ক্যারোটিন থেকে উদ্ভূত হয়। ত্বকের উৎপত্তি ও রক্ষণাবেক্ষণ, শ্লেষ্মা ঝিল্লী, হাড়, দাঁত, দৃষ্টি এবং পুনরুৎপাদন ক্ষমতার উপর এই ভিটামিনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে। রাতকানা রোগ অন্যতম প্রাচীন একটি রোগ। ভিটামিন এ-'র অভাবে এই রোগটি হয়ে থাকে। এছাড়া এই ভিটামিনের অভাবে যে লক্ষণগুলো দেখা দেয় তা হল: ত্বকের অত্যধিক শুষ্কতা, শ্লেষ্মা ঝিল্লীর নিঃসরণ কমে যাওয়া, ব্যাক্টিরিয়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া, অশ্রু গ্রন্থির অকার্যকারিতা এবং তার ফলে চোখের শুষ্কতা। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিশুদের অন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনেও এই ভিটামিনের অভাব কাজ করে।

দুইটি ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে মানব দেহে ভিটামিন এ তৈরি হতে পারে। একটি হল: ক্যারোটিন থেকে উৎপাদন। গাজর, ফুলকপি, লাউ, পালং শাক, মিষ্টি আলু প্রভৃতিতে ক্যারোটিন থাকে। অন্য উপায়টি হল: তৃণভোজী প্রাণী কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ভিটামিন এ সরাসরি গ্রহণ করা। প্রাণীজ উপায়ে ভিটামিন এ যা থেকে পাওয় যায় তা হল: দুধ, মাখন, পনির, ডিমের কুসুম, কলিজা এবং মাছের যকৃতের তেল। আমরা সাধারণত যে খাবার গ্রহণ করি তা থেকেই এই ভিটামিনের চাহিদা অনেকটা পূরণ হয়ে যায়। অতিরিক্ত ভিটামিন এ গ্রহণ করা উচিত নয়। এতে শারীরিক বৃদ্ধির উপর প্রভাব পড়ে। এছাড়া মাসিক রজঃস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া, লোহিত রক্ত কণিকা ধ্বংস হওয়া, ত্বক খসখসে হয়ে যাওয়া, মথা ব্যথা এবং জন্ডিস সহ এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

এ২ 
এটি ভিটামিন এ-এর একটি বিশেষ রুপ যা মাছের যকৃত থেকে পাওয়া যায়।

ভিটামিন ডি বা ক্যাল্সিফেরল 
ইহা এমন এক প্রকার ভিটামিন যা সূর্যালোক এর উপস্থিতিতে মানবদেহের চর্মে উৎপন্ন হয়।

উৎস: 
 সুর্য আলোক রশ্মির উপস্থিতিতে মানবদেহের চর্মে উৎপন্ন হয়।
 ভোজ্য তেল, দুগ্ধ ও দুগ্ধ জাতীয় খাদ্য, বিভিন্ন মাছের তেল, ডিমের কুসুম, মাখন,ঘি, চর্বি এবং ইলিশ মাছের তেলে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়।
কাজ:
 অস্থি ও দাঁতের কাঠামো গঠন।
 অন্ত্রে ক্যালসিয়াম এর শোষণ বাড়ায়।
 রক্ত প্রবাহে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

অভাবজনিত রোগ

রিকেটস্: 
লক্ষণসমূহ: 
 ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম এর অভাবে শিশুর হাড় নরম হয়ে যায় এবং বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
 পায়ের হাড় ধনুকের মত বেঁকে যায় এবং দেহের চাপে অন্যান্য হাড়গুলোও বেঁকে যায়।
 হাত ও পায়ের অস্থিসন্ধি বা গিট ফুলে যায়।
 বুকের হাড় বা পাজরের হাড় বেঁকে যায়।
প্রতিরোধ:

শিশুকে ভিটামিন “ডি” সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ানো। শিশুকে কিছুক্ষণের জন্য সূর্যের নরম আলোয় বিশেষ করে সকাল ও বিকাল বেলা খেলাধুলা করতে দেওয়া।

অস্টি ও ম্যালেশিয়া: 
বয়স্কদের রিকেটস্ অস্টিওম্যালেশিয়া নামে পরিচিত।

লক্ষণসমূহ:
 অন্ত্রে ক্যালসিয়াম শোষণে বিঘ্ন ঘটে।
 ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস এর সঞ্চয় কমতে থাকে।
 থাইরয়েড গ্রন্থির কাজের পরির্বতন ঘটে।
 অস্থি দূর্বল ও কাঠিন্য কমে যায় ফলে হালকা আঘাতে অস্থি ভেঙে যাওয়ার সম্ভবনা অনেক বেশি।
প্রতিরোধ:

উপযুক্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন “ডি” যুক্ত খাবার গ্রহণ করা।

ভিটামিন ই বা টোকোফেরল

ভিটামিন কে বা ন্যাপথোকুইনোন

কে১ 
সবুজ শাক-সব্জিতে পাওয়া যায়।

কে২ 
মাছের দেহে এই ভিটামিন পাওয়া যায়।

ভিটামিন পি 
ভিটামিন পি-এর রাসায়নিক নাম হল: বায়োফ্ল্যাভোনয়েড (bioflavonoid)। এটি লেবু জাতীয় সকল ফলেই পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র 

 
পুষ্টি
অত্যাবশ্যক পুষ্টি
বার্লিন (ইংরেজি: Berlin) এর ৩.৭ মিলিয়ন অধিবাসী এটিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে জনবহুল শহর হিসাবে গড়ে তোলে, শহরের সীমার মধ্যে জনসংখ্যা অনুসারে।  জার্মানির ষোলটি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে একটি, বার্লিন ব্র্যান্ডেনবুর্গ রাজ্য দ্বারা বেষ্টিত এবং ব্রান্ডেনবার্গের রাজধানী পটসড্যামের সাথে সংলগ্ন। বার্লিনের শহুরে এলাকা, যার জনসংখ্যা প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন, রুহরের পরে জার্মানির দ্বিতীয় সবচেয়ে জনবহুল শহুরে এলাকা।  বার্লিন-ব্র্যান্ডেনবুর্গ রাজধানী অঞ্চলে ছয় মিলিয়নেরও বেশি বাসিন্দা রয়েছে এবং রাইন-রুহর এবং রাইন-মেইন অঞ্চলের পরে এটি জার্মানির তৃতীয় বৃহত্তম মহানগর অঞ্চল। 

বার্লিন স্প্রির তীরে বিস্তৃত , যা স্পান্ডাউয়ের পশ্চিম বরোতে হ্যাভেল (এলবের একটি উপনদী) প্রবাহিত হয়। শহরটির প্রধান টপোগ্রাফিক বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে স্প্রি, হাভেল এবং ডাহমে দ্বারা গঠিত পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পূর্ব বরোর অনেকগুলি হ্রদ, যার মধ্যে বৃহত্তম হল মুগগেলসী হ্রদ। ইউরোপীয় সমভূমিতে তার অবস্থানের কারণে, বার্লিন একটি নাতিশীতোষ্ণ মৌসুমি জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত হয়। শহরটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা বন, উদ্যান, উদ্যান, নদী, খাল এবং হ্রদ দ্বারা গঠিত।  শহরটি কেন্দ্রীয় জার্মান উপভাষা এলাকায় অবস্থিত, বার্লিন উপভাষাটি লুসাতিয়ান-নিউ মার্চিয়ান উপভাষাগুলির একটি বৈকল্পিক।

ত্রয়োদশ শতাব্দীতে প্রথম নথিভুক্ত করা হয় এবং দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক বাণিজ্য রুট অতিক্রম করার সময়, বার্লিন ব্র্যান্ডেনবুর্গের মারগ্রাভিয়েট (১৪১৭-১৭০১), প্রুশিয়া রাজ্য (১৭০১-১৯১৮), জার্মান সাম্রাজ্য (১৮৭১-১৯১৮), ওয়েমার প্রজাতন্ত্র (১৯১৯-১৯৩৩), এবং তৃতীয় রাইখ (১৯৩৩-১৯৪৫) এর রাজধানী হয়ে ওঠে। ১৯২০-এর দশকে বার্লিন ছিল বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পৌরসভা।  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এবং বিজয়ী দেশগুলির দ্বারা এর পরবর্তী দখলদারিত্বের পরে, শহরটি বিভক্ত হয়ে যায়; পশ্চিম বার্লিন পশ্চিম জার্মানির একটি ডি ফ্যাক্টো এক্সক্লেভ হয়ে ওঠে, বার্লিন প্রাচীর (আগস্ট ১৯৬১ থেকে নভেম্বর ১৯৮৯ পর্যন্ত) এবং পূর্ব জার্মান অঞ্চল দ্বারা বেষ্টিত।  পূর্ব বার্লিনকে পূর্ব জার্মানির রাজধানী ঘোষণা করা হয় এবং বন পশ্চিম জার্মানির রাজধানীতে পরিণত হয়। ১৯৯০ সালে জার্মান পুনর্মিলনের পর বার্লিন আবারও সমগ্র জার্মানির রাজধানী হয়ে ওঠে।

বার্লিন সংস্কৃতি, রাজনীতি, মিডিয়া এবং বিজ্ঞানের একটি বিশ্ব শহর।  এর অর্থনীতি উচ্চ-প্রযুক্তির সংস্থাগুলি এবং পরিষেবা খাতের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা সৃজনশীল শিল্প, গবেষণা সুবিধা, মিডিয়া কর্পোরেশন এবং কনভেনশন ভেন্যুগুলির বিভিন্ন পরিসরকে অন্তর্ভুক্ত করে।  বার্লিন বিমান ও রেল ট্র্যাফিকের জন্য একটি মহাদেশীয় কেন্দ্র হিসাবে কাজ করে এবং একটি অত্যন্ত জটিল পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক রয়েছে। মহানগরী একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।  উল্লেখযোগ্য শিল্পগুলির মধ্যে রয়েছে আইটি, ফার্মাসিউটিক্যালস, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্লিন টেক, বায়োটেকনোলজি, নির্মাণ এবং ইলেকট্রনিক্স।

বার্লিনে হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তিগত বিশ্ববিদ্যালয়, ফ্রি ইউনিভার্সিটি, আর্টস বিশ্ববিদ্যালয়, ইএসএমটি বার্লিন, হার্টি স্কুল এবং বার্ড কলেজ বার্লিনের মতো বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আবাসস্থল। এর জুওলজিক্যাল গার্ডেন ইউরোপের সবচেয়ে বেশি দেখা চিড়িয়াখানা এবং বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে জনপ্রিয় চিড়িয়াখানাগুলির মধ্যে একটি। বাবেলসবার্গ বিশ্বের প্রথম বড় আকারের চলচ্চিত্র স্টুডিও কমপ্লেক্স হওয়ার সাথে সাথে, বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্রযোজনার জন্য ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয় স্থান।  শহরটি তার উৎসব, বৈচিত্র্যময় স্থাপত্য, নাইটলাইফ, সমসাময়িক শিল্প এবং জীবনযাত্রার একটি খুব উচ্চ মানের জন্য সুপরিচিত।  ২০০০-এর দশক থেকে বার্লিন একটি বিশ্বজনীন উদ্যোক্তা দৃশ্যের উত্থান দেখেছে। 

বার্লিনে তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান রয়েছে: যাদুঘর দ্বীপ; পটসডাম এবং বার্লিনের প্রাসাদ ও পার্ক; এবং বার্লিন আধুনিকতা হাউজিং এস্টেট।  অন্যান্য ল্যান্ডমার্কগুলির মধ্যে রয়েছে ব্র্যান্ডেনবার্গ গেট, রাইখস্ট্যাগ বিল্ডিং, পটসডামার প্লাটজ্, ইউরোপের নিহত ইহুদিদের স্মৃতিসৌধ, বার্লিন প্রাচীর স্মৃতিসৌধ, ইস্ট সাইড গ্যালারী, বার্লিন বিজয় কলাম, বার্লিন ক্যাথিড্রাল এবং বার্লিন টেলিভিশন টাওয়ার। জার্মানির সবচেয়ে উঁচু কাঠামো। বার্লিনে অসংখ্য যাদুঘর, গ্যালারী, লাইব্রেরি, অর্কেস্ট্রা এবং ক্রীড়া ইভেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ওল্ড ন্যাশনাল গ্যালারি, বোড মিউজিয়াম, পারগামন মিউজিয়াম, জার্মান ঐতিহাসিক যাদুঘর, ইহুদি যাদুঘর বার্লিন, প্রাকৃতিক ইতিহাস যাদুঘর, হামবোল্ট ফোরাম, বার্লিন স্টেট লাইব্রেরি, বার্লিন স্টেট অপেরা, বার্লিন ফিলহারমোনিক এবং বার্লিন ম্যারাথন।

ইতিহাস

ব্যুৎপত্তি 
বার্লিন উত্তর-পূর্ব জার্মানিতে অবস্থিত, এলবে নদীর পূর্বে, যা একসময় গঠিত হয়েছিল, নদী (স্যাক্সন বা থুরিঙ্গিয়ান) সালি (বারবিতে তাদের সঙ্গম থেকে), ফ্রাঙ্কিশ রাজত্বের পূর্ব সীমান্ত। যদিও ফ্র্যাঙ্কিশ রাজত্ব মূলত ফ্রাঙ্ক এবং স্যাক্সনদের মতো জার্মানী উপজাতিদের দ্বারা বাস করত, তবে সীমান্ত নদীগুলির পূর্ব দিকের অঞ্চলগুলিতে স্লাভিক উপজাতিরা বাস করত। এই কারণেই উত্তর-পূর্ব জার্মানির বেশিরভাগ শহর এবং গ্রামগুলি স্লাভিক-উদ্ভূত নাম (জার্মানিয়া স্লাভিকা) বহন করে। স্লাভিক উৎপত্তির সাধারণ জার্মানাইজড স্থাননাম প্রত্যয়গুলি হল -ow, -itz, -vitz, -witz, -itzsch এবং -in, উপসর্গগুলি হল Windisch এবং Wendisch। বার্লিন নামটির শিকড় আজকের বার্লিনের অঞ্চলের পশ্চিম স্লাভিক অধিবাসীদের ভাষায়, এবং এটি পুরানো পোলাবিয়ান স্টেম বার্ল -/ বার্ল - ("জলাভূমি") এর সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।  যেহেতু বার-এর শুরুতে জার্মান শব্দ Bär (Bear) এর মতো শোনাচ্ছিল, তাই শহরের অস্ত্রের কোটে একটি ভালুক আবির্ভূত হয়। সুতরাং এটি ক্যানটিং অস্ত্রগুলির একটি উদাহরণ।

বার্লিনের বারোটি বরোর মধ্যে পাঁচটি (আংশিকভাবে) স্লাভিক-উদ্ভূত নাম বহন করে: প্যানকো (সবচেয়ে জনবহুল), স্টেগলিৎজ-জেহলেনডর্ফ, মারজাহান-হেলারসডর্ফ, ট্রেপটো-কোপেনিক এবং স্পান্ডাউ (১৮৭৮ সাল পর্যন্ত স্প্যানডো নামে নামকরণ করা হয়)। এর ৯৬টি এলাকার মধ্যে, বাইশটি (আংশিকভাবে) স্লাভিক-উদ্ভূত নাম বহন করে: Altglienicke, Alt-Treptow, Britz, Buch, Buckow, Gatow, Karow, Kladow, Köpenick, Lankwitz, Lübars, Malchow, Marzahn, Pankow, Prenzlauer Berg, রুডো, Schmöckwitz, Spandau, Stadtrandsiedlung Malchow, Steglitz, Tegel এবং Zehlendorf। মোয়াবিটের পার্শ্ববর্তী এলাকায় একটি ফরাসি-উদ্ভূত নাম রয়েছে, এবং ফ্রাঞ্জোসিসচ বুচোলজ হুগুয়েনোটসের নামে নামকরণ করা হয়েছে।

১২শ থেকে ১৬শ শতাব্দী 

১৬১৮ থেকে ১৬৪৮ সালের মধ্যে ৩০ বছরের যুদ্ধ বার্লিনকে ধ্বংস করে দেয়। এর এক-তৃতীয়াংশ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং শহরটি তার জনসংখ্যার অর্ধেক হারিয়েছে।  "গ্রেট ইলেক্টর" নামে পরিচিত ফ্রেডেরিক উইলিয়াম, যিনি ১৬৪০ সালে তার পিতা জর্জ উইলিয়ামের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন, তিনি অভিবাসন ও ধর্মীয় সহনশীলতা প্রচারের একটি নীতি শুরু করেছিলেন।  ১৬৮৫ সালে পটসড্যামের আদেশের সাথে সাথে, ফ্রেডেরিক উইলিয়াম ফরাসি হুগুয়েনোটসকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। 

১৭০০ সালের মধ্যে বার্লিনের অধিবাসীদের প্রায় ৩০ শতাংশ ফরাসি ছিল, কারণ হুগুয়েনোট অভিবাসন ছিল।  বোহেমিয়া, পোল্যান্ড এবং সালজবুর্গ থেকে আরও অনেক অভিবাসী এসেছিলেন।

১৬১৮ সাল থেকে, ব্র্যান্ডেনবুর্গের মার্গারাভিয়েট প্রুশিয়ার ডাচির সাথে ব্যক্তিগত ভাবে মিলিত হয়েছিল।১৭০১ সালে, দ্বৈত রাষ্ট্র প্রুশিয়া রাজ্য গঠন করে, ব্র্যান্ডেনবুর্গের নির্বাচক তৃতীয় ফ্রেডেরিক হিসাবে নিজেকে প্রুশিয়ার রাজা প্রথম ফ্রেডেরিক হিসাবে মুকুট পরিয়েছিলেন। বার্লিন নতুন রাজ্যের রাজধানী হয়ে ওঠে, কোনিগসবার্গের স্থলাভিষিক্ত হয়। এটি খুব দূরবর্তী রাজ্যে রাজধানীকে কেন্দ্রীভূত করার একটি সফল প্রচেষ্টা ছিল, এবং এই প্রথমবারের মতো শহরটি বাড়তে শুরু করেছিল। ১৭০৯ সালে বার্লিন চারটি শহর কোলোন, ফ্রিডরিখসোয়ারডার, ফ্রিডরিখস্টাডট এবং ডোরোথিয়েনস্টাড্টের সাথে একীভূত হয় বার্লিন নামে, "হাউপট-আনড রেসিডেনজস্টাড বার্লিন" নামে। 

১৭৪০ সালে দ্বিতীয় ফ্রেডেরিক দ্য গ্রেট (১৭৪০-১৭৮৬) নামে পরিচিত ফ্রেডেরিক ক্ষমতায় আসেন।  দ্বিতীয় ফ্রেডেরিকের শাসনামলে, বার্লিন এনলাইটেনমেন্টের একটি কেন্দ্র হয়ে ওঠে, তবে রাশিয়ান সেনাবাহিনী কর্তৃক সাত বছরের যুদ্ধের সময় সংক্ষিপ্তভাবে দখল করা হয়েছিল।  চতুর্থ জোটের যুদ্ধে ফ্রান্সের বিজয়ের পর, নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ১৮০৬ সালে বার্লিনে যাত্রা করেন, কিন্তু শহরটিকে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করেন।  ১৮১৫ সালে শহরটি ব্র্যান্ডেনবুর্গের নতুন প্রদেশের অংশ হয়ে ওঠে। 

শিল্প বিপ্লব ঊনবিংশ শতাব্দীতে বার্লিনকে রূপান্তরিত করেছিল; শহরের অর্থনীতি এবং জনসংখ্যা নাটকীয়ভাবে প্রসারিত হয়েছিল এবং এটি জার্মানির প্রধান রেলওয়ে হাব এবং অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। অতিরিক্ত শহরতলিশীঘ্রই বার্লিনের অঞ্চল এবং জনসংখ্যা উন্নত এবং বৃদ্ধি করে। ১৮৬১ সালে, বিবাহ, মোয়াবিট এবং আরও বেশ কয়েকটি সহ পার্শ্ববর্তী শহরতলি বার্লিনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।  ১৮৭১ সালে বার্লিন নতুন প্রতিষ্ঠিত জার্মান সাম্রাজ্যের রাজধানীতে পরিণত হয়।  ১৮৮১ সালে, এটি ব্র্যান্ডেনবার্গ থেকে পৃথক একটি শহর জেলায় পরিণত হয়।

২০তম থেকে ২১শ শতাব্দী 

বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে, বার্লিন জার্মান এক্সপ্রেশনিস্ট আন্দোলনের জন্য একটি উর্বর ভূমিতে পরিণত হয়েছিল।  স্থাপত্য, চিত্রাঙ্কন এবং চলচ্চিত্রের মতো ক্ষেত্রগুলিতে শৈল্পিক শৈলীর নতুন রূপ উদ্ভাবিত হয়েছিল। ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষে ফিলিপ শেইডেম্যান রাইখস্ট্যাগ ভবনে একটি প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেন। ১৯২০ সালে, বৃহত্তর বার্লিন আইন বার্লিনের আশেপাশের কয়েক ডজন শহরতলির শহর, গ্রাম এবং এস্টেটকে একটি সম্প্রসারিত শহরে অন্তর্ভুক্ত করে। আইনটি বার্লিনের আয়তন ৬৬ থেকে বাড়িয়ে ৮৮৩ কিমি২ (২৫ থেকে ৩৪১ বর্গ মাইল) করেছে। জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায় এবং বার্লিনের জনসংখ্যা প্রায় চার মিলিয়ন ছিল। ওয়েইমার যুগে, বার্লিন অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গিয়েছিল কিন্তু গর্জনরত বিশের দশকের একটি বিখ্যাত কেন্দ্র হয়ে ওঠে। মহানগরটি একটি প্রধান বিশ্ব রাজধানী হিসাবে তার হেইডে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিল এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিল্প, মানবিক, নগর পরিকল্পনা, চলচ্চিত্র, উচ্চ শিক্ষা, সরকার এবং শিল্পগুলিতে তার নেতৃত্বের ভূমিকার জন্য পরিচিত ছিল। অ্যালবার্ট আইনস্টাইন বার্লিনে থাকাকালীন সময়ে জনসাধারণের খ্যাতি অর্জন করেন এবং ১৯২১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৩৩ সালে অ্যাডলফ হিটলার ও নাৎসি পার্টি ক্ষমতায় আসে। এনএসডিএপি শাসন বার্লিনের ইহুদি সম্প্রদায়কে ১,৬০,০০০ (দেশের সমস্ত ইহুদীদের এক-তৃতীয়াংশ) থেকে ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে অভিবাসনের কারণে প্রায় ৮০,০-এ নামিয়ে আনে। ১৯৩৮ সালে ক্রিস্টালনাচের পর, শহরের হাজার হাজার ইহুদিকে নিকটবর্তী স্যাচেনহাউসেন কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে বন্দী করা হয়েছিল। ১৯৪৩ সালের গোড়ার দিকে, অনেককে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছিল, যেমন আউশভিৎজ।  বার্লিন ইতিহাসের সবচেয়ে ভারী বোমা বর্ষণকারী শহর। [তথ্যসূত্র প্রয়োজন] দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, ১৯৪৩-৪৫ সালের মিত্রবাহিনীর বিমান হামলা এবং ১৯৪৫ সালে বার্লিনের যুদ্ধের সময় বার্লিনের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। মিত্ররা শহরটিতে ৬৭,৬০৭ টন বোমা নিক্ষেপ করে, যার ফলে নির্মিত এলাকার ৬,৪২৭ একর জমি ধ্বংস হয়ে যায়। এতে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়।  ১৯৪৫ সালের মে মাসে ইউরোপে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর, বার্লিন পূর্ব প্রদেশগুলি থেকে বিপুল সংখ্যক শরণার্থী গ্রহণ করে। বিজয়ী শক্তিগুলি শহরটিকে চারটি সেক্টরে বিভক্ত করেছিল, যা জার্মানিকে যে দখলদারিত্বের অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছিল তার অনুরূপ। পশ্চিমা মিত্রদের (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স) সেক্টরগুলি পশ্চিম বার্লিন গঠন করেছিল, যখন সোভিয়েত সেক্টর পূর্ব বার্লিন গঠন করেছিল।

এই চার মিত্রই বার্লিনের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। যাইহোক, ১৯৪৮ সালে, যখন পশ্চিমা মিত্ররা জার্মানির পশ্চিমা অঞ্চলে বার্লিনের তিনটি পশ্চিম সেক্টরে মুদ্রা সংস্কার প্রসারিত করে, তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন পশ্চিম বার্লিনে এবং সেখান থেকে অ্যাক্সেস রুটগুলিতে অবরোধ আরোপ করে, যা সম্পূর্ণরূপে সোভিয়েত-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের অভ্যন্তরে অবস্থিত। তিনটি পশ্চিমা মিত্রদ্বারা পরিচালিত বার্লিন এয়ারলিফট, ১৯৪৮ সালের জুন থেকে ১৯৪৯ সালের মে মাস পর্যন্ত শহরে খাদ্য ও অন্যান্য সরবরাহ সরবরাহ ের মাধ্যমে এই অবরোধকে অতিক্রম করে।  ১৯৪৯ সালে, ফেডারেল রিপাবলিক অফ জার্মানি পশ্চিম জার্মানিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত বার্লিনে এই তিনটি দেশের অঞ্চল বাদ দিয়ে সমস্ত আমেরিকান, ব্রিটিশ এবং ফরাসি অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করেছিল, যখন মার্কসবাদী-লেনিনবাদী জার্মান গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র পূর্ব জার্মানিতে ঘোষণা করা হয়েছিল। পশ্চিম বার্লিন আনুষ্ঠানিকভাবে একটি অধিকৃত শহর ছিল, কিন্তু পশ্চিম বার্লিনের ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা সত্ত্বেও এটি রাজনৈতিকভাবে ফেডারেল রিপাবলিক অফ জার্মানির সাথে সংযুক্ত ছিল। পশ্চিম বার্লিনে বিমান পরিষেবা শুধুমাত্র আমেরিকান, ব্রিটিশ এবং ফরাসি বিমান সংস্থাগুলিকে দেওয়া হয়েছিল।

এই দুই জার্মান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ফলে স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। পশ্চিম বার্লিন পূর্ব জার্মান অঞ্চল দ্বারা বেষ্টিত ছিল, এবং পূর্ব জার্মানি পূর্ব অংশকে তার রাজধানী হিসাবে ঘোষণা করেছিল, যা পশ্চিমা শক্তিগুলি স্বীকৃতি দেয়নি। পূর্ব বার্লিন শহরের বেশিরভাগ ঐতিহাসিক কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। পশ্চিম জার্মান সরকার বনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে।  ১৯৬১ সালে, পূর্ব জার্মানি পশ্চিম বার্লিনের চারপাশে বার্লিন প্রাচীর নির্মাণ শুরু করে এবং ঘটনাগুলি চেকপয়েন্ট চার্লিতে একটি ট্যাংক অচলাবস্থার দিকে অগ্রসর হয়। পশ্চিম বার্লিন এখন কার্যত পশ্চিম জার্মানির একটি অংশ ছিল যার একটি অনন্য আইনী অবস্থা ছিল, যখন পূর্ব বার্লিন কার্যত পূর্ব জার্মানির একটি অংশ ছিল। জন এফ কেনেডি ১৯৬৩ সালের ২৬ শে জুন, শহরের পশ্চিম অংশে অবস্থিত শোনবার্গ সিটি হলের সামনে তার "ইচ বিন আইন বার্লিনার" বক্তৃতা দিয়েছিলেন, যা পশ্চিম বার্লিনের প্রতি মার্কিন সমর্থনকে তুলে ধরেছিল।  বার্লিন পুরোপুরি বিভক্ত ছিল। যদিও পশ্চিমাদের পক্ষে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত চেকপয়েন্টগুলির মধ্য দিয়ে অন্য দিকে যাওয়া সম্ভব ছিল, তবে বেশিরভাগ পূর্বাঞ্চলীয়দের জন্য, পূর্ব জার্মানি সরকার পশ্চিম বার্লিন বা পশ্চিম জার্মানিতে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছিল। ১৯৭১ সালে, একটি চার-শক্তি চুক্তি পূর্ব জার্মানির মধ্য দিয়ে গাড়ি বা ট্রেনে করে পশ্চিম বার্লিন থেকে আসা-যাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়। 

১৯৮৯ সালে, শীতল যুদ্ধের সমাপ্তি এবং পূর্ব জার্মান জনগণের চাপের সাথে সাথে, বার্লিন প্রাচীরটি ৯ নভেম্বর এর পতন ঘটে এবং পরবর্তীতে বেশিরভাগই ভেঙে ফেলা হয়। আজ, ইস্ট সাইড গ্যালারী প্রাচীরের একটি বড় অংশ সংরক্ষণ করে। ১৯৯০ সালের ৩ রা অক্টোবর, জার্মানির দুটি অংশ ফেডারেল রিপাবলিক অফ জার্মানি হিসাবে পুনরায় একত্রিত করা হয় এবং বার্লিন আবার একটি পুনর্গঠিত শহরে পরিণত হয়।  পশ্চিম বার্লিনের মেয়র ওয়াল্টার মমপার অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে পুনরায় একত্রিত শহরের প্রথম মেয়র হন। ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে শহরব্যাপী নির্বাচনের ফলে প্রথম "সমস্ত বার্লিন" মেয়র ১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য নির্বাচিত হন, পূর্ব ও পশ্চিম বার্লিনের মেয়রদের পৃথক অফিসগুলি সেই সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে যায় এবং এবারহার্ড ডিয়েপগেন (পশ্চিম বার্লিনের প্রাক্তন মেয়র) পুনর্গঠিত বার্লিনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র হন।  ১৯৯৪ সালের ১৮ ই জুন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং ব্রিটেনের সৈন্যরা একটি কুচকাওয়াজে মিছিল করে যা মিত্র দখলদার সৈন্যদের প্রত্যাহারকে চিহ্নিত করার অনুষ্ঠানের অংশ ছিল যা পুনরায় একত্রিত বার্লিনের অনুমতি দেয়  (শেষ রাশিয়ান সৈন্যরা ৩১ আগস্ট চলে যায়, যখন পশ্চিমা মিত্রবাহিনীর চূড়ান্ত প্রস্থান ছিল ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৯৪)। ১৯৯১ সালের ২০ শে জুন, বুন্দেসট্যাগ (জার্মান সংসদ) জার্মানির রাজধানীর আসনটি বন থেকে বার্লিনে সরানোর পক্ষে ভোট দেয়, যা ১৯৯৯ সালে সম্পন্ন হয়েছিল।

বার্লিনের ২০০১ সালের প্রশাসনিক সংস্কার বেশ কয়েকটি বরোকে একীভূত করে, তাদের সংখ্যা ২৩ থেকে ১২ এ নামিয়ে আনে।

২০০৬ সালে বার্লিনে ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়।

২০১৬ সালে আইএসআইএল-এর সাথে সম্পর্কিত একটি সন্ত্রাসী হামলায়, একটি ট্রাক ইচ্ছাকৃতভাবে কায়সার উইলহেম মেমোরিয়াল চার্চের পাশে একটি ক্রিসমাস মার্কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যার ফলে ১৩ জন নিহত এবং ৫৫ জন আহত হয়েছিল। 

বার্লিন ব্র্যান্ডেনবার্গ বিমানবন্দর (বিইআর) ২০২০ সালে চালু হয়েছিল, পরিকল্পনার চেয়ে নয় বছর পরে, টার্মিনাল ১ অক্টোবরের শেষের দিকে পরিষেবাতে আসছে এবং টেগেল বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটগুলি নভেম্বরে শেষ হবে।  কভিড-১৯ মহামারীর কারণে যাত্রী সংখ্যা হ্রাসের কারণে, ২০২১ সালের মার্চ থেকে শুরু হওয়া সাবেক শেনফেল্ড বিমানবন্দর বিইআর-এর টার্মিনাল ৫ সাময়িকভাবে এক বছরের জন্য বন্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছিল।  আলেকজান্ডারপ্লাটজ থেকে হাউপটবাহনহোফ পর্যন্ত ইউ-বাহান লাইন ইউ-৫-এর সংযোগকারী লিঙ্কটি নতুন স্টেশন রোটস রাথাউস এবং ইউন্টার ডেন লিন্ডেনের সাথে ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর খোলা হয়েছিল, যাদুঘরসিনসেল ইউ-বাহান স্টেশনটি ২০২১ সালের মার্চের দিকে খোলা হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ইউ ৫ এ সমস্ত নতুন কাজ সম্পন্ন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।  ২০২০ সালের শেষের দিকে হাম্বল্ট ফোরাম যাদুঘরের একটি আংশিক উদ্বোধন, যা পুনর্নির্মিত বার্লিন প্যালেসে অবস্থিত, যা জুন মাসে ঘোষণা করা হয়েছিল, ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছিল।

ভূগোল

টপোগ্রাফি 

বার্লিন উত্তর-পূর্ব জার্মানিতে অবস্থিত, প্রধানত সমতল টপোগ্রাফিসহ নিম্ন-অবস্থিত জলাভূমির একটি অঞ্চলে, বিশাল উত্তর ইউরোপীয় সমভূমির অংশ যা উত্তর ফ্রান্স থেকে পশ্চিম রাশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। বার্লিনার উরস্ট্রমতাল (একটি বরফ যুগের হিমবাহ উপত্যকা), উত্তরে কম বার্নিম মালভূমি এবং দক্ষিণে টেলটো মালভূমির মধ্যে, শেষ ওয়েইচসেলিয়ান হিমবাহের শেষে বরফের চাদর থেকে প্রবাহিত দ্রবীভূত জল দ্বারা গঠিত হয়েছিল। স্প্রি এখন এই উপত্যকাকে অনুসরণ করে। বার্লিনের পশ্চিমে একটি বরো, স্পান্ডাউতে, স্প্রি হাভেল নদীতে খালি হয়ে যায়, যা উত্তর থেকে দক্ষিণে পশ্চিম বার্লিনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। হ্যাভেলের গতিপথটি হ্রদের শৃঙ্খলের মতো, বৃহত্তমটি হল টেগেলার সি এবং গ্রোয়ার ওয়ানসি। হ্রদের একটি সিরিজ উপরের স্প্রিতেও ফিড করে, যা পূর্ব বার্লিনের গ্রোয়ের মুগেলসির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। 

বর্তমান বার্লিনের উল্লেখযোগ্য অংশ স্প্রি উপত্যকার উভয় পাশে নিম্ন মালভূমিতে প্রসারিত। বোরোর বড় অংশ রেইনিকেনডর্ফ এবং প্যানকো বার্নিম মালভূমিতে অবস্থিত, যখন শার্লটনবার্গ-উইলমারসডর্ফ, স্টেগলিটজ-জেহলেনডর্ফ, টেম্পেলহোফ-শেনবার্গ এবং নিউকোলোর বেশিরভাগ বরো টেলটো মালভূমিতে অবস্থিত।

স্পান্ডাউয়ের বরো আংশিকভাবে বার্লিন হিমবাহ উপত্যকার মধ্যে এবং আংশিকভাবে নওয়েন প্লেইনের উপর অবস্থিত, যা বার্লিনের পশ্চিমে প্রসারিত। ২০১৫ সাল থেকে, পাঙ্কোর আর্কেনবার্গ পর্বতমালা ১২২ মিটার (৪০০ ফুট) উচ্চতায় বার্লিনের সর্বোচ্চ বিন্দু। নির্মাণ ধ্বংসাবশেষ নিষ্কাশনের মাধ্যমে তারা টিউফেলসবার্গকে (১২০.১ মিটার বা ৩৯৪ ফুট) অতিক্রম করেছিল, যা নিজেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ থেকে ধ্বংসাবশেষ দিয়ে গঠিত হয়েছিল। ১১৪.৭ মিটার (৩৭৬ ফুট) উচ্চতায় মুগেলবার্গ সর্বোচ্চ প্রাকৃতিক বিন্দু এবং সর্বনিম্নটি স্পান্ডাউয়ের স্পেকটেসি, ২৮.১ মিটার (৯২ ফুট) উচ্চতায়।

জলবায়ু 
বার্লিনের একটি মহাসাগরীয় জলবায়ু রয়েছে (কোপেন: সিএফবি);  শহরটির পূর্ব অংশে সামান্য মহাদেশীয় প্রভাব (ডিএফবি) রয়েছে, যা পরিবর্তনগুলির মধ্যে একটি হল বায়ু ভর অনুযায়ী বার্ষিক বৃষ্টিপাত এবং বছরের একটি সময়ের মধ্যে বৃহত্তর প্রাচুর্য।  এই ধরনের জলবায়ুতে গ্রীষ্মের মাঝারি তাপমাত্রা থাকে তবে কখনও কখনও গরম (আধামহাদেশীয় হওয়ার জন্য) এবং ঠান্ডা শীতকাল থাকে তবে বেশিরভাগ সময় কঠোর হয় না। 

তার ট্রানজিশনাল জলবায়ু জোনগুলির কারণে, শীতকালে তুষারপাতগুলি সাধারণ, এবং অনেক মহাসাগরীয় জলবায়ুর জন্য সাধারণের চেয়ে ঋতুগুলির মধ্যে বৃহত্তর তাপমাত্রার পার্থক্য রয়েছে। উপরন্তু, বার্লিনকে ট্রেওয়ারথা জলবায়ু প্রকল্পের অধীনে নাতিশীতোষ্ণ মহাদেশীয় জলবায়ু (ডিসি) হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়, পাশাপাশি নিউ ইয়র্কের শহরতলি, যদিও কোপেন সিস্টেম তাদের বিভিন্ন ধরনের রাখে। 

গ্রীষ্মকাল উষ্ণ এবং কখনও কখনও 22-25 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড (72-77 ডিগ্রি ফারেনহাইট) এর গড় উচ্চ তাপমাত্রা এবং 12-14 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড (54-57 ডিগ্রি ফারেনহাইট) এর কম। শীতকাল 3 °C (37 °F) এর গড় উচ্চ তাপমাত্রা এবং -2 থেকে 0 °C (28 থেকে 32 °F) এর নিম্ন স্তরের সাথে শীতল হয়। বসন্ত এবং শরৎকাল সাধারণত হালকা থেকে শীতল হয়। বার্লিনের বিল্ট-আপ এলাকাটি একটি মাইক্রোক্লাইমেট তৈরি করে, শহরের ভবন এবং ফুটপাত দ্বারা সঞ্চিত তাপ। আশেপাশের এলাকার তুলনায় শহরে তাপমাত্রা 4 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড (7 ডিগ্রি ফারেনহাইট) বেশি হতে পারে।  বার্ষিক বৃষ্টিপাত ৫৭০ মিলিমিটার (২২ ইঞ্চি) এবং সারা বছর মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়। বার্লিন এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্য ব্র্যান্ডেনবার্গ জার্মানির উষ্ণতম এবং শুষ্কতম অঞ্চল।  তুষারপাত মূলত ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ঘটে থাকে।  বার্লিনের উষ্ণতম মাসটি ছিল ১৮৩৪ সালের জুলাই মাসে, যার গড় তাপমাত্রা ছিল ২৩.০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড (৭৩.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এবং শীতলতম ছিল জানুয়ারী ১৭০৯, যার গড় তাপমাত্রা ছিল -১৩.২ °সে (৮.২ ডিগ্রি ফারেনহাইট)।  রেকর্ডে সবচেয়ে আর্দ্র মাসটি ছিল ১৯০৭ সালের জুলাই মাসে, যেখানে ২৩০ মিলিমিটার (৯.১ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত হয়েছিল, যেখানে শুষ্কতম ছিল অক্টোবর ১৮৬৬, নভেম্বর ১৯০২, অক্টোবর ১৯০৮ এবং সেপ্টেম্বর ১৯২৮, যার সবগুলিতেই ১ মিলিমিটার (০.০৩৯ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত হয়েছিল।

সিটিস্কেপ 

বার্লিনের ইতিহাস শহরটিকে একটি বহুকেন্দ্রিক সংস্থা এবং স্থাপত্য ও ভবনগুলির একটি অত্যন্ত সারগ্রাহী অ্যারের সাথে ছেড়ে দিয়েছে। শহরটির বর্তমান চেহারাটি মূলত বিংশ শতাব্দীতে জার্মানির ইতিহাসে মূল ভূমিকা পালন করে। বার্লিনে অবস্থিত সমস্ত জাতীয় সরকার - প্রুশিয়া রাজ্য, ১৮৭১ সালের দ্বিতীয় জার্মান সাম্রাজ্য, ওয়েইমার প্রজাতন্ত্র, নাৎসি জার্মানি, পূর্ব জার্মানি, সেইসাথে পুনরায় একত্রিত জার্মানি - উচ্চাভিলাষী পুনর্গঠন কর্মসূচী শুরু করে, যার প্রত্যেকটি শহরের স্থাপত্যে নিজস্ব স্বতন্ত্র শৈলী যোগ করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বার্লিন বিমান হামলা, দাবানল এবং রাস্তার যুদ্ধে বিধ্বস্ত হয়েছিল এবং যুদ্ধোত্তর সময়ে পূর্ব ও পশ্চিম উভয় ক্ষেত্রেই বেঁচে থাকা অনেক ভবন ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এই ধ্বংসের বেশিরভাগই নতুন ব্যবসা বা আবাসিক জেলা এবং প্রধান ধমনী নির্মাণের জন্য পৌর স্থাপত্য কর্মসূচী দ্বারা শুরু করা হয়েছিল। যুদ্ধপূর্ব ভবনগুলির উপর অনেক অলঙ্কার আধুনিকতাবাদী মতবাদের পরে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, এবং যুদ্ধোত্তর সিস্টেমগুলিতে, পাশাপাশি পুনরায় একত্রিত বার্লিনে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী কাঠামো পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ফোরাম ফ্রিডেরিসিয়ানাম সহ, স্টেট অপেরা (১৯৫৫), শার্লটনবার্গ প্যালেস (১৯৫৭), গেন্ডারমেনমার্ক্টের (১৯৮০ এর দশকে) স্মৃতিস্তম্ভ ভবন, সেনাপতির দরজা  (২০০৩) এবং সিটি প্যালেসের বারোক ফেসাডগুলি পুনর্নির্মাণের প্রকল্পও। অনেক নতুন ভবন তাদের ঐতিহাসিক পূর্বসূরীদের বা বার্লিনের সাধারণ শাস্ত্রীয় শৈলী দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছে, যেমন হোটেল অ্যাডলন।

টাওয়ারগুলির ক্লাস্টারগুলি বিভিন্ন স্থানে উত্থিত হয়: পটসডামার প্লাটজ, সিটি ওয়েস্ট, এবং আলেকজান্ডারপ্লাটজ, পরের দুটি পূর্ব ও পশ্চিম বার্লিনের প্রাক্তন কেন্দ্রগুলি বর্ণনা করে, প্রথমটি 21 শতকের একটি নতুন বার্লিনের প্রতিনিধিত্ব করে, বার্লিন প্রাচীরের নো-ম্যানস ল্যান্ডের বর্জ্য থেকে উত্থিত হয়। বার্লিনে জার্মানির শীর্ষ ৫০টি উচ্চতম ভবনের মধ্যে পাঁচটি রয়েছে।

শহর এলাকার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি সবুজ স্থান, বনভূমি এবং জল নিয়ে গঠিত।  বার্লিনের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় পার্ক, গ্রোয়ার টায়ারগার্টেন, শহরের ঠিক কেন্দ্রে অবস্থিত। এটি ২১০ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং শহরের পশ্চিমে বাহনহফ চিড়িয়াখানা থেকে পূর্বের ব্র্যান্ডেনবার্গ গেট পর্যন্ত বিস্তৃত।

স্থাপত্য 
মিটের আলেকজান্ডারপ্লাটজে ফার্নসেহতুর্ম (টিভি টাওয়ার) ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৩৬৮ মিটার (১,২০৭ ফুট) উচ্চতার সবচেয়ে লম্বা কাঠামোগুলির মধ্যে একটি। ১৯৬৯ সালে নির্মিত, এটি বার্লিনের বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় জেলা জুড়ে দৃশ্যমান। শহরটি তার ২০৪ মিটার উঁচু (৬৬৯ ফুট) পর্যবেক্ষণ মেঝে থেকে দেখা যায়। এখান থেকে শুরু করে, কার্ল-মার্কস-অ্যালি পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়, একটি এভিনিউ যা সমাজতান্ত্রিক ক্লাসিকিজম শৈলীতে ডিজাইন করা স্মৃতিস্তম্ভ আবাসিক ভবনগুলির দ্বারা সারিবদ্ধ। এই এলাকার পাশেই রয়েছে রোটস রাথাউস (সিটি হল), যার স্বতন্ত্র লাল-ইট স্থাপত্য রয়েছে। এর সামনে রয়েছে নেপতুনব্রান্নেন, ট্রাইটনের একটি পৌরাণিক গোষ্ঠী সমন্বিত একটি ঝরনা, চারটি প্রধান প্রুশিয়ান নদীর ব্যক্তিত্ব এবং এর উপরে নেপচুন।

ব্র্যান্ডেনবার্গ গেট বার্লিন এবং জার্মানির একটি আইকনিক ল্যান্ডমার্ক; এটি ঘটনাবহুল ইউরোপীয় ইতিহাস এবং একতা ও শান্তির প্রতীক হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে। রাইখস্ট্যাগ ভবনটি জার্মান পার্লামেন্টের ঐতিহ্যবাহী আসন। এটি ১৯৯০-এর দশকে ব্রিটিশ স্থপতি নরম্যান ফস্টার দ্বারা পুনরায় তৈরি করা হয়েছিল এবং অধিবেশন এলাকার উপর একটি কাচের গম্বুজ রয়েছে, যা সংসদীয় কার্যক্রম এবং শহরের চমৎকার দৃশ্যগুলিতে বিনামূল্যে জনসাধারণের অ্যাক্সেসের অনুমতি দেয়।

ইস্ট সাইড গ্যালারী হল বার্লিন প্রাচীরের শেষ বিদ্যমান অংশগুলিতে সরাসরি আঁকা শিল্পকলার একটি উন্মুক্ত-বায়ু প্রদর্শনী। এটি শহরের ঐতিহাসিক বিভাজনের বৃহত্তম অবশিষ্ট প্রমাণ।

স্প্রি নদীর যাদুঘর দ্বীপে ১৮৩০ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত নির্মিত পাঁচটি যাদুঘর রয়েছে এবং এটি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। সমস্ত যাদুঘরের একটি প্রধান প্রবেশদ্বার পুনরুদ্ধার এবং নির্মাণ, সেইসাথে সিটি প্যালেস পুনর্গঠন অব্যাহত।  এছাড়াও দ্বীপে এবং লস্টগার্টেন এবং প্রাসাদের পাশে বার্লিন ক্যাথিড্রাল, সম্রাট দ্বিতীয় উইলিয়াম রোমের সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার একটি প্রোটেস্ট্যান্ট প্রতিপক্ষ তৈরি করার উচ্চাভিলাষী প্রচেষ্টা। একটি বড় ক্রিপ্টে পূর্ববর্তী প্রুশিয়ান রাজপরিবারের কিছু অবশিষ্টাংশ রয়েছে। সেন্ট হেডউইগ ক্যাথিড্রাল বার্লিনের রোমান ক্যাথলিক ক্যাথিড্রাল।
কায়সার উইলহেম মেমোরিয়াল চার্চের সাথে ব্রেইটসশেইডপ্লাটজ সিটি ওয়েস্টের কেন্দ্রস্থল।
Unter den Linden ব্র্যান্ডেনবার্গ গেট থেকে সাবেক বার্লিনার সিটি প্যালেস সাইট পর্যন্ত একটি গাছ-রেখাযুক্ত পূর্ব-পশ্চিম এভিনিউ, এবং একসময় বার্লিনের প্রধান promenade ছিল। অনেক ধ্রুপদী ভবন রাস্তায় লাইন, এবং হাম্বোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ সেখানে আছে। গোল্ডেন ২০-এর দশকে ফ্রিডরিখস্ট্রাই বার্লিনের কিংবদন্তি রাস্তা ছিল। এটি আজকের বার্লিনের আধুনিক স্থাপত্যের সাথে বিংশ শতাব্দীর ঐতিহ্যকে একত্রিত করে।

পটসডেমার প্লাটজ একটি সম্পূর্ণ চতুর্থাংশ প্রাচীর নিচে আসার পরে স্ক্র্যাচ থেকে নির্মিত হয়।  পটসডামার প্লাটজের পশ্চিমে কুলতুরফরম রয়েছে, যেখানে ছবি 'র গ্যালারী রয়েছে,। ইউরোপের নিহত ইহুদিদের স্মৃতিসৌধ, একটি হলোকস্ট মেমোরিয়াল, উত্তরে অবস্থিত। 

হ্যাকেশার মার্ক এর কাছাকাছি এলাকায় ফ্যাশনেবল সংস্কৃতি, অগণিত পোশাক আউটলেট, ক্লাব, বার, এবং গ্যালারী সঙ্গে আবাসস্থল। এর মধ্যে রয়েছে হ্যাকশে হোফে, বেশ কয়েকটি উঠোনের চারপাশে ভবনগুলির একটি সমষ্টি, যা ১৯৯৬ সালের দিকে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল। নিকটবর্তী নিউ সিনাগগ ইহুদি সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল।

17 তম রাস্তা। জুনি, ব্র্যান্ডেনবার্গ গেট এবং আর্নস্ট-রয়টার্স-প্লাটজকে সংযুক্ত করে, মধ্য পূর্ব-পশ্চিম অক্ষ হিসাবে কাজ করে। এর নাম ১৯৫৩ সালের ১৭ ই জুন পূর্ব বার্লিনের অভ্যুত্থানকে স্মরণ করে। ব্র্যান্ডেনবার্গ গেট থেকে প্রায় অর্ধেক দূরে গ্রোয়ের স্টার্ন, একটি বৃত্তাকার ট্রাফিক দ্বীপ যেখানে বিজয় কলাম অবস্থিত। প্রুশিয়ার বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখার জন্য নির্মিত এই স্মৃতিসৌধটি ১৯৩৮-৩৯ সালে রাইখস্ট্যাগের সামনে তার পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে স্থানান্তরিত হয়েছিল।

Kurfürstendamm বার্লিনের কিছু বিলাসবহুল স্টোরের আবাসস্থল যেখানে ব্রেইটসশেইডপ্লাটজের পূর্ব প্রান্তে কাইজার উইলহেম মেমোরিয়াল চার্চ রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গির্জাটি ধ্বংস হয়ে যায় এবং ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। Tauentzienstraße কাছাকাছি KaDeWe, মহাদেশীয় ইউরোপের বৃহত্তম ডিপার্টমেন্টাল স্টোর বলে দাবি করা হয়। রাথাউস শেনবার্গ, যেখানে জন এফ কেনেডি তার বিখ্যাত "ইচ বিন আইন বার্লিনার!" বক্তৃতা করেছিলেন, টেম্পেলহোফ-শেনবার্গে রয়েছে।কেন্দ্রের পশ্চিমে, বেলভিউ প্যালেস হল জার্মান রাষ্ট্রপতির বাসভবন। শার্লটনবার্গ প্রাসাদ, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল, বার্লিনের বৃহত্তম ঐতিহাসিক প্রাসাদ।

ফাঙ্কটার্ম বার্লিন একটি ১৫০ মিটার লম্বা (৪৯০ ফুট) জাল রেডিও টাওয়ার যা ১৯২৪ থেকে ১৯২৬ সালের মধ্যে নির্মিত ফেয়ারগ্রাউন্ড এলাকায় অবস্থিত। এটি একমাত্র পর্যবেক্ষণ টাওয়ার যা ইনসুলেটরগুলিতে দাঁড়িয়ে আছে এবং একটি রেস্তোঁরা 55 মিটার (180 ফুট) এবং মাটি থেকে 126 মিটার (413 ফুট) উপরে একটি পর্যবেক্ষণ ডেক রয়েছে, যা একটি উইন্ডোযুক্ত লিফট দ্বারা পৌঁছানো যায়।

স্প্রি নদীর উপরে Oberbaumbrücke বার্লিনের সবচেয়ে আইকনিক সেতু, যা ফ্রিডরিখশাইন এবং ক্রেউজবার্গের বর্তমান-মিলিত বরোগুলিকে সংযুক্ত করে। এটি যানবাহন, পথচারী এবং U1 বার্লিন ইউ-বাহান লাইন বহন করে। সেতুটি ১৮৯৬ সালে একটি ইট গথিক শৈলীতে সম্পন্ন হয়েছিল, ইউ-বাহানের জন্য একটি উপরের ডেক দিয়ে প্রাক্তন কাঠের সেতুটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। ১৯৪৫ সালে লাল ফৌজকে অতিক্রম করা থেকে বিরত রাখার জন্য কেন্দ্রের অংশটি ভেঙে ফেলা হয়েছিল। যুদ্ধের পরে, মেরামত করা সেতুটি সোভিয়েত ও আমেরিকান সেক্টরগুলির মধ্যে এবং পরে পূর্ব ও পশ্চিম বার্লিনের মধ্যে একটি চেকপয়েন্ট এবং সীমান্ত ক্রসিং হিসাবে কাজ করেছিল। ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে, এটি যানবাহনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং ১৯৬১ সালে বার্লিন প্রাচীর নির্মাণের পরে, পথচারীদের ট্র্যাফিক ব্যাপকভাবে সীমাবদ্ধ ছিল। জার্মান পুনর্মিলনের পরে, কেন্দ্রের অংশটি একটি ইস্পাত ফ্রেম দিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল এবং ১৯৯৫ সালে ইউ-বাহান পরিষেবা পুনরায় চালু হয়েছিল।

ডেমোগ্রাফিক 

২০১৮ সালের শেষের দিকে, বার্লিনের শহর-রাজ্যে ৩.৭৫ মিলিয়ন নিবন্ধিত বাসিন্দা ছিল যা ৮৯১.১ বর্গ কিলোমিটার (৩৪৪.১ বর্গ মাইল) এলাকায় ছিল।  শহরটির জনসংখ্যার ঘনত্ব ছিল প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৪,২০৬ জন বাসিন্দা। বার্লিন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে জনবহুল শহর। 2019 সালে, বার্লিনের শহুরে এলাকায় প্রায় 4.5 মিলিয়ন বাসিন্দা ছিল।  ২০১৯ সালের হিসাবে কার্যকরী শহুরে এলাকায় প্রায় 5.2 মিলিয়ন মানুষের বাসস্থান ছিল।  সমগ্র বার্লিন-ব্র্যান্ডেনবার্গ রাজধানী অঞ্চলের জনসংখ্যা ৩০,৫৪৬ বর্গ কিলোমিটার (১১,৭৯৪ বর্গ মাইল) এলাকায় ৬ মিলিয়নেরও বেশি। 

২০১৪ সালে, শহর-রাজ্য বার্লিনে ৩৭,৩৬৮ টি জীবিত জন্ম (+৬.৬%), যা ১৯৯১ সাল থেকে রেকর্ড সংখ্যক। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩২ হাজার ৩১৪ জন। শহরটিতে প্রায় ২.০ মিলিয়ন পরিবার গণনা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৫৪ শতাংশই ছিল একক পরিবারের সদস্য। ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিয়ে ৩,৩৭,০ এরও বেশি পরিবার বার্লিনে বসবাস করত। ২০১৪ সালে জার্মানির রাজধানী প্রায় ৪০,০ লোকের অভিবাসন উদ্বৃত্ত নিবন্ধিত করে।

জাতীয়তা 
শহরটিতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসনের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৬৮৫ সালে, ফ্রান্সে নান্তেস এর আদেশ প্রত্যাহারের পরে, শহরটি পটসড্যামের আদেশের সাথে প্রতিক্রিয়া জানায়, যা দশ বছরের জন্য ফরাসি হুগুয়েনোট শরণার্থীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং কর-মুক্ত মর্যাদা নিশ্চিত করে। ১৯২০ সালের বৃহত্তর বার্লিন আইনে বার্লিনের অনেক শহরতলি এবং আশেপাশের শহরগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এটি আধুনিক বার্লিনকে নিয়ে গঠিত বেশিরভাগ অঞ্চল গঠন করে এবং জনসংখ্যা ১.৯ মিলিয়ন থেকে ৪ মিলিয়নে উন্নীত করে।

পশ্চিম বার্লিনে সক্রিয় অভিবাসন ও আশ্রয়ের রাজনীতি ১৯৬০ এবং ১৯৭০-এর দশকে অভিবাসনের তরঙ্গের সূচনা করেছিল। বার্লিনে কমপক্ষে ১,৮০,০০০ তুর্কি ও তুর্কি জার্মান অধিবাসী বাস করে, এটি তুরস্কের বাইরে বৃহত্তম তুর্কি সম্প্রদায়। ১৯৯০-এর দশকে অসিডলারজেসেৎজ প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে কিছু বাসিন্দার জার্মানিতে অভিবাসন সক্ষম করে। বর্তমানে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশের জাতিগত জার্মানরা রাশিয়ান ভাষাভাষী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় অংশ।  গত দশকে বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ এবং কিছু আফ্রিকান অঞ্চল থেকে একটি প্রবাহের অভিজ্ঞতা হয়েছিল।  আফ্রিকান অভিবাসীদের একটি অংশ আফ্রিকাননিশে ভিয়েরটেলে বসতি স্থাপন করেছে।  তরুণ জার্মান, ইউ-ইউরোপীয় এবং ইসরায়েলিরাও এই শহরে বসতি স্থাপন করেছে। 

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে, ৭৭৭,৩৪৫ জন বিদেশী জাতীয়তার নিবন্ধিত বাসিন্দা এবং আরও ৫৪২,৯৭৫ জন জার্মান নাগরিক ছিল যাদের "মাইগ্রেশন ব্যাকগ্রাউন্ড" (মাইগ্রেশনশিন্টারগ্রুন্ড, এমএইচ) ছিল, যার অর্থ তারা বা তাদের পিতামাতার মধ্যে একজন ১৯৫৫ সালের পরে জার্মানিতে অভিবাসিত হয়েছিল। বার্লিনের বিদেশী অধিবাসীরা প্রায় ১৯০ টি বিভিন্ন দেশ থেকে উৎপন্ন হয়।  ১৫ বছরের কম বয়সী ৪৮ শতাংশ বাসিন্দার মাইগ্রেশন ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে।  ২০০৯ সালে বার্লিনে ১০০,০০০ থেকে ২,৫০,০০০ অনিবন্ধিত অধিবাসী ছিল বলে অনুমান করা হয়েছিল।  উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অভিবাসী বা বিদেশী বংশোদ্ভূত জনসংখ্যার সাথে বার্লিনের বরোগুলি হল মিট, নিউকোলন এবং ফ্রিডরিখশাইন-ক্রেউজবার্গ। 

তুর্কি, পোলিশ, রাশিয়ান, লেবানিজ, ফিলিস্তিনি, সার্বীয়, ইতালীয়, বসনিয়ান, ভিয়েতনামী, আমেরিকান, রোমানিয়ান, বুলগেরিয়ান, ক্রোয়েশীয়, চীনা, অস্ট্রিয়ান, ইউক্রেনীয়, ফরাসি, ব্রিটিশ, স্প্যানিশ, ইসরায়েলি, থাই, ইরানী, মিশরীয় এবং সিরীয় সম্প্রদায় সহ কমপক্ষে ১০,০ জনসংখ্যার ২০ টিরও বেশি আদিবাসী সম্প্রদায় রয়েছে।

ভাষাসমূহ 
জার্মান ভাষা বার্লিনের সরকারী ও প্রধান কথ্য ভাষা। এটি একটি পশ্চিম জার্মানীয় ভাষা যা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের জার্মানীয় শাখা থেকে তার বেশিরভাগ শব্দভান্ডার অর্জন করে। জার্মান ভাষা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৪টি ভাষার মধ্যে একটি, এবং ইউরোপীয় কমিশনের তিনটি কার্যকরী ভাষার মধ্যে একটি।

বার্লিনেরিশ বা বার্লিনিশ ভাষাগতভাবে কোন উপভাষা নয়। এটি বার্লিন এবং পার্শ্ববর্তী মেট্রোপলিটন এলাকায় কথিত হয়। এটি একটি ব্র্যান্ডেনবার্গিশ বৈকল্পিক থেকে উদ্ভূত হয়। উপভাষাটি এখন একটি সোশিওলেক্টের মতো দেখা যায়, মূলত ক্রমবর্ধমান অভিবাসন এবং শিক্ষিত জনসংখ্যার মধ্যে দৈনন্দিন জীবনে প্রমিত জার্মান ভাষায় কথা বলার প্রবণতার মাধ্যমে।

বার্লিনে সর্বাধিক কথিত বিদেশী ভাষাগুলি হল তুর্কি, পোলিশ, ইংরেজি, ফার্সি, আরবি, ইতালীয়, বুলগেরীয়, রাশিয়ান, রোমানিয়ান, কুর্দি, সার্বো-ক্রোয়েশিয়ান, ফরাসি, স্প্যানিশ এবং ভিয়েতনামী। তুর্কি, আরবি, কুর্দি, এবং সার্বো-ক্রোয়েশীয় বৃহত্তর মধ্য প্রাচ্য এবং প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়ান সম্প্রদায়ের কারণে পশ্চিম অংশে প্রায়শই শোনা যায়। পোলিশ, ইংরেজি, রাশিয়ান এবং ভিয়েতনামী পূর্ব বার্লিনে আরো স্থানীয় ভাষাভাষী আছে।

ধর্ম 

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, জনসংখ্যার প্রায় ৩৭ শতাংশ আইনত স্বীকৃত গির্জা বা ধর্মীয় সংস্থার সদস্য হওয়ার কথা জানিয়েছে। বাকিরা হয় এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত ছিল না, অথবা তাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

২০১০ সালে রেকর্ড করা বৃহত্তম ধর্মীয় সম্প্রদায়টি ছিল প্রোটেস্ট্যান্ট আঞ্চলিক গির্জা সংস্থা - বার্লিন-ব্র্যান্ডেনবার্গ-সিলেসিয়ান আপার লুসাটিয়া (ইকেবিও) এর ইভাঞ্জেলিকাল চার্চ - একটি ঐক্যবদ্ধ গির্জা। EKBO জার্মানির ইভাঞ্জেলিকাল চার্চ (EKD) এবং Union Evangelischer Kirchen (UEK) এর সদস্য। EKBO এর মতে, তাদের সদস্যতা স্থানীয় জনসংখ্যার 18.7 শতাংশের জন্য দায়ী, যখন রোমান ক্যাথলিক চার্চের 9.1 শতাংশ বাসিন্দা তার সদস্য হিসাবে নিবন্ধিত ছিল।  জনসংখ্যার প্রায় ২.৭% অন্যান্য খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের (বেশিরভাগ ইস্টার্ন অর্থোডক্স, কিন্তু বিভিন্ন প্রোটেস্ট্যান্ট) সাথে সনাক্ত করে।  বার্লিনের অধিবাসীদের নিবন্ধন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ১৪.৯ শতাংশ ইভাঞ্জেলিকাল চার্চের সদস্য ছিলেন এবং ৮.৫ শতাংশ ক্যাথলিক চার্চের সদস্য ছিলেন।  সরকার করের উদ্দেশ্যে এই গীর্জার সদস্যদের একটি রেজিস্টার রাখে, কারণ এটি গির্জার পক্ষে গির্জা কর সংগ্রহ করে। এটি অন্যান্য ধর্মীয় সংস্থার সদস্যদের রেকর্ড রাখে না যা তাদের নিজস্ব গির্জার ট্যাক্স সংগ্রহ করতে পারে, এইভাবে।

২০০৯ সালে, প্রায় ২,৪৯,০ মুসলমানকে পরিসংখ্যান অফিস বার্লিনের মসজিদ এবং ইসলামী ধর্মীয় সংগঠনের সদস্য হিসাবে রিপোর্ট করেছিল, যখন ২০১৬ সালে, ডের তাগেস্পিগেল পত্রিকা অনুমান করেছিল যে প্রায় ৩৫০,০০০ মুসলমান বার্লিনে রমজান পালন করে।  ২০১৯ সালে, প্রায় ৪৩৭,০০০ নিবন্ধিত বাসিন্দা, মোট জনসংখ্যার ১১.৬%, অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশনের সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে একটি থেকে অভিবাসনের পটভূমি রয়েছে বলে জানিয়েছে।  ১৯৯২ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। 

বার্লিনবাসীদের প্রায় 0.9% অন্যান্য ধর্মের অন্তর্গত। আনুমানিক ৩০,০-৪৫,০০০ ইহুদি অধিবাসীদের জনসংখ্যার মধ্যে, প্রায় ১২,০০০ জন ধর্মীয় সংগঠনের নিবন্ধিত সদস্য। 

বার্লিন বার্লিনের রোমান ক্যাথলিক আর্চবিশপের আসন এবং EKBO এর নির্বাচিত চেয়ারপার্সনকে EKBO এর বিশপ বলা হয়। উপরন্তু, বার্লিন অনেক অর্থোডক্স ক্যাথিড্রালের আসন, যেমন সেন্ট বরিস ব্যাপটিস্ট ক্যাথিড্রাল, পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের বুলগেরীয় অর্থোডক্স ডায়োসিসের দুটি আসনের মধ্যে একটি, এবং বার্লিনের ডায়োসিসের ক্রাইস্ট ক্যাথিড্রালের পুনরুত্থান (মস্কোর প্যাট্রিয়ার্কেট)।

বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের বিশ্বস্তরা বার্লিনের অনেক উপাসনালয় বজায় রাখে। স্বাধীন ইভাঞ্জেলিকাল লুথেরান চার্চের বার্লিনে বিভিন্ন আকারের আটটি প্যারিশ রয়েছে।  ৩৬ টি ব্যাপটিস্ট মণ্ডলী (জার্মানিতে ইভাঞ্জেলিকাল ফ্রি চার্চ মণ্ডলীর ইউনিয়নের মধ্যে), ২৯ টি নিউ অ্যাপোস্টোলিক গীর্জা, ১৫ টি ইউনাইটেড মেথডিস্ট গির্জা, আটটি ফ্রি ইভাঞ্জেলিক্যাল মণ্ডলী, খ্রীষ্টের চারটি গীর্জা, বিজ্ঞানী (১ম, ২য়, ৩য় এবং ১১ তম), পরবর্তী দিনের সাধুদের যীশু খ্রীষ্টের গির্জার ছয়টি মণ্ডলী, একটি পুরানো ক্যাথলিক গির্জা এবং একটি অ্যাংলিকান বার্লিনের গির্জা। বার্লিনে ৮০টিরও বেশি মসজিদ রয়েছে, দশটি সিনাগগ, এবং দুটি বৌদ্ধ মন্দির রয়েছে।

সরকার

সিটি স্টেট 

১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর পুনর্মিলনের পর থেকে বার্লিন জার্মানির বর্তমান ১৬টি রাজ্যের মধ্যে জার্মানির তিনটি শহরের মধ্যে একটি। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস  শহর এবং রাজ্য সংসদ হিসাবে কাজ করে, যার 141 টি আসন রয়েছে। বার্লিনের নির্বাহী সংস্থা হল বার্লিনের সিনেট (সেনা ভন বার্লিন)। সিনেটে গভর্নিং মেয়র (রেজিয়ারেন্ডার বুরজারমিস্টার) এবং দশজন সিনেটর পর্যন্ত মন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত, তাদের মধ্যে দুইজন গভর্নিং মেয়রের ডেপুটি হিসাবে "মেয়র" (বুরগারমিস্টার) উপাধি ধারণ করে।  ২০১৫ সালে বার্লিনের মোট বার্ষিক রাষ্ট্রীয় বাজেট € ২৪.৫ ($ ৩০.০) বিলিয়ন অতিক্রম করেছে, যার মধ্যে € ২০৫ ($ ২৪০) মিলিয়ন ইউরোর বাজেট উদ্বৃত্ত রয়েছে।  রাজ্যটি প্রশাসনিক ও সরকারী ভবন, রিয়েল এস্টেট সংস্থাগুলি, সেইসাথে অলিম্পিক স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, হাউজিং কোম্পানি এবং অসংখ্য পাবলিক এন্টারপ্রাইজ এবং সহায়ক সংস্থাগুলির অংশীদারিত্ব সহ বিস্তৃত সম্পদের মালিক। 

সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) এবং বাম (ডাই লিংক) ২০০১ সালের রাজ্য নির্বাচনের পরে শহর সরকারের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে এবং ২০০৬ সালের রাজ্য নির্বাচনে আরেকটি মেয়াদে জয়লাভ করে।  ২০১৬ সালের রাজ্য নির্বাচনের পর থেকে, সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি, গ্রিনস এবং বাম পার্টির মধ্যে একটি জোট রয়েছে।

গভর্নিং মেয়র একই সাথে বার্লিন শহরের লর্ড মেয়র (Oberbürgermeister der Stadt) এবং বার্লিন রাজ্যের মন্ত্রী রাষ্ট্রপতি (মিনিস্টারপ্রসিডেন্ট দেস বুন্দেসল্যান্ডেস)। গভর্নিং মেয়রের অফিসটি রোটস রাথাউস (রেড সিটি হল) এ অবস্থিত। ২০১৪ সাল থেকে এই অফিসটি সোশ্যাল ডেমোক্রেটদের মাইকেল মুলার এর দখলে রয়েছে।

বরো 

বার্লিনকে ১২টি বরো বা জেলায় (Bezirke) ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি বরোতে বেশ কয়েকটি সাবডিস্ট্রিক্ট বা আশেপাশের এলাকা (অর্টসটাইল) রয়েছে, যার শিকড় অনেক পুরানো পৌরসভায় রয়েছে যা ১৯২০ সালের ১ লা অক্টোবর বৃহত্তর বার্লিন গঠনের পূর্বাভাস দেয়। এই সাবডিস্ট্রিক্টগুলি শহুরে হয়ে ওঠে এবং পরে শহরে অন্তর্ভুক্ত হয়। অনেক বাসিন্দা দৃঢ়ভাবে তাদের প্রতিবেশীদের সাথে পরিচিত, কথ্যভাষায় কিয়েজ বলা হয়। বর্তমানে, বার্লিনে 96 টি সাবডিস্ট্রিক্ট রয়েছে, যা সাধারণত বেশ কয়েকটি ছোট আবাসিক এলাকা বা কোয়ার্টার দ্বারা গঠিত হয়।

প্রতিটি বরো একটি বরো কাউন্সিল (Bezirksamt) দ্বারা পরিচালিত হয়, যার মধ্যে পাঁচটি কাউন্সিলর (Bezirksstadträte) বোরো এর মেয়র (Bezirksbürgermeister) অন্তর্ভুক্ত। কাউন্সিলটি বরো অ্যাসেম্বলি (Bezirksverordnetenversammlung) দ্বারা নির্বাচিত হয়। যাইহোক, পৃথক বরোগুলি স্বাধীন পৌরসভা নয়, তবে বার্লিনের সিনেটের অধীনস্থ। বরোর মেয়ররা মেয়রদের কাউন্সিল গঠন করে , যা শহরের গভর্নিং মেয়র দ্বারা পরিচালিত হয় এবং সিনেটকে পরামর্শ দেয়। এই এলাকায় কোন স্থানীয় সরকারী সংস্থা নেই।

যমজ শহর – বোন শহর 
বার্লিন ১৭টি শহরের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব বজায় রেখেছে। বার্লিন এবং অন্যান্য শহরগুলির মধ্যে টাউন টুইনিং ১৯৬৭ সালে তার বোন শহর লস এঞ্জেলেসের সাথে শুরু হয়েছিল। জার্মান পুনর্মিলনের সময় পূর্ব বার্লিনের অংশীদারিত্ব বাতিল করা হয়েছিল তবে পরে আংশিকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর আগে পশ্চিম বার্লিনের অংশীদারিত্ব বরো পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল। স্নায়ুযুদ্ধের যুগে, অংশীদারিত্বগুলি বিভিন্ন শক্তি ব্লককে প্রতিফলিত করেছিল, পশ্চিম বার্লিন পশ্চিমা বিশ্ব এবং পূর্ব বার্লিনের রাজধানীগুলির সাথে অংশীদারিত্ব করে বেশিরভাগই ওয়ারশ চুক্তি এবং তার মিত্রদের শহরগুলির সাথে অংশীদারিত্ব করে।

বৈরুত, বেলগ্রেড, সাও পাওলো, কোপেনহেগেন, হেলসিঙ্কি, আমস্টারডাম, জোহানেসবার্গ, মুম্বাই, অসলো, হ্যানয়, সাংহাই, সিউল, সোফিয়া, সিডনি, নিউ ইয়র্ক সিটি এবং ভিয়েনার মতো আরও অনেক শহরের সাথে বেশ কয়েকটি যৌথ প্রকল্প রয়েছে। বার্লিন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজধানীগুলির ইউনিয়ন, ইউরো শহরগুলি, সংস্কৃতির ইউরোপীয় শহরগুলির নেটওয়ার্ক, মেট্রোপলিস, বিশ্বের প্রধান শহরগুলির শীর্ষ সম্মেলন এবং বিশ্বের রাজধানী শহরগুলির সম্মেলনের মতো আন্তর্জাতিক শহর সমিতিগুলিতে অংশগ্রহণ করে।

বার্লিনের সাথে যুক্ত করা হয়েছে:

 লস এঞ্জেলেস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (১৯৬৭)
 মাদ্রিদ, স্পেন (১৯৮৮)
 ইস্তাম্বুল, তুরস্ক (১৯৮৯)
 ওয়ারশ, পোল্যান্ড (১৯৯১)
 মস্কো, রাশিয়া (১৯৯১)
 ব্রাসেলস, বেলজিয়াম (১৯৯২)
 বুদাপেস্ট, হাঙ্গেরি (১৯৯২)
 তাশখন্দ, উজবেকিস্তান (১৯৯৩)
 মেক্সিকো সিটি, মেক্সিকো (১৯৯৩)
 জাকার্তা, ইন্দোনেশিয়া (১৯৯৩)
 বেইজিং, চীন (১৯৯৪)
 টোকিও, জাপান (১৯৯৪)
 বুয়েনস আইরেস, আর্জেন্টিনা (১৯৯৪)
 প্রাগ, চেক প্রজাতন্ত্র (১৯৯৫)
 উইন্ডহোক, নামিবিয়া (২০০০)
 লন্ডন, যুক্তরাজ্য (২০০০)

১৯৮৭ সাল থেকে বার্লিনের, ফ্রান্সের প্যারিসের সাথে একটি সরকারী অংশীদারিত্ব রয়েছে। বার্লিনের প্রতিটি বরো তার নিজস্ব যমজ শহর প্রতিষ্ঠা করেছিল। উদাহরণস্বরূপ, ফ্রিডরিখশাইন-ক্রেউজবার্গের বরোর সাথে ইসরায়েলি শহর কিরিয়াত ইয়ামের অংশীদারিত্ব রয়েছে।

রাজধানী শহর 
বার্লিন ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানির রাজধানী। জার্মানির রাষ্ট্রপতি, যার কার্যাবলী প্রধানত জার্মান সংবিধানের অধীনে আনুষ্ঠানিক, বেলভিউ প্রাসাদে তাদের সরকারী বাসভবন রয়েছে।  বার্লিন হল জার্মান চ্যান্সেলর (প্রধানমন্ত্রী) এর আসন, যা বুন্দেস্কানজলেরাম্টের চ্যান্সেলেরি ভবনে অবস্থিত। চ্যান্সেলেরির মুখোমুখি হচ্ছে বুন্দেসট্যাগ, জার্মান সংসদ, ১৯৯৮ সালে বার্লিনে সরকারের স্থানান্তরের পর থেকে পুনর্নির্মিত রাইখস্ট্যাগ ভবনে অবস্থিত। বুন্দেসরাট ("ফেডারেল কাউন্সিল", একটি উচ্চকক্ষের কাজ সম্পাদন করে) জার্মানির ১৬ টি সাংবিধানিক রাজ্যের (লান্ডার) প্রতিনিধিত্ব করে এবং প্রাক্তন প্রুশিয়ান হাউস অফ লর্ডসে তার আসন রয়েছে। জার্মান সরকার দ্বারা পরিচালিত মোট বার্ষিক ফেডারেল বাজেট ২০১৩ সালে € ৩১০ ($ ৩৭৫) বিলিয়ন অতিক্রম করেছে।

বার্লিনে ফেডারেল সরকার এবং বুন্দেসট্যাগের স্থানান্তর বেশিরভাগ ১৯৯৯ সালে সম্পন্ন হয়েছিল। যাইহোক, কিছু মন্ত্রণালয়, সেইসাথে কিছু ছোটখাটো বিভাগ, পশ্চিম জার্মানির প্রাক্তন রাজধানী ফেডারেল শহর বনে রয়ে গেছে। অবশিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো বার্লিনে স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।  ফেডারেল পররাষ্ট্র দপ্তর এবং প্রতিরক্ষা, বিচার ও ভোক্তা সুরক্ষা, অর্থ, স্বরাষ্ট্র, অর্থনৈতিক বিষয়ক ও শক্তি, শ্রম ও সামাজিক বিষয়ক, পরিবার বিষয়ক, প্রবীণ নাগরিক, নারী ও যুব, পরিবেশ, প্রকৃতি সংরক্ষণ ও পারমাণবিক নিরাপত্তা, খাদ্য ও কৃষি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ স্বাস্থ্য, পরিবহন ও ডিজিটাল অবকাঠামো এবং শিক্ষা ও গবেষণা রাজধানীতে অবস্থিত।

বার্লিনে মোট ১৫৮টি বিদেশী দূতাবাস  পাশাপাশি অনেক থিংক ট্যাংক, ট্রেড ইউনিয়ন, অলাভজনক সংস্থা, লবিং গ্রুপ এবং পেশাদার সমিতির সদর দপ্তর। ফেডারেল রিপাবলিক অফ জার্মানির প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের কারণে, রাজধানী শহরটি জার্মান এবং ইউরোপীয় বিষয়গুলির একটি উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। সমসাময়িক বার্লিনে সরকারী প্রতিনিধি এবং জাতীয় নেতাদের মধ্যে ঘন ঘন সরকারী সফর এবং কূটনৈতিক পরামর্শ সাধারণ।

অর্থনীতি 
২০১৮ সালে, বার্লিনের জিডিপি মোট € ১৪৭ বিলিয়ন, যা আগের বছরের তুলনায় ৩.১% বৃদ্ধি পেয়েছে।  বার্লিনের অর্থনীতি পরিষেবা খাতের দ্বারা প্রভাবিত, প্রায় ৮৪% সমস্ত সংস্থা পরিষেবাতে ব্যবসা করে। ২০১৫ সালে বার্লিনে মোট শ্রমশক্তি ছিল ১.৮৫ মিলিয়ন। ২০১৫ সালের নভেম্বরে বেকারত্বের হার ২৪ বছরের সর্বনিম্নে পৌঁছেছে এবং ১০.০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।  ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বার্লিন, একটি জার্মান রাষ্ট্র হিসাবে, সর্বোচ্চ বার্ষিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার ছিল। এই সময়ের মধ্যে প্রায় ১,৩০,০ চাকরি যোগ করা হয়েছে। 

বার্লিনের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে জীবন বিজ্ঞান, পরিবহন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, মিডিয়া এবং সঙ্গীত, বিজ্ঞাপন এবং নকশা, জৈবপ্রযুক্তি, পরিবেশগত পরিষেবা, নির্মাণ, ই-কমার্স, খুচরা, হোটেল ব্যবসা এবং মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং। 

গবেষণা ও উন্নয়নের এই শহরের জন্য অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে।  ভক্সওয়াগেন, ফাইজার এবং এসএপি-র মতো বেশ কয়েকটি প্রধান কর্পোরেশন শহরে উদ্ভাবনী গবেষণাগার পরিচালনা করে।  অ্যাডলারশোফের সায়েন্স অ্যান্ড বিজনেস পার্ক জার্মানির বৃহত্তম প্রযুক্তি পার্ক যা রাজস্ব দ্বারা পরিমাপ করা হয়।  ইউরোজোনের মধ্যে, বার্লিন ব্যবসায়িক স্থানান্তর এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের জন্য একটি কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

কোম্পানীসমূহ 
অনেক জার্মান এবং আন্তর্জাতিক কোম্পানীর শহরে ব্যবসা বা পরিষেবা কেন্দ্র রয়েছে। বেশ কয়েক বছর ধরে বার্লিন ব্যবসায়ের প্রতিষ্ঠাতাদের একটি প্রধান কেন্দ্র হিসাবে স্বীকৃত হয়েছে।  ২০১৫ সালে, বার্লিন ইউরোপের তরুণ স্টার্টআপ সংস্থাগুলির জন্য সবচেয়ে বেশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল তৈরি করেছিল। 

বার্লিনের ১০ টি বৃহত্তম নিয়োগকর্তাদের মধ্যে রয়েছে বার্লিনের সিটি-স্টেট, ডয়েচে বাহান, হাসপাতাল সরবরাহকারী চরিটে এবং ভিভান্টেস, জার্মানির ফেডারেল সরকার, স্থানীয় পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সরবরাহকারী বিভিজি, সিমেন্স এবং ডয়েচে টেলিকম। 

সিমেন্স, একটি গ্লোবাল 500 এবং DAX-তালিকাভুক্ত কোম্পানী আংশিকভাবে বার্লিনে সদর দপ্তর। বার্লিনে সদর দপ্তর অন্যান্য DAX-তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলি হল সম্পত্তি সংস্থা ডয়চে ওহনেন এবং অনলাইন ফুড ডেলিভারি পরিষেবা ডেলিভারি হিরো। জাতীয় রেলওয়ে অপারেটর ডয়চে বাহন, ইউরোপের বৃহত্তম ডিজিটাল প্রকাশক এক্সেল স্প্রিংগার এবং এমডিএএক্স-তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলি জালান্ডো এবং হ্যালোফ্রেশ এবং শহরে তাদের প্রধান সদর দপ্তর রয়েছে। বার্লিনে তাদের জার্মান বা ইউরোপীয় সদর দপ্তর রয়েছে এমন বৃহত্তম আন্তর্জাতিক কর্পোরেশনগুলির মধ্যে রয়েছে বোম্বার্ডিয়ার ট্রান্সপোর্টেশন, গ্যাজপ্রম জার্মেনিয়া, কোকা-কোলা, ফাইজার, সনি এবং টোটাল।

২০১৮ সালের হিসাবে, রাজধানীতে সদর দফতর তিনটি বৃহত্তম ব্যাংক ছিল ডয়চে ক্রেডিটব্যাংক, ল্যান্ডেসব্যাংক বার্লিন এবং বার্লিন হাইপ। 

ডেইমলার গাড়ি তৈরি করে এবং বিএমডাব্লিউ বার্লিনে মোটরসাইকেল তৈরি করে। আমেরিকান বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারক টেসলা তার প্রথম ইউরোপীয় গিগাফ্যাক্টরি তৈরি করছে গ্রুনহিডে (মার্ক) শহরের ঠিক বাইরে। বায়ারের ফার্মাসিউটিক্যালস বিভাগ এবং বার্লিন কেমি শহরের প্রধান ফার্মাসিউটিকাল কোম্পানি।

পর্যটন ও সম্মেলন 
২০১৪ সালে বার্লিনে ৭৮৮টি হোটেল ছিল, যেখানে ১,৩৪,৩৯৯টি শয্যা ছিল।  সালে ২৮.৭ মিলিয়ন রাতারাতি হোটেল স্টে এবং ১১.৯ মিলিয়ন হোটেল অতিথি রেকর্ড করেছে।  বছরে পর্যটনের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে এবং বার্লিন ইউরোপের তৃতীয় সর্বাধিক পরিদর্শন করা শহরের গন্তব্য হয়ে উঠেছে। বার্লিনের সবচেয়ে বেশি পরিদর্শিত স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে: Potsdamer Platz, Brandenburger Tor, বার্লিন প্রাচীর, আলেকজান্ডারপ্লাটজ, মিউজিয়ামসিনসেল, ফার্নসেহতুর্ম, ইস্ট-সাইড গ্যালারী, Schloss-Charlottenburg, Zoologischer Garten, Siegesäule, Gedenkstätte Berliner Mauer, Mauerpark, Botanical Garden, Französis Docherm, ডয়েচার ডোম এবং হলোকাস্ট-মাহনমাল। সবচেয়ে বড় ভিজিটর গ্রুপ জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, স্পেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে।

২০১৫ সালে ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস অ্যান্ড কনভেনশন এসোসিয়েশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বার্লিন বিশ্বব্যাপী সম্মেলনের নেতৃস্থানীয় সংগঠক হয়ে ওঠে, যা ১৯৫ টি আন্তর্জাতিক সভার আয়োজন করে।  এর মধ্যে কিছু কংগ্রেস ইভেন্ট সিটিকিউব বার্লিন বা বার্লিন কংগ্রেস সেন্টার (বিসিসি) এর মতো স্থানগুলিতে সঞ্চালিত হয়।

মেসে বার্লিন (বার্লিন এক্সপোসেন্টার সিটি নামেও পরিচিত) শহরের প্রধান কনভেনশন আয়োজক সংস্থা। এর প্রধান প্রদর্শনী এলাকা 160,000 বর্গ মিটার (1,722,226 বর্গফুট) এরও বেশি জুড়ে রয়েছে। কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স ট্রেড ফেয়ার আইএফএ, আইএলএ বার্লিন এয়ার শো, বার্লিন ফ্যাশন উইক (প্রিমিয়াম বার্লিন এবং প্যানোরামা বার্লিন সহ),  সপ্তাহ, ফলের লজিস্টিকা, পরিবহন মেলা ইনোট্রান্স, পর্যটন মেলা আইটিবি এবং প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন এবং প্রেমমূলক মেলা ভেনাস সহ বেশ কয়েকটি বড় আকারের বাণিজ্য মেলা শহরে বার্ষিক অনুষ্ঠিত হয়, একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যবসায়িক দর্শকদের আকৃষ্ট করে।

সৃজনশীল শিল্প 
সৃজনশীল শিল্প ও বিনোদন ব্যবসা বার্লিনের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই সেক্টরে সঙ্গীত, চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন, স্থাপত্য, শিল্প, নকশা, ফ্যাশন, পারফর্মিং আর্টস, প্রকাশনা, গবেষণা ও উন্নয়ন, সফ্টওয়্যার, টিভি, রেডিও এবং ভিডিও গেম রয়েছে।

২০১৪ সালে, প্রায় ৩০,৫০০ সৃজনশীল কোম্পানি বার্লিন-ব্র্যান্ডেনবার্গ মহানগর অঞ্চলে পরিচালিত হয়, প্রধানত এসএমই। ১৫.৬ বিলিয়ন ইউরো এবং সমস্ত বেসরকারী অর্থনৈতিক বিক্রয়ের ৬% রাজস্ব উৎপন্ন করে, সংস্কৃতি শিল্পটি ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে ৫.৫% হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। 

বার্লিন ইউরোপীয় ও জার্মান চলচ্চিত্র শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।  এটি ১,০ এরও বেশি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনা সংস্থা, ২৭০ টি চলচ্চিত্র থিয়েটার এবং প্রায় ৩০০ টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহ-প্রযোজনার প্রতি বছর এই অঞ্চলে চিত্রায়িত হয়।  ঐতিহাসিক বাবেলসবার্গ স্টুডিও এবং প্রযোজনা সংস্থা ইউএফএ পটসডামে বার্লিনের পাশে অবস্থিত। শহরটি ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত জার্মান ফিল্ম একাডেমী (ডয়চে ফিল্মকাডেমি) এবং ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউরোপীয় ফিল্ম একাডেমিরও আবাসস্থল।

মিডিয়া 
বার্লিন অনেক ম্যাগাজিন, সংবাদপত্র, বই, এবং বৈজ্ঞানিক / একাডেমিক প্রকাশক এবং তাদের সংশ্লিষ্ট সেবা শিল্পের আবাসস্থল। উপরন্তু, প্রায় ২০ টি সংবাদ সংস্থা, ৯০ টিরও বেশি আঞ্চলিক দৈনিক সংবাদপত্র এবং তাদের ওয়েবসাইট, পাশাপাশি ডার স্পিগেলের মতো ২২ টিরও বেশি জাতীয় প্রকাশনার বার্লিন অফিস, এবং ডাই জেইট প্রভাবশালী বিতর্কের জন্য জার্মানির উপকেন্দ্র হিসাবে রাজধানীর অবস্থানকে শক্তিশালী করে। অতএব, অনেক আন্তর্জাতিক সাংবাদিক, ব্লগার এবং লেখক এই শহরে বাস করেন এবং কাজ করেন।

বার্লিন বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক টেলিভিশন এবং রেডিও স্টেশনগুলির কেন্দ্রীয় অবস্থান।  পাবলিক ব্রডকাস্টার আরবিবির সদর দপ্তর বার্লিনে এবং বাণিজ্যিক সম্প্রচারকারী এমটিভি ইউরোপ এবং ওয়েল্ট-এ রয়েছে। জার্মান আন্তর্জাতিক পাবলিক ব্রডকাস্টার ডয়চে ভেলের বার্লিনে তার টিভি প্রোডাকশন ইউনিট রয়েছে এবং বেশিরভাগ জাতীয় জার্মান ব্রডকাস্টারদের জেডডিএফ এবং আরটিএল সহ শহরে একটি স্টুডিও রয়েছে।

বার্লিনে জার্মানির সর্বাধিক সংখ্যক দৈনিক সংবাদপত্র রয়েছে, যার মধ্যে অসংখ্য স্থানীয় ব্রডশিট (বার্লিনার মর্গেনপোস্ট, বার্লিনের জেইতুং, ডের তাগেসপিগেল) এবং তিনটি প্রধান ট্যাবলয়েড, পাশাপাশি বিভিন্ন আকারের জাতীয় দৈনিক, প্রতিটির সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, যেমন ডাই ওয়েল্ট, নিউয়েস ডয়চেচল্যান্ড এবং ডাই টেগেসজেইতুং। এক্স্বারলিনার, একটি মাসিক ম্যাগাজিন, বার্লিনের ইংরেজি ভাষার সাময়িকী এবং লা গেজেট ডি বার্লিন একটি ফরাসি ভাষার সংবাদপত্র।

বার্লিন হল ওয়াল্টার ডি গ্রুইটার, স্প্রিংগার, উলস্টাইন ভার্লাগগ্রাপ্পে (প্রকাশনা গ্রুপ), সুহরকাম্প এবং কর্নেলসেনের মতো প্রধান জার্মান ভাষার প্রকাশনা সংস্থার সদর দপ্তর যা বার্লিনে অবস্থিত। যার প্রতিটি বই, সাময়িকী এবং মাল্টিমিডিয়া পণ্য প্রকাশ করে।

জীবনযাত্রার মান 
Mercer এর মতে, বার্লিন ২০১৯ সালে জীবনযাত্রার মানের শহর রাংকিং এ ১৩ তম স্থানে রয়েছে। 

মনোকলের মতে, বার্লিন বিশ্বের ষষ্ঠ-সর্বাধিক বাসযোগ্য শহরের অবস্থান দখল করে আছে।  ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বার্লিনকে বিশ্বের সকল শহরের মধ্যে ২১ নম্বরে স্থান দিয়েছে।  বার্লিন গ্লোবাল পাওয়ার সিটি ইনডেক্সে ৮ নম্বরে রয়েছে। 

২০১৯ সালে, বার্লিনের জার্মানির সমস্ত শহরগুলির সর্বোত্তম ভবিষ্যতের সম্ভাবনা রয়েছে, HWWI এবং Berenberg ব্যাংক অনুযায়ী।  ২০১৯ সালে Forschungsinstitut Prognos এর গবেষণা অনুসারে, বার্লিন জার্মানির ৪০১ টি অঞ্চলের মধ্যে ৯২ তম স্থানে ছিল। এটি জেনা, ড্রেসডেন এবং পটসডামের পরে প্রাক্তন পূর্ব জার্মানির চতুর্থ স্থান অর্জনকারী অঞ্চল।

অবকাঠামো

পরিবহন

সড়ক 
বার্লিনের পরিবহন অবকাঠামো অত্যন্ত জটিল, যা শহুরে গতিশীলতার বিভিন্ন পরিসর সরবরাহ করে।  মোট ৯৭৯টি সেতু ১৯৭ কিলোমিটার (১২২ মা) অভ্যন্তর-শহরের জলপথ অতিক্রম করে। বার্লিনের মধ্য দিয়ে ৫,৪২২ কিলোমিটার (৩,৩৬৯ মা) রাস্তা চলাচল করে, যার মধ্যে ৭৭ কিলোমিটার মোটরওয়ে (অটোবাহন)।  ২০১৩ সালে, শহরে ১.৩৪৪ মিলিয়ন মোটর যান নিবন্ধিত হয়েছিল।  ২০১৩ সালে প্রতি ১০০০ জন বাসিন্দার জন্য ৩৭৭ টি গাড়ি (জার্মানিতে ৫৭০/১০০০), বার্লিন একটি পশ্চিমা বৈশ্বিক শহর হিসাবে মাথাপিছু সবচেয়ে কম সংখ্যক গাড়ি রয়েছে। ২০১২ সালে, প্রায় ৭,৬০০ টি বেইজ রঙিন ট্যাক্সিক্যাব পরিষেবাতে ছিল। ২০১১ সাল থেকে, বেশ কয়েকটি অ্যাপ ভিত্তিক ই-কার এবং ই-স্কুটার শেয়ারিং পরিষেবা বিকশিত হয়েছে।

রেল 
দূরপাল্লার রেল লাইন বার্লিনকে জার্মানির সমস্ত প্রধান শহর এবং প্রতিবেশী ইউরোপীয় দেশগুলির অনেক শহরের সাথে সংযুক্ত করেছে। Verkehrsverbund বার্লিন-Brandenburg এর আঞ্চলিক রেল লাইন ব্র্যান্ডেনবার্গ এবং বাল্টিক সাগরের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অ্যাক্সেস প্রদান করে। বার্লিন হাউপটবাহনহোফ ইউরোপের বৃহত্তম গ্রেড-বিচ্ছিন্ন রেলওয়ে স্টেশন।  ডয়চে বাহন হামবুর্গ, মিউনিখ, কলোন, স্টুটগার্ট, ফ্রাঙ্কফুর্ট এএম মেইন এবং অন্যান্যের মতো অভ্যন্তরীণ গন্তব্যগুলিতে উচ্চ গতির ইন্টারসিটি-এক্সপ্রেস ট্রেন পরিচালনা করে। এটি একটি বিমানবন্দর এক্সপ্রেস রেল পরিষেবা পরিচালনা করে, পাশাপাশি ভিয়েনা, প্রাগ, জুরিখ, ওয়ারশ, Wrocłw, বুদাপেস্ট এবং আমস্টারডামের মতো বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ট্রেন চালায়।

পানি পরিবহন 
বার্লিন স্প্রি এবং হাভেল নদীর মাধ্যমে এলবে এবং ওডার নদীর সাথে সংযুক্ত। জলপথে বার্লিনে এবং সেখান থেকে কোনও ঘন ঘন যাত্রী সংযোগ নেই, তবে কিছু মালবাহী জলপথের মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। বার্লিনের বৃহত্তম বন্দর, ওয়েস্টহাফেন, মোয়াবিট জেলায় অবস্থিত। এটি ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের সাথে অভ্যন্তরীণ শিপিংয়ের জন্য একটি ট্রান্সশিপমেন্ট এবং স্টোরেজ সাইট।

ইন্টারসিটি বাস 
জার্মানির অন্যান্য শহরের মতো, আন্তঃনগর বাস পরিষেবার পরিমাণ বাড়ছে। শহরটিতে ১০ টিরও বেশি স্টেশন রয়েছে যা জার্মানি এবং ইউরোপ জুড়ে গন্তব্যস্থলে বাস চালায়, বার্লিনের জেন্ট্রালার ওমনিবাসবাহনহন বৃহত্তম স্টেশন।

বিমানবন্দর 
বার্লিন একটি বাণিজ্যিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দ্বারা পরিবেশন করা হয়: বার্লিন ব্র্যান্ডেনবার্গ বিমানবন্দর (বিইআর), বার্লিনের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তের ঠিক বাইরে ব্র্যান্ডেনবার্গ রাজ্যে অবস্থিত। এটি ২০০৬ সালে টেগেল বিমানবন্দর (টিএক্সএল) এবং শেনফেল্ড বিমানবন্দর (এসএক্সএফ) কে বার্লিনের একক বাণিজ্যিক বিমানবন্দর হিসাবে প্রতিস্থাপনের উদ্দেশ্যে নির্মাণ কাজ শুরু করে।  এর আগে ২০১২ সালে ব্যাপক বিলম্ব এবং ব্যয় ের পরে, এটি ২০২০ সালের অক্টোবরে বাণিজ্যিক ক্রিয়াকলাপের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছিল।  প্রতি বছর প্রায় ২৭ মিলিয়ন যাত্রীর পরিকল্পিত প্রাথমিক সক্ষমতা ২০৪০ সালের মধ্যে টার্মিনালের ধারণক্ষমতা প্রতি বছর প্রায় ৫৫ মিলিয়নে নিয়ে আসার জন্য আরও উন্নত করা হবে। 

ব্র্যান্ডেনবার্গে বিইআর খোলার আগে, বার্লিনকে টেগেল বিমানবন্দর এবং শোনেফেল্ড বিমানবন্দর দ্বারা পরিবেশন করা হয়েছিল। টেগেল বিমানবন্দরটি শহরের সীমার মধ্যে ছিল, এবং শোনেফেল্ড বিমানবন্দরটি বিইআর-এর মতো একই স্থানে অবস্থিত ছিল। ২০১৫ সালে উভয় বিমানবন্দর একসাথে ২৯.৫ মিলিয়ন যাত্রী পরিচালনা করেছিল। ২০১৪ সালে বার্লিন থেকে ৫০টি দেশের ১৬৩টি গন্তব্যে ৬৭টি এয়ারলাইনস সেবা প্রদান করে।  তেগেল বিমানবন্দর লুফথানসা এবং ইউরউইংসের জন্য একটি ফোকাস সিটি ছিল, যখন শোনেফেল্ড জার্মানিয়া, ইজিজেট এবং রায়ানএয়ারের মতো বিমান সংস্থাগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসাবে কাজ করেছিল। ২০০৮ সাল পর্যন্ত, বার্লিনকে ছোট টেম্পেলহোফ বিমানবন্দর দ্বারাও পরিবেশন করা হত, যা শহরের বিমানবন্দর হিসাবে কাজ করে, শহরের কেন্দ্রস্থলের কাছে একটি সুবিধাজনক অবস্থান সহ, কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক জেলা এবং বিমানবন্দরের মধ্যে দ্রুত ট্রানজিট সময়ের জন্য অনুমতি দেয়। বিমানবন্দরের মাঠগুলি তখন থেকে একটি সিটি পার্কে পরিণত হয়েছে।

সাইক্লিং 
বার্লিন তার অত্যন্ত উন্নত বাইসাইকেল লেন সিস্টেমের জন্য সুপরিচিত।  এটি অনুমান করা হয় যে বার্লিনে প্রতি ১০ জন বাসিন্দার জন্য ৭১০ টি সাইকেল রয়েছে। ২০১০ সালে দৈনিক প্রায় ৫,০০,০ বাইক আরোহী মোট ট্র্যাফিকের ১৩% এর জন্য দায়ী ছিল।  সাইক্লিস্টদের ৬২০ কিলোমিটার (৩৮৫ মাইল) সাইকেল পথের অ্যাক্সেস রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার (৯৩ মাইল) বাধ্যতামূলক সাইকেল পথ, ১৯০ কিলোমিটার (১১৮ মাইল) অফ-রোড সাইকেল রুট, ৬০ কিলোমিটার (৩৭ মাইল) রাস্তায় সাইকেল লেন, ৭০ কিলোমিটার (৪৩ মাইল) ভাগ করা বাস লেন যা সাইক্লিস্টদের জন্যও উন্মুক্ত, ১০০ কিলোমিটার (৬২ মাইল) মিলিত পথচারী / বাইক পথগুলির ১০০ কিলোমিটার (৬২ মাইল) এবং রাস্তার পাশের ফুটপাতে ৫০ কিলোমিটার (৩১ মাইল) চিহ্নিত বাইসাইকেল লেন (বা ৩১ মাইল) ফুটপাত)।  রাইডারদের আঞ্চলিকবাহন, এস-বাহান এবং ইউ-বাহান ট্রেনে, ট্রামে এবং রাতের বাসে তাদের সাইকেল বহন করার অনুমতি দেওয়া হয় যদি বাইকের টিকিট কেনা হয়।

বায়ুসংক্রান্ত পোস্টাল নেটওয়ার্ক 
১৮৬৫ সাল থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত বার্লিনে একটি বিস্তৃত বায়ুসংক্রান্ত ডাক নেটওয়ার্ক ছিল, যা ১৯৪০ সালে তার শীর্ষে ছিল, মোট দৈর্ঘ্য ছিল ৪০০ কিলোমিটার। ১৯৪৯ সালের পর সিস্টেমটি দুটি পৃথক নেটওয়ার্কে বিভক্ত হয়ে যায়। পশ্চিম বার্লিন সিস্টেমটি ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য এবং ১৯৭২ সাল পর্যন্ত সরকারী ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত ছিল। পূর্ব বার্লিন সিস্টেম যা প্রধান টেলিগ্রাফ অফিস  সিস্টেমের কেন্দ্রীয় কেন্দ্র, 1976 সাল পর্যন্ত কার্যকর ছিল

শক্তি 
ব্যক্তিগত পরিবারের জন্য বার্লিনের দুটি বৃহত্তম শক্তি সরবরাহকারী হল সুইডিশ ফার্ম  ভ্যাটেনফল এবং বার্লিন-ভিত্তিক কোম্পানী জিএএসএজি। উভয়ই বৈদ্যুতিক শক্তি এবং প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ সরবরাহ করে। শহরের কিছু বৈদ্যুতিক শক্তি দক্ষিণ ব্র্যান্ডেনবার্গের নিকটবর্তী বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি থেকে আমদানি করা হয়। 

২০১৫ সালের হিসাবে ক্ষমতা দ্বারা পরিমাপ করা পাঁচটি বৃহত্তম পাওয়ার প্ল্যান্টগুলি হ'ল হেইজক্রাফটওয়ার্কর্ক রয়টার্স ওয়েস্ট, হেইজক্রাফটওয়ার্কওয়ার্ক লিচটারফেলডে, হেইজক্রাফটওয়ার্ক মিট, হেইজক্রাফটওয়ার্কওয়ার্ক উইলমারসডর্ফ এবং হেইজক্রাফটওয়ার্কওয়ার্ক শার্লটনবার্গ। এই সমস্ত পাওয়ার স্টেশনগুলি লোড পিকের সময় বাফারিংয়ের সুবিধার্থে একই সময়ে বিদ্যুৎ এবং দরকারী তাপ উৎপন্ন করে।

১৯৯৩ সালে বার্লিন-ব্র্যান্ডেনবুর্গ রাজধানী অঞ্চলে পাওয়ার গ্রিড সংযোগ পুনর্নবীকরণ করা হয়। বার্লিনের অভ্যন্তরের বেশিরভাগ জেলায় বিদ্যুৎ লাইনগুলি ভূগর্ভস্থ তারের; শুধুমাত্র একটি ৩৮০ কেভি এবং একটি ১১০ কেভি লাইন, যা রয়টার্স সাবস্টেশন থেকে শহুরে অটোবাহন পর্যন্ত চালানো হয়, ওভারহেড লাইন ব্যবহার করে। বার্লিন ৩৮০-কেভি বৈদ্যুতিক লাইন শহরের শক্তি গ্রিডের মেরুদণ্ড।

স্বাস্থ্য 
বার্লিনের ঔষধের আবিষ্কার এবং চিকিৎসা প্রযুক্তিতে উদ্ভাবনের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।  ঔষধের আধুনিক ইতিহাস উল্লেখযোগ্যভাবে বার্লিনের বিজ্ঞানীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। রুডলফ ভিরচো সেলুলার প্যাথলজির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, যখন রবার্ট কোচ অ্যানথ্রাক্স, কলেরা এবং যক্ষ্মার জন্য টিকা তৈরি করেছিলেন। 

চ্যারিটে কমপ্লেক্স (চ্যারিটে বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল) ইউরোপের বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, যা ১৭১০ সাল থেকে এর উৎপত্তি খুঁজে বের করে। এমিল ফন বেহরিং, রবার্ট কোচ এবং পল এহরলিচ সহ ফিজিওলজি বা মেডিসিনে সমস্ত জার্মান নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের অর্ধেকেরও বেশি চরিটে কাজ করেছেন। চরিটে চারটি ক্যাম্পাস জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে এবং প্রায় ৩,০ বিছানা, ১৫,৫০০ কর্মী, ৮,০০০ শিক্ষার্থী এবং ৬০ টিরও বেশি অপারেটিং থিয়েটার রয়েছে এবং এটি বার্ষিক দুই বিলিয়ন ইউরোর টার্নওভার রয়েছে।  চরিত হল ফ্রি ইউনিভার্সিটি বার্লিন এবং বার্লিনের হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি যৌথ প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ইনস্টিটিউট এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে জার্মান হার্ট সেন্টার, সবচেয়ে বিখ্যাত ট্রান্সপ্লান্টেশন সেন্টারগুলির মধ্যে একটি, ম্যাক্স-ডেলব্রুক-সেন্টার ফর মলিকিউলার মেডিসিন এবং ম্যাক্স-প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর মলিকিউলার জেনেটিক্স। এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা সিমেন্স এবং বায়ারের মতো সংস্থাগুলির অনেক গবেষণা বিভাগ দ্বারা পরিপূরক। বার্লিনে প্রতি বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন এবং বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়।

টেলিযোগাযোগ 
২০১৭ সাল থেকে, বার্লিন এবং জার্মানিতে ডিজিটাল টেলিভিশন স্ট্যান্ডার্ড হল ডিভিবি-টি২। এই সিস্টেমটি একটি এমপিইজি পরিবহন প্রবাহে সংকুচিত ডিজিটাল অডিও, ডিজিটাল ভিডিও এবং অন্যান্য ডেটা প্রেরণ করে।

বার্লিন ২০১৬ সাল থেকে রাজধানী জুড়ে কয়েকশত ফ্রি পাবলিক ওয়্যারলেস ল্যান সাইট ইনস্টল করেছে। ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কগুলি বেশিরভাগই কেন্দ্রীয় জেলাগুলিতে কেন্দ্রীভূত হয়; ৬৫০ হটস্পট (৩২৫ ইনডোর এবং ৩২৫ আউটডোর অ্যাক্সেস পয়েন্ট) ইনস্টল করা হয়।  ডয়চে বাহন ২০১৭ সালে দূরপাল্লার এবং আঞ্চলিক ট্রেনগুলিতে ওয়াই-ফাই পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা করছে।

তিনটি প্রধান সেলুলার অপারেটর ভোডাফোন, টি-মোবাইল এবং ও ২ এর ইউএমটিএস (৩জি) এবং এলটিই (৪জি) নেটওয়ার্কগুলি শহরব্যাপী মোবাইল ব্রডব্যান্ড অ্যাপ্লিকেশনগুলির ব্যবহার সক্ষম করে।

ফ্রাউনহফার হেনরিক হার্টজ ইনস্টিটিউট মোবাইল এবং স্থির ব্রডব্যান্ড যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং মাল্টিমিডিয়া সিস্টেম বিকাশ করে। ফোকাল পয়েন্টগুলি ফোটোনিক উপাদান এবং সিস্টেম, ফাইবার অপটিক সেন্সর সিস্টেম এবং ইমেজ সিগন্যাল প্রসেসিং এবং ট্রান্সমিশন। ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কগুলির জন্য ভবিষ্যতের অ্যাপ্লিকেশনগুলিও উন্নত করা হয়েছে।

শিক্ষা 
২০১৪ সালের হিসাবেবার্লিনে ৮৭৮টি স্কুল ছিল, যেখানে ১৩,৭২৭টি শ্রেণিতে ৩,৪০,৬৫৮ জন শিশু এবং ব্যবসা ও অন্যান্য স্থানে ৫৬,৭৮৭ জন প্রশিক্ষণার্থী পড়ানো হত।  শহরটির একটি ৬ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা প্রোগ্রাম রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষ করার পরে, শিক্ষার্থীরা সেকুন্ডারশুলে (একটি বিস্তৃত স্কুল) বা জিমনেসিয়াম (কলেজ প্রস্তুতিমূলক স্কুল) চালিয়ে যায়। বার্লিনের ইউরোপাশুলে একটি বিশেষ দ্বিভাষিক স্কুল প্রোগ্রাম রয়েছে, যেখানে শিশুদের জার্মান এবং একটি বিদেশী ভাষায় পাঠ্যক্রম শেখানো হয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু হয় এবং উচ্চ বিদ্যালয়ে অব্যাহত থাকে। 

ফ্রাঞ্জোসিসচেস জিমনেসিয়াম বার্লিন, যা ১৬৮৯ সালে হুগুয়েনোট উদ্বাস্তুদের শিশুদের শেখানোর জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, (জার্মান / ফরাসি) নির্দেশনা প্রদান করে।  জন এফ কেনেডি স্কুল, জেহলেনডর্ফের একটি দ্বিভাষিক জার্মান-আমেরিকান পাবলিক স্কুল, কূটনীতিক এবং ইংরেজিভাষী প্রবাসী সম্প্রদায়ের শিশুদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। ৮২ জিমনাসিন ল্যাটিন শিক্ষা  এবং ৮ জন ধ্রুপদী গ্রীক শিক্ষা দেয়।

উচ্চ শিক্ষা 
বার্লিন-ব্র্যান্ডেনবার্গ রাজধানী অঞ্চলটি জার্মানি ও ইউরোপের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সবচেয়ে কার্যকর কেন্দ্রগুলির মধ্যে একটি। ঐতিহাসিকভাবে, ৬৭ জন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বার্লিন-ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সাথে যুক্ত।

শহরটিতে চারটি পাবলিক গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় এবং 30 টিরও বেশি বেসরকারী, পেশাদার এবং প্রযুক্তিগত কলেজ (হোচশুলেন) রয়েছে, যা বিভিন্ন ধরনের শৃঙ্খলা সরবরাহ করে।  ২০১৫-১৬ সালের শীতকালীন মেয়াদে রেকর্ড সংখ্যক ১,৭৫,৬৫১ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল।  তাদের মধ্যে প্রায় ১৮% এর একটি আন্তর্জাতিক পটভূমি রয়েছে।

তিনটি বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে প্রায় ১,০৩,০০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রায় ৩৩,০ শিক্ষার্থী নিয়ে ফ্রেই ইউনিভার্সিটি ইউনিভার্সিটি অফ বার্লিন (ফ্রি ইউনিভার্সিটি অফ বার্লিন, এফইউ বার্লিন), হাম্বল্ড্ট ইউনিভার্সিটি ইউনিভার্সিটি জু বার্লিন (এইচইউ বার্লিন) ৩৫,০০০ শিক্ষার্থী এবং ৩৫,০০০  হাম্বল্ডট ইউনিভারসিটিট বার্লিন (টিইউ বার্লিন) রয়েছে। চরিটে মেডিকেল স্কুলে প্রায় ৮,০০০ শিক্ষার্থী রয়েছে।  এফইউ, হু, টিইউ এবং চরিটে বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয় জোট গঠন করে, যা জার্মান সরকারের এক্সিলেন্স স্ট্র্যাটেজি প্রোগ্রাম থেকে অর্থায়ন পেয়েছে।  ইউনিভারসিটিট ডার কুন্স্তে (ইউডিকে) এর প্রায় ৪,০০০ শিক্ষার্থী রয়েছে এবং ইএসএমটি বার্লিন জার্মানির চারটি বিজনেস স্কুলের মধ্যে মাত্র একটি যার ট্রিপল অ্যাক্রেডিটেশন রয়েছে।  বার্লিন স্কুল অফ ইকোনমিক্স অ্যান্ড ল-এ প্রায় ১১,০০০ শিক্ষার্থী, বার্লিন ইউনিভার্সিটি অফ অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি প্রায় ১২,০০০ শিক্ষার্থীর এবং হোচশুলে ফুর টেকনিক উন্ড উইরচাফট (প্রকৌশল ও অর্থনীতির জন্য ফলিত বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়) প্রায় ১৪,০ শিক্ষার্থীর তালিকাভুক্তি রয়েছে।

গবেষণা 
শহরটি আন্তর্জাতিকভাবে বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির একটি উচ্চ ঘনত্ব রয়েছে, যেমন ফ্রাউনহোফার সোসাইটি, লিবনিজ অ্যাসোসিয়েশন, হেলমহোল্টজ অ্যাসোসিয়েশন এবং ম্যাক্স প্লাঙ্ক সোসাইটি, যা স্বাধীন, বা শুধুমাত্র আলগাভাবে তার বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সাথে সংযুক্ত।  ২০১২ সালে, প্রায় ৬৫,০০০ পেশাদার বিজ্ঞানী এই শহরে গবেষণা ও উন্নয়নে কাজ করছিলেন। 

বার্লিন ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইনোভেশন অ্যান্ড টেকনোলজি (ইআইটি) এর জ্ঞান ও উদ্ভাবন সম্প্রদায়গুলির (কেআইসি) মধ্যে একটি।  কেআইসি টিইউ বার্লিনের সেন্টার ফর এন্টারপ্রেনারশিপে অবস্থিত এবং আইটি শিল্পের উন্নয়নে মনোনিবেশ করে। এটি সিমেন্স, ডয়চে টেলিকম এবং এসএপি-র মতো প্রধান বহুজাতিক সংস্থাগুলির সাথে অংশীদারিত্ব করে। 

ইউরোপের সফল গবেষণা, ব্যবসা এবং প্রযুক্তি ক্লাস্টারগুলির মধ্যে একটি বার্লিন-অ্যাডলারশোফের ডব্লিউআইএসটিএ-তে অবস্থিত, ১০০০ এরও বেশি অনুমোদিত সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগ এবং বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলির সাথে। 

বিশ্ববিদ্যালয়-অনুমোদিত লাইব্রেরি ছাড়াও, রাজ্য গ্রন্থাগার বার্লিন একটি প্রধান গবেষণা লাইব্রেরি। এর দুটি প্রধান অবস্থান হল পটসডাম রাস্তা এবং লিন্ডেন গাছের নিচে। এছাড়াও শহরে ৮৬টি পাবলিক লাইব্রেরী রয়েছে।  রিসার্চগেট, বিজ্ঞানীদের জন্য একটি বিশ্বব্যাপী সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট, বার্লিনে অবস্থিত।

সংস্কৃতি 
বার্লিন তার অসংখ্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের জন্য পরিচিত, যার মধ্যে অনেকগুলি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করে।  মহানগরীর বৈচিত্র্য এবং প্রাণবন্ততা একটি ট্রেন্ডসেটিং পরিবেশের দিকে পরিচালিত করে।  একবিংশ শতাব্দীতে একটি উদ্ভাবনী সঙ্গীত, নৃত্য এবং শিল্পদৃশ্য বিকশিত হয়েছে।

তরুণ, আন্তর্জাতিক শিল্পী এবং উদ্যোক্তারা শহরে বসতি স্থাপন করতে থাকে এবং বার্লিনকে বিশ্বের একটি জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র করে তোলে। 

শহরটির বিস্তৃত সাংস্কৃতিক কর্মক্ষমতা ইউনিভার্সাল মিউজিক গ্রুপের স্থানান্তরের দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছিল, যারা তাদের সদর দপ্তরকে স্প্রি নদীর তীরে স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ২০০৫  বার্লিনকে ইউনেস্কো কর্তৃক "ডিজাইনের শহর" নামকরণ করা হয় এবং তখন থেকে এটি ক্রিয়েটিভ সিটিজ নেটওয়ার্কের অংশ ছিল। 

বার্লিনে অনেক জার্মান ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের শুটিং করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে এম, ওয়ান, টু, থ্রি, ক্যাবারে, ক্রিশ্চিয়ান এফ., দখল, অক্টোপাসসি, উইংস অফ ডিজায়ার, রান লোলা রান, দ্য বোর্ন ট্রিলজি, গুড বাই, লেনিন!, দ্য লাইভস, ইংলুরিয়াস বাস্টার্ডস, হান্না, অজানা এবং স্পাইসের সেতু।

গ্যালারী এবং যাদুঘর 
২০১১ সালের হিসাবে বার্লিনে ১৩৮টি জাদুঘর এবং ৪০০টিরও বেশি আর্ট গ্যালারী রয়েছে।  যাদুঘর দ্বীপের এনসেম্বলটি একটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট এবং স্প্রি এবং কুফারগ্রাবেনের মধ্যে স্প্রি দ্বীপের উত্তর অংশে অবস্থিত।  ১৮৪১ সালের গোড়ার দিকে এটি একটি রাজকীয় ডিক্রি দ্বারা "শিল্প ও পুরাকীর্তির জন্য নিবেদিত জেলা" হিসাবে মনোনীত হয়েছিল। পরবর্তীকালে লস্টগার্টেনে নির্মিত হয় অ্যালটস মিউজিয়াম। নেউজ যাদুঘর, যা রানী নেফারতিতি এর আবক্ষ মূর্তি প্রদর্শন করে, ওল্ড ন্যাশনাল গ্যালারি, পারগামন মিউজিয়াম, এবং বোড মিউজিয়াম সেখানে নির্মিত হয়েছিল।
মিউজিয়াম দ্বীপ ছাড়াও, শহরে আরও অনেক জাদুঘর রয়েছে। পেইন্টিং গ্যালারী ১৩ থেকে ১৮ শতকের "পুরানো মাস্টার" পেইন্টিং উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। হ্যামবার্গার বাহনহফ, মোয়াবিটে, আধুনিক ও সমসাময়িক শিল্পের একটি প্রধান সংগ্রহ প্রদর্শন করে। সম্প্রসারিত ডয়চেস হিস্টোরিচেস মিউজিয়ামটি এক সহস্রাব্দেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত জার্মান ইতিহাসের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ সহ অস্ত্রাগার পুনরায় খোলা হয়েছে। মিউজিয়াম বার্গগ্রুইন এ ২০শতকের প্রখ্যাত সংগ্রাহক হেইনজ বার্গগ্রুইনের সংগ্রহশালায় রয়েছে এবং পিকাসো, ম্যাটিসে, সেজান এবং জিয়াকোমেট্টির কাজগুলির একটি বিস্তৃত ভাণ্ডার রয়েছে। 
পারগামন মিউজিয়ামে ব্যাবিলনের পুনর্নির্মিত ইশতার গেট
ইহুদি যাদুঘরে জার্মান-ইহুদি ইতিহাসের দুই সহস্রাব্দের উপর একটি স্থায়ী প্রদর্শনী রয়েছে।  ক্রেউজবার্গের জার্মান মিউজিয়াম অফ টেকনোলজিতে ঐতিহাসিক প্রযুক্তিগত নিদর্শনগুলির একটি বড় সংগ্রহ রয়েছে। মিউজিয়াম ফুর নাচারকুন্ডে (বার্লিনের প্রাকৃতিক ইতিহাস যাদুঘর) বার্লিন হাউপটবাহনহোফের কাছে প্রাকৃতিক ইতিহাস প্রদর্শন করে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম মাউন্টেড ডাইনোসর (একটি জিরাফ্যাটিটান কঙ্কাল) রয়েছে। টিরানোসরাস রেক্স এবং প্রারম্ভিক পাখি আর্কিওপটেরিক্সের একটি ভাল-সংরক্ষিত নমুনাও প্রদর্শিত হয়। 

দাহলেমে, বিশ্বের শিল্প ও সংস্কৃতির বেশ কয়েকটি যাদুঘর রয়েছে, যেমন এশিয়ান আর্ট মিউজিয়াম, এথনোলজিক্যাল মিউজিয়াম, ইউরোপীয় সংস্কৃতির যাদুঘর, সেইসাথে অ্যালাইড মিউজিয়াম। ব্রুকে মিউজিয়ামটি বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকের অভিব্যক্তিবাদী আন্দোলনের শিল্পীদের কাজের বৃহত্তম সংগ্রহগুলির মধ্যে একটি। লিচেনবার্গে, সাবেক পূর্ব জার্মান রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের ভিত্তিতে, স্ট্যাসি যাদুঘর। চেকপয়েন্ট চার্লি, বার্লিন প্রাচীরের সবচেয়ে বিখ্যাত ক্রসিং পয়েন্টগুলির মধ্যে একটি, এখনও সংরক্ষিত রয়েছে। একটি বেসরকারী যাদুঘর উদ্যোগ প্রাচ্য থেকে পালানোর চেষ্টা করা লোকদের দ্বারা উদ্ভাবিত বিস্তারিত পরিকল্পনা এবং কৌশলগুলির একটি বিস্তৃত ডকুমেন্টেশন প্রদর্শন করে।

বার্লিনের সিটিস্কেপটি প্রচুর পরিমাণে শহুরে রাস্তার শিল্প প্রদর্শন করে।  এটি শহরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হয়ে উঠেছে এবং ১৯৮০-এর দশকের ক্রেউজবার্গের গ্রাফিতি দৃশ্যে এর শিকড় রয়েছে। বার্লিন প্রাচীর নিজেই বিশ্বের বৃহত্তম উন্মুক্ত-বায়ু ক্যানভাসগুলির মধ্যে একটি হয়ে উঠেছে।  ফ্রিডরিখশেইনের স্প্রি নদীর তীরে অবশিষ্ট অংশটি ইস্ট সাইড গ্যালারী হিসাবে রয়ে গেছে। বার্লিন আজ ধারাবাহিকভাবে রাস্তার শিল্প সংস্কৃতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ব শহর হিসাবে গণ্য করা হয়।  বার্লিনে গ্যালারী রয়েছে যা সমসাময়িক শিল্পকলায় বেশ সমৃদ্ধ।

নাইটলাইফ এবং উৎসব 

বার্লিনের নাইটলাইফকে তার ধরনের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় এবং স্পন্দনশীল হিসাবে উদযাপন করা হয়েছে।  ১৯৭০ এবং ৮০-এর দশকে ক্রেউজবার্গের এসও৩৬ পাঙ্ক সঙ্গীত ও সংস্কৃতির একটি কেন্দ্র ছিল। ১৯৯০-এর দশক জুড়ে, সারা বিশ্ব থেকে, বিশেষ করে পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের লোকেরা, বার্লিনের ক্লাব দৃশ্যটিকে একটি প্রিমিয়ার নাইটলাইফ ভেন্যু তে পরিণত করেছিল। ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীরের পতনের পর, পূর্ব বার্লিনের সাবেক শহর কেন্দ্র মিত্তে-তে অনেক ঐতিহাসিক ভবন অবৈধভাবে দখল করা হয়েছিল এবং তরুণ স্কোয়াটারদের দ্বারা পুনরায় নির্মিত হয়েছিল এবং ভূগর্ভস্থ এবং প্রতিসংস্কৃতির সমাবেশের জন্য একটি উর্বর জমিতে পরিণত হয়েছিল।  কেন্দ্রীয় বরোগুলিতে ওয়াটারগেট, ট্রেসর এবং বার্গহেইন সহ অনেক নাইটক্লাব রয়েছে। কিটক্যাটক্লাব এবং অন্যান্য বেশ কয়েকটি অবস্থান তাদের যৌনভাবে বাধাহীন দলগুলির জন্য পরিচিত।

ক্লাবগুলি সপ্তাহান্তে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ করার প্রয়োজন হয় না, এবং অনেক দল সকালে বা এমনকি সমস্ত সপ্তাহান্তেও ভালভাবে শেষ হয়। আলেকজান্ডারপ্লাটজের কাছে উইকএন্ড ক্লাবে একটি ছাদের ছাদ রয়েছে যা রাতে পার্টি করার অনুমতি দেয়। বেশ কয়েকটি স্থান নিও-বার্লেস্ক দৃশ্যের জন্য একটি জনপ্রিয় মঞ্চ হয়ে উঠেছে।

বার্লিনে সমকামী সংস্কৃতির একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং এটি এলজিবিটি অধিকার আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ জন্মস্থান। সমকামী বার এবং নাচের হলগুলি ১৮৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে অবাধে পরিচালিত হয়েছিল এবং প্রথম সমকামী ম্যাগাজিন, ডের ইজিন, ১৮৯৬ সালে শুরু হয়েছিল। ১৯২০-এর দশকে, সমকামী এবং লেসবিয়ানদের একটি অভূতপূর্ব দৃশ্যমানতা ছিল।  আজ, বৃহত্তর ক্লাব দৃশ্যে একটি ইতিবাচক বায়ুমণ্ডল ছাড়াও, শহরটিতে আবার প্রচুর সংখ্যক কুইয়ার ক্লাব এবং উত্সব রয়েছে। সবচেয়ে বিখ্যাত এবং বৃহত্তম বার্লিন প্রাইড, ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে, বার্লিন-শেনবার্গে লেসবিয়ান এবং গে সিটি ফেস্টিভ্যাল, ক্রেউজবার্গ প্রাইড এবং হাস্টলাবল।

বার্ষিক বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (বার্লিনেল) প্রায় ৫০০০০০ ভর্তিসহ বিশ্বের বৃহত্তম সর্বজনীনভাবে উপস্থিত চলচ্চিত্র উত্সব বলে মনে করা হয়।  কার্নেভাল ডার কুলতুরেন (সংস্কৃতির কার্নিভাল), একটি বহু-জাতিগত রাস্তার প্যারেড, প্রতি পেন্টেকোস্টের সপ্তাহান্তে উদযাপিত হয়।  বার্লিন সাংস্কৃতিক উৎসব বার্লিনার ফেস্টস্পিয়েলের জন্যও সুপরিচিত, যার মধ্যে জ্যাজ উৎসব জ্যাজফেস্ট বার্লিন এবং ইয়ং ইউরো ক্লাসিক, বিশ্বের যুব অর্কেস্ট্রার বৃহত্তম আন্তর্জাতিক উৎসব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ট্রান্সমিডিয়াল এবং চাওস কমিউনিকেশন কংগ্রেস সহ শহরে বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি এবং মিডিয়া আর্ট ফেস্টিভ্যাল এবং সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বার্ষিক বার্লিন উৎসব ইন্ডি রক, ইলেকট্রনিক সঙ্গীত এর উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এবং আন্তর্জাতিক বার্লিন সঙ্গীত সপ্তাহের অংশ।  প্রতি বছর বার্লিন বিশ্বের বৃহত্তম নববর্ষউদযাপনের আয়োজন করে, যেখানে এক মিলিয়নেরও বেশি লোক অংশগ্রহণ করে। ফোকাল পয়েন্ট ব্র্যান্ডেনবার্গ গেট, যেখানে মধ্যরাতের আতশবাজি কেন্দ্রীভূত হয়, কিন্তু বিভিন্ন ব্যক্তিগত আতশবাজি প্রদর্শন সমগ্র শহর জুড়ে সঞ্চালিত হয়। জার্মানিতে পার্টিগোয়াররা প্রায়শই এক গ্লাস ঝকঝকে ওয়াইন দিয়ে নতুন বছরকে টোস্ট করে।

পারফর্মিং আর্টস 
বার্লিনে ৪৪টি থিয়েটার ও মঞ্চ রয়েছে।  মিটের ডয়চেস থিয়েটারটি ১৮৪৯-৫০ সালে নির্মিত হয়েছিল এবং তখন থেকে প্রায় অবিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হয়েছে। রোসা-লাক্সেমবুর্গ-প্লাটজ-এ ভক্সবুহনে ১৯১৩-১৪ সালে নির্মিত হয়েছিল, যদিও সংস্থাটি ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বার্লিনার এনসেম্বল, বার্তোল্ট ব্রেখটের কাজ সম্পাদনের জন্য বিখ্যাত, ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শাউবুহনে ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ১৯৮১ সালে কুরফুরস্টেনডামের উপর প্রাক্তন ইউনিভার্সাম সিনেমা নির্মাণে স্থানান্তরিত হয়েছিল। ১,৮৯৫ জনের বসার ক্ষমতা এবং ২,৮৫৪ বর্গ মিটার (৩০,৭২০ বর্গফুট) এর একটি মঞ্চ মেঝে সহ, বার্লিন মিটের ফ্রিডরিখস্টাড্ট-প্যালাস্ট ইউরোপের বৃহত্তম শো প্রাসাদ।

বার্লিনের তিনটি প্রধান অপেরা হাউস রয়েছে: ডয়চে ওপার, বার্লিন স্টেট অপেরা এবং কোমিশে ওপার। ইউটার ডেন লিন্ডেনের বার্লিন স্টেট অপেরা ১৭৪২ সালে খোলা হয় এবং এটি তিনটির মধ্যে প্রাচীনতম। এর সঙ্গীত পরিচালক ড্যানিয়েল বারেনবোইম।

বাদ্যযন্ত্র থিয়েটার পারফরম্যান্সের জন্য শহরের প্রধান স্থান হল থিয়েটার অ্যাম পটসডামার প্লাটজ এবং থিয়েটার ডেস ওয়েস্টেনস (১৮৯৫ সালে নির্মিত)। রেডিয়ালসিস্টেম ভি-তে সমসাময়িক নৃত্য দেখা যায়। টেম্পোড্রোম কনসার্ট এবং সার্কাস-অনুপ্রাণিত বিনোদনের হোস্ট। এটিতে একটি মাল্টি-সংবেদনশীল স্পা অভিজ্ঞতাও রয়েছে।

বার্লিনে সাতটি সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা রয়েছে। বার্লিন ফিলহারমোনিক অর্কেস্ট্রা বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্কেস্ট্রা;  এটি পটসডামার প্লাটজের কাছে বার্লিনার ফিলহারমনিতে অর্কেস্ট্রার দীর্ঘতম-পরিবেশনকারী কন্ডাক্টর, হার্বার্ট ফন কারাজানের জন্য নামকরণ করা একটি রাস্তায় অবস্থিত। কনজারথাউসোরচেস্টার বার্লিন ১৯৫২ সালে পূর্ব বার্লিনের অর্কেস্ট্রা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ইভান ফিশার এর প্রধান কন্ডাক্টর। হাউস ডার কুলতুরেন ডার ওয়েল্ট আন্তঃসাংস্কৃতিক বিষয়গুলি নিয়ে প্রদর্শনী উপস্থাপন করে এবং বিশ্ব সঙ্গীত ও সম্মেলনগুলি মঞ্চস্থ করে।  কুকাবুরা এবং কোয়াৎশ কমেডি ক্লাব ব্যঙ্গাত্মক এবং স্ট্যান্ড-আপ কমেডি শোয়ের জন্য পরিচিত। ২০১৮ সালে, নিউ ইয়র্ক টাইমস বার্লিনকে "তর্কসাপেক্ষে ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক সংগীতের বিশ্ব রাজধানী" হিসাবে বর্ণনা করেছে।

রন্ধনপ্রণালী 
বার্লিনের রন্ধনপ্রণালী এবং রন্ধনসম্পর্কীয় নৈবেদ্যগুলি ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। বার্লিনের ২৩টি রেস্টুরেন্টকে ২০২১ সালের মিশেলিন গাইডে এক বা একাধিক মিশেলিন তারকা পুরস্কৃত করা হয়েছে, যা জার্মানিতে এই পার্থক্যযুক্ত রেস্তোঁরাগুলির সংখ্যার জন্য শহরটিকে শীর্ষে রেখেছে।  বার্লিন  এবং ভেগান  রন্ধনপ্রণালী রন্ধনপ্রণালী 

অনেক স্থানীয় খাবার উত্তর জার্মান রন্ধনসম্পর্কীয় ঐতিহ্য থেকে উদ্ভূত এবং শুয়োরের মাংস, হংস, মাছ, মটরশুটি, শসা, বা আলু সঙ্গে গ্রাম্য এবং হৃদয়গ্রাহী খাবার অন্তর্ভুক্ত। সাধারণ বার্লিনার ভাড়ার মধ্যে রয়েছে কারিউর্স্টের মতো জনপ্রিয় রাস্তার খাবার (যা যুদ্ধোত্তর নির্মাণ শ্রমিকদের সাথে শহরটি পুনর্নির্মাণের সাথে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল), বুলেটেন এবং বার্লিনার ডোনাট । জার্মান বেকারিগুলি বিভিন্ন ধরনের রুটি এবং পেস্ট্রি সরবরাহ করে তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ইউরোপের বৃহত্তম সূক্ষ্মসেন বাজারগুলির মধ্যে একটি কাডেওয়েতে পাওয়া যায় এবং বিশ্বের বৃহত্তম চকোলেট স্টোরগুলির মধ্যে একটি হল ফ্যাসবেন্ডার এবং রাউশ। 

বার্লিন এছাড়াও একটি বৈচিত্র্যময় গ্যাস্ট্রোনমি দৃশ্যের আবাসস্থল যা শহরের অভিবাসী ইতিহাসকে প্রতিফলিত করে। তুর্কি এবং আরব অভিবাসীরা তাদের রন্ধনসম্পর্কীয় ঐতিহ্যগুলি শহরে নিয়ে এসেছিল, যেমন লাহমাজুন এবং ফালাফেল, যা সাধারণ ফাস্ট ফুড স্টেপলগুলিতে পরিণত হয়েছে। ১৯৭০-এর দশকে বার্লিনে বিকশিত ডোনার কাবাব স্যান্ডউইচের আধুনিক ফাস্ট-ফুড সংস্করণটি তখন থেকে জার্মানি এবং বিশ্বের অন্য কোথাও একটি প্রিয় খাবার হয়ে উঠেছে।  চীনা, ভিয়েতনামী, থাই, ভারতীয়, কোরিয়ান এবং জাপানি রেস্তোঁরাগুলির মতো এশিয়ান রন্ধনপ্রণালী, সেইসাথে স্প্যানিশ তাপ বার, ইতালীয় এবং গ্রীক রন্ধনপ্রণালী, শহরের অনেক অংশে পাওয়া যায়।

বিনোদন 
জুলজিক্যাল গার্ডেন বার্লিন, শহরের দুটি চিড়িয়াখানার মধ্যে পুরানো, ১৮৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি ইউরোপের সবচেয়ে বেশি পরিদর্শিত চিড়িয়াখানা এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় প্রজাতি উপস্থাপন করে। এটি বন্দী-জন্মগ্রহণকারী সেলিব্রিটি পোলার বিয়ার নাউটের বাড়ি ছিল। শহরের অন্যান্য চিড়িয়াখানা, ফ্রেডরিকসফেল্ড চিড়িয়াখানা , ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

বার্লিনের বোটানিশার গার্টেনের মধ্যে রয়েছে বোটানিক মিউজিয়াম বার্লিন। ৪৩ হেক্টর (১১০ একর) এলাকা এবং প্রায় ২২,০০০ বিভিন্ন উদ্ভিদ প্রজাতির সাথে, এটি বিশ্বের বোটানিক্যাল জীবনের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় সংগ্রহগুলির মধ্যে একটি। শহরের অন্যান্য বাগানগুলির মধ্যে রয়েছে ব্রিটজার গার্টেন এবং মারজাহানের গর্টেন ডার ওয়েল্ট (বিশ্বের উদ্যানগুলি)। 

মিটের টায়ারগার্টেন পার্ক, পিটার জোসেফ লেনের আড়াআড়ি নকশা সহ, বার্লিনের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় পার্কগুলির মধ্যে একটি।  ক্রেউজবার্গে, ভিক্টোরিয়াপার্ক অভ্যন্তরীণ শহর বার্লিনের দক্ষিণ অংশে একটি দর্শনীয় স্থান সরবরাহ করে। ফ্রিডরিখশাইনের ভক্সপার্ক, যা ১৮৪৮ সালে খোলা হয়েছিল, এটি শহরের প্রাচীনতম পার্ক, স্মৃতিসৌধ, একটি গ্রীষ্মকালীন বহিরঙ্গন সিনেমা এবং বেশ কয়েকটি ক্রীড়া এলাকা সহ।  টেম্পেলহোফার ফেল্ড, সাবেক শহর বিমানবন্দরের স্থান, বিশ্বের বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ-শহর উন্মুক্ত স্থান। 

পটসড্যাম বার্লিনের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। শহরটি ১৯১৮ সাল পর্যন্ত প্রুশিয়ান রাজা এবং জার্মান কায়সারের আবাসস্থল ছিল। বিশেষ করে সানসুচির পটসডামের আশেপাশের অঞ্চলটি আন্তঃসংযুক্ত হ্রদ এবং সাংস্কৃতিক ল্যান্ডমার্কগুলির একটি সিরিজের জন্য পরিচিত। পটসডাম এবং বার্লিনের প্রাসাদ ও পার্কগুলি জার্মানির বৃহত্তম বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। 

বার্লিন তার অসংখ্য ক্যাফে, রাস্তার সঙ্গীতশিল্পী, স্প্রি নদী বরাবর সমুদ্র সৈকত বার, flea বাজার, বুটিক দোকান এবং পপ আপ স্টোরগুলির জন্য সুপরিচিত, যা বিনোদন এবং অবসরের জন্য একটি উৎস।

খেলাধুলা 
বার্লিন প্রধান আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টগুলির একটি হোস্ট শহর হিসাবে একটি হাই-প্রোফাইল প্রতিষ্ঠা করেছে।  শহরটি ১৯৩৬ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের আয়োজন করে এবং ২০০৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের আয়োজক শহর ছিল।  অ্যাথলেটিক্সে আইএএএফ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ২০০৯ সালে অলিম্পিয়াস্টাডিয়নে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।  শহরটি ২০০৯ এবং ২০১৬ সালে বাস্কেটবল ইউরোলিগ ফাইনাল ফোরের আয়োজন করেছিল।  এবং এফআইবিএ ইউরোবাস্কেট ২০১৫ এর অন্যতম আয়োজক ছিলেন। ২০১৫ সালে বার্লিন উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের ভেন্যু তে পরিণত হয়।

বার্লিন ২০২৩ সালের বিশেষ অলিম্পিক বিশ্ব গ্রীষ্মকালীন গেমসের আয়োজন করবে। এই প্রথমবারের মতো জার্মানি বিশেষ অলিম্পিকের বিশ্ব গেমসের আয়োজন করেছে। 

বার্ষিক বার্লিন ম্যারাথন - একটি কোর্স যা সর্বাধিক শীর্ষ ১০ বিশ্ব রেকর্ড রান ধারণ করে - এবং আইএসটিএএফ শহরের সুপ্রতিষ্ঠিত অ্যাথলেটিক ইভেন্ট।  কোপেনিকের মেললোপার্ক ইউরোপের বৃহত্তম স্কেট এবং বিএমএক্স পার্কগুলির মধ্যে একটি।  ব্র্যান্ডেনবার্গ গেটে একটি ফ্যান ফেস্ট, যা কয়েক লক্ষ দর্শককে আকর্ষণ করে, উয়েফা ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের মতো আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতার সময় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। 

২০১৩ সালে প্রায় ৬,০০,০ বার্লিনবাসী ২,৩০০ টিরও বেশি ক্রীড়া ও ফিটনেস ক্লাবের মধ্যে একটিতে নিবন্ধিত হয়েছিল।  বার্লিন শহরটি ৬০ টিরও বেশি পাবলিক ইনডোর এবং আউটডোর সুইমিং পুল পরিচালনা করে।  বার্লিন জার্মানির বৃহত্তম অলিম্পিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। প্রায় ৫০০ শীর্ষ ক্রীড়াবিদ (সমস্ত জার্মান শীর্ষ ক্রীড়াবিদদের ১৫%) সেখানে অবস্থিত। ২০১২ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে ৪৭ জন অভিজাত ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করেন। বার্লিনাররা সাতটি সোনা, বারোটি রৌপ্য এবং তিনটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করবে। 

জার্মানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দর্শক দলের খেলাধুলার প্রতিনিধিত্বকারী বেশ কয়েকটি পেশাদার ক্লাবের বার্লিনে তাদের ভিত্তি রয়েছে। বার্লিনে অবস্থিত প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রথম বিভাগ দল হল ফুটবল ক্লাব হার্থা বিএসসি।  দলটি ১৯৬৩ সালে বুন্দেসলিগার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে বার্লিনের প্রতিনিধিত্ব করে। অন্যান্য পেশাদার দলের ক্রীড়া ক্লাবগুলির মধ্যে রয়েছে ।

তথ্যসূত্র

গ্রন্থ ও উৎসপঞ্জি 

 
 
 
 
 
 
 
 
 Daum, Andreas. Kennedy in Berlin. New York: Cambridge University Press, 2008, .

বহিঃসংযোগ 

 দাপ্তরিক ওয়েবসাইট 
 Official Website of the Berlin-Brandenburg Metropolitan Area 
 Regional directory 
 বার্লিন ভ্রমণ সহায়িকা 

জার্মানির শহর
ইউরোপের রাজধানী
বার্লিন
জার্মানির রাজ্য
সি++ (উচ্চারণ: সি প্লাস প্লাস) একটি সাধারণ-উদ্দেশ্য প্রোগ্রামিং ভাষা যা ১৯৮০ সালে সি ভাষার একটি বর্ধিতাংশ রূপ হিসেবে তৈরি করা হয়।বিয়ারনে স্ট্রোভস্ট্রুপ যুক্তরাষ্ট্রের এটিএন্ডটি বেল ল্যাবরেটরিতে এটি ডেভেলপ করেন। মূলত সিমুলা৬৭ এবং সি প্রোগ্রামিং ভাষার সুবিধাজনক বৈশিষ্ট্যগুলোর সমন্বয় সাধন করে সি++ তৈরি হয়।

এই ভাষা সময়ের সাথে উল্লেখযোগ্যভাবে সমপ্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে আধুনিক সি++ এ  নিম্ন স্তরের স্মৃতি ম্যানিপুলেশন সুবিধা ছাড়াও অবজেক্ট-ওরিয়েন্টেড, জেনেরিক এবং বিভিন্ন কার্যকরী ফিচার আছে।এটি প্রায় সবসময় একটি সংকলিত ভাষা হিসেবে প্রয়োগ করা হয়, এবং অনেক বিক্রেতা যেমন মুক্ত সফটওয়্যার ফাউন্ডেশন, এলএলভিএম, মাইক্রোসফট, ইন্টেল, ওরাকল, এবং আইবিএম সহ সি++ কম্পাইলার সরবরাহ করে, তাই এটি অনেক প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়। 

এটি একটি মধ্যম শ্রেণীর প্রোগ্রামিং ভাষা যাতে উচ্চ শ্রেণী এবং নিম্ন শ্রেণীর ভাষাগুলোর সুবিধা সংযুক্ত আছে।সি++ সিস্টেম প্রোগ্রামিং এবং এম্বেডেড, রিসোর্স-কনস্ট্রেইন্ড সফটওয়্যার এবং বৃহৎ সিস্টেম এর  কর্মক্ষমতা, দক্ষতা, এবং সহজ ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে.এছাড়াও সি++ কে অন্যান্য অনেক প্রসঙ্গে উপযোগী হিসেবে পাওয়া গেছে। এটি সর্বকালের অন্যতম জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষা এবং সফটওয়্যার শিল্পে এটি বহুল ব্যবহৃত হয়। যেমন- সিস্টেম সফটওয়্যার, অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার, ডিভাইস ড্রাইভার, এম্বেডেড সফটওয়্যার, উচ্চ মানের সার্ভার ও ক্লায়েন্ট অ্যাপ্লিকেশন, বিনোদন সফটওয়্যার যেমন- ভিডিও গেম ইত্যাদি ক্ষেত্রে সি++ ব্যবহৃত হচ্ছে।

সি++ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষাকে প্রভাবিত করেছে যার মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য হচ্ছে জাভা।

সি এর সাথে এখানে যা সংযুক্ত করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হল- প্রথমে শ্রেণী,পরবর্তীতে ভার্চুয়াল ফাংশন, অপারেটর ওভারলোডিং, মাল্টিপল ইনহেরিটেন্স, টেমপ্লেটস, ব্যতিক্রম গ্রহণ করার ক্ষমতা (exception handling), পলিমরফিজম ইত্যাদি।

সি++ ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন (আইএসও) দ্বারা প্রমিত করা হয়।সি++ প্রোগ্রামিং ভাষা প্রাথমিকভাবে ১৯৯৮ সালে আইএসও/আইইসি ১৪৮৮২:১৯৯৮ হিসেবে প্রমিত করা হয়, যা পরে সি++০৩, সি++১১, সি++১৪ এবং সি++১৭ স্ট্যান্ডার্ড দ্বারা সংশোধন করা হয়। বর্তমান সি++২০ স্ট্যান্ডার্ড নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য এবং একটি বর্ধিত আদর্শ লাইব্রেরী দ্বারা পূর্বের সকল স্ট্যান্ডার্ডকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।  ১৯৯৮ সালে প্রাথমিক প্রমিতকরণের  আগে, সি ভাষার বর্ধিতকরণ হিসেবে ড্যানিশ কম্পিউটার বিজ্ঞানী বিয়ারনে স্ট্রোভস্ট্রপ সি++ কে ডেভেলপ করেন।তিনি সি এর মতো একটি দক্ষ ও নমনীয় ভাষা তৈরী করতে চেয়েছিলেন যেটি সি এর মতই উচ্চমানের ফিচারযুক্ত হবে।২০১২ সাল থেকে সি++ তিন বছরের মুক্তির সময়সূচীতে রয়েছে এবং এর পরবর্তী মুক্তি সি++২৩ স্ট্যান্ডার্ড এর সাথে।

ইতিহাস 

আশি ও নব্বইয়ের দশকে বেশিরভাগ সফটওয়্যার ডেভেলপাররা যে প্রোগ্রামিং ভাষাটা বেশি ব্যবহার করতেন, তা হলো "সি"। সি বের হবার পর থেকে এখন পর্যন্ত অ্যাপল কিংবা পিসিতে ম্যাক ওএস, ডস, উইন্ডোজ, লিনাক্স থেকে শুরু করে এসব অপারেটিং সিস্টেমে চালিত বেশিরভাগ প্রোগ্রাম লেখা হয় সি দিয়ে। সি দিয়ে যত বড় বড় প্রোগ্রাম লেখা হয়েছে, আর কোনও প্রোগ্রামিং ভাষায় তা হয়নি।এমবডেড সিস্টেম থেকে আরম্ভ করে অপারেটিং সিস্টেম, গ্রাফিক্স অ্যাপ্লিকেশন, ক্লায়েন্ট/সার্ভার ডেটাবেজ, থ্রিডি গেমস্, ডেটা কম্প্রেশন, নেটওয়ার্কিং, ভাইরাস, এন্টিভাইরাস সহ আরও অনেক ধরনের প্রোগ্রাম লেখা হয় সি দিয়ে। কিন্তু সি দিয়ে এতো কিছু করা গেলেও বড় প্রোগ্রাম তৈরী করতে গিয়ে কিছু সমস্যা ধরা পড়ে। যেমন কোনও প্রোগ্রাম যদি বেশি বড় মানে ১ লক্ষ লাইনের উপর হয়ে যায়, তাহলে সেই প্রোগ্রামের কিছু পরিবর্তন করতে গেলে কিংবা নতুন কিছু যোগ করতে গেলে অনাকাঙ্খিত কিছু ভুলও প্রোগ্রামে যোগ হতে পারে। কেননা সি তে প্রোগ্রাম লেখার জন্য স্ট্রাকচারড কিংবা প্রসিডিউরাল প্রোগ্রামিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। আর এই পদ্ধতিতে যেভাবে ডেটা এবস্ট্রাকশন করা হয়, সেক্ষেত্রে প্রোগ্রাম বড় হয়ে গেলে সব ডেটার প্রতি ঠিকমতো নজর দেয়া যায় না। ১৯৮০ সালে এটিএন্ডটি বেল ল্যাবরেটরিজ এ ইউনিক্স কার্নেল নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে বিয়ারনে স্ট্রোভস্ট্রুপ এ ধরনের কিছু সমস্যার সম্মুখীন হোন। তখন তিনি নতুন একটা প্রোগ্রামিং ভাষা তৈরী করার চেষ্টা করেন। এই প্রোগ্রামিং ভাষা তৈরী করার সময় এর প্রাথমিক উপাদানগুলোর জন্য নতুন সিনট্যাক্স তৈরী না করে সে সময়কার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ল্যাঙ্গুয়েজ সি-টাকে বেছে নেন এবং সেই সাথে আরও কিছু ল্যাঙ্গুয়েজের ভালো ফিচার তিনি এই নতুন ল্যাঙ্গুয়েজে যোগ করেন। যেমন সিমুলা থেকে নেন অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং এর ধারণা, অ্যাডা'র জেনেরিক এর ধারণাটা যোগ করেন টেম্পেলেট হিসেবে প্রভৃতি। আর এভাবে যে নতুন প্রোগ্রামিং ভাষা তৈরী করা হয়, শুরুতে তার নাম দেয়া হয়েছিলো "C with Classes"।

১৯৮৩ সাল পর্যন্ত নতুন এই ভাষাটা শুধুমাত্র এটিএন্ডটি বেল ল্যাবরেটরিজ এর ভেতরেই ব্যবহার করা হতো। ১৯৮৩ সালের জুলাই মাসে এটাকে প্রথম এটিএন্ডটি বেল ল্যাবরেটরিজ এর বাইরে প্রোগ্রাম তৈরী করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এ বছরই "C with Classes" নামটা রিক মাসিত্তি পরিবর্তন করে রাখেন সি++। এই নামকরণের পেছনে যুক্তিটা হলো এরকম, সি তে ++ হলো ইনক্রিমেন্ট অপারেটর এবং "C with Classes" হলো সি এরই বর্ধিত ভার্সন। তাই নাম দেয়া হলো সি++।

প্রমিতকরণ

নামকরণ 

সি++ নামটি এসেছে সি নামক প্রোগ্রামিং ভাষা থেকে। সি ভাষাতে পর পর দুটি যোগ চিহ্ন ব্যবহার করার অর্থ হলো কোন কিছুর মান এক বাড়ানো। অনেকটা সেই অর্থেই সি (প্রোগ্রামিং ভাষা)-এর এক ধাপ উপরের একটি প্রোগ্রামিং ভাষা হিসেবে সি++ নামকরণটি এসেছে।তবে সি এবং সি++ এর প্রোগ্রাম কোডে অনেকটা পার্থক্য বিদ্যমান। কেননা সি হল ফাংশন নির্ভর ভাষা এবং সি++ হল বস্তু সংশ্লিষ্ট ( অবজেক্ট অরিয়েন্টেড) ভাষা। এটি মূলত সি ভাষার বর্ধিত রুপ।

ভাষা 
#include <iostream>

int main()
{
    std::cout << "Hello World!" << std::endl;
    return  0;  
}

আউটপুট : Hello World!

অপারেটর এবং অপারেটর ওভারলোডিং 
সি++ এর ৩৫টির অধিক অপারেটর আছে যাদের মধ্যে অন্যতম হল বেসিক অ্যারিথমেটিক, বিট ম্যানিপুলেশন, ইন্‌ডিরেকশন, কম্পারিজন, লজিকাল এবং অন্যান্য অপারেটর। প্রায় সব অপারেটরকেই ইউজার ডিফাইনড টাইপ এর ওপর ভিত্তি করে ওভারলোড করা যাবে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া। ব্যতিক্রমগুলো পাশের টেবিলে দেওয়া আছে। মূলত অপারেটর ওভারলোডিং এসেছে যেন ইউজার ডিফাইনড ডাটা টাইপকে বিল্ট্‌ ইন ডাটা টাইপ এর মত ব্যবহার করা যায়। এছাড়া ওভারলোডিং উচ্চতর সি++ এরও অনেক জায়গায় ব্যবহৃত হয়। যেমন, স্মার্ট পয়েন্টার। অপারেটর ওভারলোডিং করলেও  ওভারলোডেড অপারেটরের হিসাব করার অগ্রগণ্যতার পরিবর্তন ঘটে না, এমনকি অপারেটরটির অপারেন্ড এর সংখ্যাও অপরিবর্তনীয় থাকে। ওভারলোডেড"&&" এবং "||" অপারেটর তাদের সর্ট-সার্কিট মূল্যায়ন ধর্ম হারিয়ে ফেলে।

ল্যামডা এক্সপ্রেশন 
সি++ নিচের কোড ফর্ম এর মাধ্যমে ল্যামডা এক্সপ্রেশন সহায়তা দিয়ে থাকেঃ[capture](parameters) -> return_type { function_body }যদি ল্যামডা কোনো প্যারামিটার না নেয় তাহলে নিচের মতো করে () বাদ দেওয়া যায়ঃ[capture] -> return_type { function_body }সম্ভব হলে ল্যামডা এক্সপ্রেশনের রিটার্নকে স্বয়ংক্রিয় ভাবেই অনুমান করা যেতে পারে, উদাহরনঃ[](int x, int y) { return x + y; } // inferred
[](int x, int y) -> int { return x + y; } // explicit

এক্সসেপশন হ্যান্ডেলিং 
এক্সসেপশন হ্যান্ডেলিং হচ্ছে এমন এক ফিচার যেটি প্রোগ্রাম এর  রানটাইম সমস্যা বা কোন ত্রুটির জন্য এর শনাক্তকারী স্থান হতে যে স্থানে এই সমস্যা গুলোর সমাধান করা যাবে সেই পর্যন্ত যে সংযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলে।

যদিও কিছু সি++ শৈলী সহায়িকা(C++ Style Guides) যেমন গুগলের,এলএলভিএম(LLVM) এর এবং কিউটি(Qt) এর শৈলী সহায়িকা এই এক্সসেপশন এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।#include <iostream>
#include <vector>
#include <stdexcept>

int main() {
    try {
        std::vector<int> vec{3, 4, 3, 1};
        int i{vec.at(4)}; // Throws an exception, std::out_of_range (indexing for vec is from 0-3 not 1-4)
    }
    // An exception handler, catches std::out_of_range, which is thrown by vec.at(4)
    catch (std::out_of_range &e) {
        std::cerr << "Accessing a non-existent element: " << e.what() << '\n';
    }
    // To catch any other standard library exceptions (they derive from std::exception)
    catch (std::exception &e) {
        std::cerr << "Exception thrown: " << e.what() << '\n';
    }
    // Catch any unrecognised exceptions (i.e. those which don't derive from std::exception)
    catch (...) {
        std::cerr << "Some fatal error\n";
    }
}

স্ট্যান্ডার্ড লাইব্রেরি 
সি++ এর স্ট্যান্ডার্ড দুইটি অংশ নিয়ে গঠিতঃ মূল ভাষা ও স্ট্যান্ডার্ড লাইব্রেরি। সি++ এর প্রায় সকল প্রধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রোগ্রামাররা দ্বিতীয়টিকেই বেশি সুবিধাজনক হিসেবে দেখে। এটি সমগ্র টাইপস(ভেকটর,লিস্ট,ম্যাপ,সেট,অ্যারে ইত্যাদি),অ্যালগরিদম,ইনপুট-আউটপুট সুবিধা,অ্যাটোমিক সাপোর্ট,ফাইল সিস্টেম লাইব্রেরি, টাইম ইউটিলিটিস( বর্তমান সময় নির্ধারণ),সি++ এক্সেপশন ব্যবহার করে না এমন ত্রুটি রিপোর্টিং গুলোকে সি++ এক্সেপশনে রুপান্তরের পদ্ধতি, হালকা পরিমার্জিত স্ট্যান্ডার্ড লাইব্রেরির ভার্সন ইত্যাদি নিয়ে গঠিত।

সি++ এর লাইব্রেরির বড় অংশই স্ট্যান্ডার্ড টেমপ্লেট লাইব্রেরি এর  উপর নির্ভরশীল। STL কর্তৃক সরবরাহকৃত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সরঞ্জাম হলো বিভিন্ন অবজেকট এর সংগ্রহশালা হিসেবে  কন্টেইনারস,অ্যারে দ্বারা কন্টেইনারস এক্সসেস করার জন্য ইটারেটর এবং অ্যালগরিদম যা দ্বারা বিভিন্ন ছোট ছোট কাজ যেমন সার্চিং ও সর্টিং সম্পাদিত হয়।

এছাড়াও মাল্টি ম্যাপ, মাল্টি সেট ও STL কর্তৃক সরবরাহ করা হয় এবং এসকল উপাদান একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ ইন্টারফেস তৈরি করে।অর্থাৎ টেমপ্লেট ব্যবহার করে খুবই সাধারণ অ্যালগরিদম লেখা সম্ভব যা যেকোনো কনটেইনার এর সাথে বা ইটারেটর দ্বারা ডিফাইনকৃত যেকোনো ক্রমের সাথে কাজ করতে পারে।সি এর মতো করে লাইব্রেরির এই উপাদান গুলো উপলব্ধ করতে #include ডিরেক্টিভ ব্যবহার করে প্রোগ্রামে স্ট্যান্ডার্ড শিরোনাম যুক্ত করা হয়।সি++ স্ট্যান্ডার্ড লাইব্রেরি এমন ১০৫ টি স্ট্যান্ডার্ড শিরোনাম সরবরাহ করে।

উদাহরণ 
#include<iostream> //#include is the directive and iostream is a standard header

স্ট্যান্ডার্ড এর সাথে লাইব্রেরির যে একীভূতকরণ সেটির আসল নকশা করেছিলেন আলেক্সানডার স্টেপানভ যিনি বহু বছর ধরে সাধারণ অ্যালগরিদম এবং কনেটেইনারস নিয়ে গবেষণা চালিয়েছিলেন। সি++ দিয়ে শুরু করার পর তিনি বুঝতে পারলেন যে তিনি এমন এক প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ পেয়েছেন যেটা দ্বারা অতিসাধারণ অ্যালগরিদম তৈরি করা সম্ভব।

সি++ মূল সহায়িকা 
সি++ মূল সহায়িকা হলো সি++ এর আবিষ্কারক  বিয়ারনে স্ট্রোভস্ট্রুপ এবং সি++ এর আইএসও গ্রুপের উদ্যোক্তা ও চেয়ারম্যান হার্ব শাটার এর নেতৃত্বে নেওয়া একটি উদ্যোগ যেটা দ্বারা প্রোগ্রামাররা আধুনিক সি++ লেখার জন্য সি++ ১৪ এবং এর পরবর্তী ল্যাংগুয়েজ স্ট্যান্ডার্ড এর কার্যকর অনুশীলনের মাধ্যমে উপকৃত হয়; এবং সেই সাথে ডেভেলেপররাও যেন ত্রুটিপূর্ণ প্রোগ্রামিং ধরার জন্য কম্পাইলার ও স্ট্যাটিক চেকিং সরঞ্জাম ব্যবহার করে নতুন নীতি তৈরি করতে পারে সেই দিকেও লক্ষ্য রাখা হয়।

সি++ মুল সহায়িকার প্রধান লক্ষ্য হলো দক্ষতার সাথে ধারাবাহিকভাবে সি++ লেখা এবং এর রিসোর্সগুলোকে নিরাপদ রাখা।

২০১৫ সালে সিপিপিকন(CPPCon) এর উদ্বোধনী মূল নোটে সি++ মূল সহায়িকা ঘোষণা করা হয়।

উপোযোগিতা 
কম্পাইলার বিক্রেতাদের বৃহত্তর স্বাধীনতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সি++ স্ট্যান্ডার্ড কমিটি  নেম ম্যাংগ্লিং,এক্সসেপশন হ্যান্ডেলিং এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্যগুলো বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট নির্দেশনা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তের একটি নেতিবাচক দিক হলো যে বিভিন্ন কম্পাইলার দ্বারা তৈরি অবজেক্ট কোডগুলোর মধ্যে অসঙ্গতি পরীলক্ষিত হবে বলে ধারণা করা হয়।যদিও নির্দিষ্ট মেশিন ও অপারেটিং সিস্টেম এর জন্য কম্পাইলার গুলোকে আদর্শ মানদন্ডে আনার একটা প্রচেষ্টা করা হয়েছিল যা এখন প্রায় পরিত্যক্ত বলে মনে হয়।

সি দ্বারা 
সি++ কে প্রায়ই সি এর সুপারসেট হিসেবে ধরা হয় যেটা পুরোপুরিভাবে সত্য নয়। বেশির ভাগ সি কোড  সি++ এ কম্পাইল করতে পারলেও কিছু সংখ্যক ভিন্নতার কারণে কিছু কিছু কার্যকর সি কোড সি++ এ অকার্যকর হিসেবে দেখায়। উদাহরণস্বরূপ, সি *void থেকে অন্য পয়েন্টার টাইপ এর মধ্যকার অন্তর্নিহিত রুপারন্তর সমর্থন করলেও সি++ সেটা করে না।এছাড়াও সি++ নতুন নতুন কিওয়ার্ড সঙ্গায়িত করতে পারে যেমন newএবং classযেখানে সি প্রোগ্রামে এগুলোকে আইডেনটিফায়ার(উদাহরণস্বরুপ ‘ভ্যারিয়েবল এর নাম’) হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

১৯৯৯ সালে সি স্ট্যান্ডার্ড রিভিশন (C99) দ্বারা কিছু কিছু অসংগতি অপসারিত হয় যেটা বর্তমানে সি++ এর বৈশিষ্ট্য যেমন লাইন কমেন্টস (/ /) এবং মিশ্রিত কোড এর ডিকলেরেশন সমর্থন করে।অপরদিকে C99 এমন কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে যেগুলো সি++ আগে সমর্থন করত না।

সি এবং সি++ কোড একত্রে মিশাতে, যেসকল ফাংশন ডিক্লেয়ার বা সঙ্গায়িত করতে হবে সেটা অবশ্যই সি ও সি++ ২ টাতেই ব্যবহার করতে হবে। এই ফাংশনগুলো ডিক্লেয়ার করতে অবশ্যই সি লিংকেজ ব্যবহার করতে হবে যেখানে এই লিংকেজকে আলাদা বাড়তি extern "C" {/*...*/}  ব্লকের সাথে প্রতিস্থাপন করতে হবে।

সমালোচনা 
ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও, কিছু উল্লেখযোগ্য প্রোগ্রামার লিনুস তোরভাল্ডস,রিচার্ড স্টলম্যান,জশুয়া ব্লক,কেন টম্পসন এবং ডোনাল্ড নুথ সি++ ভাষার সমালোচনা করেছেন।

জশুয়া ব্লক এর মতে সি++ এর সবচেয়ে সমালোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে প্রোগ্রামিং ভাষা হিসেবে এর অনুভূত জটিলতা।

তিনি বলেন, “আমি মনে করি সি++ কে তার জটিলতার সীমা ছাড়িয়ে শক্তভাবে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে এবং এখনো অনেকেই এটা ব্যবহার করে প্রোগ্রামিং করে। আমার দেখা অনেক দোকান আছে যারা সি++ ব্যবহার করছে বাধ্য হয়ে।তারা বলে যে তারা সি++ ব্যবহার করছে কিন্তু তারা বিভিন্ন ফিচার যেমন মাল্টিপল-ইম্পিলিনেশন ইনহেরিটেন্স,অপারেটর ওভারলোডিং ইত্যাদি ব্যবহার করছে না। এরকম আরো অনেকগুলো ফিচার আছে যেগুলো সি++ এ ব্যবহার খুবই কষ্টসাধ্য কারণ এর কোডিং ফলাফলের জটিলতা অত্যন্ত বেশি।আর আমি মনে করি না যে এটা একজন প্রোগ্রামার হিসেবে আপনার জন্য  একটা ভালো সূচনা। ”

ডোনাল্ড নুথ ১৯৯৩ সালে সি++ এর প্রাক-প্রমিতকরনে মন্তব্য করে এডজার ডিজকস্ট্রা সম্পর্কে কটাক্ষ করে বলেন যে “তিনি সি++ এ প্রোগ্রামিং এর কথা চিন্তা করলেই বিষয়টি তাকে শারীরিক ভাবে অসুস্থ করে তোলে।”

“আজ তাদের সাথে আমার যে সমস্যা আছে তা হচ্ছে... সি++ খুবই জটিল। এই মুহূর্তে, আমার পক্ষে পোর্টেবল কোড লেখা অসম্ভব যেগুলো আমি মনে করতাম সব সিস্টেমে কাজ করবে যদি না আমি তাতে উদ্ভট কোন বৈশিষ্ট্য যোগ করি।যখন সি++ ডিজাইনারদের কাছে সমস্যা সমাধানের জন্য দুইটি আলাদা আলাদা ধারণা আসল, তারা বলল যে তারা সেই দুইটি নিয়েই কাজ করবে। আর এই জন্যে সি++ আমার রুচিতে অদ্ভুত লাগে।”

কেন টম্পসন, যিনি বেল ল্যাবস-এর স্ট্রোভস্ট্রুপ এর সহকর্মী ছিলেন, তিনি সি++ সম্পর্কে মূল্যায়ন করেছেন:

“এর অবশ্যই কিছু ভালো দিক আছে।কিন্তু সব মিলিয়ে আমি মনে করি যে এটা একটি খারাপ প্রোগ্রামিং ভাষা।এটা অর্ধেক কাজ করে এবং এটা শুধু পরস্পর বিরোধী কিছু ধারণার আবর্জনার স্তুপ।যাদের কে আমি চিনি, হোক সে ব্যক্তি বা কর্পোরেট, একটি উপসেট নির্বাচন করে এবং এই উপসেটগুলো আলাদা।আর তাই এটি অ্যালগরিদম পরিবহনের জন্য ভালো ভাষা নয়।এটি খুবই বড় এবং জটিল।এবং এটি অবশ্যই একটি পরিষদ দ্বারা তৈরি। স্ট্রাস্ট্রাপ বছরের পর বছর ধরে প্রচারণা চালিয়েছেন, যে কোন ধরনের প্রযুক্তিগত অবদানের বাইরে, এটিকে গ্রহণ এবং ব্যবহার করার জন্য।সকল ফিচার যা একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এ থাকতে পারে তিনি সেগুলর কোনোটাকেই না বলেননি।বরং এটাকে সব ফিচারের একটা আখড়া করা হয়েছে যেটাকে আসলেই পরিষ্কারভাবে ডিজাইন করা হয়নি। আর আমি মনে করি এভাবে এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এর যথেষ্ট ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।”

যাইহোক, বেল ল্যাবসের একজন সহকর্মী ব্রায়ান কারনিগান উপর্যুক্ত সমালোচনা নিয়ে বিতর্ক করেছেন:

“সি++ অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়েছে। ... অনেকে ই বলে সি++ অনেক বড় এবং খুব জটিল ইত্যাদি, কিন্তু আসলে এটি একটি শক্তিশালী ভাষা এবং সেখানে যা আছে তা একটি সঠিক কারণেই আছে: এটা কেউ এলোমেলো আবিষ্কার করেনি।আসলে মানুষ বাস্তব বিশ্বের সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করছে।আমরা  এখন যে সব প্রোগ্রাম গ্রহণ করি তার বেশির ভাগই হচ্ছে সি++ প্রোগ্রাম।”

স্ট্রোভস্ট্রুপ নিজেই মন্তব্য করেছেন যে সি++ প্রোগ্রামের লজিকগুলোর অর্থ এর সিনট্যাক্স এর  চেয়ে অনেক পরিষ্কার।

সি++ এর অন্যান্য সমস্যার তুলনামূলক কম্পাইলেশন টাইম, রিফ্লেকশন ও গার্বেজ কালেকশন ফিচার এর অভাব এবং বিশেষ করে টেমপ্লেট মেটাপ্রোগ্রামিং হতে ভার্বোস ত্রুটি বার্তা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

তথ্যসূত্র

বহিঃসংযোগ 
 

 JTC1/SC22/WG21 – The ISO/IEC C++ Standard Working Group
 n3242.pdf – Final Committee Draft of "ISO/IEC IS 14882 – Programming Languages – C++" (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১১)
 A paper by Stroustrup showing the timeline of C++ evolution (১৯৭৯-১৯৯১)
 Bjarne Stroustrup's C++ Style and Technique FAQ
 C++ FAQ Lite by Marshall Cline
 C++ FQA Lite – Yossi Kreinin
  Interview with Bjarne Stroustrup.
 
 
 Code practices for not breaking binary compatibility between releases of C++ libraries (from KDE Techbase)
 The Standard C++ Foundation is a non-profit organization that promotes the use and understanding of standard C++. Bjarne Stroustrup is a director of the organization.

সি++
অ্যালগোল প্রোগ্রামিং ভাষা পরিবার
সি++ প্রোগ্রামিং ভাষা পরিবার
ক্লাস-ভিত্তিক প্রোগ্রামিং ভাষা
ক্রস-প্ল্যাটফর্ম সফটওয়্যার
উচ্চস্তরের প্রোগ্রামিং ভাষা
বস্তু-সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামিং ভাষা
ভিটামিন এ হলো মূলত রেটিনল নামক রাসায়নিক যৌগ যা ডায়েট সহায়ক হিসাবে ব্যবহার হয়। ভিটামিন এ আবিষ্কার হয় ১৯৩১ সালে এবং প্রথম পৃথকীকরণ ও তৈরি হয় যথাক্রমে ১৯৩২ ও ১৯৪৭ সালে।

উৎস 
 উদ্ভিদজাত উৎস: গাজর, কুমড়ো, পাকা পেঁপে
 প্রোভিটামিন: ক্যারটিন
 প্রাণীজাত উৎস: মাংশাষী প্রাণীর (যেমন কড, হ্যলিবাট, হাঙর ইত্যাদি মাছের) যকৃৎ

প্রয়োজনের পরিমান 
পূর্ণবয়স্কের খাদ্যে নিম্নসীমা:দৈনিক অন্তত ৭০০(মহিলা) ও ৯০০(পুরুষ) মাইক্রোগ্রাম
পূর্ণবয়স্কের খাদ্যে উর্দ্ধসীমা:দৈনিক সর্বাধিক ৩০০০(মহিলা ও পুরুষ) মাইক্রোগ্রাম

শরীরগত ক্রিয়া 
রেটিনল জারিত হয়ে রেটিনাল ও রেটিনোয়িক অ্যাসিড তৈরি হয়।

দৃষ্টি

আবরণী কলা

অনাক্রম্যতন্ত্র

পুরুষ জনন তন্ত্র

রক্তসৃষ্টি

অভাবজনিত রোগ 
১। রাতকানা ( চোখে কম দেখা )

জেরপ্থ্যালমিয়া

রাতকানা রোগ বা রাত্র্যান্ধতা

ভিটামিন "এ" এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়ে থাকে। রাতকানা রোগীরা দিনের আলোতে স্বাভাবিক  ভাবেই  চলাচল  করতে পারে  কিন্তু  রাতের বেলা  অনেক সময়ে সমস্যা হয়। অনেকে একেবারে দেখে না আবার  অনেকে ভুল দেখে ।

আধিক্য

ক্যারটিনেমিয়া

হাইপারভিটামিনোসিস এ

ভিটামিন এ বিষক্রিয়া

তথ্যসূত্র 

ভিটামিন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অপরিহার্য ঔষধ
সাইক্লোহেক্সিন
ফিউচারামা ম্যাট গ্রোয়েনিং এর তৈরি একটি মার্কিন কার্টুন সিরিজ। ফ্রাই নামের এক পিৎজা ডেলিভারিকারী ২০০০ সালের জানুয়ারি ১শে ডিসেম্বর একটি হিমাগারে (যেখানে মানুষের মৃতদেহ ভবিষ্যতে পুনর্জাগরণের জন্য সংরক্ষণ করা হয়), ঘুমিয়ে পড়ে, এবং ঘটনা চক্রে ২৯৯৯ সালের ৩১ তারিখে জেগে উঠে। সেখানে বৃদ্ধ বিজ্ঞানী প্রফেসর ফার্ন্সওয়ার্থ, নভোযান পাইলট লীলা, রবোট বেন্ডার, ডাক্তার জয়েডবার্গ, এদের সাথে প্ল্যানেট এক্সপ্রেস নামক একটি পরিবহন সংস্থায় ফ্রাই এর জীবনকে নিয়েই এই কার্টুনটির কাহিনী গড়ে উঠেছে।

ফক্স নেটওয়ার্কে ১৯৯৯ সালের মার্চ ২৮ হতে ২০০৩ সালের আগস্ট ১০ তারিখ পর্যন্ত এটি সম্প্রচারিত হয়। সিরিজটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ভক্তদের আন্দোলনের মুখে সিরিজটি পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২০০৬ সালের জুন ২২ তারিখে ঘোষণা করা হয় যে, ২০০৮ সাল হতে এটি কমেডি সেন্ট্রাল চ্যানেলে সম্প্রচারিত হবে।

তথ্যসূত্র 

অ্যানিমেটেড টেলিভিশন ধারাবাহিক
মার্কিন টেলিভিশন ধারাবাহিক
অ্যানি পুরস্কার বিজয়ী
ইংরেজি ভাষার টেলিভিশন অনুষ্ঠান
সংখ্যারেখা শব্দটি সন্ধিবিচ্ছেদ করলে দ্বারায় 'সংখ্যা+রেখা' অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট রেখার মাধ্যমে সংখ্যাগুলো প্রকাশ করাকে সংখ্যারেখা বা NUMBER LINE বলে।একটি সংখ্যারেখায় শুধুমাত্র বাস্তব সংখ্যাগুলোকেই দেখানো হয়।

বাস্তব সংখ্যাকে জ্যামিতিক আকারে প্রকাশের উপায় হচ্ছে সংখ্যারেখা। সংখ্যারেখা একটি সরলরেখা যা দু'দিকেই অসীম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর মধ্যবিন্দুকে শূন্য ধরে ডানদিকে ধনাত্মক এবংবামদিকে ঋণাত্মক সংখ্যাগুলিকে বসিয়ে বাস্তব সংখ্যা কে জ্যামিতিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। ঐতিহাসিকদের মতে প্রাচীন মিশরে আনুমানিক চার হাজার বছর আগে ভূমি বা

জমি জরিপ ও নির্মাণ কার্যের জন্য বিভিন্ন ধ্যান-ধারণা ব্যবহার করা হতো। প্রাচীন মিশর, ব্যাবিলন, ভারত এবং চীনেও

বিভিন্ন ব্যবহারিক কাজে জ্যামিতিক তথ্য প্রয়োগের নিদর্শন রয়েছে। তবে প্রাচীন গ্রীক সভ্যতার যুগেই জ্যামিতির প্রণালীবদ্ধ

রূপটি সুস্পষ্টভাবে লক্ষ করা যায়।

মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্রীক প-িত ইউক্লিড আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ অব্দে জ্যামিতিক

পরিমাপ পদ্ধতির সংজ্ঞা ও বিভিন্ন সূত্রসমূহকে ধারাবাহিকভাবে সুবিন্যস্ত করে একটি অসাধারণ গ্রন্থ রচনা করেন। ১৩টি

খ-ে প্রণীত এই গ্রন্থের নাম Elements। গ্রন্থটি আধুনিক জ্যামিতির ভিত্তিস্বরূপ।

সংখ্যারেখার মাধ্যমে পূর্ণসংখ্যার চার প্রক্রিয়ার ধারণা 

 একটি সরল রেখা এঁকে তার উপরের যে কোনো বিন্দুকে ০ দ্বারা চিহ্নিত করো।
 ০ এর ডানদিকে দ্বিতীয় একটি বিন্দুকে ১ দ্বারা চিহ্নিত করো।
 ০ এবং ১ হিসেবে চিহ্নিত এই বিন্দুগুলোর মধ্যে দূরত্বকে একক দূরত্ব বলা হয়।
 এবারে এই সরলরেখায় ১ এর ডানদিকে এবং ১ থেকে একক দূরত্বে একটি বিন্দুকে ২ দ্বারা চিহ্নিত করো।
 এইভাবে সরলরেখায় ৩, ৪, ৫, ... হিসেবে ইউনিট দূরত্বে বিন্দু চিহ্নিত করো।
 এই পদ্ধতিতে তুমি ডানদিকে ০ এবং ০ থেকে বড় সকল পূর্ণ সংখ্যা চিহ্নিত করতে পারবে।

এখানে উপরের সংখ্যারেখার ০ এবং তার ডান পাশের অংশ নিয়ে আমরা আলোচনা করব।

এখানে ২ এবং ৪ এর মধ্যে দূরত্ব কত? অবশ্যই এটি ২ একক। তুমি কি ২ এবং ৬ এর মধ্যে, ২ এবং ৭ এর মধ্যে দূরত্ব বলতে পারবে?

সংখ্যারেখায় তুমি দেখতে পাবে যে ৭ নম্বরটি ৪ এর ডানদিকে রয়েছে। এই ৭ নম্বরটি ৪ এর চেয়ে বড় অর্থ্যাৎ ৭ > ৪। ৮ নম্বরটি ৬ এর ডানদিকে রয়েছে এবং ৮ > ৬।

এই পর্যবেক্ষণ গুলি আমাদের বলতে সাহায্য করে যে, যে কোনো দুটি পূর্ণ সংখ্যার মধ্যে, ডানদিকের সংখ্যাটি বৃহত্তর সংখ্যা। আমরা আরও বলতে পারি যে, বাম দিকের পূর্ণ সংখ্যাটি ছোট সংখ্যা।

উদাহরণস্বরূপ, ৪ < ৯; ৯ এর বাম দিকে ৪ আছে। একইভাবে, ১২ > ৫; ১২ হলো ৫ এর ডানদিকে।

এবারে তুমি ১০ এববং ২০ সম্পর্কে  মতামত দাও।

সংখ্যারেখায় ৩০, ১২, ১৮ চিহ্নিত করো। সবচেয়ে দূরে বাম দিকে কোন সংখ্যা? তুমি কি ১০০৫ এবং ৯৭৫৬ থেকে বলতে পারো, কোন নম্বরটি অন্য নম্বরের তুলনায় ডানদিকে হবে?

সংখ্যারেখায় ১২ এর পরের পূর্ণ সংখ্যা এবং  ৭-এর আগের পূর্ণ  সংখ্যা চিহ্নিত করো।

সংখ্যারেখায় যোগ 
সংখ্যারেখায় পূর্ণ সংখ্যার যোগ দেখানো যেতে পারে। ৩ এবং ৪ এর যোগ দেখা যাক।

৩ থেকে শুরু করো। যেহেতু আমরা এই সংখ্যার সাথে ৪ যোগ করি, তাই ডানদিকে ৪ টি লাফ দাও; ৩ থেকে ৪, ৪ থেকে ৫, ৫ থেকে ৬ এবং ৬ থেকে ৭ পর্যন্ত (উপরের চিত্রে প্রদর্শিত)। ৪টি লাফের শেষ অবস্থান হবে ৭-এ।

সুতরাং, ৩ এবং ৪ এর যোগফল হবে ৭।  অর্থাৎ ৩ + ৪ = ৭

সংখ্যারেখা ব্যবহার করে ৪ + ৫, ২ + ৬, ৩ + ৫ এ বং ১ + ৬ এই যোগফলগুলি চিহ্নিত করো।

সংখ্যারেখায় বিয়োগ 
দুটি পূর্ণ সংখ্যার বিয়োগ ও সংখ্যারেখায় দেখানো যেতে পারে। এসো ৭-৫ বের করি।

৭ থেকে শুরু করি। যেহেতু আমরা এই সংখ্যার ৫ বিয়োগ করব, তাই ইহা বামদিকে ১ টি লাফে ১ একক যাবে।

এরূপ ৫টি লাফে ২ বিন্দুতে গিয়ে পৌঁছবে।

সুতরাং ৭ এবং ৫ এর বিয়োগফল হবে ২। অর্থাৎ ৭ - ৫ = ২

সংখ্যারেখা ব্যবহার করে ৮-৩, ৬-২ এবং ৯-৬ এই বিয়োগফলগুলি চিহ্নিত করো।

সংখ্যারেখার মাধ্যমে গুণ 
এখন সংখ্যারেখায় পূর্ণ সংখ্যার গুণ দেখতে পাচ্ছি।

সংখ্যারেখা ব্যবহার করে এসো আমরা ৩ × ৪ বের করি।

০ থেকে শুরু করো, ডানদিকে একবারে ৩ টি একক লাফ দাও, এইরকম ৪ টি লাফ দিতে হবে।

কোথায় পৌঁছাবে বলো তো? ১২ তে।

তাই, আমরা বলি, ৩ × ৪ = ১২।

সংখ্যারেখা ব্যবহার করে ৬ × ২, ৬ × ৭ এবং ৫ × ৩ এই গুণফলগুলি নির্ণয়  করো।

সংখ্যারেখার মাধ্যমে ভাগের ধারণা 
সংখ্যারেখায় আমরা যোগ, বিয়োগ ও গুণের ধারণা দেখেছি। এবারে দেখবো ভাগের ধারণা। ভাগ অর্থ ভাজ্য

থেকে বারবার করে ভাজককে বিয়োগ করা। এবং সবশেষে আমরা ভাজকের চেয়ে ছোট একটা সংখ্যায় পৌঁছালে সেটাকেই ভাগশেষ বলি।

এববারে  তোমরা সংখ্যারেখার মাধ্যমে ১৩ কেকে ৪ দিয়ে ভাগ করে ভাগফল ও ভাগশেশেষ  নির্ণয়  করো।

চলো সংখ্যারেখার মাধ্যমে ২ কে ০ দিয়ে ভাগ করি। 

এখানে, ভাজ্য = ২ এবং ভাজক = ০। ফলে, ২ থেকে ০ দৈর্ঘ্যের লাফ যতবারই দেওয়া হোক অর্থাৎ যতবারই ০ বিয়োগ করা হোক অবস্থান ২ ই হবে। কাজেই কখনোই এই বিয়োগ শেষ হবে না। ফলে ভাগ প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে। কোনো ভাগফলও পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ, ভাগ প্রক্রিয়ার সংজ্ঞা অনুসারে কোনো ভাগফল পাওয়া যাচ্ছে না।

একইভাবে ১, ৩, ৪, ৫, ৬, ১২ এরকম সব সংখ্যাকেই ০ দিয়ে ভাগ করলে আমরা অসংজ্ঞায়িত (Undefined)

বলবো।

কিন্তু, ০ কে ০ দিয়ে ভাগ করলে কী হবে?

এবারে কিন্তু একটু অন্যরকম ঘটনা ঘটল।

এখানে, ভাজ্য = ০ এবং ভাজক = ০। ফলে, ০ থেকে ০ দৈর্ঘ্যের লাফ যতবারই দেওয়া হোক অর্থাৎ যতবারই

০ বিয়োগ করা হোক অবস্থান ০ ই হবে। এমনকি কোনোরকম লাফ না দিলে অর্থাৎ একবারও ০ বিয়োগ না

করলেও একই ঘটনা ঘটবে। তাই ভাগফল ০, ১, ২, ৩, ৮, ১৫, ১৬ এভাবে অনেক কিছুই হতে পারে। এক্ষেত্রে

একটি নির্দিষ্ট ভাগফল নির্ণয় করা সম্ভব নয়।

একারণে- ০ কে ০ দিয়ে ভাগ করলে সেটাকে আমরা অনির্ণেয় (Indeterminate) বলি।

সংখ্যা
জ্যামিতি
প্রাথমিক গণিত
বাস্তব সংখ্যা
একটি অবাস্তব সংখ্যা হলো অবাস্তব একক  দ্বারা গুণিত একটি বাস্তব সংখ্যা, সংখ্যাটিকে  দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা হয়। অবাস্তব সংখ্যা  এর বর্গ হল । উদাহরণস্বরূপ,  একটি অবাস্তব সংখ্যা, এবং এর বর্গ হল । সংজ্ঞা অনুসারে, শূন্যকে বাস্তব এবং অবাস্তব উভয় সংখ্যা হিসেবেই গণ্য করা হয়।

মূলত ১৭ শতকে র‍্যনে দেকার্ত অবাস্তব সংখ্যাকে একটি অবমাননাকর শব্দ হিসাবে তৈরি করেছিলেন এবং এটি তখন কাল্পনিক বা অকেজো বিষয় হিসাবে বিবেচিত হতো, পরবর্তীতে অবাস্তব সংখ্যার ধারণাটি লেওনার্ড অয়লার (১৮ শতকে) এবং ওগ্যুস্তাঁ-লুই কোশি এবং কার্ল ফ্রেডরিখ গাউসের (১৯ শতকের গোড়ার দিকে) কাজের অবদানের ফলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে।

একটি অবাস্তব সংখ্যা  কে বাস্তব সংখ্যা -এর সাথে যোগ করে  গঠনের একটি জটিল সংখ্যা তৈরি করা যেতে পারে, যেখানে বাস্তব সংখ্যা  এবং  কে যথাক্রমে, জটিল সংখ্যার বাস্তব অংশ এবং অবাস্তব অংশ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।

ইতিহাস 
যদিও গ্রীক গণিতবিদ এবং প্রকৌশলী হিরো অব আলেকজান্দ্রিয়াকে ঋণাত্মক সংখ্যার বর্গমূলের হিসাব নিকাশের প্রথম প্রবর্তক হিসেবে উল্লেখ করা হয়, রাফায়েল বোমবেল্লিই প্রথম ১৫৭২ সালে জটিল সংখ্যার গুণের নিয়মকানুন নির্ধারণ করেছিলেন, তবে ধারণাটি ইতোপূর্বে জিরোলামো কার্দানোর রচনায় মুদ্রিত হয়েছিল। সেই সময়ে, শূন্যের মতো অবাস্তব সংখ্যা এবং ঋণাত্মক সংখ্যাগুলির ধারণাও পরিষ্কার ছিলো না এবং কেউ কেউ এগুলোকে কাল্পনিক বা অকেজো হিসাবে বিবেচনা করতো। অন্যান্য অনেক গণিতবিদ ধীরে ধীরে অবাস্তব সংখ্যার ব্যবহার ও প্রয়োগ করতে শুরু করেছিলেন, যার মধ্যে র‍্যনে দেকার্তও ছিলেন, যিনি তার লা জিওমেট্রি গ্রন্থে এসম্পর্কে লিখেছিলেন এবং সেখানে কাল্পনিক/অবাস্তব শব্দটি  অবমাননাকর শব্দ হিসেবে তৈরি করেছিলেন। লেওনার্ড অয়লার (১৭০৭-১৭৮৩) এবং কার্ল ফ্রেডরিখ গাউস (১৭৭৭-১৮৫৫)-এর গবেষণার আগ পর্যন্ত অবাস্তব সংখ্যার ব্যবহার ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়নি। একটি সমতলে বিন্দু হিসাবে জটিল সংখ্যার জ্যামিতিক তাৎপর্য প্রথম বর্ণনা করেছিলেন ক্যাসপার ওয়েসেল (১৭৪৫-১৮১৮)।

১৮৪৩ সালে, উইলিয়াম রোয়ান হ্যামিল্টন একটি সমতলে অবাস্তব সংখ্যার অক্ষের ধারণাকে চতুর্মাত্রিক কল্পনার চার-মাত্রিক স্থান পর্যন্ত প্রসারিত করেন যেখানে উপস্থিত তিনটি মাত্রা জটিল ক্ষেত্রের অবাস্তব সংখ্যার ধারণার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

জ্যামিতিক ব্যাখ্যা 

জ্যামিতিকভাবে, কাল্পনিক সংখ্যাগুলো জটিল সংখ্যা সমতলের উল্লম্ব অক্ষে পাওয়া যায়, যা তাদেরকে বাস্তব অক্ষের সাথে লম্বভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ দেয়। কাল্পনিক সংখ্যাগুলো দেখার একটি উপায় হল একটি আদর্শ সংখ্যা রেখাকে ডানদিকে ধনাত্মকভাবে বৃদ্ধি এবং বাম দিকে ঋণাত্মকভাবে বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচনা করে। -অক্ষের উপর , একটি -অক্ষ আঁকা যেতে পারে যেটি "ধনাত্মক" দিকে উপরে অগ্রসর হয়; "ধনাত্মক" কাল্পনিক সংখ্যাগুলোর মান তখন উপরের দিকে বৃদ্ধি পেতে থাকে, এবং "ঋণাত্মক" কাল্পনিক সংখ্যাগুলোর মান নীচের দিকে বৃদ্ধি পায়। এই উল্লম্ব অক্ষকে প্রায়ই "অবাস্তব/কাল্পনিক অক্ষ" বলা হয়ে থাকে এবং এটিকে   অথবা  দিয়ে চিহ্নিত করা হয়।

এই উপস্থাপনায়,  দ্বারা উৎস থেকে ১৮০ ডিগ্রী ঘূর্ণন বুঝানো হয়, যা একটি অর্ধ বৃত্ত।  দ্বারা এটিকে গুন করলে উৎস থেকে ৯০ ডিগ্রি ঘূর্ণন বুঝানো হয় যা একটি বৃত্তের এক চতুর্থাংশ। এই দুটি সংখ্যাই  এর বর্গমূলঃ, । জটিল সংখ্যার ক্ষেত্রে, প্রত্যেক -এর জন্য, -এর n-তম বর্গমূল  রয়েছে, তার অর্থ হলো , এটিকে ঐক্যমূল বলা হয়। প্রথম -তম মূল দ্বারা এটিকে গুন করলে আমরা উৎস থেকে  ডিগ্রী ঘূর্ণন দেখতে পাই।

একটি জটিল সংখ্যা দ্বারা গুণ করা আর উৎস থেকে জটিল সংখ্যার আরগুমেন্টের সমান ঘূর্ণন এবং এটির মানের সমান স্কেলিং একই জিনিস।

ঋণাত্মক সংখ্যার বর্গমূল 
অবাস্তব সংখ্যাগুলোকে ঋণাত্মক সংখ্যার বর্গমূলের মূল মান হিসেবে প্রকাশ করার সময় সাবধানতা অবলম্বন করা উচিতঃ

এটি কখনও কখনও এভাবেও লেখা হয়ঃ

গাণিতিক ভেলকি ঘটে যখন  প্রমাণ করা যায়না যেখানে চলকগুলো সঠিকভাবে সীমাবদ্ধ থাকেনা। এক্ষেত্রে, সমতায় পৌঁছানো যায়না কারণ এখানে দুটি সংখ্যাই ঋণাত্মক, এটিকে এভাবে দেখানো যায়ঃ

যেখানে  এবং  উভয়ই ধনাত্মক বাস্তব সংখ্যা।

আরও দেখুন 

 অক্টোনিয়ন
 –১

টীকা

তথ্যসূত্র

গ্রন্থপঞ্জি 

 , (ইংরেজি ভাষায়)। কাল্পনিক অভিব্যক্তির বিভিন্ন প্রয়োগ ব্যাখ্যা করেছে।

বহিঃসংযোগ 

 How can one show that imaginary numbers really do exist? – নিবন্ধটিতে অবাস্তব সংখ্যার অস্তিত্ব নিয়ে আলোচনা করে।
 5Numbers programme 4 বিবিসি রেডিও ৪ কার্যক্রম।
 Why Use Imaginary Numbers? কাল্পনিক সংখ্যার মৌলিক ব্যাখ্যা এবং ব্যবহার।

সংখ্যা
জটিল সংখ্যা
অটোডেস্ক থ্রিডিএস ম্যাক্স, প্রাক্তন নাম থ্রিডি স্টুডিও ম্যাক্স () হল একটি পেশাদারী থ্রিডি কম্পিউটার গ্রাফিক্স প্রোগ্রম যার মাধ্যমে থ্রিডি এনিমেশন, মডেল, গেম এবং ইমেজ তৈরি করা হয়। সফটওয়্যারটি তৈরি করেছে অটোডেক্স মিডিয়া অ্যান্ড এনটারটেইনমেন্ট যার আগে নাম ছিল যথাক্রমে ডিসক্রিট এবং কাইনেটিক্স।

এই সফটওয়্যারটির মাধ্যমে ত্রিমাত্রিক অ্যানিমেশন এবং টেলিভিশন এবং সিনেমার জন্য বিভিন্ন স্পেশাল এফেক্ট তৈরি করা যায়, তবে কম্পিউটার গেম শিল্পেই এটি সর্বাধিক ব্যবহার হয়। সফটওয়্যারটি কেবলমাত্র উইনডোজ প্ল্যাটফর্মেই ব্যবহার করা যায়। সফটওয়্যারটিতে উন্নত মানের শেডার, রেডিওসিটি, পার্টিকেল সিস্টেম, গ্লোবাল ইলিউমিনেসন, সম্পূর্ণ পরিবর্তনযোগ্য ইউজার ইন্টারফেস, এবং একটি স্ক্রিপটিঙ ভাষা ম্যাক্সস্ক্রিপ্ট রয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য কোম্পানির তৈরি প্রচুর প্লাগ ইন সফটওয়্যারও পাওয়া যায় যা আলাদা ভাবে কিনতে হয়।

সাধারনভাবে চার ধরনের মডেলিং এই সফটওয়্যারটির মাধ্যমে করা যায় যেমন পলিগণ মডেলিং , নার্বস মডেলিং, সারফেস এবং প্যাচ মডেলিং এবং প্রিডিফাইনড্ বস্তু দিয়ে মডেলিং। সফটওয়্যারটি বিভিন্ন বিখ্যাত সিনেমাতে স্পেশাল এফেক্ট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে যেমন ডাই অ্যানাদার ডে, জুরাসিক পার্ক, মাইনরিটি রিপোর্ট, মিশন ইম্পসিবল: ২, স্টার ওয়ার্স:এপিসোড ৩ রিভেঞ্জ অফ দ্য সিথ, দ্য মমি, দ্য ম্যাট্রিক্স রিলোডেড প্রভৃতি। এই সফটওয়্যারটির সাহায্যে তৈরি কয়েকটি কম্পিউটার গেম হল ডায়াবলো ২, হাফ লাইফ, হ্যালো ২, মাফিয়া, মেডাল অফ অনার, নিড ফর স্পীড, ম্যাক্স পেইন প্রভৃতি। বর্তমান এই সফটওয়্যারটির ২০১০ সংস্করন প্রকাশিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র

বহিঃসংযোগ 

 
 Autodesk 3ds Max
 Autodesk 3ds Max Design
 History of 3ds Max
 Pre-history of 3ds Max
 Gary Yost's website
 The History of 3D Studio – Tom Hudson interview
 The History of 3D Studio – Gary Yost interview
 Demo of 3D Studio "THUD" prototype from November 1988 - Tom Hudson

১৯৯০-এর সফটওয়্যার
৩ডি গ্রাফিক্স সফটওয়্যার
৩ডি অ্যানিমেশন সফটওয়্যার
অটোডেস্ক
অ্যানিমেশন সফটওয়্যার
বিক্রম ঘোষ(জন্ম ২০শে অক্টোবর ১৯৬৬) ভারতীয় বাঙালি তবলা বাদক। তিনি তবলাগুরু শঙ্কর ঘোষের পুত্র। তিনি হিন্দুস্থানী শাস্ত্রীয় সঙ্গীত এবং ফিউশন সঙ্গীত প্রস্তুত করেছেন। তার সঙ্গীত গভীরভাবে পাতিয়ালা ঘরানার, খেয়ালওঠুংরি দ্বারা প্রভাবিত। বিক্রম ঘোষ সঙ্গীত এবং সংস্কৃতিকে নতুন ভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য পরিচিত; তিনি সঙ্গীত ঘরানার একটি সুবিশাল ক্ষেত্রে নিজেকে সংপৃক্ত করেছেন,শাস্ত্রীয়, রক, আধুনিক , ফিউশন সঙ্গীত থেকে নিয়ে  চলচ্চিত্রের সঙ্গীত অবধি।

প্রারম্ভিক জীবন 
বিক্রম ঘোষ পশ্চিম বঙ্গের, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।তার পিতা তবলাগুরু পণ্ডিত শঙ্কর ঘোষ ও মা শাস্ত্রীয় গায়িকা শ্রীমতী সংযুক্তা ঘোষ। তিনি লা মারটেনিয়ার কলকাতায় পড়াশুনা শুরু করেন। পরে তিনি যথাক্রমে  সেন্ট জেভিয়ার'স কলেজ ,কলকাতা থেকে ইংরাজীতে স্নাতক এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  স্নাতকোত্তর উপাধি লাভ করেন। তিনি তার বাবা পণ্ডিত শঙ্কর ঘোষের কাছে তবলা শেখা শুরু করেন , যিনি ওস্তাদ আলি আকবর খানের সঙ্গে সঙ্গত করেছেন।

কর্মজীবন 
বিক্রম ঘোষ, বিখ্যাত সরোদ-বাদক ওস্তাদ আলী আকবর খান এবং সেতার বাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর সহ আরো অন্যান্য  সঙ্গে সঙ্গত করেছেন। তিনি একই সংগীতানুষ্ঠানে , তার বাবার সঙ্গেও যুগলবন্দী বাজান। তিনি প্রাক্তন বিটলস জর্জ হারিসনের মৃত্যুর আগে তার সঙ্গে কাজ করেন। 
বিক্রম ঘোষকে,বিভিন্ন ভূমিকায় সঙ্গীত জগতে দেখা যায় । তার দীর্ঘদিনের দল, রিদিমস্কেপ ২০১১ সালে, তাদের ১০তম বার্ষিকীতে, নব্য-লয় সঙ্গীতানুষ্ঠান প্রদর্শন করেন।এই ১০তম বার্ষিকী উদযাপনের জন্য  কলকাতা ও মুম্বাইতে ফোকট্রনিকের দ্বারা আয়োজিত অনুষ্ঠানে রিদিমস্কেপ গ্রেগ এলিসের সঙ্গে প্রদর্শন করেন। তার দল তাদের দ্বিতীয় এ্যালবাম ট্রান্সফরমেসান বের করেন ,যেটি  ভারতীয় রেকর্ডিং আর্টস পুরস্কার ২০১২তে শ্রেষ্ঠ ফিউশন অ্যালবাম বলে বিবেচিত হয়।
বিক্রম ঘোষ,ত্রৈকলাতে স্কটিস গায়ক,গীতকার রাচেল সেরমান্নি এবং অসমীয়া (লোক/ইন্ডি) গায়ক পাপনেরসঙ্গে প্রদর্শন করেন।ত্রৈকলা, ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং ফোকট্রনিক দ্বারা সংকলিত এবং আয়োজিত। 
"সুফি-ফিউসান" এ তিনি সঙ্গীত শিল্পী অম্বরীশ দাস ও পার্বতী কুমার , কিবোর্ডিস্ট ইন্দ্রজিৎ দে, এবং ড্রামার অরুণ কুমারের সঙ্গে ফিউসান সুফির অংশ হিসাবে প্রদর্শন করেন। বিক্রম ঘোষ জাল ছায়াছবির সঙ্গীত রচনা করতে সনু নিগমের সঙ্গে যোগ দেন। বিক্রম ঘোষ এছাড়াও অনেক সিনেমা জন্য সঙ্গীত রচনা করেছেন,যার মধ্যেমীরা নায়ারের লিটল জিজোউ ও আছে। বিক্রম ঘোষ ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে মেল্টিং পট প্রোডাকসন্স নামে তার সঙ্গীত কোম্পানি চালু করেন।

সাম্প্রতিক কার্যক্রম 
২০১২ সালের ১লা অক্টোবরে তিনি তার  বন্দে মাতরম, রচনার জন্য, যাতে সনু নিগম, শঙ্কর মহাদেবন এবং সুনিধী চৌহান সহ ভারতব্যাপী শিল্পীদের দেখান হয়েছে, শ্রেষ্ঠ পপ / রক একক বিষয়শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত বিশ্ব ভারতীয় গান অ্যাকাডেমি (GIMA) পুরস্কার লাভ করেন। 
২০১২ সালের জুন মাসে তিনি  বিশ্ব সংগীত দিবস উপলক্ষে "ওয়ান ওয়ার্ল্ড ফিউসান এক্সট্রাভাগান্জা" নামে একটি কনসার্ট হায়দ্রাবাদে, শিল্পকলা বেদিকা অডিটোরিয়ামে সঞ্চালন করেন  তিনি এমটিভি রুটসের একটি পর্বে উপস্থিত ছিলেন। বিক্রম ঘোষ অনলাইন স্ট্রিমিং মাধ্যমে এক/Ace মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য "রিপারকাসন" শিরোনামের একটি পারকাসান কোর্স পড়ান।

ব্যক্তিগত জীবন 
তিনি ২০০৪ সালে জয়া সিলকে বিয়ে করেন

নতুন যুগের পরীক্ষণ 

তিনি 'হঠাৎ নীরার জন্য' নামে একটি বাংলা সিনেমায় নায়কের ভূমিকায় অভিনয়ও করেছেন।

তথ্যসূত্র

বাঙালি তবলা বাদক
ভারতীয় তবলা বাদক
কলকাতার সঙ্গীতজ্ঞ
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীত সুরকার
১৯৬৬-এ জন্ম
জীবিত ব্যক্তি
তবলা বাদক
বাঙালি গীতিকার
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
সংগীত নাটক অকাদেমি পুরস্কার প্রাপক
পণ্ডিত তন্ময় বোস একজন প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি তবলা বাদক।

বহিঃসংযোগ 
 তন্ময় বোসের ওয়েবসাইট

বাঙালি তবলা বাদক
কলকাতার সঙ্গীতজ্ঞ
স্কটিশ চার্চ কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
১৯৫১-এ জন্ম
জীবিত ব্যক্তি
হিন্দুস্তানি বাদ্যযন্ত্রী
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় অভিবাসী
তবলা বাদক
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
বাঙালি গীতিকার
২০শ শতাব্দীর ভারতীয় সঙ্গীতজ্ঞ
২০শ শতাব্দীর মার্কিন পুরুষ সঙ্গীতজ্ঞ
পূর্ণদাস বাউল (জন্মঃ ১৮ই মার্চ, ১৯৩৩) একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভারতীয় বাঙালি বাউল গান শিল্পী।

প্রথম জীবন 
পূর্ণদাস বাউল ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই মার্চ ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত রামপুরহাটের সন্নিকটে একচক্কা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম নবনীদাস বাউল। ছোটবেলা থেকেই পূর্ণদাস পিতার সাথে বাংলার বিভিন্ন স্থানে যাত্রা করেন। ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে মন্বন্তরের সময় দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারকে আহার জোগাড় করতে তিনি রেলস্টেশন ও প্ল্যাটফর্মে গান গেয়ে রোজগার করেন। এই সময় সীতারাম ওঙ্কারণাথ নামে এক সাধকের প্রেরণায় পূর্ণদাস বাংলার বাইরেও বাউল গান গাইতে বের হন। তিনি মাত্র নয় বছর বয়েসে বাউল গান গেয়ে জয়পুরে এক প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জয় করেন। কৈশোরে তিনি কলকাতা শহরে রংমহল থিয়েটার এবং বঙ্গসংস্কৃতির মেলায় গান গেয়েছিলেন। পিতার সঙ্গে যুগ্মভাবে নির্মিত তার গানের রেকর্ডিং এই সময় প্রচণ্ড জনপ্রিয় হয়।

পরবর্তী জীবন 
১৯৬০ সালে পূর্ণদাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিস্কো শহরের এক গানের অনুষ্ঠানে বব ডিলানের পূর্বতন ম্যানেজার অ্যালবার্ট গ্রসম্যান কর্তৃক নিমন্ত্রিত হন। তার পর তিনি আমেরিকার বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করে বিভিন্ন সঙ্গীত অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এরপর তিনি বব ডিলানের বাসস্থান বিয়ার্সভিলায় পরিভ্রমণ করেন, যেখানে ডিলানের সঙ্গে পূর্ণদাসের বেশ কিছু গান রেকর্ড করা হয়। পরে ফ্রান্সর নাইস শহরে মাইক জ্যাগারের ম্যানেজার পূর্ণদাসকে রোলিং স্টোন স্টুডিওতে গান রেকর্ডিং করার নিমন্ত্রণ করেন।  পূর্ণদাস পরবর্তী বছরগুলিতে পৃথিবীর বহু দেশে বাউল গান গেয়ে ঘুরে বেরিয়েছেন। স্যান ডিয়েগো শহরে তিনি বাউল গানের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করেন।

চলচ্চিত্র

পুরস্কার ও সম্মাননা
২০১৩ সালে কলা বিভাগে বিশেষ অবদানের জন্য পশ্চিম বঙ্গ রাজ্যের সুপারিশে পদ্মশ্রী পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়।

তথ্যসূত্র

বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী
১৯৩৩-এ জন্ম
২০১৫-এ মৃত্যু
পদ্মশ্রী প্রাপক
বাউল
২১শ শতাব্দীর ভারতীয় সঙ্গীতশিল্পী
২০শ শতাব্দীর ভারতীয় অভিনেতা
জীবিত ব্যক্তি
কলকাতার সঙ্গীতশিল্পী
শিল্পকলায় পদ্মশ্রী প্রাপক
২০শ শতাব্দীর ভারতীয় গায়ক
২১শ শতাব্দীর ভারতীয় গায়ক
দাউদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ যশোর দেশের দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি যশোর সেনানিবাসে অবস্থিত বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামরিক ভূমি ও সেনানিবাস অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত। ।

ইতিহাস 
পাকিস্তান শাসনামলে ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার ও ব্যাবসায়ী দাউদ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিস-এর সহযোগিতায় ১৯৫৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৪ সালে এসএসসি ও ১৯৬৯-৭০ সালে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনি চালু হয়। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি থেকে কলেজ সেকশন আলাদা হয়ে 'যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ' নামে পৃথক একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে যা পূর্বে দাউদ পাবলিক এরই কলেজ সেকশন ছিল। পরবর্তিতে পুনঃরায় দাউদ পাবলিকে কলেজ সেকশন চালু হয়। বর্তমানে দাউদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে প্রথম শ্রেনী থেকে দ্ধাদশ শ্রেনী পর্যন্ত পাঠদান করানো হয়।

ক্যাম্পাস 
দাউদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ যশোর ক্যান্টনমেন্টে অবস্থিত। ১৮.৭১ একর ভূমির উপর বিদ্যালয়টি অবস্থিত। এ বিদ্যালয়ে রয়েছে ৫০০ আসন বিশিষ্ট একটি অডিটোরিয়াম, একটি গ্রন্থাগার, কম্পিউটার ল্যাব, বিভিন্ন বিষয়ের পরীক্ষাগার, ছয়টি খেলার মাঠ এবং শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য ৪টি বাসসহ প্রথিষ্ঠানের মোট ১২টি পরিবহন রয়েছে।প্রশাসনিককাজে ব্যবহারের জন্য ২টি মাইক্রোবাস রয়েছে।

সহপাঠ্যক্রম 
এই বিদ্যালয়টি প্রতিবছর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এর আয়োজন করে থাকে। এ ছাড়া প্রায়ই বিতর্ক প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতা, হাতের লেখা প্রতিযোগিতা ইত্যাদি হয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র

যশোর জেলার বিদ্যালয়
১৯৫৯-এ প্রতিষ্ঠিত
বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
১৯৫৯-এ প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
১৯৫৯-এ পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত
যশোর জেলার কলেজ
শ্রীকান্ত আচার্য হলেন কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী একজন ভারতীয় আধুনিক গানের শিল্পী, গীতিকার এবং সঙ্গীত পরিচালক। তার রবীন্দ্র সঙ্গীতেও খ্যাতি রয়েছে।

প্রাথমিক জীবন 
শ্রীকান্ত আচার্য ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি রোহিণী নন্দন আচার্য এবং কনা আচার্যের পুত্র। শ্রীকান্ত আচার্যের মায়ের বাড়ি বিক্রমপুরে। দেশভাগের আগে তাঁর মামারা চলে যান বিক্রমপুর থেকে।  ১৯৯৬ সালে যখন তিনি প্রথম চাকরিবাকরি ছেড়ে গান গাইবার সিদ্ধান্ত নেন, তখন প্রথম যে কোম্পানির সঙ্গে গান রেকর্ডিং এর জন্য চুক্তিবদ্ধ হন, সেই কোম্পানির কর্তৃপক্ষ ট্রেনার হিসেবে সুমিত্রা সেনকে নির্বাচন করেন।  তিনি দক্ষিণী থেকে রবীন্দ্রসঙ্গীতের আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি ওস্তাদ আলী আহমেদ খানের কাছ থেকে তবলার প্রশিক্ষণও গ্রহণ করেন।

অভিনয় 
সঙ্গীতের পাশাপাশি বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেছেন শ্রীকান্ত। ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘গোলন্দাজ’ ছবিতেও অভিনয় করেছেন তিনি। ভারতীয় ফুটবলের জনক নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারীর বাবা সূর্যকুমার অধিকারীর ভূমিকায় অভিনয় করবেন শ্রীকান্ত।  এছাড়া জি বাংলার ‘সা রে গা মা পা’ রিয়্যালিটি শো-তে বিচারকের আসনে বসেছেন শ্রীকান্ত।

ডিস্ক

বাংলা অ্যালবাম 
এক ঝাঁক পাখি (১৯৯৮, সাগরিকা)

স্বপ্ন দেখাও তুমি (১৯৯৯, সাগরিকা)

"বৃষ্টি তোমাকে দিলাম" (২০০০, সাগরিকা)

নদীর ছবি আঁকি (২০০১, সাগরিকা)

মনে পড়ে (২০০২, সাগরিকা)

শুধু ভাল থেকো (২০০৩, আটলান্টিস মিউজিক)

কাছে আছি (২০০৩, সাগরিকা)

ঘুরি (২০০৪, সাগরিকা)

সোনার মেয়ে (২০০৫, প্রাইম মিউজিক)

রোদ্দুর (২০০৬, সা রে গা মা)

আমি নই (২০০৮, শ্রীকান্ত আচার্য প্রোডাকশন)

ঘুম নেই রাত (২০০৮, সারেগামা, কবিতা কৃষ্ণমূর্তির সাথে, রূপঙ্কর)

মুসাফিরানা (২০১১, ওরিয়ন এন্টারটেইনমেন্ট)

মুসাফিরানা ২ (২০১৬, শ্রীকান্ত আচার্য প্রোডাকশন)

রবীন্দ্রসঙ্গীত অ্যালবাম 
হে বন্ধু হে প্রিয় (১৯৯৬, সাগরিকা)

অনুভবে জেনেছিলাম (১৯৯৭, সাগরিকা)

নিভৃত প্রাণের দেবতা (১৯৯৮, সাগরিকা)

নীরব নির্জনে (১৯৯৯, সাগরিকা)

প্রেম এসেছিল ২০০০, সাগরিকা)

হৃদয় আমার (২০০১, সাগরিকা)

রৌদ্র ছায়া (২০০২, সাগরিকা)

পথের ধারে (২০০৬, ভাবনা রেকর্ডস)

চিরসখা (২০০৯, সাগরিকা)

বাজাও তুমি কবি (২০১০, টি-সিরিজ)

অনেক দিনের গান (২০১৪, পিকাসো এন্টারটেইনমেন্ট)

এই নিরালায় (২০১৪, ভাবনা রেকর্ডস)

রবীন্দ্রসঙ্গীত ডুয়েট অ্যালবাম 
ভালোবাসি (২০০১, সাগরিকা, শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে)

মিলেছ মোর প্রাণে (২০০২, সাগরিকা, লোপামুদ্রা মিত্রের সাথে)

রবীন্দ্রসঙ্গীত এর অন্যান্য অ্যালবাম 
আপন গান, ভলিউম – 1 (২০০০, ভাবনা, সৌমিত্র চ্যাটার্জির সাথে)

আপন গান, ভলিউম – 2 (ভাবনা, সৌমিত্র চ্যাটার্জির সাথে)

চিত্রাঙ্গদা (২০০২, সাগরিকা, গীতি নাট্য)

পথের সাথী (২০০৩, সাগরিকা, ডাঃ রাজীব চক্রবর্তীর সাথে)

উত্তরণ (২০১১, শ্রীকান্ত আচার্য প্রোডাকশন, শ্রাবণী সেন ও রত্না মিত্রের সাথে)

কভার অ্যালবাম 
মনের জানালা (১৯৯৬, সাগরিকা)

নীল ধ্রুবতারা (১৯৯৭, সাগরিকা)

কোনো একদিন (১৯৯৮, সাগরিকা)

উত্তরাধিকার (২০০৩, সাগরিকা)

কভার ডুয়েট অ্যালবাম 
শুধু দুজনে (১৯৯৮, সাগরিকা, সাধনা সরগমের সাথে)

এঁকেছি দুজনে (১৯৯৯, সাগরিকা, সাধনা সরগমের সাথে)

ভক্তিমূলক অ্যালবাম 
মা আমার (১৯৯৯, সাগরিকা)

শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণায়ন (২০০০, সাগরিকা)

সাধনঞ্জলি (২০০১, সাগরিকা)

অমর প্রেম (১৯৯৮, সাগরিকা)

অফারিং (২০০১, রাইম রেকর্ডস)

চলচ্চিত্র

পুরস্কার

২০০০
 আনন্দবাজার পুরস্কার "বছরের সেরা পূজা অ্যালবাম - বৃষ্টি তোমাকে দিলাম।"

২০০১
 বছরের সেরা পূজা অ্যালবামের জন্য আনন্দবাজার পুরস্কার - নদীর ছবি আঁকি
 সেরা পুরুষ কণ্ঠ - আনন্দলোক পুরস্কার - নদীর ছবি আঁকি

২০০৩
 আনন্দলোক পুরস্কার: সেরা পুরুষ প্লেব্যাক গায়ক - আমর ভুবন-তে "মম চিত্তে নিতি নৃত্যে"
 বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন - সেরা পুরুষ প্লেব্যাক অ্যাওয়ার্ড - তিতলি-এ "মেঘ পিয়নের ব্যাগের ভিতর"

২০০৪
 বছরের সেরা পূজা অ্যালবামের জন্য আনন্দবাজার পুরস্কার - ঘুড়ি
 সেরা রবীন্দ্রসঙ্গীত অ্যালবামের জন্য আলফা মিউজিক অ্যাওয়ার্ড - জীবন ছবি

২০০৬
 বছরের সেরা পূজা অ্যালবামের জন্য আনন্দবাজার পুরস্কার - রোদ্দুর

তথ্যসূত্র

বহিঃসংযোগ 
 Rhythm & melody divine
 

বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী
রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী
ভারতীয় সঙ্গীতশিল্পী-গীতিকার
জীবিত ব্যক্তি
কলকাতার সঙ্গীতশিল্পী
বাবুল সুপ্রিয় (জন্ম: ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭০) একজন ভারতীয় বাঙালি গায়ক ও রাজনীতিবিদ। তিনি ভারতীয় লোকসভার সদস্য ও সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা। পূর্বে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গায়ক হিসেবে তিনি হিন্দি চলচ্চিত্রের গান বেশি গাইলেও বাংলাতেও তার অনেক অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। তিনি সুপ্রিয় বড়াল নামেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী গ্রহণ করেন। গানের জগতে আসার পর তিনি বাবুল সুপ্রিয় নাম গ্রহণ করেন। তার পিতামহ ছিলেন রাইচাঁদ বড়াল।

প্রাথমিক জীবন 
বাবুল সুপ্রিয় হুগলি নদীর ধারে ছোট্ট শহর উত্তরপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
তার পিতা হলেন সুনীল চন্দ্র বড়াল ও মাতা সুমিত্রা বড়াল। বাবুল সংগীতের সঙ্গে জুড়ে থাকা পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। বিশেষ করে তার পিতামহ এন সি বড়াল গায়ক ও সুরকার ছিলেন। বাবুল ইন্টার স্কুল ও ইন্টার কলেজ সংগীত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন। বাবুল অল ইন্ডিয়া রেডিও এবং টেলিভিশনএ সঞ্চালনা করতেন। ১৯৮৩ সালে লিলুয়া ডন বসকো স্কুল থেকে অল ইন্ডিয়া ডন বসকো মিউজিক চ্যাম্পিয়ান হন। ১৯৯১ তে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্ম জীবন

প্রথমে বাবুল সুপ্রিয় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাঙ্কে নিজের কর্মজীবন শুরু করলেও সংগীতকেই পরে তিনি পেশা হিসাবে বেছে নেন এবং মুম্বাই চলে আসেন। ১৯৯২ তে বলিউডে তার সংগীত জীবন শুরু হয় কল্যাণজীর হাত ধরে। তিনি ঋত্বিক রোশন অভিনীত "কহো না প্যার হ্যায়" সিনেমায় গান গেয়ে বিখ্যাত হন। এছাড়া তিনি বলিউডে আরও জনপ্রিয় সব গান গেয়েছেন। যেমন, 'পরি পরি হ্যায় এক পরি'(হাঙ্গামা), 'হাম তুম'(হাম তুম), 'চন্দা চমকে'(ফানা)। কে ফর কিশোর নামে একটি সুপার হিট টি.ভি শোও তিনি সঞ্চালনা  করেন। তিনি তরুন মজুমদারের ''চাঁদের বাড়ি সিনেমায় অভিনয় করেছেন।

রাজনৈতিক জীবন 
বাবুল সুপ্রিয় ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন।
৯ই নভেম্বর, ২০১৪ তারিখে তিনি নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভায় নগরোন্নয়ন, আবাসন এবং শহুরে দারিদ্র বিমোচন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।  ১২জুলাই,২০১৬ তার দপ্তর পরিবর্তন করে ভারী শিল্প ও জন উদ্যোগ দফতরের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে তিনি পুনরায়  পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল লোকসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়ান এবং তার নিকটতম সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসএর মুনমুন সেনকে ১ লক্ষ ৯৭ হাজার ৬৩৭  ভোটে পরাজিত করেন।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হয়ে তিনি ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে তৃণমূল কংগ্রেসের অরূপ বিশ্বাসের নিকট টালিগঞ্জ কেন্দ্রে আসনে হেরেছেন।

তথ্যসূত্র

বহিঃসংযোগ 
 

জীবিত ব্যক্তি
১৯৭০-এ জন্ম
বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী
বলিউডের নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী
ভারতীয় জনতা পার্টির রাজনীতিবিদ
ষোড়শ লোকসভার সদস্য
সপ্তদশ লোকসভার সদস্য
পশ্চিমবঙ্গের ব্যক্তি
আসানসোলের ব্যক্তি
বাঙালি হিন্দু
হিন্দি ভাষার সঙ্গীতশিল্পী
২০শ শতাব্দীর পুরুষ সঙ্গীতজ্ঞ
২১শ শতাব্দীর ভারতীয় রাজনীতিবিদ
ভারতীয় গায়ক
ডন বস্কো স্কুলসের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির পুরস্কার বিজয়ী
রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী
পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা সদস্য
পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় জনতা পার্টির রাজনীতিবিদ
নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভা
২০১৯-এ ভারতের সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের প্রার্থী
২০শ শতাব্দীর ভারতীয় গায়ক
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য ২০২১-২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গীতশিল্পী
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য মন্ত্রিপরিষদের মন্ত্রী
কুমার শানু (জন্ম নাম কেদারনাথ ভট্টাচার্য, জন্ম গ্রহণ করেন কলকাতা) ভারতের একজন উল্লেখযোগ্য বলিউড গায়ক। তিনি ফিল্ম ফেয়ার সেরা পুরুষ গায়ক এওয়ার্ড পান পর পর পাঁচ বছর। তাকে ভারত সরকার ২০০৯ সালে পদ্মশ্রী তে সম্মানিত করে।

প্রথম জীবন 
কুমার শানুর বাবা পশুপতি ভট্টাচার্য্য ছিলেন একজন গায়ক ও সুরকার। তার পৈতৃক বাড়ী ও জন্মস্থান ঢাকার অদূরে বিক্রমপুরের হাসাড়া  গ্রামে।তিনি জীবিকার তাগিদে কলকাতায় চলে যান এবং কুমার সানু কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শানুকে গান ও তবলা শিখান। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্যে ডিগ্রি পাওয়ার পর কুমার শানু ১৯৭৯ সালে প্রকাশ্যে কার্যক্রম করা শুরু করেন, গান গাওয়া শুরু করেন হোটেল ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কলকাতায়। কিশোর কুমার এর পরে তিনি বলিউডের গায়কের মডেল হয়েছেন। পরবর্তিতে তিনি নিজের শৈলিতে গান গাওয়া শুরু করেন। তিনি ছিলেন ১৯৯০ সাল থেকে ২০০০ সালের মধ্যেকার সেরা গায়ক।

পেশা 
১৯৮৭ সনে, সঙ্গীত পরিচালক ও গায়ক জগজিত সিং হিন্দি ছবি আন্ধিয়া তে গান গাওয়ার সুযোগের কথা শানুকে প্রস্তাব করেন। শানু তখন মুম্বাই তে চলে আসেন, যেখানে কল্যাণজী-আনান্দজী তাকে গান গাওয়ার সুযোগ দেন হিন্দি ছবি যাদুকর এ। কল্যাণজী-আনান্দজী তাকে তার নাম কেদারনাথ ভট্টাচার্য' থেকে কুমার শানু করার প্রস্তাব দেন।

শানু জগজিত সিং এর ছবিতে গান গাওয়া বন্ধ করেন এবং পরে তিনি চলে যান কাজ করতে সুরকার নওশাদ, রাভিন্দ্র জেইন, হৃদয় নাথ মঙ্গেশকর, পিটি, আর, কে, রাজদান, কল্যাণজী-আনান্দজী ও উষা খান্না এর সাথে।

১৯৯০ এর ছবি আশিকি এর জন্য সংগীত পরিচালক নদীম-শ্রবন খুজে পান কুমার শানুকে গান গাওয়ার জন্য। যার মধ্যে আছে "এক সানাম চাহিয়ে", "তু মেরি জিন্দেগি হে", "নাজার কে সামনে", "জানে জিগার জানেমান", "আব তেরে বিন জিলেংগে হাম" এবং "ধিরে ধিরে সে"। তিনি পর পর পাঁচবার পুরুষ গায়ক হিসেবে ফিল্মফেয়ার এওয়ার্ড জিতে রেকর্ড গড়েছেন। তার পরবর্তী এওয়ার্ড এসেছে হিন্দি ছবি সাজান (১৯৯১), দিওয়ানা (১৯৯২), বাজিগর (১৯৯৩) এবং ১৯৪২: এ লাভ স্টোরি (১৯৯৪) থেকে।

শানু প্রায়ই সহযোগিতা করতেন নদীম-শ্রবন। তাদের কিছু সহযোগিতা মূলক গানের ছবি গুলো হলো আশিকি (১৯৯০), দিল হে কি মানতা নেহি (১৯৯১), সড়ক (১৯৯১), সাজান (১৯৯১), দিওয়ানা (১৯৯২), দিল কা কিয়া কাসুর (১৯৯২), কাল কা আওয়াজ' (১৯৯২), শ্রীমান আশিকি (১৯৯৩), সলামী (১৯৯৩), দামিনী (১৯৯৩), দিলওয়ালে (১৯৯৪), অগ্নি সাক্ষী (১৯৯৬), রাজা হিন্দুসস্থানী (১৯৯৬), জীত (১৯৯৬), পরদেশ (১৯৯৭), এগুলো ছাড়াও আরো।

দুই দশকের কর্ম জীবন পার করেন তিনি অনেক সংগীত পরিচালকের সাথে| তাদের মধ্যে হচ্ছেন, আর.ডি. বর্মন, আনান্দ-মিলিন্দ, আনু মালিক, যতীন-ললিত, নদীম-শ্রবন, হিমেশ রেশমিয়া, ইসমাইল দরবার, কল্যাণজী-আনান্দজী, লক্ষিকান্ত-পেয়ারেলাল, রাজেশ রোশন, সাজিদ-ওয়াজিদ, ভিজু শাহ, উত্তম সিং এরদুশমন ছবিতে, রাম-লক্ষন, দীলিপ সেন-সমীর সেন, আনন্দ রাজ আনন্দ, আদেশ শ্রীভাস্তাব, বিশাল-শেখর, এম. এম. কেরাভানি এবং ভিশাল ভারাডওয়াজ।
 
তিনি ভারতীয় ছবির জন্য গানও তৈরি করেছেন এবং বলিউড ছবিও প্রযোজনা করেছেন তা নাম হচ্ছে উত্থান। বর্তমানে কুমার শানু'র দল কাজ করছে রাকেশ ভাটিয়া এর সাথে এবং তারা এক সাথে প্রযোজনা করছেন হিন্দি ছবি যা তৈরি হচ্ছে মুম্বাই এর চার জন পথ শিশুদের নিয়ে। তাদের চার জন'ই রেলওয়ে প্লাটফর্মে জুতা পালিশের কাজ করে প্রতিদিনের রুটি আর মাখনের জন্য। মিঠুন চক্রবর্তী এই ছবিতে প্রধান নায়কের ভুমিকায় অভিনয় করেছেন। সাম্প্রতিক কুমার শানু একটা কাব্যিক বাংলা ছবি হাসন রাজা'' এর জন্য গান গেয়েছেন, যা পরিচালনা করেছেন যুক্তরাজ্য ভিত্তিক পরিচালক রুহুল আমিন।

শানু প্যানেল বিচারক ছিলেন সনি টিভি এর ওয়ার পরিবার, ঘড়োয়া গায়কদের এক সাথে করার রিয়েলিটি সো যা ছিল জি বাংলা টিভিতে এবং একটি গানের রিয়েলিটি সো যার নাম ছিল সা রে গা মা পা - বিশ্ব সেরা।

এওয়ার্ডস 
 ২০০৯: পদ্মশ্রী: ভারত' তের ৪র্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা যা দেয়া হয়েছে ভারত সরকার এর পক্ষ থেকে।
 ২০১৪: মহনায়ক উত্তম কুমার লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার এর পক্ষ থেকে৷
 ২০১৫:সঙ্গীতমেলা লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার এর পক্ষ থেকে৷

ফিল্মফেয়ার

স্টার স্ক্রীন এওয়ার্ডস

উল্লেখযোগ্য বলিউড ছবি

তথ্যসূত্র

বহিঃসংযোগ 
 অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
 

১৯৫৭-এ জন্ম
জীবিত ব্যক্তি
২০শ শতাব্দীর ভারতীয় গায়ক
২১শ শতাব্দীর ভারতীয় গায়ক
কন্নড় নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
নেপালি ভাষার সঙ্গীতশিল্পী
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিবিদ
বলিউডের নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী
বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী
ভারতীয় গায়ক
ভারতীয় নেপথ্য গায়ক
ভারতীয় জনতা পার্টির রাজনীতিবিদ
ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীত সুরকার
শিল্পকলায় পদ্মশ্রী প্রাপক
শ্রেষ্ঠ পুরুষ নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার বিজয়ী
শ্রেষ্ঠ পুরুষ নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী বিভাগে স্ক্রিন পুরস্কার বিজয়ী
বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির পুরস্কার বিজয়ী
বাঙালি গীতিকার
পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় জনতা পার্টির রাজনীতিবিদ
কলকাতার সঙ্গীতশিল্পী
উদিত নারায়ণ ঝা () সর্বসাধারণের কাছে উদিত নারায়ণ (জন্মঃ ১ ডিসেম্বর, ১৯৫৫) নামে অধিক পরিচিত। তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠিত সঙ্গীত শিল্পী হলেও নেপালের সঙ্গীত ও চলচ্চিত্রে তিনি এক প্রবাদ পুরুষ। তার অর্জনের তালিকায় রয়েছে ৩ টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ৫ টি ফিল্মফেয়ার এওয়ার্ড। ভারতের ইতিহাসে উদিত নারায়ণ একমাত্র সঙ্গীত শিল্পী যিনি তিন দশকে (আশি দশক, নব্বই দশক ও শূন্য দশক) ফিল্মফেয়ার এওয়ার্ড পেয়েছেন। চলচ্চিত্রের গানে অমূল্য অবদান রাখার জন্য ভারতীয় সরকার উদিত নারায়ণকে ২০০৯ সালে পদ্মশ্রী ও ২০১৬ সালে পদ্মভূষণ পুরস্কার প্রদান করে। এছাড়াও নেপালের প্রয়াত রাজা বীরেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ দেব ২০০১ সালে  উদিত নারায়ণকে প্রবাল গোরখা দক্ষিণ বাহু পুরস্কার প্রদান করেন। উদিত নারায়ণ ২০১৫ সালে ভোজপুরি সিনেমায় অবদান রাখার জন্য  চিত্রগুপ্ত সিনেয়াত্রা সম্মান এ ভূষিত হন। বিবিসির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বলিউডের ৪০ টি গান এর তালিকায় উদিত নারায়ণের গাওয়া ২১ টি গান স্থান পেয়েছে। উদিত নারায়ণ ৩৬ টির অধিক ভাষায় ২৫০০০ গান গেয়েছেন।

প্রাথমিক জীবন 
উদিত নারায়ণ নেপালের বারোদা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিল হরি কৃষ্ণ ঝা এবং মায়ের নাম ভুবনেশ্বরী দেবী।

পুরস্কার এবং মনোনয়ন

বলিউড চলচ্চিত্রের তালিকা

তথ্যসূত্র

বহিঃসংযোগ 
 
 উদিত নারায়ণ এমটিভি শিল্পীদের মাঝে
 

জীবিত ব্যক্তি
নেপালি বংশোদ্ভূত ভারতীয় ব্যক্তি
ওড়িয়া নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী
কন্নড় নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী
তামিল নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী
তেলুগু নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী
নেপালি ভাষার সঙ্গীতশিল্পী
বলিউডের নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী
ভজন সঙ্গীতশিল্পী
ভারতীয় গায়ক
ভারতীয় নেপথ্য গায়ক
ভারতীয় সঙ্গীতশিল্পী
হিন্দি ভাষার সঙ্গীতশিল্পী
শিল্পকলায় পদ্মভূষণ প্রাপক
শিল্পকলায় পদ্মশ্রী প্রাপক
শ্রেষ্ঠ পুরুষ নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (ভারত) বিজয়ী
শ্রেষ্ঠ পুরুষ নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার বিজয়ী
শ্রেষ্ঠ পুরুষ নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী বিভাগে আইফা পুরস্কার বিজয়ী
শ্রেষ্ঠ পুরুষ নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী বিভাগে জি সিনে পুরস্কার বিজয়ী
শ্রেষ্ঠ পুরুষ নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী বিভাগে স্ক্রিন পুরস্কার বিজয়ী
১৯৫৫-এ জন্ম
নেপালি বংশোদ্ভূত ভারতীয়
আন্তর্জাতিক ভারতীয় চলচ্চিত্র অ্যাকাডেমি পুরস্কার বিজয়ী
মিথিলা
অমিত কুমার একজন ভারতীয় বাঙালি গায়ক। তিনি বিখ্যাত শিল্পী কিশোর কুমারের ছেলে। জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫২ সালের ৩ জুলাই। তিনি বহু হিন্দী সিনেমার জন্য প্লেব্যাক করেছেন এবং বাংলা গানের অ্যালবামও বের করেছেন।

এ গুণী শিল্পী ১৯৫২ সালের ৩ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। অমিত কুমার একাধারে একজন গায়ক, অভিনেতা এবং সংগীত পরিচালক। বাবার মতই ছেলেবেলা হতেই অমিত গানকে খুব ভালোবাসতো। অল্প বয়স হতেই অমিত কলকাতার দুর্গা পূজার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাইতো। একবার বিখ্যাত বাঙালি অভিনেতা উত্তম কুমারের দ্বারা আয়োজিত এরকম একটি দুর্গা পূজার অনুষ্ঠানে যখন অমিত কুমার গান গাইছিলেন, তখন উপস্থিত শ্রোতারা আরও গানের জন্য অমিত কুমারকে অনুরোধ করছিলেন। এ সংবাদটি যখন তার মা রুমা গুহ ঠাকুরতার নিকট পৌঁছায়, তখন তিনি কিশোর কুমারের নিকট অভিযোগ করেন যে তাদের সন্তান অমিত কুমার ফিল্মের গান পরিবেশন করছেন। এ কথা জানার পর কিশোর কুমার অমিত কুমারকে বোম্বে নিয়ে যাওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেন।

এর পূর্বেই কিশোর কুমার দুটি চলচ্চিত্রে অমিত কুমারকে তার ছেলের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য কাস্ট করেন। ছবি দুটি ছিল ‘দূর গগন কী ছাঁও মেঁ’ এবং ‘দূর কা রাহি’। 
অমিত কুমার ১৯৭০ সাল হতে অনেক বলিউড চলচ্চিত্র এবং আঞ্চলিক চলচ্চিত্রে প্লে-ব্যাক সিঙ্গার হিসাবে গান গেয়েছেন। বিশেষকরে ১৯৭০ সাল হতে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত, যে পর্যন্ত আরেক শিল্পী আর ডি বর্মন বেঁচে ছিলেন।

ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড
অমিত কুমার ১৯৮১ সালে “লাভ স্টোরি” ছবির “ইয়াদ আ রাহি হে” গানের জন্য ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। এছাড়া ১৯৮২ সালে “তেরি কসম” ছবিতে ইয়ে “জামিন গা রাহি হে”, ১৯৮৮ সালে “তেজাব” ছবিতে “ইক দু তিন”, ১৯৮৯ সালে “ত্রিদেব” ছবিতে “তিরছি টোপিওয়ালে” এবং ১৯৯০ সালে “বাঘি” ছবিতে “ক্যায়সা লাগতা হে” গানগুলোর জন্য নমিনেশান লাভ করেছিলেন।

তথ্যসূত্র

বহিঃসংযোগ
 
 
 The Statesman on his 58th Birthday

বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী
১৯৫২-এ জন্ম
ভারতীয় অভিনেতা
বলিউডের নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী
জীবিত ব্যক্তি
ভারতীয় নেপথ্য গায়ক
কলকাতার সঙ্গীতশিল্পী
কোয়ান্টাম পরিগণনা কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত নবীন শাখা। তাত্ত্বিক কম্পিউটার বিজ্ঞানের চর্চায় এতদিন কেবল চিরায়ত পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাব বিবেচনা করা হতো। কিন্তু মুরের সূত্র বিজ্ঞানীদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। মুরের সূত্র অনুসারে, কম্পিউটার চিপের আকার প্রতি ১৮ মাসে অর্ধেকে নেমে আসছে। এভাবে চলতে থাকলে কম্পিউটার চিপের ক্রমাগত ক্ষুদ্র হতে থাকা বিভিন্ন যন্ত্রাংশসমূহ একপর্যায়ে চিরায়ত পদার্থবিজ্ঞানের পরিবর্তে কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের নিয়মসমূহের অধীনে আচরণ করা শুরু করবে। হার্ডওয়্যারের এই মৌলিক পরিবর্তন অনেক ক্ষেত্রে তাত্ত্বিক কম্পিউটার বিজ্ঞানের সীমানাও নতুন করে নির্ধারণ করেছে।

অনেকে মনে করেন, বিজ্ঞানী রিচার্ড ফাইনম্যানের বিখ্যাত বক্তৃতা দেয়ার্জ প্লেনটি অভ রুম অ্যাট দ্য বটম: অ্যান ইনভিটেশন টু এন্টার আ নিউ ওয়ার্ল্ড অভ ফিজিক্স (There's Plenty of Room at the Bottom: An Invitation to Enter a New Field of Physics, "নিচে অনেক জায়গা আছে: পদার্থবিজ্ঞানের এক নতুন ক্ষেত্রে প্রবেশের নিমন্ত্রণ") গবেষক মহলে প্রথমবারের মত অতিক্ষুদ্র সংগঠন নিয়ে চিন্তা-ভাবনায় অনুপ্রেরণার সৃষ্টি করে। ১৯৫৯ সালের ২৯শে ডিসেম্বর, ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অফ টেকনলজি-তে অনুষ্ঠিত আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির বার্ষিক সভায় দেয়া এ বক্তৃতায় ফাইনম্যান আণবিক মাপনীতে প্রকৌশলের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন। ফাইনম্যান বক্তৃতাটিতে আণবিক অথবা অতিপারমাণবিক মাপনীতে প্রকৌশলের ক্ষেত্রে কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানজনিত প্রপঞ্চ বিবেচনায় আনার উপর জোর দেন।

পরিভাষা 
 Quantum computation - কোয়ান্টাম পরিগণনা
 Classical mechanics - চিরায়ত বলবিজ্ঞান
 Quantum mechanics - কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান
 Moore's law - মুরের বিধি
 Structure - সংগঠন
 Molecular - আণবিক
 Subatomic - অতিপারমাণবিক
 Scale - মাপনী
 Phenomenon - প্রপঞ্চ

তথ্যসূত্র

কম্পিউটার বিজ্ঞান
ছায়ানট বাংলাদেশের অন্যতম সাংস্কৃতিক সংগঠন। ১৯৬১ সালে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উৎসব পালন করা ছাড়াও এই সংগঠন বাদ্যযন্ত্র, সঙ্গীত, নৃত্য প্রভৃতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান ও সঙ্গীত বিদ্যালয় পরিচালনা করে থাকে। পহেলা বৈশাখের অন্যতম আকর্ষণ রমনার বটমূলে ছায়ানটের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।

প্রতিষ্ঠা 
ষাটের দশকে ফৌজি পাক-সরকার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রবীন্দ্র সংগীত গাওয়া, বেতার বা টেলিভিশনে সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে। এতে বাংলাদেশের প্রবাদপ্রতিম রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী কলিম শরাফী দমে না গিয়ে অন্যান্যদের সহায়তায় রবীন্দ্র সংগীত, নাটক ও নৃত্যনাট্যের সংস্থা ছায়ানট গড়ে তোলেন। নিষেধাজ্ঞার ভিতর গুপ্ত সংগঠনের মতো জেলা শহরগুলিতে ছড়িয়ে পড়েছিল 'ছায়ানট'-এর শাখা। 
১৯৬১ সালে রবীন্দ্র-জন্মশতবার্ষিকী উৎযাপনের পর একটি প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন কয়েকজন সংগঠক। তাদের মধ্যে মোখলেসুর রহমান (সিধু ভাই নামে পরিচিত), শামসুন্নাহার রহমান, সুফিয়া কামাল, ওয়াহিদুল হক অন্যতম। সাঈদুল হাসানের প্রস্তাবে সংঠনটির নামকরণ করা হয় ছায়ানট।

১৯৬১ সালে সুফিয়া কামালকে সভাপতি আর ফরিদা হাসানকে সম্পাদক করে প্রথম কমিটি গঠিত হয়। সহ-সভাপতি জহুর হোসেন চৌধুরী, সাঈদুল হাসান। সহ-সম্পাদক সাইফুদ্দীন আহমদ মানিক, মিজানুর রহমান ছানা। কোষাধ্যক্ষ পদে মোখলেসুর রহমান ও সদস্যরা ছিলেন কামাল লোহানী, ওয়াহিদুল হক, সনজীদা খাতুন, আহমেদুর রহমান প্রমুখ।

কার্যক্রম 
১৯৬১ সালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে ছায়ানটের প্রথম অনুষ্ঠান পুরানো গানের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৬৩ সালে সনজীদা খাতুনের উদ্যোগে বাংলা একাডেমীর বারান্দায় সঙ্গীত শেখার ক্লাস শুরু হয়। সনজীদা খাতুন ও ফরিদা মালিক রবীন্দ্র সঙ্গীত, বজলুল করিম তবলা, মতি মিয়া বেহালা ও সেতার এবং সোহরাব হোসেন নজরুল গীতি শেখাতেন। ঐ সালেই ছায়ানট সঙ্গীত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১লা বৈশাখ, ১৩৭০ বঙ্গাব্দে ওস্তাদ আয়েত আলী খান এই বিদ্যালয়ের উদ্বোধন করেন।

ছায়ানটের প্রাথমিক কার্যক্রম ইংলিশ প্রিপারোটরি স্কুলে শুরু হয়। কিন্তু সরকারী বাধার কারণে কার্যক্রম অগ্রণী বালিকা বিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত হয়। সেখানেও সরকারের ভয় ভীতির কারণে লেক সার্কাস গার্লস স্কুলে ছায়ানট আশ্রয় নেয়। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ছায়ানট এখানেই ছিল। স্বাধীনতার পর গভঃ ল্যাবরেটরি স্কুলের অধ্যক্ষ ড. নূরুন নাহার ফয়জুন্নেসা তার স্কুলে ছায়ানটকে কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেন। বিষয়টি তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী অনুমোদন করেন।

ইংরেজি ১৯৬৪ সাল, বাংলা ১৩৭১ সালের ১লা বৈশাখ রমনার বটমূলে ছায়ানট বাংলা নববর্ষ পালন শুরু করে। কালক্রমে এই নববর্ষ পালন জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়। এছাড়াও ছায়ানট ২৫শে বৈশাখ, ২২শে শ্রাবণ, শারদোৎসব ও বসন্তোৎসব গুরুত্বের সাথে পালন করে।

স্বীকৃতি
২০১৫ সালে সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের রবীন্দ্রচর্চার সূতিকাগার ও বিখ্যাত সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ভারত সরকার প্রবর্তিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করে।২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকালে নয়াদিল্লির প্রবাসী ভারতীয় কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতের রাষ্ট্রপতি  ড.রামনাথ কোবিন্দ পুরস্কারটি প্রদান করেন ছায়ানটের সভাপতি ড. সনজীদা খাতুনকে।

তথ্যসূত্র

বহিঃসংযোগ 
 ছায়ানট অফিসিয়াল সাইট

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সংগঠন
বাংলাদেশ ভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন
শিল্পকলা পদক বিজয়ী
বাংলাদেশী সঙ্গীত
১৯৬১-এ পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত
চারুকলা অনুষদ (পূর্ব নাম চারুকলা ইন্সটিটিউট) বাংলাদেশের চারু ও কারুশিল্প পাঠদানের প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি ১৯৪৮ সালে পুরাতন ঢাকার জংশন রোডে ন্যাশনাল মেডিক্যাল স্কুলের একটি বাড়ীতে চারুকলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাত্রা শুরু করে। চারুকলা অনুষদ বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত একটি অনুষদ। এটি ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত।

প্রতিষ্ঠা 
প্রতিষ্ঠাকালে চারুকলা ইন্সটিটিউটের নাম ছিল 'গভর্ণমেন্ট আর্ট ইনস্টিটিউট'।   ১৯৬৩ সালে এটিকে প্রথম শ্রেণীর কলেজে উন্নীত করে নামকরণ করা হয় 'বাংলাদেশ চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়'। ১৯৮৩ সালে এই প্রতিষ্ঠানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে এনে 'চারুকলা ইন্সটিটিউট' নামকরণ করা হয়। পরবর্তীতে এটি অনুষদের মর্যাদা লাভ করে, চারুকলা অনুষদ নাম ধারণ করে।

চারুকলা অনুষদের বিভাগসমূহ:
 অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগ
 ছাপচিত্র বিভাগ
 ভাস্কর্য বিভাগ
 কারুশিল্প বিভাগ
 গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগ
 প্রাচ্যকলা বিভাগ
 মৃৎশিল্প বিভাগ
 শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগ
শিক্ষা পদ্ধতি:

বর্তমানে এই অনুষদে চারবছর মেয়াদী স্নাতক ও দুইবছর মেয়াদী স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। ব্যবহারিক ও তত্ত্বীয়ভাবে এখানে পাঠদান করা হয়ে থাকে।

চারুকলার বর্তমান অবস্থা: 
বর্তমানে চারুকলা অনুষদে চালু রয়েছে আটটি বিভাগ। বিভাগগুলো হলো: গ্রাফিক ডিজাইন, প্রাচ্যকলা, মৃৎশিল্প, অঙ্কন ও চিত্রায়ণ, ভাস্কর্য, কারুশিল্প, শিল্পকলার ইতিহাস ও ছাপচিত্র। অনুষদে রয়েছেন ৫৯ জন শিক্ষক। দেশের প্রসিদ্ধ শিল্পীও রয়েছেন এই তালিকায়। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের নামে রয়েছে এটি গ্যালারি। রয়েছে অডিটোরিয়াম ও লাইব্রেরি। প্রত্যেক বিভাগের জন্য আছে সুসজ্জিত ক্লাসরুম। গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের জন্য রয়েছে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব। চারুকলা ইন্সটিটিউট ভবনের নকশা করেছেন খ্যাতনামা স্থপতি মাজহারুল ইসলাম।

এই সবুজ প্রাঙ্গনে শিক্ষার্থীরা সারি বেধে ছবি আঁকার চর্চা করে। কেউবা কাগজে না এঁকে কাঠ কেটে ফুটিয়ে তুলেন নানান ছবির আকৃতি। কেউ আবার কাঠে না করে পাথর দিয়ে গড়ে তোলেন কোনো অবয়ব। চত্বরটি যেন ইট পাথরের শহরের মাঝে একটুকরো অন্য শ্যামল জগৎ। যে জগৎটি বিভিন্ন ভাস্কর্য, রঙিন চিত্রকলা আর সবুজ গাছপালায় মোড়ানো।

মঙ্গল শোভাযাত্রা ও চারুকলা অনুষদ   
   
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে প্রতিবছরই পহেলা বৈশাখে ঢাকা শহরের শাহবাগ-রমনা এলাকায় মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। এই শোভাযাত্রায় চারুকলা অনুষদের  শিক্ষক শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন স্তরের ও বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশগ্রহণ করে থাকে। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন ধরনের প্রতীকী শিল্পকর্ম বহন করা হয়। এছাড়াও বাংলা সংস্কৃতির পরিচয়বাহী নানা প্রতীকী উপকরণ, বিভিন্ন রঙ-এর মুখোশ ও বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিকৃতি নিয়ে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়। তবে একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশক থেকে প্রায় প্রতি জেলাসদরে এবং বেশ কিছু উপজেলা সদরে পহেলা বৈশাখে ‘‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’’ আয়োজিত হওয়ায় ‘‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’’ বাংলাদেশের নবতম সর্বজনীন সংস্কৃতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আবেদনক্রমে ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে নভেম্বর বাংলাদেশের ‘‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’’ জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কোর মানবতার অধরা বা অস্পর্শনীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান লাভ করে।

চিত্রশালা

তথ্যসূত্র

বহিঃসংযোগ 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ও ইনস্টিটিউট
বাংলাদেশের শিল্পকলা
ঢাকায় শিক্ষা
১৯৪৮-এ প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
১৯৪৮-এ পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত
সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগার বা কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পাঠাগার। এই গ্রন্থাগারটি ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়।  এটি ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত। অধিকন্তু এই গ্রন্থাগারটির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি ও বেসরকারি গ্রন্থাগার পরিচালিত হচ্ছে।

সংগ্রহ
মার্চ ২০০৭ সালের হিসাব অনুযায়ী এই গ্রন্থাগারে দূর্লভ ও ঐতিহাসিক মূল্যমানের প্রায় ১১৯,৭৫০ বই রয়েছে। তবে ২০১৭ সালের তথ্য অনুযায়ী তাদের সংগ্রহে প্রায় ২,০৪,৯৭৪ বই আছে। বইগুলোর বেশিরভাগের ভাষা বাংলা কিংবা ইংরেজি, তবে হিন্দি, উর্দু, আরবি ও ফারসি ভাষারও কিছু বই রয়েছে।
দেশের বেশির ভাগ দৈনিক পত্রিকা ও সাময়িকীর কপি এখানকার সংগ্রহে থাকে। দৈনিকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- ইত্তেফাক, জনকন্ঠ, যুগান্তর, প্রথম আলো, সংবাদ, সমকাল, ভোরের কাগজ, আমাদের সময়, কালের কন্ঠ, ডেসটিনি, বাংলাদেশ প্রতিদিন, মানবজমিন, সকালের খবর, যায়যায়দিন, মানবকন্ঠ, আলোকিত বাংলাদেশ, দ্য ডেইলি স্টার, দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইত্যাদি। এছাড়া সাপ্তাহিক চাকুরীর খবর, রোববার, সাপ্তাহিক ২০০০, সাপ্তাহিক, ক্রীড়ালোক, ক্রীড়া জগৎ, অনন্যা, দেশ, সানন্দা, নবারুণ, শিশু, উত্তরাধিকার, সরগম, নিউজ লেটার, বাংলাদেশের হৃদয় হতে, নান্দীপাঠ, কালি ও কলম, কম্পিউটার জগৎ, টইটম্বুর সাময়িকী উল্লেখযোগ্য। এখানে অনেক পুরাতন বাঁধাইকৃত পত্রিকাও পাওয়া যায়। অনুমতি সাপেক্ষে সেগুলো দেখা ও ফটোকপি করা যায়। শিশু-কিশোরদের জন্য এখানে বিশেষ সংগ্রহ ও আলাদা কক্ষ রয়েছে। সেখানে বসে বই পড়া যায়, আবার সদস্য হয়ে বই নেয়াও যায়।

সময়সূচি
গ্রন্থাগারটি শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন বাদে প্রতিদিনই খোলা থাকে।
গ্রন্থাগারের সময়সূচি:
সাধারণ পাঠকক্ষ : রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮:০০ টা থেকে রাত ৯:০০ টা পর্যন্ত।
বিজ্ঞান ও রেফারেন্স পাঠ কক্ষ : শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮:০০ টা থেকে রাত ৯:০০ টা পর্যন্ত।
শিশু পাঠকক্ষ : রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯:০০ টা থেকে বিকাল ৫:০০ টা পর্যন্ত।
২০০৩ সালের ২৬ জুলাই থেকে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নিয়ম চালু হলেও তা ২০০৪ সালের ১লা মার্চ বন্ধ হয়ে যায়।

গ্যালারি

তথ্যসূত্র

বহিঃসংযোগ

 সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগার সম্পর্কিত তথ্য

ঢাকা
বাংলাদেশের গ্রন্থাগার
গণগ্রন্থাগার
১৯৫৪-এ পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত
ইসলাম খান
শেখ আলাউদ্দিন চিশতি (১৫৭০ - ১৬১৩) ছিলেন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার প্রথম গভর্নর, সুবাদার এবং মোঘল সম্রাজের সেনাপতি। মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর তাকে ইসলাম খান উপাধী দেন।

শৈশব 
ইসলাম খান শৈশবে সম্রাট জাহাঙ্গীরের খেলার সাথী ছিলেন। তার বাবার নাম শেখ বদরউদ্দিন চিশতি এবং ফতেহপুর সিক্রি নিবাসী দরবেশ শেখ সেলিম চিশতির দৌহিত্র ছিলেন। তিনি মোঘল ঐতিহ্যের উপরে আনুষ্ঠানিক শিক্ষালাভের সুযোগ পেলেও তেমন ভাবে সামরিক প্রশিক্ষণ পাননি। তথাপি তিনি মোঘল সামরিক বাহিনীতে যোগ দেন। সম্রাট জাহাঙ্গীর তাকে দু'হাজারী মনসবদারীতে উন্নীত করে ইসলাম খা উপাধী প্রদান করেন। তিনি বাংলা সুবাদারের দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিহার প্রদেশের সুবাদার ছিলেন।

বাংলা বিজয় 
সম্রাট আকবর বাংলা অঞ্চলে নিজের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অনেকবার অভিযান পরিচালনা করলেও সামন্ততান্ত্রিক বিদ্রোহের কারণে তা সফল হয়নি। সিংহাসনে আরোহণের পর সম্রাট জাহাঙ্গীরও বাংলা প্রদেশে কয়েকবার সৈন্যদের অভিযানে পাঠান। কিন্তু সবগুলো অভিযান ব্যর্থ হয়। ১৬০৮ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীর বাংলা বিজয়ের লক্ষ্যে ইসলাম খান কে প্রেরণ করেন। ইসলাম খানের বয়স তখন ৩৮ বছর। তিনি বাংলার রাজনীতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং তার প্রচারাভিযান পরিচালনার বিষয়াদির সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান বাধার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে বারো ভূঁইয়ার ভাটি এবং খাজা উসমানের অধীনস্থ আফগানি মদদদাতাদের সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করেন।

ইসলাম খান তার সামরিক এবং নৌবাহিনীকে পুনগঠিত করে প্রথমে বারো ভূঁইয়াদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করেন। তিনি উপলব্ধি করেন ভাটি অঞ্চলে যুদ্ধ জয়ের জন্য তাকে তার নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করতে হবে। এই উপলব্ধি থেকে ভাটি অঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য তিনি অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তা এবং সৈন্য নিয়োগ করেন। ইসলাম খান খুব সতর্কতার সাথে ভাটি অঞ্চলে যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করেন, তিনি প্রথমে বারো ভূঁইয়াদের মিত্র যেমন যশোরের শক্তিশালী রাজা প্রতাপাদিত্য এবং ভুসনার রাজা সতরঞ্জিতকে দমন করেন। তিনি বাংলার উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের অবাধ্য জমিদারদের বিরুদ্ধেও সৈন্য প্রেরণ করেছিলেন। ১৬০৯ সালের জুন মাসে ইসলাম খানের সৈন্যরা রাজমহল থেকে ঘোড়াঘাটে এসে পৌছায়। তিনি জুন-জুলাই মাসে ঢাকায় পৌছানোর আগে ১৬১০ সালের প্রথম কয়েক মাস বারো ভূঁইয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত থাকেন। বারো ভূঁইয়াগণ স্তিমিত না হয়ে পুনরায় শীতলক্ষা নদীর দুপাশে তাদের অবস্থান সুসংহত করেন। ইসলাম খান তাদের বেশি সুযোগ না দিয়ে ঢাকাকে পুনগঠিত করেই তিনি বারো ভূঁইয়াদের সবগুলো ঘাঁটিতে আক্রমণ চালান এনং ১৬১১ সালের শেষের দিকে বারো ভূঁইয়াদের প্রধান মুসা খান বারো ভূঁইয়াদের সকলে ইসলাম খানের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তার এই বিজয়ের পর ইসলাম খান তার সৈন্য পাঠান খাজা উসমান খান এবং আফগানি অধিপতিদের বিরুদ্ধে। আফগানিরা উহার (মৌলভীবাজার) পালিয়ে যায় এবং নিজেদের আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে থাকে। ইসলাম খানের অনুরোধে সম্রাট উসমানের বিরুদ্ধে সৈন্যদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সুজাত খানকে প্রেরণ করেন। দুই পক্ষই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও খাজা উসমানের হঠাৎ মৃত্যুতে মুঘল সৈন্যদের সুবিধা অর্জন করে। মুঘল বাহিনী আরও অগ্রসর হয়ে তাদের প্রতিপক্ষ এবং সিলেটের বায়াজিদ কেরানীর অধীনস্থ আফগানি সৈন্যদের পরাস্ত করে। ইসলাম খান পরে কামরূপ রাজ্যও অধিকার করেন।

ঢাকার গভর্নর 
ইসলাম খান বাংলার প্রায় সবখানেই মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি এক এক করে তার শত্রুদের আক্রমণ করেছিলেন এবং সুগঠিত মুঘল সৈন্য দ্বারা মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমন করে সবখানে এক মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যদিও পরাজিত জমিদার, ভূঁইয়া, এবং প্রধানদের অঞ্চল তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হত কিন্তু তাদের মুঘল সামরিক দলে জোড়পূর্বক যোগ দেওয়ানো হত এবং তাদের যুদ্ধ জাহাজ গুলো বাজেয়াপ্ত করা হত। মুঘল সৈন্যদলে যোগ দেওয়ার ফলে তাদের নিজেদের মিত্র জমিদার ও ভূঁইয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বাধ্য করা হত।

ভূঁইয়াদের পরাস্ত করার পর ইসলাম খান প্রাদেশিক রাজধানী সরিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত নেন। তিনি পূর্ব বাংলা রাজমহল থেকে রাজধানী বাংলার মধ্যবর্তী অঞ্চল ঢাকাতে সরিয়ে আনেন। এ স্থানান্তর মুঘল সৈন্যরা বাংলার মূল ভূখন্ডে স্থায়ীভাবে ব্যবহার করার সুযোগ পায় এবং এলাকার রাজনৈতিক কর্মকান্ডে নিজেদের জড়িত করে। ঢাকাকে ইসলাম খান নামান্তরিত করে জাহাঙ্গীরনগর করেন এবং আধুনিক এক শহরের গোড়াপত্তন করেন।

ঢাকার ইসলামপুর তার নামেই নামকরণ করা হয়েছে। রমনার একাংশ একসময় তার বংশের নামে মহল্লা চিশতীয়ান বলে পরিচিত ছিল। সৈয়দ আওলাদ হোসেন লেনের মসজিদটি ইসলাম খাঁ নির্মিত বলে অনুমিত হয়। ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগার যা একটি দুর্গ ছিল তা ইসলাম খান পুনঃনির্মাণ করেছিলেন।

মৃত্যু 

ইসলাম খান ঢাকা এবং বাংলার গভর্নর ছিলেন ১৬০৮ থেকে ১৬১৩ সাল পর্যন্ত। ১৬১৩ সালে তিনি ঢাকা থেকে ২৫ মাইল উত্তরে ভাওয়ালে রহস্যজনক এবং অনাকাঙ্খিত ভাবে মৃতুবরণ করেন। তিনি প্রথমে সমাহিত হন বাদশাহী বাগ (পুরনো হাইকোর্ট এলাকা), ঢাকা। পরে তার অবশিষ্ট ফতেহপুর সিক্রি নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার দাদা শেখ সেলিম চিশতি এর পাশে সমাহিত করা হয়। তার নামে ঢাকায় একটি বড় মসজিদ রয়েছে।

তথ্যসূত্র 

 Sir Jadunath Sarkar, History of Bengal, II (Dhaka, 1948)
 Abdul Karim, History of Bengal, Mughal Period, I, (Rajshahi, 1992)

বহিঃসংযোগ 
 বাংলাপিডিয়ায় জীবনী
 বাংলাপিডিয়ার ইসমাল খাঁ এর মসজিদ

১৫৭০-এ জন্ম
১৬১৩-এ মৃত্যু
বাংলার শাসক
ঢাকার ইতিহাস
মুঘল সাম্রাজ্য
বাংলার সুবাহদার
মুঘল সেনাপতি
১৬শ শতাব্দীর ভারতীয় রাজনীতিবিদ
১৭শ শতাব্দীর ভারতীয় রাজনীতিবিদ
আগ্রার ব্যক্তি
চিশতী
মুঘল সুবাহদার
অধিবাস্তব সংখ্যা একটি বিশেষ সংখ্যা পদ্ধতি।   এর গঠন খুব সরল হলেও এর মধ্যে সব বাস্তব সংখ্যা এবং গেয়র্গ কান্টরের পূরণবাচক সংখ্যা অন্তর্গত। জন এইচ. কনওয়ে ১৯৬৯ খ্রীষ্টাব্দে এটি উদ্ভাবন করেন।  ডোনাল্ড কানুথ (১৯৭৪) একটি কল্পকাহিনীর মধ্যে অধিবাস্তব সংখ্যাকে বর্ণনা করে একে জনপ্রিয় করে তোলেন। 

এই সংখ্যা পদ্ধতিতে অসীম যেমন অন্তর্গত, তেমনি অতিক্ষুদ্রও। তার মানে প্রতিটি বাস্তব সংখ্যাকে ঘিরে আছে অধিবাস্তব সংখ্যারাজি, যারা অন্য যেকোন বাস্তব সংখ্যা অপেক্ষা এই বাস্তব সংখ্যাটির অধিকতর নিকটবর্তী। যদিও এই পথে ক্যালকুলাস খুব সহজে এবং সহজাতভাবে প্রকাশ করা যাবে বলে অনুমান করা হয়েছিল, বাস্তবে এখন পর্যন্ত অধিবাস্তব ক্যালকুলাস থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ কোন আবিষ্কার আসেনি।

অধিবাস্তব সংখ্যাকে যে চিহ্ন দিয়ে প্রকাশ করা হয় তা হল , যেখানে  এবং  এর আগে নির্মিত কোন অধিবাস্তব সংখ্যা। যেহেতু শুরুতে আমাদের হাতে কোন অধিবাস্তব সংখ্যাই নেই, তাই প্রথম সংখ্যা হলো {|} = ০

{০|} = ১ হল ০ অপেক্ষা বৃহত্তর সরলতম সংখ্যা, {১|} = ২ হল ১ অপেক্ষা বৃহত্তর সরলতম সংখ্যা, ইত্যাদি। অনুরূপভাবে, {|০} = -১ হল ০ অপেক্ষা ক্ষুদ্রতর সরলতম সংখ্যা, ইত্যাদি। তবে ২ কে {১|৩}, {৩/২|৪}, {১|ω} ইত্যাদি এর মাধ্যমেও প্রকাশ করা যায়।

কিছু কিছু সরল গেইম-এর রয়েছে সংক্ষেপিত নামসমূহ, যাদেরকে অধিবাস্তব সংখ্যা এর মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, * = {০|০}, ১ = {০|}, n = {n-১ |} যেখানে n একটি পূর্ণ সংখ্যা, ১/২ = {০|১}, ↑ = {০|*}, এবং ↓ = {*|০} ।
অধিকাংশ অধিবাস্তব সংখ্যাকে হ্যাকেনবাশ অবস্থানরূপে দেখান যায়।

উৎস 

সংখ্যা
গাণিতিক যুক্তিবিজ্ঞান
অসীম
গম্ভীরা বাংলার লোকসঙ্গীতের অন্যতম একটি ধারা। পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলা ও বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাতে  গম্ভীরার প্রচলন রয়েছে। গম্ভীরা দলবদ্ধভাবে গাওয়া হয়। এটি বর্ণনামূলক গান। পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলা অঞ্চলে গম্ভীরার মুখোশ পরে গম্ভীরা গানের তালে গম্ভীরা নৃত্য পরিবেশন করা হয়৷ বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা অঞ্চলের গম্ভীরার মুখ্য চরিত্রে নানা-নাতি খুব জনপ্রিয়।

ধারণা করা হয় যে, গম্ভীরা উৎসবের প্রচলন হয়েছে শিবপূজাকে কেন্দ্র করে। শিবের এক নাম 'গম্ভীর', তাই শিবের উৎসব গম্ভীরা উৎসব এবং শিবের বন্দনাগীতিই হলো গম্ভীরা গান। মালদহে মূলত চৈত্রসংক্রান্তির শিবপূজা উপলক্ষে বিগত বছরের প্রধান-প্রধান ঘটনাবলি নৃত্য, গীত ও অভিনয়ের মাধ্যমে সমালোচিত হয়; অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে ছোট তামাশা, বড় তামাশা ও ফুলভাঙ্গা অনুষ্ঠানের গম্ভীরা মুখোশনৃত্য পরিবেশিত হয়। গম্ভীরা উৎসবের সঙ্গে এ সঙ্গীতের ব্যবহারের পেছনে জাতিগত ও পরিবেশগত প্রভাব রয়েছে।

গম্ভীরা উৎসব

কথিত আছে, প্রায় হাজার বছরের পুরনো গম্ভীরা উৎসব এবং তার ধারাবাহিকতা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের  মালদহ জেলার জীবনকে প্রভাবিত করে এসেছে৷পশ্চিমবঙ্গের মালদহ অঞ্চলে চৈত্রসংক্রান্তির গাজন উৎসবই গম্ভীরা পূজা ও উৎসব নামে পরিচিত (উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়িতে এটি গমীরা নামে খ্যাত)। চৈত্রের শেষ চারদিনে মূল অনুষ্ঠান হয়, তবে অঞ্চলভেদে বৈশাখ,  জ্যৈষ্ঠ এমনকি শ্রাবণ মাসেও শিবমূর্তি স্থাপন করে গম্ভীরা পূজা হয়। বর্তমানে মূলত শিবপূজা নামে খ্যাত হলেও প্রাচীনকালে এটি সূর্যের উৎসব ছিল বলে মনে করা হয়।

মালদহে নিম্নবর্ণের হিন্দু, কোচ-রাজবংশী, পোলিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা মূলত উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। গম্ভীরা উৎসব মালদহ জেলাতে প্রধানত চার দিনের উৎসব। প্রথমদিন 'ঘটভরা' অনুষ্ঠান; গম্ভীরা মণ্ডপে ঘট স্থাপন করে শিবপূজার উদ্বোধন করা হয়। দ্বিতীয় দিনে হয় 'ছোট তামাশা'; এই দিনে শিব ও পার্বতীর পুজো হয়, পুজোর অনুষ্ঠান রং, তামাশা, আনন্দ, রসিকতার মধ্যে কাটে এবং ঢাক-ঢোল বাদ্য সহযোগে মণ্ডপে নানা নৃত্যানুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়। তৃতীয় দিনে 'বড়ো তামাশা'র সন্ন্যাসীরা শুদ্ধচিত্তে শুদ্ধাচারে কাঁটা-ভাঙ্গা, ফুল-ভাঙ্গা ও বাণফোঁড়ায় অংশ নেয়। এদিন মালদহে বিভিন্ন সঙের দল ঘোরে; রাতে গম্ভীরা মণ্ডপে মুখোশনৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। চামুণ্ডা, নরসিংহী, কালীর মুখোশ পড়ে ঢাকের তালে তালে নৃত্য হয়। মুখোশ পড়ে উদ্দাম নৃত্যের মধ্য দিয়ে গম্ভীরার বিশেষ রূপ প্রকাশ পায়। চতুর্থ দিনের উৎসবের নাম ‘আহারা’। এই দিন মণ্ডপে শিবের সঙ্গে নীলপূজাও হয়, সঙ্গে গম্ভীরা গান গাওয়া হয়ে থাকে। বিকালবেলায় সঙ বেরোয়। বিভিন্ন সাজে সেজে সঙ গ্রাম-শহর পরিক্রমা করে। এই সঙ আবার দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথম রীতিতে গান গেয়ে অভিনয় করা হয়। এখানে সব রকম ভাবে নাটকীয় গুণ প্রকাশ পায়। এই রীতিটিই হল গম্ভীরা লোকনাট্য। গম্ভীরা গানের শুরুতে দেবাদিদেব শিবকে বন্দনা করার রীতি আছে। শিবরূপী অভিনেতাকে মঞ্চে নিয়ে এসে তাঁকে সমস্ত বিষয়ে জানানো হয়। সমাজের মঙ্গলের জন্য কী করণীয় বা কোনও সমস্যা থাকলে কী ভাবে তার সমাধান করা যেতে পারে, তার প্রতিকারের নিদান দেন শিব।

প্রকারভেদ
গম্ভীরা গান সাধারণত দুপ্রকার — আদ্যের গম্ভীরা এবং পালা-গম্ভীরা। প্রথমত, দেবদেবীকে সম্বোধন করে মানুষ তার সুখ-দুঃখ পরিবেশন করলে তাকে আদ্যের গম্ভীরা বলা হয়। দ্বিতীয়ত, পালা-গম্ভীরায় নানা-নাতির ভূমিকায় দুজন ব্যক্তির অভিনয়ের মাধ্যমে এক একটা সমস্যা তুলে ধরা হয়।

নামকরণ 
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম দেবতা শিব। শিবের অপর এক নাম 'গম্ভীর'। শিবের উৎসবে শিবের বন্দনা করে যে গান গাওয়া হত- সেই গানের নামই কালক্রমে হয়ে যায় ‘গম্ভীরা’। শিব> গম্ভীর> গম্ভীরা।

পরবর্তী সময়ে গম্ভীরা গানের ধরন অনেকাংশে বদলে গেছে। গানের সুরে দেবদেবীকে সম্বোধন করে বলা হয় গ্রামীণ দারিদ্রক্লিষ্ট মানুষের সুখ-দুঃখ। কখনও সারা বছরের প্রধান ঘটনা এ গানের মাধ্যমে আলোচিত হয়। পালা-গম্ভীরায় অভিনয়ের মাধ্যমে এক একটা সমস্যা তুলে ধরা হয়। চৈত্র-সংক্রান্তিতে বছরের সালতামামি উপলক্ষে পালা-গম্ভীরা পরিবেশন করা হয়ে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশে ‘গম্ভীরা’ বলতে বিশেষ একটি অঞ্চলের লোকসঙ্গীতকে বোঝায়।

গম্ভীরা মুখোশ
গম্ভীরা গানের উৎপত্তি পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় হিন্দুসমাজে। গম্ভীরা নৃত্যটি উত্তরবঙ্গের অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলা জুড়ে চৈত্র সংক্রান্তির উৎসবের সময় প্রদর্শিত হয়। মালদহের গম্ভীরার বিশেষত্ব হল মুখোশের ব্যবহার৷ স্থানীয়  সূত্রধর সম্প্রদায় নিম এবং ডুমুর গাছের অংশবিশেষের সাহায্যে মুখোশগুলি তৈরি করে। কখনও কখনও মুখোশগুলি মাটি দিয়েও তৈরি করা হয়। গম্ভীরা গানের তালে এই মুখোশ পরেই নৃত্য পরিবেশন করা হয়।
গম্ভীরা নৃত্যের মুখোশ হিসাবে বিভিন্ন ধরনের মুখোশ ব্যবহৃত হয়। হিন্দু পৌরাণিক চরিত্রের  বাণ, কালী, নরসিংহী, বাশুলী, গৃধিনীবিশাল, চামুণ্ডা, উগ্রচণ্ডা, ঝাঁটাকালী, মহিষমর্দিনী, লক্ষ্মী-সরস্বতী, হিরণ্যকশিপুবধ, তাড়কাবধ, শুম্ভনিশুম্ভ বধ ইত্যাদির মুখোশ ব্যবহৃত হয়। এই মুখোশের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় নরসিংহী মুখোশ।

পরিবেশনা

পশ্চিমবঙ্গ
পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলাতে গম্ভীরা বা রাগীনি কৌশলে একাধিক ভাগ থাকে। প্রথম ভাগটি হল বন্দনা। এই অংশে মঞ্চে শিব আসেন এবং শিবকে উদ্দেশ্য করে নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে দুটি চরিত্র। শিব সমস্যাগুলির প্রতিকারের উপায় বলে দিয়ে প্রস্থান করেন। পরের ভাগটিতে আসে দ্বৈত  চরিত্র। পুরুষ ও মহিলা দুটি চরিত্র সংলাপ ও গানের মধ্য দিয়ে সমাজজীবন, রাজনীতি থেকে শুরু করে ঘটনাবহুল নানা বিষয় তুলে ধরেন। পরে চার ইয়ারি হিসেবে চারজন অভিনেতা মঞ্চে আসেন। এর মধ্যে একজন উচিত বক্তা থাকেন। সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হয়ে তিনি স্পষ্ট বক্তব্য গান ও কথার মধ্যে দিয়ে প্রকাশ করেন। এই চার ইয়ারি বা বন্ধুর বাক্যালাপের মধ্য দিয়ে সামাজিক সমস্যা মেটানোর পথ বেরিয়ে আসে। এর পরের পর্বটি হল ব্যঙ্গ। একটি চরিত্র ব্যঙ্গের মাধ্যমে জরুরি কিছু কথা বলে৷ আর শেষভাগে ‘সালতামামি’ বা রিপোর্টিং। সারা বছরের নানা ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়াই হল সালতামামি। এখানে সারা বছরের কাজের নানা সমালোচনা হয়। শেষে একটি সমাধানের রাস্তা বার করে গম্ভীরা গান শেষ হয়। গম্ভী লোকনাট্যে বিশেষ ভূমিকা বহন করে তালবাদ্য। এছাড়াও ট হারমোনিয়াম, তবলা, করতাল, ট্রাম্পেট প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার করা হয় গম্ভীরা পরিবেশনায়।

যে সমস্ত প্রথিতযশা শিল্পীদের হাত ধরে গম্ভীরা মালদহ জেলাতে স্বমহিমায় বিরাজমান তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নামগুলি হল ধনকৃষ্ণ অধিকারী, কৃষ্ণধনদাস গোস্বামী, মহম্মদ সুফি, গোপালচন্দ্র দাস, সতীশচন্দ্র গুপ্ত, গোলাম গুপ্ত, কিশোরীকান্ত চৌধুরী প্রমুখ। গম্ভীরা গানকে বিশেষ মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছিলেন পুরাতন মালদহের ইটখোলা গ্রামে জন্ম নেওয়া এবং ইংরেজবাজার শহরের কুতুবপুর বাবুপাড়া নিবাসী যোগেন্দ্রনাথ চৌধুরী যিনি গম্ভীরাসম্রাট নামে আখ্যায়িত হন । গম্ভীরায় কৌতুক সৃষ্টিকারী অভিনেতা ও গায়ক শিল্পী হিসেবে তাঁর স্থান ছিল অদ্বিতীয়। তাঁর ডাকনাম ছিল মটরা। এক সময় , মালদহ তো বটেই, অবিভক্ত দিনাজপুর তথা গোটা বাংলায় তাঁর অভিনীত গম্ভীরা মটরার গান হিসেবে অভিহিত হত। এ ছাড়া গোবিন্দলাল শেঠ, গোপীনাথ শেঠ, অনিল চৌধুরী, রামেশ্বর রায়ের মতো অসংখ্য শিল্পী গম্ভীরাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে গিয়েছেন মালদহ জেলায়।

বাংলাদেশ
বাংলাদেশে পূর্বে গম্ভীরা গানের আসরে শিবের অস্তিত্ব কল্পনা করা হত। বর্তমানে বাংলাদেশের গম্ভীরা গানের আসরে শিবের পরিবর্তে ‘নানা-নাতি’র ভূমিকায় দুজন অভিনয় করে। নানার মুখে পাকা দাঁড়ি, মাথায় মাথাল, পরনে লুঙ্গি; হাতে লাঠি। আর নাতির পোশাক ছেঁড়া গেঞ্জি, কোমরে গামছা ইত্যাদি। একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের গ্রামের ছবি। ‘নানা-নাতি’র সংলাপ ও গানের মধ্য দিয়ে দ্বৈতভাবে গম্ভীরা গান পরিবেশিত হয়।এক সময় গম্ভীরা গান একতাল, ত্রিতাল, দাদরা, খেমটা, কাহারবা প্রভৃতি সুরে গাওয়া হতো। বর্তমানে সুরের পরিবর্তন ঘটেছে এবং তাতে হিন্দি ও বাংলা ছায়াছবির গানের সুর প্রাধান্য পাচ্ছে। এ ছাড়া লোকনাট্যের বহু বিষয়, চরিত্র ও সংলাপও গম্ভীরা গানে সংযুক্ত হয়েছে। নবাবগঞ্জের কুতুবুল আলম, রকিবউদ্দীন, বীরেন ঘোষ, মাহবুবুল আলম প্রমুখ গম্ভীরা গানের বিশিষ্ট শিল্পী। তারা নতুন নতুন সুর সৃষ্টির মাধ্যমে গম্ভীরা গানকে সারা বাংলাদেশে জনপ্রিয় করে তুলেছেন।

আরও পড়ুন
ধামের গান

বহিসংযোগ 

  চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার শিল্পীগোষ্ঠির গম্ভীরা পরিবেশনে

তথ্যসূত্র 

পল্লীগীতি
পশ্চিমবঙ্গের লোকসংস্কৃতি
বাংলার উৎসব
বাংলা ভাষার গান
বাংলাদেশী সঙ্গীত
এশীয় নৃত্য
বাংলা সঙ্গীত
পশ্চিমবঙ্গের লোকনৃত্য
সারি গান আবহমান বাংলার লোকসঙ্গীত। শ্রমিক ও কর্মজীবীদের মাঝে বিশেষ জনপ্রিয় হওয়ায় সারি গান ‘শ্রম-সঙ্গীত’ বা ‘কর্ম-সঙ্গীত’ নামেও পরিচিত। ছাদ পেটানোর সময় এ গান গাওয়া হয় বলে এঁকে ছাদ পেটানোর গান ও বলা হয়। সারি গান নৌকার মাঝি-মাল্লাদের সঙ্গেই বেশি যায়। নৌকার মাঝি, কর্মজীবী ও শ্রমিকরা দলবদ্ধভাবে বা সারিবদ্ধভাবে কাজের তালে তালে শ্রম লাঘব করার জন্য এ গান থেকে থাকে। এ জন্যই এ গানের নাম হয়েছে ‘সারি গান’।

সারি গানের আবির্ভাব 

মধ্যযুগের কবি বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরাণে প্রথম সারি গানের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেখানে সঙ্গীতের সমার্থক শব্দ রূপে ‘সারি’ শব্দটির ব্যবহার হয়েছে।
পরবর্তীতে মোগল বাদশাহদের নৌ বাহিনীর দ্বারা নৌকা বাইচের গোড়াপত্তন হলে এর ব্যাপক প্রসার ও প্রচার ঘটে। পরবর্তীতে শ্রমজীবীদের মধ্যে যেমন, কৃষকদের ফসল কাটা, ফসল তোলা, ক্ষেত নিড়ানো, হাল চাষ বা হাল বাওয়া ও ফসল ঘরে তোলার পরিশ্রম লাঘবের জন্য এ লোকগানের প্রচলন দেখা যায়। তাছাড়া পরিশ্রম নির্ভর কাজ যেমন, গাছ কাটা, ইমারত ভাঙ্গা ইত্যাদি কাজে এর প্রচলন লক্ষ করা যায়। আবহমান বাংলার এ লোকসঙ্গীতটি এখন শ্রমিকদের গণ্ডি ছাড়িয়ে বাংলার মানুষের চিত্তবিনোদন ও প্রতিযোগিতামূলক খেলার উপাদানে পরিণত হয়েছে।

গানের কৌশল 

সারি গান মূলত সমবেত কণ্ঠে পুরুষরা গেয়ে থাকে। তবে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ থাকলে তারাও গানে যোগ দেয়। সারি গানের গায়েনদের মধ্যে একজন বয়াতি মূল গানটি গায়। আর বাকিরা দুয়া বা দিনা ধরে তালে তালে সমবেত কণ্ঠে গেয়ে চলে। পালাক্রমে বয়াতি ও দোহারদের মধ্যে এভাবে সারি গান এগিয়ে চলে।
সারি গান মাঝি-মাল্লা ও শ্রমিকরা কাজের তালে তালে তাল রক্ষা করে গেয়ে থাকে যেমন, নৌকার বৈঠা উঠা-নামার তালে তালে, ছাদ পেটানোর তালে তালে, গাছ কাটার তালে তালে এ গান গাওয়া হয় বলে সারি গান মূলত তাল-প্রধান। সারি গান অবস্থাভেদে দ্রুত ও ধীর লয়ে গাওয়া হয় যেমন, নৌকা বাইচের সময় নৌকা দ্রুত ছুটে চলে তাই তখন দ্রুত লয়ে গাওয়া হয়। তবে সাধারণত মাঝি-মাল্লারা নদীর বুকে দাঁড় টানার সময় ধীর লয়ে গেয়ে থাকে।

চিত্তবিনোদনে সারি গান 

মূলত কর্মোদ্যম ও শ্রম লাঘব সারি গানের মূল উদ্দেশ্য হলেও চিত্তবিনোদনের জন্যও সারি গান গাওয়া হয়। চিত্তবিনোদনের জন্য এ গানে নরনারীর প্রেম, রাধাকৃষ্ণ, প্রশংসামূলক গান, হরগৌরী ও নিমাই বিষয়ক গান, মরমি গান, হাস্যকৌতুক ও আক্রমণাত্মক গান সহ নানা বিষয় এতে ঠাই পেয়েছে। নৌকা বাইচে সারি গানে ঢোল, মন্দিরা, করতাল সহ নানা বাদ্যযন্ত্র থাকে।

সারি গান 

একটি জনপ্রিয় সারিগান নিম্নরূপ:

আল্লায় বলিয়া নাও খোল রে

ভাই সক্কলি।

আল্লাহ বলিয়া খোল।

ওরে আল্লা বল নাও খোল

শয়তান যাবে দূরে।

ওরে যে কলমা পইড়া দেছে

মোহাম্মদ রাসূলরে

ভাই সক্কল। ...

সারি গানের অঞ্চল 

সারা বছরই সারি গান গাওয়া হয়। নদ-নদী, খাল-বিল, হাওর-বাঁওর, কৃষি ক্ষেত ও শ্রমিকদের কর্মস্থলে এ গান চলে। পূর্ব ও নিম্ন বঙ্গের ভাটি অঞ্চলকে সারি গানের অঞ্চল বলা হয়। এছাড়া ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, পাবনা, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল প্রভৃতি অঞ্চলেও এ গান ব্যাপক জনপ্রিয়।

তথ্যসূত্র

বহিঃসংযোগ

লোকসাহিত্য
লোকসঙ্গীত
লোকসংস্কৃতি
পল্লীগীতি
বাংলাদেশী সঙ্গীত
বাংলা সঙ্গীত
ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনকে ডেস্কটপ অ্যাপ্লিকেশনে রূপ দেয়ার অভিপ্রায় থেকে এজ্যাক্স (Ajax)-এর জন্ম। ওয়েব ব্যবহারকারীদের এখনো বোতাম ক্লিক করা, নতুন পাতা আসার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করা, তারপর আরেকটি বোতাম ক্লিক করা --- এসবের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এজ্যাক্স-এর প্রয়োগে এর সমাধান করা সম্ভব।

অ্যাসিংক্রোনাস জাভাস্ক্রিপ্ট আর এক্সএমএল (XML) এর মিলিত রূপ এই এজ্যাক্স । এটিকে অ্যাসিংক্রোনাস (asynchronous) বা অসমলকৃত বলা হয় কারণ এতে ওয়েব সার্ভারের কাছে ওয়েব ব্রাউজার থেকে অনুরোধ পাঠানো হয় পর্দার আড়ালে, এই অনুরোধ করা ও সার্ভার থেকে তথ্য প্রাপ্তির মধ্যবর্তী সময়ে ব্যবহারকারী বর্তমান পাতায় তার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেন। ব্রাউজারে চলে এমন কোন স্ক্রিপ্টিং ভাষা যেমন, জাভাস্ক্রিপ্টের এক্সএমএল এইচটিটিপি রিকোয়েস্ট (XmlHttpRequest) অবজেক্ট ব্যবহার করে ব্রাউজার থেকে সার্ভারে অনুরোধ বা তথ্য পাঠানো হয়। সার্ভার থেকে প্রাপ্ত তথ্য (যা এক্সএমএল বা অন্য কোন ফরম্যাটে হতে পারে) ব্যবহার করে জাভাস্ক্রিপ্ট প্রয়োজনানুযায়ী বর্তমান পাতাটিকে হালনাগাদ করতে পারে। অর্থাৎ এই প্রক্রিয়ায় সার্ভারের সাথে যোগাযোগের জন্য ব্যবহারকারীর কোন তথ্য পোস্ট করা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না, বরং বর্তমান পাতাটি ব্যবহারকারী কর্তৃক পর্যবেক্ষণ বা কোন ফর্ম পূরণের সময়ই পটভূমিতে সার্ভারের সাথে তথ্য আদান-প্রদান চালু থাকে।

ইতিহাস 
৯০ এর দশকের শুরুর দিকে, বেশিরভাগ ওয়েবসাইট শুধুমাত্র এইচটিএমএল দ্বারা তৈরি করা হত। ব্য়বহারকারীর প্রতিটি কার্যকলাপ একটা নতুন ওয়েব পেজের জন্য় সার্ভারের কাছে একটা রিকুয়েস্ট পাঠানো হত। প্রত্য়েকটা নতুন পরিবর্তন এর জন্য় একটা নতুন পেজ লোড করতে হত।

২০০৫ সালে প্রথম এজাক্স পরিভাষাটি প্রথম ব্য়বহার করা হয়।

বহিঃসংযোগ 

 Ajax: A New Approach to Web Applications Article that coined the term and Q&A.
 
 Ajax Tutorial with get, post, text and XML examples.

প্রোগ্রামিং ভাষা
ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
রবীন্দ্রসঙ্গীত হল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত ও সুরারোপিত গান। বাংলা সংগীতের জগতে এই গানগুলি একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থানের অধিকারী। রবীন্দ্রনাথের জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে ও আমার সোনার বাংলা গানদুটি যথাক্রমে ভারত ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত। এছাড়া ভারতের জাতীয় স্তোত্র বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বন্দে মাতরম্‌ গানটিতে রবীন্দ্রনাথই সুরারোপ করেছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত মোট গানের সংখ্যা ২২৩২। তার গানের কথায় উপনিষদ্‌, সংস্কৃত সাহিত্য, বৈষ্ণব সাহিত্য ও বাউল দর্শনের প্রভাব সুস্পষ্ট। অন্যদিকে তার গানের সুরে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের (হিন্দুস্তানি ও কর্ণাটকি উভয় প্রকার) ধ্রুপদ, খেয়াল, ঠুমরি, টপ্পা, তরানা, ভজন ইত্যাদি ধারার সুর এবং সেই সঙ্গে বাংলার লোকসঙ্গীত, কীর্তন, রামপ্রসাদী, পাশ্চাত্য ধ্রুপদি সঙ্গীত ও পাশ্চাত্য লোকগীতির প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। রবীন্দ্রনাথের সকল গান গীতবিতান নামক সংকলন গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। উক্ত গ্রন্থের ১ম ও ২য় খণ্ডে রবীন্দ্রনাথ নিজেই তার গানগুলিকে ‘পূজা’, ‘স্বদেশ’, ‘প্রেম’, ‘প্রকৃতি’, ‘বিচিত্র’ও ‘আনুষ্ঠানিক’ – এই ছয়টি পর্যায়ে বিন্যস্ত করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর গীতবিতান গ্রন্থের প্রথম দুই খণ্ডে অসংকলিত গানগুলি নিয়ে ১৯৫০ সালে উক্ত গ্রন্থের ৩য় খণ্ড প্রকাশিত হয়। এই খণ্ডে প্রকাশিত গানগুলি ‘গীতিনাট্য’, ‘নৃত্যনাট্য’, ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’, ‘নাট্যগীতি’, ‘জাতীয় সংগীত’, ‘পূজা ও প্রার্থনা’, ‘আনুষ্ঠানিক সংগীত, ‘প্রেম ও প্রকৃতি’ ইত্যাদি পর্যায়ে বিন্যস্ত। ৬৪ খণ্ডে প্রকাশিত স্বরবিতান গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় গানের স্বরলিপি প্রকাশিত হয়েছে।

জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে সঙ্গীতচর্চার ব্যাপক প্রচলন ছিল। রবীন্দ্রনাথের বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রবীন্দ্রনাথের অন্যান্য দাদারা নিয়মিত সংগীতচর্চা  করতেন। কিশোর বয়সে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গীতশিক্ষায় সর্বাধিক প্রভাব বিস্তার করেছিলেন তার নতুনদাদা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। এগারো বছর বয়সে লেখা ‘গগনের থালে রবি চন্দ্র দীপক জ্বলে’ গানটি সম্ভবত রবীন্দ্রনাথ কর্তৃক রচিত প্রথম গান। এরপর প্রায় ৭০ বছর ধরে তিনি নিয়মিত গান রচনা করে গিয়েছিলেন। স্বরচিত গীতিকবিতা ছাড়াও কয়েকটি বৈদিক স্তোত্র ও বৌদ্ধ মন্ত্র এবং বিদ্যাপতি, গোবিন্দদাস, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অক্ষয়কুমার বড়াল, সুকুমার রায় ও হেমলতা দেবী কর্তৃক রচিত কয়েকটি গানে সুরারোপ করেছিলেন। তার লেখা শেষ গানটি হল ‘হে নূতন দেখা দিক আর বার’। ১৯৪১ সালে রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় তার শেষ জন্মদিনে এটি পরিবেশিত হয়েছিল।

রবীন্দ্রনাথ নিজেও সুগায়ক ছিলেন। বিভিন্ন সভাসমিতিতে তিনি স্বরচিত গান পরিবেশন করতেন। কয়েকটি গান তিনি গ্রামোফোন ডিস্কেও প্রকাশ করেছিলেন। সঙ্গীত প্রসঙ্গে কয়েকটি প্রবন্ধও তিনি রচনা করেন। এছাড়া স্বরচিত নাটকেও তিনি নিজের গান ব্যবহার করতেন। সঙ্গীতকে তিনি বিদ্যালয়-শিক্ষার পরিপূরক এক বিদ্যা মনে করতেন। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর তার রচিত গানগুলি বাঙালি সমাজে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

সংজ্ঞা 
‘রবীন্দ্রসংগীত’ বলতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত এবং রবীন্দ্রনাথ বা তার নতুনদাদা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক সুরারোপিত গানগুলিকেই বোঝায়। রবীন্দ্রনাথের কবিতায় অন্যের সুরারোপিত গানগুলিকে ‘রবীন্দ্রসংগীত’ বর্গভুক্ত করা হয় না। এই কারণে জনপ্রিয় ‘দিনের শেষে ঘুমের দেশে’ (সুরকার: পঙ্কজকুমার মল্লিক) গানটিকে রবীন্দ্রসঙ্গীত পর্যায়ভুক্ত করা হয়নি।

ইতিহাস

প্রথম গান রচনা 
রবীন্দ্রনাথ রচিত প্রথম গানটি হল ‘গগনের থালে রবি চন্দ্র দীপক জ্বলে’। এই গানটি গুরু নানক রচিত ‘গগন মে থাল রবি চন্দ্র দীপক বনে’ ভজনটির প্রথমাংশের প্রায় আক্ষরিক অনুবাদ। তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার ফাল্গুন ১২৮১ (জানুয়ারি, ১৮৭৫) সংখ্যায় এটি প্রকাশিত হয়। আদি ব্রাহ্মমাজ প্রকাশিত ব্রহ্মসংগীত স্বরলিপি গ্রন্থে এটি জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রবীন্দ্রনাথ মনে করতেন, এটি তারই রচনা। রবীন্দ্রজীবনীকার প্রশান্তকুমার পাল এই গান রচনা ও প্রকাশের ইতিহাস সম্পর্কে লিখেছেন:

বৈশিষ্ট্য 
তিনি কেবল গীতিকার বা সুরকার নন, তিনি সঙ্গীতস্রষ্টা। রবীন্দ্রসঙ্গীত কাব্য ও সুরের মধুর মিলনের অনন্য দৃষ্টান্ত। স্বরচিত অধিকাংশ গানে সুরারোপ করেছেন রবীন্দ্রনাথ নিজেই। "স্থায়ী", "অন্তরা", "সঞ্চারী" এবং "আভোগ" - এই চারটি রূপবন্ধের ক্রমিক সমন্বয়ে যে একটি গান সম্পূর্ণ হয়ে উঠে তা তিনি সম্যক উপলব্ধি করেছিলেন। তার এই উপলব্ধি সর্বভারতীয় সঙ্গীত ঐতিহ্যেরই প্রতিফলন। তবে তিনি গানে "তান-বিস্তারের" অপরিহার্যতা অস্বীকার করে সঙ্গীত রচনা করেছেন। তার গানে বিস্তার ব্যতিরেকেই সুর শব্দকে ছাড়িয়ে বিশেষ ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করে। সুরের বৈশিষ্ট্যেই তার গান রবীন্দ্রসঙ্গীত হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে প্রচলিত তালে সুর বাঁধার সঙ্গে সঙ্গে অপ্রচলিত নানা তাল তিনি ব্যবহার করেছেন। তার কাছে আমরা পেয়েছি ১৫ মাত্রা, ১৭ মাত্রা, ১৮ মাত্রা, ১৯ মাত্রা ইত্যাদির বাংলা গান। "সঙ্গীতের মুক্তি" নামীয় প্রবন্ধটি তার সঙ্গীত চিন্তার দলিল।

চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রসংগীতের প্রয়োগ 
বাংলা চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রয়োগ শুরু হয় ১৯৩৭ সালে। ওই বছর নিউ থিয়েটার্স প্রাইভেট লিমিটেড প্রযোজিত ও প্রমথেশ বড়ুয়া পরিচালিত মুক্তি চলচ্চিত্রে প্রথম রবীন্দ্রসঙ্গীত ব্যবহার করা হয়। এরপর সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, গৌতম ঘোষ,অপর্ণা সেন, ঋতুপর্ণ ঘোষ প্রমুখ আন্তর্জাতিক-খ্যাতিসম্পন্ন পরিচালকগণ তাদের ছবিতে সার্থকভাবে রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রয়োগ করেছেন। মূলধারার বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রেও জনপ্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীতগুলি ব্যবহার করা হয়।

মুক্তি 
নিউ থিয়েটার্স প্রাইভেট লিমিটেড প্রযোজিত ও প্রমথেশ বড়ুয়া পরিচালিত মুক্তি (১৯৩৭) চলচ্চিত্রে প্রথম রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রয়োগ করা হয়েছিল। এই ছবির সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী পঙ্কজ কুমার মল্লিক। পঙ্কজকুমার মল্লিক রবীন্দ্রনাথের অনুমতি নিয়ে কবির খেয়া কাব্যগ্রন্থের "শেষ খেয়া" কবিতাটিতে সুরারোপ করেন এবং এই চলচ্চিত্রে প্রয়োগ করেন। গানটি "দিনের শেষে ঘুমের দেশে" শিরোনামে রেকর্ডে প্রকাশিত হয় ও জনপ্রিয়তা অর্জন করে। মুক্তি চলচ্চিত্রে পঙ্কজকুমার মল্লিক রবীন্দ্রনাথের "আজ সবার রঙে রঙ মেশাতে হবে", "তার বিদায়বেলার মালাখানি" ও "আমি কান পেতে রই" গান তিনটিও ব্যবহার করেছিলেন।

বিশিষ্ট শিল্পীবর্গ 
বাংলা সঙ্গীতের ক্ষেত্রে রবীন্দ্রসঙ্গীত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় ধারা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই ছিলেন সমসাময়িক যুগের একজন বিশিষ্ট গায়ক। স্বামী বিবেকানন্দ নিয়মিত জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং সেখানে একাধিক রবীন্দ্রসঙ্গীত শিখে নানা পারিবারিক অনুষ্ঠানে, ব্রাহ্মসমাজের উৎসবে, এমনকি দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়িতে রামকৃষ্ণ পরমহংসের সামনেও পরিবেশন করেছিলেন।<ref>"যুগ-আচার্য ও যুগ-কবি : বিবেকানন্দ ও রবীন্দ্রনাথ", স্বামী সুবীরানন্দ, স্বামীজী সার্ধশতবর্ষপূর্তি সংখ্যা", ২০১৪, উদ্বোধন কার্যালয়, কলকাতা, পৃ. ৪১৮-১৯</ref> ঠাকুর পরিবারে রবীন্দ্রনাথের গান গাওয়ার প্রথাও তার সমসাময়িক কালেই শুরু হয়। দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাহানা দেবী, ইন্দিরা দেবী চৌধুরাণী, শান্তিদেব ঘোষ প্রমুখ রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাৎ শিষ্যেরা ছাড়াও, পঙ্কজকুমার মল্লিক, কুন্দনলাল সায়গল, কানন দেবী প্রমুখ শিল্পীরা রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশাতেই রবীন্দ্রসঙ্গীতকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন। পরবর্তী কালে কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুচিত্রা মিত্র, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, দেবব্রত বিশ্বাস, সুবিনয় রায়, চিন্ময় চট্টোপাধ্যায়, সাগর সেন, ঋতু গুহ, গীতা ঘটক প্রমুখ শিল্পীরা রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়ে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তাদের অনুপ্রেরণায় লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে, কিশোর কুমার প্রমুখ বিশিষ্ট বলিউড-শিল্পীরাও রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়েছিলেন। বাংলা আধুনিক ও চলচ্চিত্রের গান সহ অন্যান্য ধারার সঙ্গীত শিল্পীরাও রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়েছেন। পূর্ব পাকিস্তানের স্বৈরশাসনের প্রতিবাদে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ওয়াহিদুল হক, কলিম শরাফি, সনজীদা খাতুন প্রমুখ শিল্পীরা বাংলাদেশে রবীন্দ্রসঙ্গীতকে বিশেষ জনপ্রিয় করে তোলেন। আধুনিক যুগে মনোজ মুরলী নায়ার, মণীষা মুরলী নায়ার, মোহন সিং, বিক্রম সিং, স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত, লোপামুদ্রা মিত্র, শ্রাবণী সেন, শ্রীকান্ত আচার্য, সুস্মিতা পাত্র, সাহানা বাজপেয়ী, পীযূষকান্তি সরকার প্রমুখ ভারতীয় এবং রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, অদিতি মহসিন, মিতা হক, পাপিয়া সারোয়ার প্রমুখ বাংলাদেশী শিল্পীরা রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়ে বিশেষ জনপ্রিয় হয়েছেন। বাবুল সুপ্রিয়, শান, কুমার শানু, অলকা ইয়াগনিক, সাধনা সরগম, কবিতা কৃষ্ণমূর্তি প্রমুখ বলিউড-শিল্পীরাও এখন নিয়মিত রবীন্দ্রসঙ্গীতের সংকলন প্রকাশ করে থাকেন।

কয়েকজন বিখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত গায়কের নাম নিচে দেয়া হল।
 
 ইন্দুলেখা ঘোষ
 সাদী মোহাম্মদ
 নলিনীকান্ত সরকার
 রাজেশ্বরী দত্ত
 মায়া সেন
 নীলিমা সেন
 অমিতা সেন
 আরতি মুখোপাধ্যায়
 চিত্রলেখা চৌধুরী
 বন্দনা সিংহ
 শৈলজারঞ্জন মজুমদার
 শান্তিদেব ঘোষ
 হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
 কনক দাস
 কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়
 অশোকতরু বন্দ্যোপাধ্যায়
 অগ্নিভ বন্দ্যোপাধ্যায়
 দেবব্রত বিশ্বাস
 কবীর সুমন
 পাপিয়া সারোয়ার
 মনীষা মুরলী নায়ার
 মনোজ মুরলী নায়ার
 মালতি ঘোষাল
 মোহন সিংহ খাঙ্গুরা
 কে এল সায়গল
 সুবিনয় রায়
 চিন্ময় চট্টোপাধ্যায়
 সুচিত্রা মিত্র
 সাগর সেন
 সুমিত্রা সেন
 ইন্দ্রাণী সেন
 শ্রাবণী সেন
 অর্ঘ্য সেন
 রুমা গুহঠাকুরতা
 রাজেশ্বর ভট্টাচার্য
 কলিম শরাফী
 কাদেরী কিবরিয়া
 রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা
 মিতা হক
 লোপামুদ্রা মিত্র
 স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত
 শিবাজী চট্টোপাধ্যায়
 শুভমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
 শ্রীকান্ত আচার্য
 শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়
 সুপ্রতীক দাস
 ঋতু গুহ
 গীতা ঘটক
 রেণুকা দাশগুপ্ত
 জয়তী চক্রবর্তী
 কমলিনী মুখোপাধ্যায়
 অদিতি মহসিন
 অদিতি গুপ্তা
 দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়
 শাশা
 শ্রেয়া গুহঠাকুরতা
 মনোময় ভট্টাচার্য
 ইন্দ্রনীল সেন
 কিশোর কুমার
 অরুন্ধতী হোমচৌধুরী
 পঙ্কজ মল্লিক
 পীযূষকান্তি সরকার
 সুস্মিতা পাত্র
 অনিমা রায়
 সাহানা বাজপেয়ী
 শ্রবণা  ভট্টাচার্য

 বিতর্ক 
 দেবব্রত বিশ্বাস—বিশ্বভারতী সংগীত সমিতি বিরোধ 
১৯৫১ সালের ভারতের কপিরাইট আইন অনুসারে, ২০০১ সাল পর্যন্ত ভারতে রবীন্দ্রসঙ্গীতের রেকর্ড প্রকাশ করতে হলে বিশ্বভারতী সঙ্গীত সমিতির অনুমোদন প্রয়োজন হত। ১৯৫৭ সালে বিশ্বভারতী সঙ্গীত সমিতি দেবব্রত বিশ্বাসের "তুমি রবে নীরবে" গানটি প্রকাশের অনুমতি দিতে অস্বীকার করলে, দেবব্রত বিশ্বাস রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় প্রকাশিত স্বরলিপি দেখিয়ে গীতবিতান''-এ গানের পাঠের ভুল নির্দেশ করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাৎ শিষ্য শান্তিদেব ঘোষ এই ব্যাপারে দেবব্রত বিশ্বাসের দেওয়া তথ্য সমর্থন করলে বিশ্বভারতী সঙ্গীত সমিতি গানটি প্রকাশের অনুমতি দেয়। ১৯৬৪ সালে দেবব্রত বিশ্বাসের গাওয়া "মেঘ বলেছে, যাব যাব" ও "এসেছিলে তবু আস নাই" গানদুটি প্রকাশের অনুমতি দিতে বিশ্বভারতী সঙ্গীত সমিতি অস্বীকার করে। ১৯৬৯ সালে তার "পুষ্প দিয়ে মারো যারে" ও "তোমার শেষের গানের" গানদু-টির প্রকাশের অনুমতি বিশ্বভারতী সঙ্গীত সমিতি দেয়নি। বিশ্বভারতী সঙ্গীত সমিতি দেবব্রত বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গানে অতিনাটকীয়তা, অতিরিক্ত বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার ইত্যাদির অভিযোগ এনেছিল।  ১৯৭০-৭১ সালে দেবব্রত বিশ্বাস বেশ কিছু গান রেকর্ড করেন। কিন্তু তার কয়েকটিকে বিশ্বভারতী অনুমোদন দিতে অসম্মত হন। বিরক্ত হয়ে দেবব্রত বিশ্বাস স্থির করেন তিনি আর রবীন্দ্রসঙ্গীত রেকর্ড করবেন না। বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সুচিত্রা মিত্র অবশ্য লিখেছেন যে, দেবব্রত বিশ্বাসের কোনো গান বিশ্বভারতী সঙ্গীত সমিতি বাতিল করেনি।

উল্লেখযোগ্য রবীন্দ্রসঙ্গীতের তালিকা 
 জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে
 আমার সোনার বাংলা
 আমারও পরানও যাহা চায় 
 চোখের আলোয় দেখেছিলেম 
 জগৎ জুড়ে উদার সুরে  
 ওগো দখিন হাওয়া  
 দাঁড়িয়ে আছ তুমি আমার গানের ওপারে 
 কান্না হাসির দোল দোলানো 
 কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া 
 কণ্ঠে নিলেম গান 
কবে আমি বাহির হলেম 
কি গাব আমি কি শুনাব

পাদটীকা 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বাংলা সঙ্গীত
পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গীত
ভারতীয় সঙ্গীত
ভারতীয় সাহিত্য
বাংলা সাহিত্য
কলকাতার সংস্কৃতি
বাংলাদেশি সংস্কৃতি
পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি
ভারতীয় সংস্কৃতি
সঙ্গীতের ভারতীয় ধরন
শ্বেতবিবর (White Hole) হল কৃষ্ণ বিবরের বিপরীত ঘটনা। কৃষ্ণ বিবর সবকিছু নিজের মধ্যে শোষণ করে নেয়, আর শ্বেত বিবর সবকিছু বাইরে বের করে দেয়। এজন্য এটি খুব উজ্জ্বল। সময়কে বিপরীত দিকে চালালে কৃষ্ণ বিবরকে শ্বেত বিবর বলে মনে হবে। এই প্রক্রিয়াটিকে "টাইম রিভার্সাল অফ ব্ল্যাক হোল" বলা হয়। একে একট উপপ্রমেয়মূলক তারা (Hypothetical star) হিসেবে আখ্যায়িত করা যেতে পারে।
কৃষ্ণ বিবরের মত শ্বেত বিবরেরও ভর, চার্জ, কৌনিক ভরবেগ আছে।

হোয়াইট হোল এমন একটি বস্তু যা পদার্থবিজ্ঞানের কিছু তত্ত্বে দেখা যায়। কেউই এটা এখনো দেখেনি। যখন একটি ব্লাক হোল নিষ্পন্ন হয় তখন সব কিছু এর মধ্যে এসে পতিত হয়। আর যেসব বস্তু  ব্ল্যাক হোলে পতিত হয় সেগুলোকে কোনো একখানে যেতে হয়। হোয়াইট হোলের ধারণা এভাবেই আসে। যে বস্তুগুলো ব্লাক হোলে পতিত হয় সেগুলো কোথায় যায়? হয় সেগুলো আমাদের মহাবিশ্বে নাহয় অন্য কোনোভাবে অন্য কোনো মহাবিশ্বে। তবে অন্য মাহাবিশ্বে গেলে শক্তির সংরক্ষণশীলতার নীতির বিঘ্ন ঘটবে, যেমন আমাদের মহাবিশ্বের মোট শক্তির পরিমাণ নির্দিষ্ট, তাহলে বস্তুর মধ্যে সংরক্ষিত শক্তি অন্য মহাবিশ্বের গেলে ঐ মহাবিশ্বের মোট শক্তির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং আমাদের মহাবিশ্বের মোট শক্তির পরিমাণ কমে যাবে, যা শক্তি সংরক্ষণশীলতার নীতির বিঘ্ন ঘটায়, পক্ষান্তরে বিজ্ঞানী ডাল্টনের পরমাণু মতবাদে বলা হয়েছে পরমাণু সৃষ্টি করা বা ধ্বংস করা যাবে না যেহেতু বস্তুর মধ্যে পরমাণু বিদ্যমান সেহেতু বস্তু অন্য মহাবিশ্বে গিয়ে পরমাণুর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারবে না, কিন্তু তার সম্ভাবনা একেবারেই কম। কারণ অন্য মহাবিশ্বে যাওয়ার পক্ষে কোনো যুক্তিই নেই। তাই ধারণা করা হয় বস্তুগুলো বের হতে হলে এমন মাধ্যম দরকার যা সবকিছু বের করে দেয়। আর এই ধারণা থেকেই জন্ম নেয় হোয়াইট হোলের।
বিজ্ঞানীদের ধারণা যতটুকু পজেটিভ গ্রাভিটির চাপে ব্লাক হোল সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে এবং সব কিছুকে নিজের করে নিচ্ছে ঠিক তেমনি করে হোয়াইট হোল নেগেটিভ গ্রাভিটির চাপে হোয়াইট হোল সবকিছু বের করে দিচ্ছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন ব্লাক হোলের কোয়াসার গুলো হতে পারে হোয়াইট হোল। সব কিছু যেহেতু বের করে দেয় তাই একে সাদা দেখা যায়।

উৎপত্তি 

হোয়াইট হোল হলো মহাবিশ্বের একটি তাত্ত্বিক অংশ। চিন্তা করা হয় এটি ব্ল্যাক হোলের সম্পূর্ণ বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। ব্ল্যাক হোলে থেকে যেমন কোনো কিছু পালাতে পারেনা তেমনিভাবে হোয়াইট হোল সবকিছু উদ্গিরণ করে দেয় এবং কোনো কিছুই এমনকি শক্তিও এর কাছে যেতে পারেনা।
হোয়াইট হোল সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বের সূত্রগুলোর একটি সম্ভাব্য সমাধান। এই তত্ত্বানুসারে যদি মহাবিশ্বে ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব থাকে তাহলে হোয়াইট হোলও থাকা উচিত।
এখন আমাদের কাছে কেবল মনে হয় হোয়াইট হোল হলো কেবল মাত্র গাণিতিক সম্ভাবনা। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে যদি “লুপ কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি”- তত্ত্বটি যদি সত্যি হয় তাহলে হোয়াইট হোলের অস্তিত্বও সত্যি হতে পারে- এমনকি আমরা হোয়াইট হোল দেখতেও পারি (সম্ভাবনা আছে)।
ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি’র পদার্থবিজ্ঞানী সিন ক্যারল হোয়াইট হোলকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেনঃ ব্লাক হোল হলো এমন একটি জায়গা যেখানে কেউ একবার গেলে আর ফিরে আসতে পারবে না; হোয়াইট হোল হলো এমন একটি জায়গা যেখান থেকে কেউ একবার বের হলে আর সেখানে ফিরে যেতে পারেনা। পক্ষান্তরে এদের গণিতিক এবং জ্যামিতিক ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ একই রকম।  
এদের কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেমনঃ সিঙ্গুলারিটি, যেখানে একটি বিন্দুতে প্রচুর ভর একত্রিত হয়, ঘটনা দিগন্ত এবং অদৃশ্য “না ফেরার বিন্দু (point of no return)” যা ১৯১৬ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞান কার্ল সোয়ার্জচাইল্ড সর্বপ্রথম গাণিতিকভাবে ব্যাখ্যা করেন।
ব্লাক হোলের ক্ষেত্রে ঘটনা দিগন্ত (Event Horizon) দিয়ে কেবল কোনো কিছু প্রবেশ করে কিন্তু হোয়াইট হোলের ক্ষেত্রে ঘটনা দিগন্ত দিয়ে সবকিছু বের হয়ে যায়।
আইন্সটাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বানুসারে, ব্লাক হোলের ঘূর্ণন সিঙ্গুলারিটিকে বলয়ের মতো চর্চিত করে দেয়, এ মত অনুসারে ব্লাক হোলের বলয়ের মধ্য দিয়ে কোনো কিছু চূর্ণিত না হয়ে চলে যেতে পারে। সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বের সমীকরণ অনুসারে কিছু যদি এরকম একটি ব্লাক হোলে পড়ে তাহলে সে স্থান-কালের একটি পথে প্রবেশ করবে যাকে আমরা ওয়ার্ম হোল বা কীট বিবর হিসেবে চিনি এবং একটি হোয়াইট হোল দিয়ে সে বেরিয়ে যাবে। হোয়াইট হোল ঐ বস্তুর অংশগুলোকে মহাবিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নিক্ষেপ করবে এমনকি বিভিন্ন সময়েও নিক্ষেপ করতে পারে (যার কারণে কিছু অংশ পাওয়া যেতে পারে এবং কিছু আবার হাওয়া হয়ে যেতে পারে :D ) ।
তবে এই সম্পর্কে গাণিতিক প্রমাণ থাকলেও এটি বাস্তবিক নয় বলে ধারণা করেন কলরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী এন্ড্রু হ্যামিল্টন। প্রকৃতপক্ষে, হ্যামিল্টন সহ পূর্বের কিছু গবেষণা বলে, কোনো কিছু ঘুর্ণনশীল ব্ল্যাক হোলে পতিত হলে মূলত,ওয়ার্মহোলের সাথে যুক্ত হয়,যা হোয়াইট হোলের সাথে যুক্ত হওয়ার পথ সৃষ্টি প্রতিরোধ করে।
কিন্তু বলা হয়ে থাকে, হোয়াইট হোলের শেষপ্রান্তে আলো আছে। ব্লাক হোলের সিঙ্গুলারিটিতে সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব ভেঙে পড়ে যার সাহায্যে হ্যামিল্টন ভবিষ্যদবাণী করেছিলেন। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন সু বলেন, “শক্তির ঘনত্ব এবং বক্রতা সেখানে এত বেশি যে, চিরায়ত গ্র্যাভিটি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়না সেখানে কী ঘটছে।” তিনি আরো বলেন, “ হতে পারে গ্র্যাভিটির আরো কোনো নতুন মডেলই পারে এই অস্থায়ী অপারগতা দূর করতে এবং হোয়াইট হোলের ব্যাখ্যা প্রদান করতে।”
প্রকৃতপক্ষে, একটি সমন্বিত তত্ত্ব যা গ্র্যাভিটি এবং কোয়ান্টাম মেকানিক্সকে  একিভূত করে, হলো সমসাময়িক পদার্থবিজ্ঞানের এক রকম হলি গ্রেইল (অত্যন্ত রহস্যময়)।
এরকম একটি তত্ত্ব, লুপ কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি, ব্যবহার করে  ফ্রান্সের এক্সি-মারশেইল বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক হ্যাল হ্যাগার্ড এবং ক্যারল রোভেলি দেখিয়েছেন যে ব্ল্যাক হোল কোয়ান্টাম প্রসেসের মধ্য দিয়ে হোয়াইট হোলে রূপান্তরিত হতে পারে। ২০১৪ সালের জুলাই মাসে তারা অনলাইনে তাদের এই তত্ত্ব প্রকাশ করেছে।
লুপ কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি বলে  স্থান-কাল লুপের মত মৌলিক ব্লক দ্বারা গঠিত। হ্যাগার্ড এবং রভেলি এর মতে লুপগুলোর সসীম আকারের কারণে কোনো মৃত তারকা একটি বিন্দুতে চুপসে পড়ে যেখানে ঘনত্ব থাকে অসীম এবং এই সংকুচিত বস্তুটি হোয়াইট হোলে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়াটি ঘটতে সময় লাগে প্রায় এক সেকেন্ডের কয়েক সহস্রাংশ, কিন্তু সংশ্লিষ্ট তীব্র গ্র্যাভিটিকে ধন্যবাদ, আপেক্ষিকতার প্রভাবে এই প্রক্রিয়ার সময়কাল অনেক বেশি মনে হয়, অনেক দূর থেকে কোনো ব্যক্তি যদি এই পরিবর্তন লক্ষ্য করে তাহলে সে দেখবে এতে সময় অনেক বেশি লাগছে। অর্থাৎ, এই শিশু মহাবিশ্বে জন্ম নেওয়া অণুমাত্র ব্লাক হোলগুলো হোয়াইট হোলে পরিণত হতে পারত (নেচার এর রিপোর্ট অনুসারে)।

তথ্যসূত্র

কৃষ্ণগহ্বর
উপপ্রমেয়মূলক তারা
সাধারণ আপেক্ষিকতা
সিগনালিং সিস্টেম ৭ (Signaling System #7) বা এস এস সেভেন এক ধরনের সঙ্কেত ব্যবস্থা যা সারা দুনিয়ার ফিক্সড লাইন এবং সেলুলার টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ককে (Telecommunication Network) সচল করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি একধরনের প্যাকেট সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্ক (Packet Switched Telephone Network) ও বটে। এর দ্বারা টেলিযোগাযোগ উপাদান সমুহের নিয়ন্ত্রক তথ্য আদান প্রদান করে। এর উৎপত্তি ১৯৭৫ সালে। ১৯৮০ সাল হতে সারা দুনিয়া ব্যাপী একে গ্রহণ করা হয়।

প্রধানত আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (ITU-T) কর্তৃক এই প্রটোকল ডিজাইন করা হয়েছে। ITU-T রেকমেন্ডশন কিউ সিরিজে এই সম্পর্কিত বিস্তারিত বর্ণনা আছে। এর আরেক নাম সি ৭ । এই C7 এর বর্ণনা কিউ ৭০০ সিরিজ থেকে শুরু।

ইতিহাস

কার্যপ্রণালী

তথ্যসূত্র

টেলিযোগাযোগ
টেলিফোনি
নেটওয়ার্ক প্রোটোকল
ওপেন বিএসডি একটি মুক্ত সোর্স, নিরাপত্তা-মুখী, ইউনিক্স-সদৃশ অপারেটিং সিস্টেম যা বার্কলি সফটওয়্যার ডিস্ট্রিবিউশনের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। ১৯৯৫ সালে থিও ডি রাট নেটবিএসডি ফর্ক করে ওপেনবিএসডি তৈরি করেন। তাঁর মতে, ওপেনবিএসডি একটি গবেষণামূলক অপারেটিং সিস্টেম, যা নিরাপত্তা-হুমকি হ্রাস করতে নির্মান করা হয়।

ওপেনবিএসডিকে স্বভাবসুলভ ভাবে নিরাপদ রাখা হয় যা অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমে অনুপস্থিত কিংবা ব্যবহারকারীর ইচ্ছামাফিক। লেখক মিচেল ডব্লু. লুকাসের মতানুসারে "ওপেনবিএসডি যেকোনো লাইসেন্সের শর্তানুসারে কিংবা যেকোনো ক্ষেত্র বিচারে সর্বাধিক নিরাপদ অপারেটিং সিস্টেম।

ওপেনবিএসডি প্রকল্প অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের জন্য অনেক সাবসিস্টেমের বহনযোগ্য বা পোর্টেবল সংস্করণ প্যাকেজ হিসেবে রক্ষণাবেক্ষণ করে। কোডের গুণমানে জোর দেয়ার কারণে ওপেনবিএসডির অনেক সরঞ্জামই বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রকল্পে ব্যবহৃত হয়। অ্যানড্রয়েডে তাঁদের সি স্ট্যান্ডার্ড লাইব্রেরী ব্যবহার করা হয়, এলএলভিএম তাদের রেগুলার এক্সপ্রেশন লাইব্রেরী ব্যবহার করে আর উইন্ডোজ ১০ লিব্রেএসএসএলের সাথে তাদের ওপেনএসএসএইচ ব্যবহার করে।

ওপেনবিএসডি, যার বাংলা মানে দাঁড়ায় উন্মুক্ত বিএসডি, নামটি ইন্টারনেটে তাদের সোর্স কোডের সুলভ্যতা বা উন্মুক্ত উৎস কোডের বিষয়টি মাথায় রেখে রাখা হয়। এছাড়াও এটা ব্যাপক পরিসরের হার্ডওয়্যার প্ল্যাটফর্মকে তাদের সিস্টেম থেকে সাপোর্ট করার জন্যও ব্যবহার করা হয়।

ব্যক্তিগত কম্পিউটার 
ওপেনবিএসডির সাথে থাকে জেনোকারা   নামে এক্স উইন্ডোজ সিস্টেমেী একটি ইমপ্লিমেন্টেশন, যা ওয়ার্কস্টেশন হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী। , ওপেনবিএসডির রেপোজিটরি তে গ্নোম, কেডিই প্লাজমা ৫, এক্সএফসিইর মতো ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট, ফায়ারফক্স ও ক্রোমিয়ামের মতো ওয়েব ব্রাউজারসহ আছে প্রায় ৮০০০ প্যাকেজ। এছাড়াও এতে সিডব্লুএম, এফভিডব্লুএম (জেনোকারার ডিফল্ট কনফিগারেশনের জন্য অংশবিশেষ), টিডব্লুএম এই তিনটি ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট অন্তর্ভুক্ত আছে।

নিরাপত্তা 
ওপেনবিএসডি তৈরি হওয়ার পরপরই ডি রাটের সাথে সিকিউর নেটওয়ার্কস নামের একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ হয়(পরবর্তীতে ম্যাকাফির অধিভুক্ত)। তারা বালিস্তা নামের একটি সফটওয়্যার নিরাপত্তা নজরদারি সরঞ্জাম বানাচ্ছিলো, সফটওয়্যার নিরাপত্তার ত্রুটিগুলো আবিষ্কার করা যার উদ্দেশ্য। ডি রাটের উদ্দেশ্যও ছিলো তাই, তাই এই দুটো প্রকল্প পরষ্পরকে সহযোগিতা করতে শুরু করে, যার ফলাফল হিসেবে ওপেনবিএসডি ২.৩ তৈরি হয়, এভাবে ওপেনবিএসডির কেন্দ্রীয় বিষয়ই হয়ে দাঁড়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।

ওপেনবিএসডি যেসব নিরাপত্তা বেশিষ্ট্যগুলো প্রদান করে:
 সি স্ট্যান্ডার্ড লাইব্রেরীর জন্য পসিক্স ফাংশনগুলোর নিরাপদ বিকল্প দেয়া, যেমন strlcat-এর জন্য strcat এবং strlcpy এর জন্য strcpy
 স্ট্যাটিক বাউন্ড চেকার সহ টুলচেইনের জন্য বিকল্প প্রদান করা।
 অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মেমোরি সুরক্ষা দেয়া। যেমন: ProPolice W^X পেইজ সুরক্ষার বৈশিষ্ট্য।
 কঠোর ক্রিপ্টোগ্রাফি এবং আকস্মিক বৈশিষ্ট্য উপস্থিত করা।
 প্রসেসের ক্ষমতা সীমিত করতে সিস্টেম কল এবং ফাইলসিস্টেম এক্সেসে বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ রাখা।

তথ্যসূত্র 

অপারেটিং সিস্টেম
বিএসডি
ক্রিপ্টোগ্রাফিক সফটওয়্যার
সফটওয়্যার ফোর্ক
১৯৯৬-এর সফটওয়্যার
এআরএম অপারেটিং সিস্টেম
ঋতু গুহ (২৪ মার্চ, ১৯৩৭- ২৪ ডিসেম্বর, ২০১১) একজন ভারতীয় বাঙালি রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী। ইনি বিখ্যাত সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহর স্ত্রী।

জীবন 
১৯৩৭ সালে কলকাতার বালিগঞ্জ প্লেসে ঋতু গুহ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার পিতার নাম ছিল নির্মলচন্দ্র গুহঠাকুরতা। ঋতু গুহ বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিক্ষক তথা দক্ষিণী সংগীতবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শুভ গুহঠাকুরতার ভ্রাতুষ্পুত্রী। খুব অল্প বয়সেই তিনি গান গাওয়া শুরু করেন। ১৯৪১ সালে গীতবিতান সংগীতবিদ্যালয় ও পরে ১৯৪৮ সালে দক্ষিণীতে যোগ দেন। ১৯৫৬ সালে তিনি দক্ষিণী থেকেই স্নাতক হন। দক্ষিণীতে তিনি শুভ গুহঠাকুরতা, সুনীল রায় প্রমুখ বিশিষ্ট শিক্ষকদের কাছে গান শেখেন। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র-জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে তার প্রথম অ্যালবামটি প্রকাশিত হয়। ১৯৬২ সালের ১৯শে ফেব্রুয়ারি বিশিষ্ট সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহকে বিবাহ করেন। তাদের দুই কন্যা বর্তমান। ঋতু গুহের একাধিক অ্যালবাম বেরিয়েছে। তিনি দেশে ও দেশের বাইরেও একাধিক স্থানে গান গেয়েছেন। অসুস্থতার কারণে জীবনের শেষ বছরগুলিতে তিনি সংগীতজগৎ থেকে দূরে ছিলেন।

গান 
ঋতু গুহ প্রধানত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী হলেও শাস্ত্রীয় সংগীত, টপ্পা ও অতুলপ্রসাদী গানে তার স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল। তার গাওয়া রবীন্দ্রসংগীতগুলোর মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয়তা পায় 'এ কী লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ, প্রাণেশ হে' গানটি। রবীন্দ্রনাথের পূজা পর্যায়ের গান, বিশেষত ধ্রুপদাঙ্গ ও ভাঙা গান ছিল তার বিশেষত্ব। কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুচিত্রা মিত্র, শান্তিদেব ঘোষ, সত্যজিৎ রায় প্রমুখেরা ছিলেন তার গুণমুগ্ধ। বুদ্ধদেব গুহ তাদের সম্পর্কের কথা ধরে রেখেছিলেন তার খেলা যখন উপন্যাসে।

ডিস্কোগ্রাফি

কমপ্যাক্ট ডিস্ক 
নিচের ডিস্কগুলিতে তার ১৯৬০-১৯৮০-এর দশকে রেকর্ড-করা গানগুলি সংকলিত হয়েছে।
 বাসন্তী হে ভুবনমোহিনী (১৯৯৮)
 আপন ভিতর হতে (২০০৫)
 ত্রিধারা (২০১০)

পাদটীকা 

রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী
বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী
১৯৩৭-এ জন্ম
২০১১-এ মৃত্যু
কলকাতার ব্যক্তি
ভারতীয় সঙ্গীতশিল্পী
পশ্চিমবঙ্গের কণ্ঠশিল্পী
পূর্বা দাম একজন ভারতীয় বাঙালি রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী ছিলেন। পূর্বা দাম ১৯৮০-র দশকের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গে খ্যাতিলাভ করতে শুরু করেন এবং দশকের শেষভাগে সমসাময়িককালের অন্যতম প্রধান রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। তোমার তরী বাওয়া,সীমার মাঝে অসীম তুমি, মধুর রূপে বিরাজো সহ রবির গান নিয়ে একাধিক জনপ্রিয় অ্যালব্যাম রেকর্ড করেছেন পূর্বা দাম। তিনি কিংবদন্তি শিল্পী সুচিত্রা মিত্রের ছাত্রী ছিলেন। ২০১৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে 'সঙ্গীত সম্মান' প্রদান করে। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ সালে দক্ষিণ কলকাতার নিজ বাড়িতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র

২০২০-এ মৃত্যু
রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী
বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী
গীতা ঘটক(গীতা ঘটক) (১৯৩১-২০০৯) একজন ভারতীয় বাঙালি রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী। পিতা ডঃ কানাইলাল গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী। গীতা ঘটকের জন্ম জার্মানিতে ও ছেলেবেলার কিছু বছর সেখানেই কাটে। এর পর শান্তিনিকেতনের পাঠভবন ও সঙ্গীতভবনে অধ্যয়ন। বিবাহ করেন সাহিত্যিক মনীশ ঘটকের পুত্র অনীশ ঘটক'কে (মহাশ্বেতা দেবীর ভ্রাতা)। তার তিন ছোট বোনের একজন প্রখ্যাত উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী রীতা গঙ্গোপাধ্যায়।

গীতা ঘটক সুদীর্ঘকাল সাউথ পয়েন্ট স্কুলে শিক্ষকতা করেন ও সেখান থেকেই অবসর নেন। 

রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী
বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী
বাংলা ভাষার সঙ্গীতশিল্পী
কলকাতার অভিনেত্রী
১৯৩১-এ জন্ম
২০০৯-এ মৃত্যু
ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী
বাংলা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী
ভারতীয় নেপথ্য গায়িকা
ঋত্বিক ঘটক
কলকাতার সঙ্গীতশিল্পী
২০শ শতাব্দীর ভারতীয় গায়ক
২০শ শতাব্দীর ভারতীয় গায়িকা
চিন্ময় চট্টোপাধ্যায় (১৯৩০ - ২৬ জুলাই ১৯৮৭) ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী।

চিন্ময় চট্টোপাধ্যায় উত্তর ২৪ পরগণা জেলার পানিহাটির বাসিন্দা ছিলেন। তার পিতার নাম নরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি কলকাতার তীর্থপতি ইনস্টিটিউশন থেকে ম্যাট্রিক এবং আশুতোষ কলেজ থেকে বি.এ পাস করেন। তিনি দেড়শোর উপরে রবীন্দ্রসঙ্গীতের রেকর্ড করেছেন। তিনি আকাশবাণীর নিয়মিত শিল্পী এবং রাজ্য সঙ্গীত আকাদেমির সহ সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও তার বেশ কয়েকটি আধুনিক গানের রেকর্ড রয়েছে। কৈশোরেই তিনি ভীস্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম নেন।

৮৪, রসা রোড, (বর্তমানে চিন্ময় চট্টোপাধ্যায় সরণী) কলকাতা, ছিল শিল্পীর পরবর্তী স্থায়ী ঠিকানা। চিন্ময় চট্টোপাধ্যায়ের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা জ্যোতির্ময় চট্টোপাধ্যায় ছিলেন কলকাতার এক বিখ্যাত হাসপাতালের ডাক্তার । লিভারে রক্তক্ষরণ জনিত কারণে চিন্ময় চট্টোপাধ্যায় মাত্র ৫৬ বছর বয়সে প্রাণত্যাগ করেন। চিন্ময় চট্টোপাধ্যায়ের গানের স্টাইল ছিল অনন্য। তার গাওয়া রবীন্দ্রসঙ্গীতে রাবীন্দ্রিক ভাব, গায়কী, স্পষ্ট উচ্চারণ এবং স্বরলিপির নিখুঁত ব্যবহারের জন্য তিনি অনন্য।

তাঁর গাওয়া রবীন্দ্রসঙ্গীতের অনেক রেকর্ড (৭৫ এবং ৪৫ RPM) আজও তাঁর বাসগৃহে রাখা আছে, যা ডিজিটাইজড হয়নি।

তথ্যসূত্র 

 সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান - দ্বিতীয় খণ্ড - সাহিত্য সংসদ

রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী
বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী
১৯৩০-এ জন্ম
১৯৮৭-এ মৃত্যু
২০শ শতাব্দীর ভারতীয় গায়ক
পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গীতশিল্পী
রাজেশ্বরী দত্ত (বিবাহপূর্ব নাম রাজেশ্বরী বাসুদেব) (১৯২০ - ১০ এপ্রিল, ১৯৭৬) ছিলেন একজন ভারতীয় রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ও বিশিষ্ট গবেষক। তিনি জন্মসূত্রে পাঞ্জাবি বংশোদ্ভূত। বিশিষ্ট কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন তার স্বামী।

রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী
বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী
অশোকতরু বন্দ্যোপাধ্যায় (১৪ অক্টোবর ১৯৩০ - ১৩ ডিসেম্বর ১৯৯৩) একজন ভারতীয় বাঙালি রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী।  কলকাতার একটি ব্রাহ্ম পরিবারে তার জন্ম হয়। তার পিতার নাম শম্ভ‌ুনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মাতা সুলেখা। তার পিতামাতা দুজনেই শান্তিনিকেতনে পড়াশোনা করেছিলেন।

অশোকতরু বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিক্ষা শুরু হয় রবীন্দ্রলাল রায়ের কাছে। ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে পাঁচবছর তিনি শান্তিনিকেতনের সঙ্গীত ভবনের ছাত্র ছিলেন। এই সময়ে তিনি শৈলজারঞ্জন মজুমদারের কাছে সঙ্গীত শিক্ষা করেছিলেন। তিনি গান ছাড়াও অভিনয় এবং রবীন্দ্র নৃত্যেও পারদর্শী ছিলেন। সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তীর কাছেও তিনি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিখেছিলেন। 

১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে তিনি বেতারে গান গাইতে আরম্ভ করেন। ছয়ের দশকে তিনিই প্রথম রবীন্দ্রসংগীতের একক অনুষ্ঠান করেন। বিভিন্ন কোম্পানিতে তার তিনশোরও বেশি গান রেকর্ড করা আছে। 

সঙ্গীত শিক্ষক হিসাবেও তিনি বিখ্যাত ছিলেন। প্রখ্যাত রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী অর্ঘ্য সেন প্রথম দিকে অল্প কিছু দিন তার কাছে সঙ্গীত শেখেন। দক্ষিণী, গীতবিতান, জামশেদপুরের টেগোর সোসাইটি প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি সাংস্কৃতিক সংস্থা শ্রুতি প্রতিষ্ঠা করেন । ব্রাহ্ম পরিবারের সন্তান হওয়ার জন্য তিনি ব্রহ্মসঙ্গীতেও পারদর্শী ছিলেন।

তথ্যসূত্র 

রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী
বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী
শান্তিদেব ঘোষ (৭ মে ১৯১০ – ১ ডিসেম্বর ১৯৯৯) ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি লেখক, কণ্ঠশিল্পী, অভিনেতা, নৃত্যশিল্পী ও রবীন্দ্রসংগীত-বিশারদ। তিনি ছিলেন শান্তিনিকেতনের আশ্রমিক। কৈশোরে তিনি রবীন্দ্রনাথের ঠাকুরের কাছে গান শিখতে শুরু করেন। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তিনি শ্রীলঙ্কা, জাভা ও বালিতে গিয়েও সংগীত ও নৃত্যশিক্ষা গ্রহণ করেন। রবীন্দ্রনাথের উৎসাহে তিনি কবির লেখা গীতিনাট্য-নৃত্যনাট্য ও নাটকে গান, নাচ ও অভিনয়ও করতে শুরু করেন। রবীন্দ্রনাথের কয়েকটি কবিতায় তিনি ধ্রুবপদের পুনরুল্লেখ ছাড়াই এক বিশেষ সুরে গেয়ে শোনাতে শুরু করেন। এর মধ্যে "কৃষ্ণকলি" গানটিও রয়েছে। শান্তিনিকেতনে দীর্ঘজীবনে তিনি বহু ছাত্রছাত্রীকে গান শিখিয়েছেন। এঁদের অনেকেই পরে খ্যাতনামা সংগীতশিল্পী হন। তার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সুচিত্রা মিত্র ও প্রমিতা মল্লিকের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শান্তিদেব ঘোষ রবীন্দ্রসংগীতের এক খ্যাতনামা বিশারদও ছিলেন। ভারত সরকার ও একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানিত করেন। ভারত সরকার তাকে জাতীয় পণ্ডিতের মর্যাদা দিয়েছিল। সাহিত্যিক, সাংবাদিক সাগরময় ঘোষ তার ভ্রাতা।

জীবনী 
ব্রিটিশ ভারতের পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের চাঁদপুরের নিকট বাজাপ্তি গ্রামে (অধুনা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চাঁদপুর জেলায়) ১৯১০ সালের ৭ মে (১৩১৭ বঙ্গাব্দের ২৪ বৈশাখ) শান্তিদেব ঘোষের জন্ম হয়।

শান্তিদেবের পিতা কালীমোহন ঘোষ শান্তিদেবের জন্মের আগে থেকেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ছিলেন এবং বিশ্বভারতীর গ্রাম পুনর্নির্মাণ শাখা স্থাপনে রবীন্দ্রনাথকে সহায়কের কাজ করতেন। শান্তিদেবের মায়ের নাম ছিল মনোরমা দেবী। প্রথমদিকে রবীন্দ্রনাথ কালীমোহনকে শিলাইদহে গ্রামোন্নয়নের কাজে নিযুক্ত করেছিলেন। পরে তিনি তাকে শান্তিনিকেতনে এনে সেখানেই গ্রাম সংস্কারের কাজে নিযুক্ত করেন। কালীমোহন তার ছয় মাসের শিশুপুত্র শান্তিময়কে রবীন্দ্রনাথের কাছে নিয়ে আসেন। রবীন্দ্রনাথ তার নাম পালটে "শান্তিদেব" রাখেন।

শান্তিনিকেতনের ব্রহ্মবিদ্যালয়ে শান্তিদেবের পড়াশোনা শুরু হয়। এখানে রবীন্দ্রনাথ ও দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষকতায় সংগীত, নৃত্য ও অভিনয়ে তিনি বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। পরে রবীন্দ্রনাথ ভারতের প্রতিবেশী ও নিকটবর্তী দেশগুলির সংগীত ও নৃত্যকলা শিক্ষার জন্য তাকে সঙ্গে নিয়ে শ্রীলঙ্কা, ব্রহ্মদেশ এবং অধুনা ইন্দোনেশিয়ার জাভা ও বালি ভ্রমণ করেন।

১৯৩০ সালে মাত্র কুড়ি বছর বয়সে শান্তিদেব শিক্ষক হিসেবে বিশ্বভারতীতে যোগ দেন। ১৯৩৬ সালে ইলা ঘোষের সঙ্গে তার বিবাহ হয়। পরে তিনি বিশ্বভারতীর সংগীত ভবনে রবীন্দ্রসংগীত ও নৃত্য বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হয়েছিলেন। ১৯৬৪-৬৮ ও ১৯৭১-৭৩ সময়পর্বে তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের দায়িত্বও পালন করেন।

১৯৪৮ সালে শান্তিদেব আকাশবাণী কলকাতার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৬-৬০ সালে তিনি ভারতের সংগীত-নাটক অকাদেমির প্রকাশনা সমিতির সদস্য হন। তিনি প্রবাসী বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলন ও আসাম সাহিত্য সম্মেলনের সংগীত বিভাগের সভাপতিও হয়েছিলেন। রবীন্দ্রসংগীত জগতে তিনি প্রবাদপ্রতিম শিল্পী হয়ে উঠেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ করে তিনি সেই সকল দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে পরিচিত করেন এবং সেই সকল দেশে রবীন্দ্রসংগীতের প্রচার করেন।

সম্মাননা ও পুরস্কার 
 ১৯৭৭: সংগীত-নাটক অকাদেমির ফেলোশিপ।
 ১৯৮০: সংস্কৃতি জগতে অসামান্য অবদানের জন্য সুরেশচন্দ্র স্মৃতি আনন্দ পুরস্কার।
 ১৯৮৪: পদ্মভূষণ সম্মান।
 ১৯৮৪: বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সম্মান "দেশিকোত্তম"।
 ১৯৯১: রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক ডি. লিট.

এছাড়া বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সাম্মানিক ডি. লিট. প্রদান করেছিল এবং কলকাতার রবীন্দ্রচর্চাকেন্দ্র থেকে তিনি "রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য" উপাধি পেয়েছিলেন।

প্রকাশিত গ্রন্থ 
শান্তিদেব ঘোষের রচিত গ্রন্থগুলি হল:
 রবীন্দ্রসঙ্গীত (১৯৪২)
 জাভা ও বালির নৃত্যগীত (১৯৬৩)
 রূপকার নন্দলাল (নন্দলাল বসুর জীবনী, ১৯৫৬)
 ভারতীয় গ্রামীণ সংস্কৃতি (১৯৫৬)
 রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাদর্শে সংগীত ও নৃত্য
 গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ও আধুনিক ভারতীয় নৃত্য (১৯৮৬)
 রবীন্দ্রসংগীত-বিচিত্রা
 নৃত্যকলা ও রবীন্দ্রনাথ
 জীবনের ধ্রুবতারা (আত্মজীবনী)

পাদটীকা

বহিঃসংযোগ 
 Great Masters section on Visva Bharati University official site
 A tribute to Santidev Ghosh
 

বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী
১৯১০-এ জন্ম
১৯৯৯-এ মৃত্যু
শান্তিনিকেতনের সাথে যুক্ত ব্যক্তি
ভারতীয় সঙ্গীতশিল্পী
রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী
বাংলা সঙ্গীত
ভারতীয় পুরুষ লেখক
উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার ব্যক্তি
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
বাঙালি গীতিকার
কলকাতার সঙ্গীতশিল্পী
পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গীতশিল্পী
২০শ শতাব্দীর সঙ্গীততত্ত্ববিদ
শিল্পকলায় পদ্মভূষণ প্রাপক
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
সংগীত নাটক অকাদেমি ফেলোশিপ
বিশ্বজনীন অবস্থান-নির্ণায়ক ব্যবস্থা, যাকে মূল ইংরেজিতে Global Positioning System (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) ও সংক্ষেপে GPS (জিপিএস) নামে ডাকা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১৯৭০-এর দশকের শুরুর দিকে উদ্ভাবিত একটি প্রযুক্তি। প্রথম দিকে এর প্রয়োগ ছিল পুরোপুরি সামরিক। পরে জনসাধারণের নিমিত্তে এর ব্যবহার উন্মুক্ত করা হয়। এটি একটি কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। যেকোন আবহাওয়াতে পৃথিবী যেকোনো চলমান অবস্থান আর সময়ের তথ্য সরবরাহ করাটা এর মূল কাজ। জিপিএস এক ধরনের একমুখী ব্যবস্থা কারণ ব্যবহারকারীগণ উপগ্রহ প্রেরিত সঙ্কেত শুধুমাত্র গ্রহণ করতে পারে।

একসময় মানচিত্র, কম্পাস, স্কেল ইত্যাদি দিয়ে মেপে ও অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশের সাহায্যে ভূপৃষ্ঠের কোন স্থানের অবস্থান (Position) নির্ণয় করা হত। বিজ্ঞানের উন্নয়ন ও নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনে এখন খুব সহজে ও নিখুঁতভাবে পৃথিবীর কোন স্থানের অবস্থান সম্পর্কে জানতে যে প্রযুক্তি ব্যবহার হয় তার নাম Global Positioning System বা সংক্ষেপে GPS। গাড়ি, জাহাজ, প্লেন, ল্যাপটপ এমনকি নতুন মডেলের মোবাইল ফোনেও এখন GPS রিসিভার থাকে।

ইতিহাস 

মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের নিজস্ব প্রয়োজনে জিপিএস প্রযুক্তির প্রাথমিক কাজ শুরু করে ১৯৭৭ সালে। এরপর ধাপে ধাপে এর উন্নয়ন ও ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ১৯৯৩ সালে ২৪টি স্যাটেলাইটের সমন্বয়ে সৃষ্ট নেটওয়ার্ককে পৃথিবীর সব জায়গা থেকে ব্যবহারযোগ্য একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সিস্টেম হিসেবে ঘোষণা করে। সেইসাথে সিস্টেমটি বিশ্বের বেসরকারী লোকদের ব্যবহারের জন্যও উম্মুক্ত করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইতে অবস্থিত স্যাটেলাইট ট্রেকিং স্টেশন থেকে US Military স্যাটেলাইটগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং করে।

সাধারণ ধারণা 

GPS প্রযুক্তির বেসিক কনসেপ্ট সর্বসাধারণের বুঝার সুবিধার্থে একটি উদাহরণ তুলে ধরলাম:
মনে করুন আপনি বাংলাদেশের কোন জায়গায় হারিয়ে গেলেন। আপনি জানেন না জায়গাটির নাম কী, আপনি জানেন না আপনার আশেপাশে কোন শহর বা লোকালয় আছে কিনা! আপনি ঠিক করতে পারছেন না কোনদিকে যাবেন! এসময় (A) নামে একটা লোকের দেখা পেলেন তারও একই অবস্থা, পথ হারিয়ে ফেলেছে। তবে তার কাছে বাংলাদেশের একটা মানচিত্র আছে কিন্তু তা কোন কাজে আসছে না। কারণ আপনারা কোন জায়গায় আছেন তা জানলেই তো মানচিত্র দেখে আশেপাশের শহর কোনটি, কোনদিকে যেতে হবে, কতদূর যেতে হবে ইত্যাদি জানা যাবে।

এসময় X, Y, Z নামে তিনজন লোকের দেখা পেলেন। X বললেন আপনারা ঢাকা থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরে আছেন, কিন্তু ঢাকার কোনদিকে (উ:, দ:, পূ: প: ) আছেন তা বলেনি। (A) তার মানচিত্রে ঢাকাকে কেন্দ্রবিব্দু ধরে ১১০ কিলোমিটারকে ব্যাসার্ধ (মানচিত্রের স্কেলে) ধরে একটি বৃত্ত আকঁল । অর্থাৎ যেসব জায়গার উপর দিয়ে বৃত্তের পরিধিটি গেছে সেসব জায়গার কোন একটিতে আপনারা আছেন।

Y বললেন আপনারা রংপুর থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে আছেন, কিন্তু কোনদিকে (উ:, দ:, পূ: প: ) আছেন তা বলেনি। (A) তার মানচিত্রে রংপুরকে কেন্দ্রবিব্দু ধরে ১৫০ কিলোমিটারকে ব্যাসার্ধ (মানচিত্রের স্কেলে) ধরে একটি বৃত্ত আকঁল। অর্থাৎ যেসব জায়গার উপর দিয়ে বৃত্তের পরিধিটি গেছে সেসব জায়গার কোন একটিতে আপনারা আছেন। কিন্তু একই সাথে X ও Yএর তথ্যকে সঠিক হিসেবে নিলে আপনাদের অবস্থান গোপালপুর অথবা ময়মনসিংহে। কারণ বৃত্ত দুটি পরস্পরকে এ দুটি জায়গায় ছেদ করেছে। গাণিতিক ও জ্যামিতিক হিসাবে শুধুমাত্র এ দুটি জায়গা থেকেই ঢাকার দুরত্ব ১১০ ও রংপুরের দুরত্ব ১৫০ কিলোমিটার।

Z বললেন আপনারা সিলেট থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে আছেন। (A) তার মানচিত্রে সিলেটকে কেন্দ্রবিব্দু ধরে ১৪০ কিলোমিটারকে ব্যাসার্ধ (মানচিত্রের স্কেলে) ধরে একটি বৃত্ত আকঁল। অর্থাৎ যেসব জায়গার উপর দিয়ে বৃত্তের পরিধিটি গেছে সেসব জায়গার কোন একটিতে আপনারা আছেন। উল্লিখিত নিয়মে আমরা দেখতে পাচ্ছি বৃত্ত তিনটি পরস্পরকে শুধু একটি বিন্দুতে ছেদ করেছে, সেটি হল ময়মনসিংহ! অর্থাৎ তিনটি বৃত্তের Intersection point (ময়মনসিংহ) থেকে X, Y এবং Z তিনজনের তথ্যই সঠিক। এভাবেই আপনারা জানলেন আপনাদের অবস্থান ময়মনসিংহে।

এখন আমরা বলতে পারি: X, Y এবং Z নামের তিনটি স্যাটেলাইট থেকে প্রেরিত বিশেষ তথ্য A নামের GPS রিসিভার গ্রহণ করে গাণিতিক ও জ্যামিতিক হিসাবের মাধ্যমে ডিজিটাল মানচিত্রে আপনার বর্তমান অবস্থানটি (Position) উল্লেখ করার যে পদ্ধতি/প্রযুক্তি তার পূর্ণনাম Global Positioning System বা সংক্ষেপে GPS।

কৃত্রিম উপগ্রহ 

GPS সিস্টেমের মূল অংশ হচ্ছে ২৭টি স্যাটেলাইট (24 active, 3 Reserve) ও GPS রিসিভার। ভূপৃষ্ঠ থেকে ২০০০০ কিলোমিটার উপরে ৬টি অরবিটে ২৪টি স্যাটেলাইট পৃথিবীর চারিদিকে ২৪ ঘণ্টায় দুইবার করে ঘুরছে।
অরবিটগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে পৃথিবীর যেকোন জায়গা থেকে যে কোন সময় কমপক্ষে চারটি স্যাটেলাইট দৃশ্যমান হয়। স্যাটেলাইটগুলো প্রতিনিয়ত দুধরনের সংকেত (signal) প্রেরণ করছে ; L1ও L2। L1 হচ্ছে বেসামরিক লোকের জন্য, যার ফ্রিকোয়েন্সী 1575.42 MHz (UHF band)। এই সংকেতের জন্য প্রয়োজন Line of sight। অর্থাৎ যোগাযোগের সময় স্যাটেলাইট ও রিসিভারের মাঝখানে কোন প্রতিবন্ধকতা থাকতে পারবে না। L1 সংকেতে যেসব তথ্য থাকে তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে: "I'm satellite X", My position is Y এবং "This information was sent at time Z". তাছাড়া থাকে almanac data ও ephemeris data। সংকেতগুলো আসে আলোর গতিতে (৩০০,০০০ কিলোমিটার/সেকেন্ড)। প্রতিটি সংকেতে sending time লেখা থাকে।

GPS রিসিভার 

GPS রিসিভার সংকেতটির reciving time থেকে sending time বিয়োগ করে runtime বের করে। runtime দিয়ে ৩০০০০০ কে গুণ করলে রিসিভার থেকে স্যাটেলাইটটির দুরত্ব বের হয়। এভাবে চারটি স্যাটেলাইটের দূরত্ব বের করে রিসিভার প্রতিটি স্যাটেলাইটের পজিশনকে কেন্দ্রবিন্দু করে প্রতিটির দূরত্বকে ব্যাসার্ধ ধরে চারটি ত্রিমাত্রিক বৃত্ত (sphere) অঙ্কন করে। তারপর বৃত্তগুলোর Intersection point দিয়ে 3-D Trilateration ক্যালকুলেশনের মাধ্যমে পজিশন নির্ণয় করে। ত্রিমাত্রিক পদ্ধতিতে গোলক (sphere) সৃষ্টি করে Trilateration ক্যালকুলেশনের মাধ্যমে সঠিক ফলাফলের জন্য কমপক্ষে চারটি স্যাটেলাইটের তথ্য প্রয়োজন হয়। অনেকসময় ৪র্থ স্যাটেলাইটের পরিবর্তে পৃথিবীর পরিধিকে ৪র্থ বৃত্ত হিসেবে ধরেও হিসাব করা হয়।

GPS সিস্টেমে সময় মাপের ব্যাপারটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ১ লক্ষ ভাগের ১ সেকেন্ড = ৩ কিলোমিটার। এত ক্ষুদ্র সময় মাপতে পারে ব্যয়বহুল Atomic clock (accuracy ন্যানোসেকেন্ড) যা স্যাটেলাইটের আছে কিন্তু রিসিভারের নাই। রিসিভার স্যাটেলাইট থেকে প্রেরিত pseudo-random code কে synchronize করে নিজের ঘড়িকে আপ-টু-ডেট করে নেয়, অর্থাৎ স্যাটেলাইট ও রিসিভার উভয়ের ঘড়ির কারেন্ট টাইম একই হয়ে যায়। সাধারণ মানের GPS রিসিভার (±10m) সঠিক পজিশন দেখাতে পারে। Global Positioning System এর higher accuracy-র (±1m) জন্য ব্যবহার হয় Differential GPS। এই সিস্টেমে মহাশূন্যের স্যাটেলাইট ছাড়াও ল্যান্ড স্যাটেলাইট থেকেও তথ্য নেওয়া হয়। জিপিএস সফটওয়্যারে (জিপিএস ম্যাপ) রাস্তাঘাট ছাড়াও পেট্রোল পাম্প, পুলিশ স্টেশন, হোটেল/রেস্টুরেন্ট, পর্যটন স্থান, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ইত্যাদির তথ্য থাকে। কারেন্ট পজিশনের আশেপাশে উল্লিখিত কোন কিছু থাকলে জিপিএস ডিভাইসের ডিসপ্লেতে তা প্রদর্শন করে।
গাড়ি, জাহাজ, প্লেন ছাড়াও বড় বড় শহরে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে, যুদ্ধে শত্রুসেনার ট্রেকিং রাখতে, বোমা-মিসাইলের নিশানাকে সঠিক করতে, কোন বিশেষ স্থানের উপর নজর রাখতে GPS সিস্টেম ব্যবহার হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের GPS-র বিকল্প হিসেবে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন তৈরি করছে global navigation satellite system (GNSS)। যাকে বলা হয় Galileo। এটি ২০১৩ সাল থেকে চালু করা হবে। GLONASS নামে রাশিয়ার নিজস্ব নেভিগেশন সিস্টেম আছে যা মহাশূন্য গবেষণা ও সামরিক কাজে ব্যবহার হয়। চীনও Beidou-2 নামে তাদের নিজস্ব নেভিগেশন সিস্টেম তৈরির প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে।

প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবস্থা সমূহ
  নাবিক (ভারতীয় আঞ্চলিক নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম) - বর্তমানে শুধু সামরিক কাজে ব্যবহৃত হয়। ২০২০ তে জনসাধারণের ব্যবহারযোগ্য হবে। 
  গ্লোনাস (গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম) 
  বেইডউ (BeiDou নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম) - ২০১৮ তে জনসাধারণের ব্যবহারযোগ্য হয়েছে ।
  গ্যালিলিও (গ্যালিলিও নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম)

তথ্যসূত্র 

কৃত্রিম উপগ্রহ ভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা
২০শ শতাব্দীর উদ্ভাবন
বিশ্বজনীন অবস্থান-নির্ণায়ক ব্যবস্থা
বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশ জাতীয় জ্ঞানকোষ  বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় জ্ঞানকোষ। এই বিশ্বকোষ বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় মুদ্রিত সংস্করণ, ইলেকট্রনিক সংস্করণ ও সিডি-রম আকারে উপলব্ধ। এই মুদ্রণ সংস্করণটি ৫০০ পৃষ্ঠার দশ খণ্ডে গঠিত। প্রতি দুই বছর অন্তর হালনাগাদ করার পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাপিডিয়া ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে ১০ খণ্ডে এর প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়। ২০০৯ সালে বাংলাপিডিয়ার দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিলো এবং ২০১২ সালে তা প্রকাশ করা হয়।

বাংলাপিডিয়া একটি সাধারণ বিশ্বকোষের পরিবর্তে প্রধানত বাংলাদেশ সম্পর্কিত বিষয়ক বিশেষ বিশ্বকোষ হিসেবে নকশা করা হয়েছে। বিশ্বকোষের উদ্দেশ্যে, ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারে বাংলাদেশ প্রাচীন পূর্ব ভারত, সুবাহ বাংলা, শাহী বাংলা, মুগল সুবাহ বাংলা, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, বেঙ্গল প্রদেশ, পূর্ব বাংলা, পূর্ব পাকিস্তান এবং স্বাধীন বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত অঞ্চল হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।

এই বিশ্বকোষের প্রধান সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। বাংলাদেশ ও বিদেশের ১৪৫০ জন লেখকের লেখা বাংলাপিডিয়ায় স্থান পেয়েছে। এই বিশ্বকোষের ছয়টি সম্পাদকীয় বিভাগে মোট ৫,৭০০ ভুক্তি রয়েছে। প্রতি বিভাগ একজন সম্পাদকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ছাড়াও ইউনেস্কো, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত মালিকানার সংগঠন এই বিশ্বকোষ নির্মাণে অর্থ সাহায্য করে থাকেন। এই প্রকল্পের জন্য আট লক্ষ বাংলাদেশী টাকা ধার্য্য করা হলেও বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি এই প্রকল্পে আট কোটি বাংলাদেশী টাকা ব্যয় করে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং আদিবাসী জনগণ বিষয়ক নিবন্ধগুলি সম্বন্ধে বিতর্ক থাকলেও বাংলা ও ইংরেজি ভাষার এই বিশ্বকোষ প্রকাশের পরে জনপ্রিয়তা লাভ করে।

বাংলা ভাষার বিশ্বকোষের ইতিহাস
বাংলায় বিশ্বকোষ রচনার পথিকৃৎ উইলিয়াম কেরির পুত্র ফেলিক্স কেরি (১৭৮৬-১৮২২)। তিনি এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকার পঞ্চম সংস্করণ অনুসরণ করে কাজ শুরু করেছিলেন। এই দুর্গম পথে আরও কাজ করেছেন মহারাজা কালিকৃষ্ণ দেব (সদবিদ্যাবলি), কৃষ্ণমোহন ব্যানার্জি (বিদ্যাকল্পদ্রুম), রাজকৃষ্ণ রায় ও শরৎচন্দ্র দেব (ভারতকোষ) এবং রঙ্গলাল মুখোপাধ্যায়, ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় ও নগেন্দ্রনাথ বসু (বিশ্বকোষ)। শেষেরটি সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ। এর ২২ খণ্ডের কাজ শেষ করতে ২২ বছর লেগেছিল। পরবর্তীকালে প্রকাশিত শিক্ষাকোষ-এর জন্য অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ ৩৮ বছর ধরে তথ্য-উপাত্ত-রসদ সংগ্রহ করেছিলেন। ভারত বিভাগের পর ১৯৫৯ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ প্রকাশ করে পাঁচ খণ্ডের ভারতকোষ। এসব প্রাথমিক প্রচেষ্টার অধিকাংশ অসম্পূর্ণতা দূর করে বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি পাঠকের হাতে পৌঁছে দিয়েছিল বাংলাপিডিয়া।

আরো দেখুন
 বাংলা উইকিপিডিয়া
 অনলাইন বিশ্বকোষসমূহের তালিকা

তথ্যসূত্র

বহিঃসংযোগ

বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি
বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি ওয়েবসাইটে

জাতীয় বিশ্বকোষ
বাংলাদেশী বিশ্বকোষ
বাংলা ভাষার বিশ্বকোষ
২০০৩-এর বই
বাংলাদেশী অনলাইন বিশ্বকোষ
২১শ শতাব্দীর বিশ্বকোষ
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক
বাংলাপিডিয়া
বাংলাদেশী সাহিত্য
মুরের সূত্র বলতে একটি আপাত-সূত্রকে বোঝায়, যাতে বলা হয় যে কোনও সমন্বিত বর্তনীতে উপস্থিত ট্রানজিস্টরের সংখ্যা মোটামুটি প্রতি দুই বছর অন্তর দ্বিগুণ হবে। এটি আসলে কোনও বৈজ্ঞানিক সূত্র নয়, বরং ঐতিহাসিক তথ্য পর্যবেক্ষণ করে প্রণীত ভবিষ্যৎ প্রবণতার পূর্বাভাস। 

মার্কিন অর্ধপরিবাহী প্রযুক্তি কোম্পানি ফেয়ারচাইল্ড সেমিকন্ডাক্টর ও ইন্টেলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা গর্ডন মুরের নামে এই সূত্রটির নামকরণ করা হয়েছে। মুর ১৯৬৫ সালে মত দেন যে প্রতিটি সমন্বিত বর্তনীতে উপাংশ বা ট্রানজিস্টরের সংখ্যা প্রতি বছরে দ্বিগুণ হয় এবং তিনি ভবিষ্যৎবাণী করেন যে এই হার কমপক্ষে আরও এক দশক অব্যাহত থাকবে। ১৯৭৫ সালে এসে মুর তাঁর ভবিষ্যৎবাণীতে সংশোধন এনে বলেন যে প্রতি দুই বছরে ট্রানজিস্টর সংখ্যা দ্বিগুণ হবে, অর্থাৎ প্রতি বছর সংখ্যাবৃদ্ধির হার হবে ৪১%। যদিও মুর কোনও পরীক্ষালব্ধ বা অভিজ্ঞতালব্ধ উপাত্তের উপর ভিত্তি না করেই এই ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন, তার পরেও তাঁর এই পূর্বাভাস ১৯৭৫ সাল থেকে বহু দশক ধরে সঠিক প্রমাণিত হয় এবং এটিকে একটি অনানুষ্ঠানিক "সূত্র" হিসেবে বিবেচনা করা শুরু হয়। 

মুরের পূর্বাভাসটিকে অর্ধপরিবাহী শিল্পখাতের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা পরিচালিত করতে এবং গবেষণা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত লক্ষ্য নির্ধারণ করতে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই এটিকে এক ধরনের স্বতঃসিদ্ধকারী ভবিষ্যৎবাণী হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। দ্বি-আংকিক ইলেকট্রন বিজ্ঞান তথা ডিজিটাল ইলেকট্রনিকসের বিভিন্ন অগ্রগতি যেমন গুণমানের সাথে উপযোজিত অণুপ্রক্রিয়াজাতকারকের (মাইক্রোপ্রসেসর) মূল্যহ্রাস, পরিগণক স্মৃতির (কম্পিউটার মেমরি) ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি (দৈব-অভিগম্যতা স্মৃতি বা র‍্যান্ডম অ্যাক্সেস মেমরি তথা র‍্যাম, এবং  ফ্ল্যাশ স্মৃতি বা ফ্ল্যাশ মেমরি), ডিজিটাল সুবেদী গ্রাহকের (ডিজিটার সেন্সর) উন্নতি, এমনকি ডিজিটাল আলোকচিত্রগ্রাহক যন্ত্র তথা ডিজিটাল ক্যামেরার চিত্রাণু বা পিক্সেলের সংখ্যা ও আকার মুরের সূত্রের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। ডিজিটাল ইলেকট্রন বিজ্ঞানের এই চলমান পরিবর্তনগুলি প্রযুক্তিগত ও সামাজিক পরিবর্তন, উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। 

মুরের সূত্রটির প্রযোজ্যতা কখন থেকে বন্ধ হয়ে যাবে, সে বিষয়ে শিল্পখাতের বিশেষজ্ঞরা এখনও ঐকমত্যে পৌঁছাননি। অণুপ্রক্রিয়াজাতকারক (মাইক্রোপ্রসেসর) স্থপতিরা বিবৃতি দিয়েছেন যে ২০১০ সাল নাগাদ অর্ধপরিবাহী শিল্পখাতের অগ্রগতি মন্থর হয়ে পড়ে এবং মুরের সূত্রের পূর্বাভাসের খানিকটা নিচে অবস্থান করে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এনভিডিয়া কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেনসেন হুয়াং মুরের সূত্রকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে ইন্টেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্যাট গ্যালসিঙ্গার তাঁর বিরুদ্ধ মত পোষণ করেন।

তথ্যসূত্র

কম্পিউটার বিজ্ঞান
১৯৬৫-এ প্রবর্তন
ডিজিটাল বিপ্লব
উপনাম
কম্পিউটার হার্ডওয়্যারের ইতিহাস
মসফেট
প্রযুক্তিগত পরিবর্তন